Sunday, 6 July 2014

ঋণ করে হেলিকপ্টার ভাড়া নিয়ে মেয়ের বিদায় দিলেন গরিব চাষী


জয়দেব দাস, কলকাতা প্রতিনিধিঃ হতদরিদ্র কৃষক পরিবার। রাজ্যের এখন  খরা চলছে। চাষিদের এম্নিতেই মাথায় হাত। ফসল ভালো ফলেনি। তার উপর মেয়ের বিয়ে। বড়োলোক বাড়িতে মেয়ের বিয়ে হয়েছে। জামাইয়ের ইচ্ছা পূরণ করতে গ্রামের আর পাঁচটা প্রতিবেশী গরিব চাষির কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা ঋণ নিয়ে হেলিকপ্টার ভাড়া করে মেয়ে-জামাইকে বিদায় দিলেন পিতা। 
ঘটনাটি ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের নাসিকের। 


নাসিক থেকে প্রায় ৯০ লোমিটার দূরের গ্রামে বাস বীরেন্দ্র নামে এক কৃষকের। সেখান থেকে আরো প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে নহবান গ্রামের পাত্র সাগর পাঠকের বিয়ে ছিল শনিবার। বড়োলোক বাড়িতে বিয়ে হচ্ছে। খুশীতে আত্মহারা মেয়ের বাবা বীরেন্দ্র। বিয়ে করতে যাওয়ার সময় বর সাধারণত পালকি বা ঘোড়ায় চড়ে যাওয়ার রীতি থাকলেও এই বর কিন্তু গিয়েছিল হাতিতে চড়ে। বিশাল লটবহর নিয়ে আমন্ত্রণ খেয়েছে সবাই। বউ নিয়ে ফেরার পথে জামাইয়ের সাধ হয়েছিল। স্ত্রীকে নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে বাড়িতে ফিরবে। জামাইয়ের সাধ পূরণ করতে শেষমেষ গরিব চাষী গ্রামের পাশপাশের চাষীভাইদের কাছ থেকে চড়া সুদে অর্থ ঋণ নিয়ে হেলিকপ্টার ভাড়া করে মেয়েকে বিদায় দিয়েছেন বাবা। পরে বীরেন্দ্র বলেছেন, ‘এবাব চাষ ভালো হয়নি। দীর্ঘদিন বৃষ্টি হয়নি। মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গিয়েছে। বতে বড়োলোক বাড়িতে মেয়ের বিয়ে হচ্ছে। মেয়ে সুখে থাকবে। জামাইয়ের সাধ পূরণ করতে ধারদেনা না হয় করতেই হল। কী আর করা যাবে মেয়ে তো সুখে থাকবে।’ এদিকে জামাই সাগর পাঠক হেলিকপ্টারে চড়ার আগে বলেছেন, ‘আমার বাবা এলাকার প্রাক্তণ প্রধান ছিলেন। গ্রামে আমাদের একটা সম্মান তো রয়েছে। গ্রামের মানুষ দেখুক আমরা সকলের চেয়ে একটু আলাদা।’ যাওয়ার সময় শ্বশুরের মাঠায় যে বিশাল ঋণের বোঝা চাপিয়ে গেল তা সেটা মেয়ে বুঝতে পারলেও জামাই কিন্তু বিষ্টী বেমালুম চেপে গিয়েছে। এখন দেখার মেয়ের সুখের কতটা পরিধি। আজ, রবিবার জামাইয়ের বাড়িতে সকলের আমন্ত্রণ।

No comments:

Post a Comment