হায়দ্রাবাদঃ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল ছেলের। ছেলেকে মৃত বলে সনাক্ত করেছিলেন মা-বাবা। শোকের ছায়া নেমে এসেছিল পরিবারে। এমন অবস্থায় হঠাৎ মিরাক্যাল ঘটে গেল। চব্বিশ ঘন্টা পর সে বাড়িতে ফিরে এলো। বৃহস্পতিবার সকালে তেলেঙ্গানার মেঢক জেলায় ট্রেনের ধাক্কায় মৃত ১৪ স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যে ছিল স্বামী গৌড়ের ছ’বছরের ছেলে দর্শন গৌড় ওরফে ধানুষও। সেই ছেলেই অক্ষত অবস্থায় ফিরে এল ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে।
অবাক হইয়েছেন স্বামী গৌড়। ঘটনা হল, বৃহস্পতিবার যখন তিনি হাসপাতালে নিজের ছেলেন নাম ধরে ডাকছিলেন, তখন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা দর্শনকে ‘দাত্তু’ শোনেন। ঘটনাচক্রে দর্শনের এক সহপাঠীর নাম দাত্তু। চিকিৎসকরা দাত্তুর নিথর দেহ এনে দেন দর্শনের বাবা গৌড়কে। দেহটি এতই বিকৃত হয়ে গিয়েছিল যে গৌড়বাবু চিনতেই পারেননি যে দেহটি দর্শনের নয়, দাত্তুর। তিনি ছেলের মৃতদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরেন। সমস্ত পারলৌকিক ক্রিয়াও সম্পন্ন করেন।
এদিকে শুক্রবার সকালে সেকেন্দ্রাবাদের যশোদা হাসপাতালে জ্ঞান ফেরে দর্শনের। বাবার নাম ধরে ডেকে ওঠে ছোট্ট দর্শন। তখনই চিকিৎসকরা গৌড়বাবুকে খবর দেন। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসেন তিনি। ‘মৃত’ ছেলেকে বেঁচে থাকতে দেখে চোখের জল বাঁধ মানেনি। পুনর্জন্ম বললে কী খুব বাড়িয়ে বলা হবে?
কিন্তু এক বাবা যখন ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে উদ্বেল, তখন অন্যদিকে, শোকে ডুবে দাত্তুর বাবা। দাত্তুর দিদি ওই দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছে। বাবা আশা করেছিলেন, ছোট ছেলের চিকিৎসা চলছে, নিশ্চয় সুস্থ হয়ে ফিরবে। কিন্তু শুক্রবার স্পষ্ট হয়ে যায়, দাত্তু নয়, চিকিৎসা চলছে দর্শনের। দাত্তুকে বৃহস্পতিবারই মৃত বলে ঘোষণা করে হয়েছে।

No comments:
Post a Comment