Wednesday, 30 July 2014

৩০ জুলাই ছিল ‘বিশ্ব কুমির দিবস’ কুমিরের আতঙ্ক কাটাতে ঘটা করে দেবতাকে পুজ দিলেন গ্রামবাসী

সুন্দরবনঃ বুধবার ছিল আন্তর্জাতিক ‘কুমির দিবস’। কুমিরের আতঙ্ক কাটাতে এবং কুমিরের দেবতাকে তুষ্ট করতে সুন্দবনের নদী এলাকার কয়েকটি গ্রামে ঘটা করে কুমির পুজো করলেন। কোথাও মাটির তৈরি কুমিরের মূর্তি, কোথাও কুমির দেবতা কালু রায়, কোথাও কোথাও মন্দিরেও পুজো করা হয়েছে। ফলমূল ছাড়াও নদীর গুলে মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ির নৈবেদ্য সাজিয়ে পুজোর বন্দনা করা হয়েছে। এই দিনটিকে সুন্দরবনের কোথাও সরকারি ভাবে পালন করা হল না। বেসকারি ভাবেও কোনও এনজিও দিনটিকে স্মরন করেনি। অথচ সুন্দরবনের কুমির বাঁচানোর বিষয়ে বন দফতর এবং এনজিওরা  কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিচ্ছে। এই বিষয়ে সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি ফিল্ড ডিরেক্টর অর্ণব সেনগুপ্ত বলেন, ‘বাঘ একটি বড়ো বিষয় তাই তাকে নিয়ে বেশি মাতামাতি করা হয়। কিন্তু সেই তুলনায় কুমির নিয়ে কেউ এতো ভাবে না। তাই আমরাও এটি নিয়ে কিছুই করছি না।’
মাসখানেক আগে কুমিরমারি গ্রামের এক বধূ কবিতা মণ্ডলকে মিন ধরার সময় কুমিরে টেনে নিয়ে গিয়েছিল। সেই থেকে গ্রামবাসীরা আর নদীতে নামতে চাই ছিলেন না। এদিন কালু রায় নামে কুমিরের দেবতাকে পুজো দেওয়া হয়েছে। এখানকার পুরোহিত শঙ্কর ঘোষাল বলেন, ‘গ্রামবাসী ও মৎস্যজীবীরা নদীতে নামতে ভয় পাচ্ছিলেন। তাই আজ, কুমির দিবসে ভক্তিভরে পুজো দেওয়া হয়েছে। কয়েকজনের মানৎ ছিল। তাও এদিন চুকোনো হয়েছে।’ পাথরপ্রতিমা ব্লকেও এদিন পুজো হয়েছে। এখানে কুমিরের মূর্তিতে পুজো করা হয়েছে। বনশ্যামনগরের পুরোহিত কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এখানে কুমিরের খবই উৎপাত। গ্রামবাসীরা তো প্রাণ হাতে নিয়ে নদীতে যান। আমরা তো সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকি। এখানে অন্যান্য দেবদেবীর চেয়ে কুমিরের দেবতার পুজোর চল বেশি।’ প্রসঙ্গত, সুন্দরবনের ৫৪ টি দ্বীপে মানুষের বাস। এখানকার মানুষ অতীত থেকে আজও সরাসরি প্রক্ততিতির উপর নির্ভরশীল। যে এলাকায় যে প্রাণীর বেশী ভয়, সেই এলাকায় ওই প্রাণীকেই বেশ পুজো করে তাঁকে তুষ্ট করার চেষ্টা হয়। কুমির ছাড়াও, বাঘ, সাপের দেবতার আরাধনা করে থেকেন গ্রামের মানুষ। সরকারি হিসাবে জানান হয়েছে, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৭ জনকে কুমিরে টেনে নিয়ে গিয়েছে। তারমধ্যে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০১৩ সালে এই মৃত্যু ছিল ৮ জন। ২০১২ সালে ছিল ১৩ জন।    
সুন্দরবনের কুমিরমারি, সাতজেলিয়া, বাসন্তীর ঝড়খালি, হাড়ভাঙি, পাথরপ্রতিমার জি-প্লট, বনশ্যামনগর, ঘনশ্যাপুর, কে-প্লট এলাকার নদী গুলিতে কুমিরের খুবই উপদ্রব। নদী সংলগ্ন গরিব বাসিন্দারা নদীরে চিংড়ির মিন ধরতে নদীতে যান সেই সময় তাঁদের অনেকেই কুমিরে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান বলে তাঁদের দাবি। ইদানিং নদীতে সেই কুমিরের সংখ্যা অনেক গিয়েছে। ওই সংখ্যা আরও বাড়ানোর জন্য ১৯৭৬ সাল থেকে চেষ্টা চালাচ্ছে বন দফতর। এরজন্য পাথরপ্রতিমা ব্লকের ভগবৎপুরে একটি কুমির প্রকল্প চলছে। সেখানে কুমিরের প্রজনন ঘটিয়ে জন্ম দেওয়ানো এবং বড়ো করে নদীতে ছাড়াও হচ্ছে। সখ্যাও বাড়ছে দ্রুতহারে। তাদের পরিমাণ জানতে সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প এলাকার বেশ কিছু অংশে ২০১২ সালের ১৬-১৮ জানুয়ারি তিন দিন ধরে ৪,২৬৪ বর্গ কিমি বনাঞ্চলের মধ্যে ১,১৬৩.২০ বর্গকিমি জায়গায় সমীক্ষা চালিয়ে ২৪০ টি কুমিরের সন্ধান পেয়েছে। এর মধ্যে ৬৯ টি পূর্ণ বয়স্ক, ৬১ টি কিশোর এবং ১০ টি বাচ্চা। এছাড়াও আরও ১০০ টি কুমিরের খোঁজ মিলেছে যাদের বয়স নির্ধারণ করা যায়নি।     

Monday, 28 July 2014

সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বাড়িয়ে দেখাচ্ছে রাজ্য, খুশি নয় কেন্দ্র

 জয়দেব দাস, ক্যানিংঃ সুন্দরবনে ক’টি বাঘ রয়েছে এখনও ধোঁয়াসা রয়েই গিয়েছে। রাজ্যের বন কর্তারাও জোর দিয়ে বলতে পারছেন না বাঘের আসলে ক’টি বাঘ রয়েছে ? এতদিন পর্যন্ত রাজ্য সরকার বাঘের সংখ্যা বাড়িয়ে দেখাচ্ছিল। কেন্দ্রীয় সরকারকেও সেই হিসাব দিয়ে আসছিল। কিন্তু কেন্দ্র তা মানতে চায়নি। রাজ্যকে উপেক্ষা করে কেন্দ্র নিজের উদ্যোগে সরকারি এবং বেসরকারি দু’ভাবেই গণনার কাজ করাছে।  সম্প্রতি একটি বেসরকারি সংস্থা গণনা করে ৯০-১০০ টি বাঘ থাকার বিষয়ে ইঙ্গিত দেওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছে রাজ্যের বন কর্তারা। রীতিমতো বিপাকে পড়ে গিয়েছে তারা। এই তথ্য নিয়েও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে অনেকের মধ্যে। দ্বিমত দেখা দিয়েছে বন  আধিকারিকদের মধ্যেও। বাঘ বাঁচাতে কেন্দ্রীয় সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। বাঘের সংখ্যা বাড়া তো দূরের কথা, দিনের পর দিন তা কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রক এবং প্রধান মন্ত্রীর উদ্যোগে গঠিত টাস্কফোরস। সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের অধিকর্তা সৌমিত্র দাশগুপ্ত বলেন, ‘সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা একশোর বেশি রয়েছে। বাঘের প্রকৃত সংখ্যা জানার জন্য গণনার কাজ চলছে। শেষ হলে আসল তথ্য সামনে আসবে।’ বাঘের সংখ্যাটি আরও বাড়বে বলে তাঁর বিশ্বাস।   
২০০৪ সালের সর্বশেষ গণনা আনুসারে ১১০ টি দ্বীপে ২৭৪ টি বাঘের খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল। দশ বছরে ৮ টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। তার পরও সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছিল। সরকারি হিসাবে দেখানো হয়েছে, ৪ হাজার ২৬৪ বর্গ কিমি এলাকায় বাঘ রয়েছে। কিন্তু এই সংখ্যা মানতে চায়নি এনজিওরা। দেশ জুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠায় তথ্য প্রমান করাতে বন কর্তারা ২০০৬ সালের জানুয়ারি মাসের ৬ তারিখ থেকে তড়িঘড়ি পুনরায় গণনার কাজ শুরু করেছিল। এনজিও বা কেন্দ্রীয় সরকার যাতে সহজে প্রশ্ন তুলতে না পারে তাই একাধিক দফায় তা গণনা করা হচ্ছে। আজও তা শেষ হয়নি সেই কাজ। টানা আট বছর ধরে তো চলছে। ইতিমধ্যে চারজন আধিকারিক বদলি হয়ে গিয়েছে। গণনার কাজ শেষ হচ্ছে না।
রাজস্থানের সরিস্কার জঙ্গল থেকে বাঘ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার সারাদেশ তোলপাড় হয়ে ছিল। পরে প্রধান মন্ত্রী  মনমোহন সিংয়ের উদ্যোগে এবং তাঁর নেতৃত্বে বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ে একটি ‘টাস্কফোরস’ গঠন করা হয়েছে। পদাধিকার বলে প্রধান মন্ত্রী তার চেয়ারম্যান। তিনি নিজেই বিষয়টি দেখছেন। বিশেষ ভাবে নজর দেওয়া হয়েছে সুন্দরবনের বাঘের বিষয়ে। কিছুদিন চুপচাপ থাকার পর সুন্দরবনে বাঘের প্রকৃত সংখ্যা জানতে ২০১২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি লোকসভায় প্রশ্ন উঠেছিল। সুন্দরবনে বাঘেরা কেমন রয়েছে, তাদের হাল হকিকত জানতে টাস্কফোরসের পরামর্শে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ওই বছর ১৩ ডিসেম্বর সুন্দরবনে এসে ছিলেন। সরকারি লঞ্চ নিয়ে তাঁরা টানা তিন দিন ধরে গভীর বনের ধারে ধারে বাঘের ডেরায় ঘুরেও একটি বাঘেরও দেখা পাননি। হতাশ হয়ে  ভ্রূকুঁচকে চলে গিয়েছেন। পরে তাঁদের দেওয়া রিপোর্টেরভিত্তিতে ‘ওয়ার্ড ওয়াইল্ড ফান্ড ফর নেচার’(ডব্লু ডব্লু এফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং দেরাদুনে অবস্থিত দেশের সবচেয়ে বড়ো বাঘ গবেষণা কেন্দ্র ‘ইন্ডিয়ান  ইন্সটিটিউট অব ওয়াইল্ড লাইফ’(আই আই ডব্লু) আলাদা আলাদা ভাবে সমীক্ষা শুরু করেছে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে তারা বনের বিভিন্ন জায়গায় স্বয়ংক্রিয় ক্যামেয়া বসিয়ে বাঘের শরীরের বিভিন্ন অংশের ছবি তু্লে তাদের বয়স জানার চেষ্টা করছে। বাঘ কেন বারবার গ্রামে চলে আসে তা জানতে এবং গতিবিধি পরখ করতে গলায়  ‘রেডিওকলার’, কানে ‘ইয়ারট্যাগ’ বেঁধে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে তারা। তাদের খাদ্যশৃঙ্খল সম্পর্কেও ধারণা করার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে ডব্লু ডব্লু এফ একবছর ধরে গণনার পর প্রাথমিক ভাবে একটি  হিসাব কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে। সেই তথ্যেই ৯০-১০০ টি বাঘ থাকার বিষয়ে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ওই সংস্থার বাঘ বিশেষজ্ঞ  অনুরাগ দন্ড বলেন, ‘সুন্দরবনে আপাতত মোটামুটি শ’খানের বাঘ রয়েছে। আর দু-একটি কমবেশী হতে পারে।’  তবে ক্যামেরা বসিয়ে এখনও বাঘের ছবি তোলার কাজ চলছে।’ অন্য সংস্থাটি আই আই ডব্লুর’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশ করতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে।     

বাসন্তীর ঝড়খালিতে তৈরি হতে চলেছে ‘প্রকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়’

সুন্দরবনঃ সুন্দরবনের ঝড়খালিতে তৈরি হতে চলেছে ‘প্রকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়’। টেকনো ইণ্ডিয়া নামে একটি বেসরকারি সংস্থা এই বিশ্ববিদ্যালয়টি গড়বে। এবং সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগেই তা পরিচালিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়টির পাশে সংস্থাটি পাঁচতারা ও তিনতারা হোটেলও গড়বে। রাজ্য পর্যটন দফতর সরকারি ভাবে ৯৯ একর জমি ওই ব্যবসায়ী সংস্থাকে নিখরচায় তুলে দিয়েছে। সোমবার  বাসন্তীর ঝড়খালিতে একটি অনুষ্ঠানে পর্যটন মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সঙ্গে টেকনো ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান গৌতম রায়চৌধুরীর একটি মৌচুক্তি হয়েছে। এদিনই মন্ত্রী জমি হস্তান্তর করেছেন। পরে তিনি জানিয়েছেন, ‘ঝড়খালিতে ট্যুরিস্ট হাব তৈরির জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্যোগ নিয়ে ছিলেন। তা বাস্তবায়িত করতেই আমরা হেড়োভাঙা নদীর তীরে ৯৯  এওকর জমি টেকনো ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আগামি দু’বছরের মধ্যে কাজ শেষ করে ফেলতে বলা হয়েছে।’ সংস্থার কর্মকর্তারাও তাতে সমর্থন জানিয়েছেন।
ঝড়খালি চিড়িয়াখানা, বাঘের উদ্ধারাশ্রম এবং প্রজাপতি বাগানের পাশে ‘প্রকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়’ তৈরি হবে। সেখানে বন্যপ্রাণী, ম্যানগ্রোভ ও পরিবেশ বিষয়ে পড়ানো হবে। দেশ বিদেশের পড়ুয়ারা এখানে পড়াশোনা করতে পারবেন। আশ্চর্য চরিত্রের সুন্দরবনের বাঘ নিয়েও গবেষণা করতে পারবেন। সেখানে আন্তর্জাতিকমানের হোটেল ও প্রমোদভ্রমণের ব্যবস্থাও করবে ওই সংস্থাটি। প্রয়োজনে বিকিকিনির চলতে পারে বলেও ওই বেপ্সরকারি সংস্থা ইঙ্গিত দিয়েছে। টেকনো ইন্ডিয়ার চিফ অপারেটিভ অফিসার সুজয় বিশ্বাস এদিন ঝড়খালি জানিয়েছেন, গ্রামের পরিবেশের চরিত্র অপরিবর্তিত রেখে ট্যুরিস্ট হাব গড়ে তোলা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। যে জায়গায় ট্যুরিস্ট হাব গড়ার পরি কলণা হয়েছে সেখানে বিশাল এলাকা জুড়ে ম্যানগ্রোভ জঙ্গল ছিল। ছিল বিরল প্রজাতির ম্যানগ্রোভ গাছ। ওই বনটিকে ঘিরে রয়েছে সুন্দরবন উন্নয়ণ পর্ষদের ‘মৎস্য প্রকল্প’। পর্যটকরা সেখানে বেড়াতে আসতেন। পর্যটন দফতর সেই জঙ্গল ধংস করে জমি হাসিল করে টেকনো ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দিয়েছে। এই ভাবে বন কেটে ধংস করার বিষয়ে মন্ত্রী কোনও মন্তব্য করতে চাননি। বলেছেন, ‘ভালো কাজ করতে গেলে দু’একটি গাছ তো কাটা যেতেই পারে।’           
  

Saturday, 26 July 2014

অ্যাসিড ছুঁড়ে যুবতীকে খুনের চেষ্টা, ফাঁসির সাজা দিল ভারতের আদালত


মধ্যপ্রদেশঃ  অ্যাসিড ছুঁড়ে এক যুবতীকে খুনের চেষ্টার দোষে অভিযুক্ত এক যুবককে শাস্তি দিল আদালত। তাকে ফাঁসির সাজা দিয়েছে ভারতের একটি আদাওলত। সম্ভবত এই প্রথম অ্যাসিড হামলায় দোষী সাব্যস্ত কাউকে ফাঁসির সাজা দেওয়া হল দেশে। 
 শুক্রবার মধ্যপ্রদেশের মোরেনা জেলার একটি দায়রা আদালত এই সাজা ঘোষণা করেছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তির মান যোগেন্দ্র কুমার (২৮)।
পুলিশ জানিয়েছে, গত বছর মোরেনা জেলার পোরসা শহরে রুবি রাওয়াতের (২৪) ওপর অ্যাসিড হামলা চালিয়েছিল যোগেন্দ্র। ওই মহিলার মুখ-সহ শরীরে সিংহভাগই পুড়ে যায়। অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে কয়েকদিন পর তাঁর মৃত্যু হয়। শেষ পর্যন্ত এই মামলাতে দোষী সাব্যস্ত হল যোগেন্দ্র কুমার।
দোষী সাব্যস্ত লোকটি বিবাহিত। বাড়িতে স্ত্রী ও এক সন্তান রয়েছে। তবুও এলাকার অল্পবয়সী মেয়েদের সে উত্ত্যক্ত করত। রুবি রাওয়াত তার চোখে পড়ার পর সে পিছন পিছন ঘুরঘুর করা শুরু করে। একাধিকবার কুপ্রস্তাব দেয়। মেয়েটি রাজি না হওয়ায় রাস্তায় তার হাত ধরেও টানাটানি করেছিল। কিন্তু তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এমন হলে পুলিশকে জানাবেন। এর পরই তাকে শাসায় যোগেন্দ্র। গত বছর ২১ জুলাই বাড়ির ছাদে বাড়ির লোকজনের সঙ্গে ঘুমোচ্ছিলেন ওই তরুণী। রাতে গাছ বেয়ে চুপিচুপি ছাদে ওঠে যোগেন্দ্র। তার পর ঘুমন্ত রুবি কার্যত অ্যাসিডে স্নান করিয়ে দেয়! তরুণীর আর্ত চিৎকার শুনে লোকজন উঠে পড়লে সে পালিয়ে যায়। পরে তাঁর বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে যোগেন্দ্রকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
অতিরিক্ত দায়রা বিচারক রায় দেওয়ার সময় বলেন, এ ধরনের লোক সমাজকে কলুষিত করছে। চরম শাস্তি না দিলে নারী নির্যাতনকারীরা উৎসাহ পাবে। তাই সমাজকে বার্তা দিতে এমন ঘৃণ্য অপরাধী মৃত্যুদণ্ডই দেওয়া হল। নিহত তরুণীর বাবা বলেছেন, "এত দিনে আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে। যে ওকে অমানুষিক যন্ত্রণা দিয়ে মেরেছে, তার এটাই উচিত শাস্তি। আদালতকে ধন্যবাদ।"

৯০ কোটি টাকায় বিক্রি হচ্ছে রাজেশ খান্নার বাংলো


মুম্বইঃ ৯০ কোটি টাকায় বিক্রি হচ্ছে ভারতের সিনেমা জগতের সুপারস্টার রাজেশ খান্নার বাংলো। তিনি প্রয়াত হওয়ার পর বাড়িটি অযত্নে পড়েছিল। এ বার তা কিনে নিচ্ছেন ভারতেরই এক ব্যবসায়ী, শশীকিরণ শেট্টি।
এক সময়ের বলিউড কাঁপানো অভিনেতা রাজেশ খান্না ২০১২ সালের জুলাইয়ে মারা যান। তাঁর ইচ্ছে  ছিল, সমুদ্র সংলগ্ন কার্টার রোডের বাংলোটি ভবিষ্যতে মিউজিয়ামে পরিণত করতে। বেঁচে থাকতে তিনি বলতেন, "ভগবানের আশীর্বাদে আমার থাকা-খাওয়া নিয়ে চিন্তা নেই। দুই মেয়ে, টুইঙ্কল আর রিঙ্কে ভালো ঘরে বিয়ে করে সুখে আছে। ওদের আমার সম্পত্তি ছাড়াও চলবে। তাই আমার এই বাংলোকে আমি মিউজিয়াম করব, যাতে ভক্তরা এসে দেখতে পারে।"
প্রসঙ্গত, গত শতাব্দীর ছয়ের দশকে এই বাংলোটি আর এক বলিউড তারকা রাজেন্দ্র কুমারের কাছ থেকে কিনেছিলেন রাজেশ খান্না। আটের দশকে তিনি সেটি সংস্কার করেন। আয়কর না দেওয়ায় এক সময় সরকার বাংলোটি বাজেয়াপ্ত করেছিল। পরে আইনি লড়াই চালিয়ে রাজেশ খান্না তা উদ্ধার করেন। পরে এর নাম রাখা হয় 'বরদান আশীর্বাদ'।
ব্যবসায়ী শশীকিরণ শেট্টি সমুদ্রমুখী এই বাংলো কেনার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন। কয়েক দিন পরই তাঁকে তা হস্তান্তর করা হবে। রাজেশ খান্নার দুই মেয়ে টুইঙ্কল খান্না ও রিঙ্কে খান্না এই লেনদেনে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। কারণ বাংলো দুই বোনের নামে রয়েছে। রাজেশ খান্নার লিভ-ইন সঙ্গিনী অনিতা আদবানি প্রাথমিকভাবে এর দখলদারি চাইলে পরে তিনি পিছু হটেন।তার পরই টুইঙ্কল আর রিঙ্কে খান্না বাড়ি বিক্রির ব্যাপারে খোঁজখবর শুরু করেন।

দুর্ঘটনায় ‘মৃত’ ছেলে ঘরে ফেরায় হতবাক পরিবার

হায়দ্রাবাদঃ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল ছেলের। ছেলেকে মৃত বলে সনাক্ত করেছিলেন মা-বাবা। শোকের ছায়া নেমে এসেছিল পরিবারে। এমন অবস্থায় হঠাৎ মিরাক্যাল ঘটে গেল। চব্বিশ ঘন্টা পর সে বাড়িতে ফিরে এলো। বৃহস্পতিবার সকালে তেলেঙ্গানার মেঢক জেলায় ট্রেনের ধাক্কায় মৃত ১৪ স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যে ছিল স্বামী গৌড়ের ছ’বছরের ছেলে দর্শন গৌড় ওরফে ধানুষও। সেই ছেলেই অক্ষত অবস্থায় ফিরে এল ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে। 
অবাক হইয়েছেন স্বামী গৌড়। ঘটনা হল, বৃহস্পতিবার যখন তিনি হাসপাতালে নিজের ছেলেন নাম ধরে ডাকছিলেন, তখন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা দর্শনকে ‘দাত্তু’ শোনেন। ঘটনাচক্রে দর্শনের এক সহপাঠীর নাম দাত্তু। চিকিৎসকরা দাত্তুর নিথর দেহ এনে দেন দর্শনের বাবা গৌড়কে। দেহটি এতই বিকৃত হয়ে গিয়েছিল যে গৌড়বাবু চিনতেই পারেননি যে দেহটি দর্শনের নয়, দাত্তুর। তিনি ছেলের মৃতদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরেন। সমস্ত পারলৌকিক ক্রিয়াও সম্পন্ন করেন।
এদিকে শুক্রবার সকালে সেকেন্দ্রাবাদের যশোদা হাসপাতালে জ্ঞান ফেরে দর্শনের। বাবার নাম ধরে ডেকে ওঠে ছোট্ট দর্শন। তখনই চিকিৎসকরা গৌড়বাবুকে খবর দেন। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসেন তিনি। ‘মৃত’ ছেলেকে বেঁচে থাকতে দেখে চোখের জল বাঁধ মানেনি। পুনর্জন্ম বললে কী খুব বাড়িয়ে বলা হবে?
কিন্তু এক বাবা যখন ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে উদ্বেল, তখন অন্যদিকে, শোকে ডুবে দাত্তুর বাবা। দাত্তুর দিদি ওই দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছে। বাবা আশা করেছিলেন, ছোট ছেলের চিকিৎসা চলছে, নিশ্চয় সুস্থ হয়ে ফিরবে। কিন্তু শুক্রবার স্পষ্ট হয়ে যায়, দাত্তু নয়, চিকিৎসা চলছে দর্শনের। দাত্তুকে বৃহস্পতিবারই মৃত বলে ঘোষণা করে হয়েছে।

শিশুকন্যার শিরশ্ছেদ করে পোড়ান হল দেহ

রাজস্থানঃ এক শিশুকন্যাকে নৃশংস খুন করে তার মাথা কেটে দেহ আগুনে পুড়িয়ে ফেলল এক যুবক৷ দেখতে পেয়ে গ্রামবাসীরা তাকে তাড়া করা ধরে ফেলে বেধড়ক মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। 
শুক্রবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানের নাগাউড় জেলার পিহওয়া গ্রামে।  
বছর দেড়েকের ওই শিশুকন্যার শিরশ্ছেদ করে পুড়িয়ে দেওয়া হল৷ এদিন সকালে ঠাকুমার সঙ্গে খেলা করার সময় দেড় বছরের শিশুটিকে বাড়ি থেকে বার করে নিয়ে যায় বছর ২৫-এর এক যুবক দ্বারকা৷ ওই যুবক তাদের পরিচিত হওয়ায় বাধা দেননি  শিশুটির ঠাকুমা৷তবে কী উদ্দেশ্যে দ্বারকা তাঁদের বাড়িতে এসেছিল তা বুঝতে পারেননি তিনি৷ কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই হতচকিত হয়ে যান তিনি৷চোখের সামনে ওই শিশুটির শিরশ্ছেদ করে দেহ নিয়ে পালায় দ্বারকা৷খানিক দূরে শিশুটির দেহ একটি লাঠির সঙ্গে বেধে আগুন ধরিয়ে দেয় সে৷ এর পর পালাতে গেলে তাকে ধরে ফেলে গ্রামবাসীরা৷বেধরক মারধর করা হয় তাকে৷ওই শিশুটিকে যৌন নিগ্রহ করা হয়েছিল কিনা তা খতিয়ে দেখতে মেডিকেল পরীক্ষা করা হচ্ছে৷কেনই বা শিশুটিকে খুন করা হল,তা জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত৷

Thursday, 24 July 2014

মহানায়ক পুরস্কারে ভূষিত দেব, মহানায়িকার সম্মান মুনমুন সেনকে

 কলকাতাঃ নানা অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে মহানায়ক উত্তমকুমারের মৃত্যুদিনে তাঁকে সম্মান জানাল রাজ্যবাসী৷ তাঁর প্রয়াণ দিবসেই তাঁর নামাঙ্কিত সম্মান আজ, বৃহস্পতিবার কৃতীদের হাতে তুলে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এবছর ‘মহানায়ক উত্তমকুমার' সম্মান পেয়েছেন সাংসদ  তারকা দেব ও প্রবীণ অভিনেত্রী মৌসুমি চট্টোপাধ্যায়৷ মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের সম্মানে এবার থেকে শুরু হল ‘মহানায়িকা সম্মান'৷ পেয়েছেন সুচিত্রা তনয়া
মুনমুন সেন৷ মুখ্যমন্ত্রী পুরস্কার প্রাপকদের  অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, "২০১২ সাল থেকেই বাংলা চলচিচত্র জগতের দিকপালদের সম্মানিত করছি আমরা৷ এবারও সেই ঐতিহ্য মেনেই খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছে৷"  
এদিন ‘স্পেশাল ফিল্ম' পুরস্কার পেয়েছেন (পুরুষ বিভাগে) হিরণ চট্টোপাধ্যায়, আবির চট্টোপাধ্যায়, ইন্দ্রনীল  সেনগুপ্ত, অঙ্কুশ হাজরা, ঋত্বিক চক্রবর্তী, খরাজ মুখোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ৷ মহিলা বিভাগে এই পুরস্কার পেয়েছেন মিমি চক্রবর্তী, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, পাওলি দাম, নুসরত জাহান, পায়েল সরকার, শ্রীলা মজুমদার,  অনুরাধা রায়৷ লাইফ টাইম অ্যাচিভমেণ্ট পুরস্কার পেয়েছেন চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী, সব্যসাচী চক্রবর্তী, মমতাশঙ্কর ও দেবশ্রী রায়৷ সংগীত জগতে বিশেষ কৃতিত্বের জন্য লাইফ টাইম অ্যাচিভমেণ্ট পুরস্কার পেয়েছেন কুমার শানু৷ সংগীত পরিচালক হিসাবে স্পেশাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে শিবাজী চট্টোপাধ্যায়,  অরুন্ধতী হোমচৌধুরি ও অধীর চট্টোপাধ্যায়কে৷ এছাড়াও স্পেশাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড নিয়েছেন  ক্যামেরায় শীর্ষা রায় ও সৌমিক হালদার৷ এডিটিংয়ে বোধাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় ও দেবকান্ত চক্রবর্তী৷ প্রযোজনায় সুরিন্দর ফিল্মসের নিসপাল রানে, শব্দগ্রহণে দীপঙ্কর চাকি ও গৌতম নাগ৷ রূপসজ্জায় আজাদ আহমেদ, পরিচালনায় স্বপন সাহা, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় ও প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য৷ শিল্প নির্দেশনায় পরষ্কৃত হয়েছেন তন্ময় চক্রবর্তী ও গৌতম বোস৷ কস্টিউমে সাবর্ণী দাস পুরষ্কৃত হবেন৷ অভিনয়ে বিশেষ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড পাবেন অরিন্দম শীল৷ মহানায়কের ৩৫ তম প্রয়াণ দিবসে টালিগঞ্জে তাঁর মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রী জানান  রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস-সহ বিশিষ্টজনেরা৷  
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর চালু করেন উত্তমকুমারের নামে ওই পুরস্কার। সুচিত্রা সেন তা না পেলেও তাঁকে বঙ্গবিভূষণ পুরস্কার দেওয়া হয়। তাঁর তরফে পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন মুনমুন সেন। তখন অবশ্য তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেননি তিনি। পুরস্কার নিলেও তার অর্থ পুরোটাই মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা করা হয়।

স্কুলবাসকে ট্রেনের ধাক্কা, তেলেঙ্গানায় মৃত ২৬ জনের মধ্যে ২৫ পড়ুয়া

হায়দ্রাবাদঃ স্কুলে যাওয়ার পথেই ঘটে গেল এক ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা| দুরন্ত গতিতে ছুটে আসা নানদেড়-হায়দরাবাদ প্যাসেঞ্জার ট্রেন দুমড়ে-মুচড়ে দিল রেলের একটি লেভেল ক্রসিং-এ দাঁড়ানো কাকতিয়া স্কুলের বাসকে| ছিন্ন-ভিন্ন করে দিল ২৫ জন খুদে পড়ুয়াকে| জখম হয়েছে বাকি ১৫ জন পড়ুয়া। 
আজ, বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতেই এমন একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে হায়দরাবাদ থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে মাসাইপেত গ্রামের কাছে রক্ষীবিহীন লেভেল ক্রসিংয়ে| প্রাণ হারায় ২৫ জন পড়ুয়া৷ মারা যান গাড়ির চালকও| গুরুতর জখম আরও ২০ ছাত্রছাত্রী৷ মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ টুপারনের কাকতিয়া স্কুলের ৪০ জন ছাত্রছাত্রীকে ছিল ওই বাসে৷ এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, ওই লাইন দিয়ে ট্রেন যাওয়ার ঘোষণা শুনেও বাসচালক লাইনে বাস তুলে দেন৷ চোখের সামনে বাসটিকে ধাক্কা মারে ট্রেনটি৷ ট্রেনের ধাক্কায় বেশ কিছুটা দূরে ছিটকে পড়ে যায় বাসটি৷ রক্তাক্ত ছাত্রদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ 
ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে রয়েছে স্কুল ব্যাগ, বই-খাতা, জলের বোতল৷ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাও৷ দুর্ঘটনার পরেই স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন৷ দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রহরীবিহীন লেভেল ক্রসিংয়ে গেট বসানোর দাবি করা হলেও রেল কর্তৃপক্ষ কোনও কথা শোনেনি বলে তাঁদের অভিযোগ৷ এর আগেও বহুবার দুর্ঘটনা ঘটেছে৷
আহতদের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে। এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও। এই ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে মেদাক পৌছেছেন ক্যাবিনেট মন্ত্রী টি হরিশ রাও। জি জগদিশ্বর রেড্ডি এবং পদ্মা রাও।

গাছের ডালে ঝুলন্ত শিশু কন্যার মৃতদেহ, গণধর্ষণ অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে খুন

কলকাতাঃ এবার পশ্চমবঙ্গেও পড়েছে উত্তর প্রদেশের বদায়ুঁনের ছায়া ? আজ, বৃহস্পতিবার সকালে গাছের ডাল থেকে উদ্ধার হল প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীর ঝুলন্ত মৃতদেহ। ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে এই অভিযোগে প্রতিবেশি এক যুবককে পিটিয়ে খুন করল উত্তেজজিত গ্রামবাসী।  ওই ঘটনায় অভিযুক্তকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে চিকিতসাধীন রয়ছে তারা। এদিকে উম্মত জনাতার আক্রোশে অভিযুক্তদের বাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাসখানেক আগে উত্তরপ্রদেশের বদায়ুঁন গ্রামে দুই নাবালিকা বোনকে গণধর্ষণ করে খুন করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আম গাছে ঝুলিয়ে দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। সেই ঘটনার সঙ্গে এদিনের ঘটনাত বেশ মিল রয়েছে বলে পুলিশ এবং স্থানীয় মানুষ মনে করছে।      
ঘটনাটি পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের  নন্দকুমার থানার রাজনগর গ্রামের। 
এদিন সকালে গাছের ডালে ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল সন্ধে থেকেই খোঁজ মিলছিল না বছর সাতেকের ওই শিশুটির। শিশুটিকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ জানিয়েছে শিশুর পরিবার। ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে রতন শর্মা নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাঙচুর চালায় ক্ষুব্ধ জনতা। এরপর রতন ও তার দুই সঙ্গীর ওপর শুরু হয় মারধর। গণপিটুনিতে এক জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

পাকিস্তানের 'পূত্রবধু' সানিয়া মির্জাকে তেলেঙ্গানার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার করা হল, বিরোধিতায় বিজেপি

হায়দ্রাবাদঃ  পাকিস্তানের 'পূত্রবধূ' টেনিস তারকা সানিয়া মির্জাকে ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার করা হয়েছে। এই ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করলেন তেলেঙ্গানার বিজেপি নেতা কে লক্ষ্মণ। বিজেপি নেতার বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে দেশ জুড়ে সমালোচনার ঢেউ উঠেছে। এই ঘটনার জেরে ব্যাকফুটে বিজেপি।
ভারতের নবতম রাজ্যের সরকার সানিয়া মির্জাকে গত মঙ্গলবারই তেলেঙ্গানার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার নিযুক্ত করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও সানিয়াকে হায়দরাবাদের কন্যা বলেও বর্ণনা করেছেন।
আর এতেই চটেছে তেলেঙ্গানা বিজেপি। কে লক্ষ্মণ সাফ জানিয়েছেন সানিয়া জন্মে ছিলেন মহারাষ্ট্রে, পরে তিনি পরিবারের সঙ্গে হায়দরাবাদে এসে থাকতে শুরু করেন। তাই এই বিজেপি নেতার মতে সানিয়া আসলে 'বহিরাগত'।
সানিয়া পাকিস্তানের ক্রিকেটার শোহেব মালিককে বিয়ে করেছেন। সেই ঘটনার দিকেই আঙুল তুলে তেলেঙ্গানার বিধানসভার সদস্য লক্ষ্মণ তাঁকে পাকিস্তানের 'পূত্রবধু' আখ্যা দিয়েছেন।
লক্ষ্মণের অভিযোগ গ্রেটার হায়দরাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন ভোটে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক জোরদার করতেই সানিয়াকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার করেছে চন্দ্রশেখর রাও সরকার। এদিকে ভারতে এই ভাবে সমালোচনাকে কটাক্ষ করেছেন সানিয়া। ট্যুইটরে সানিয়ে জানিয়েছেন, ‘আমি পাকিস্তানের বধূ হলেও আমি মনেপ্রাণে ভারতীয়। এখনও ভারতের হয়ে খেলি। আজীবনই আমি ভারতীয়ই থাকবো।’

২১ দিন আশৌচ পালনের পর হাতির পারলৌকিক ক্রিয়া পশ্চমবঙ্গে

কলকাতাঃ বন্যপ্রাণকে ভালবেসে অপঘাতে দুই হাতির মৃত্যুর জন্য একুশ দিন অশৌচ পালন করে পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পন্ন্ করল দুই গ্রামবাসী৷ পুরুলিয়ার ঝালদা বনাঞ্চলের সুবর্ণরেখা নদীর তীরে ত্রিবেণী ঘাটে বুধবার মাথা মুন্ডন করে বজ্রপাতে মৃত মা শাবক হাতির জন্য পিণ্ড দানও করেন তাঁরা৷ নতুন ধুতি গায়ে দিয়ে জঙ্গলে থাকা হাতিদের কল্যাণে স্হানীয় মন্দিরে পুজো দেন৷ ওই কাজ শেষে হিন্দু রীতি মেনে লুচি, বোঁদে, মিষ্টি খান৷ ঝালদার হেঁসলা গ্রামের ওই দুই বাসিন্দা পঞ্চানন কুইরি, নরেশ প্রামাণিকের এই কাজে শামিল হয়েছিলেন এই বিস্তীর্ণ বন সুরক্ষা কমিটির সদস্যরা-সহ এলাকায় হাতি তাড়াতে থাকা হুলা পার্টিও৷ বন্যপ্রাণকে ভালবাসার এমন কাজের নমুনা দেখে হতবাক হয়ে গিয়েছেন বনকর্তারা৷ এমনকী দফতরের মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মনও৷ তাঁর কথায়, "রক্তের সম্পর্ক থেকে মনুষ্য জাতি মৃত্যুর পর প্রথা মেনে পারলৌকিক ক্রিয়া করেন৷ কিন্ত্ত বন্যপ্রাণের জন্য এভাবে অশৌচ পালন করে এমন কাজ আমি আগে শুনিনি৷ এই ঘটনা জঙ্গলে থাকা বন্যপ্রাণকে আরও সুরক্ষিত ও সমৃরি বার্তাই দেয়৷ এই গ্রামবাসীদের আমিও সম্মান জানাই৷" 
গত চ জুলাই অযোধ্যা পাহাড়ে প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে ঝালদা বনাঞ্চলের হাতিদের ডেরা হেঁসলা পাহাড়ের জঙ্গলে বাজ পড়ে দু'টি হাতির মৃত্যু হয়৷ পরের দিন মৃতদেহ উারের পর তাদের ময়নাতদন্তের কাজে এই দুই গ্রামবাসী কুঠার দিয়ে হাতিদের দেহ কাটেন৷ সেই মানসিক যন্ত্রণা ও হাতির প্রতি ভালবাসার টান থেকেই এই অশৌচ পালন তাঁদের৷ 
অযোধ্যা পাহাড় রেঞ্জের ঝালদা বনাঞ্চলের অধিবাসীদের হাতিদের সঙ্গেই ঘর-সংসার৷ এলাকায় ছেলে-মেয়েদের শৈশব থেকেই হাতি তাড়ানোর কাজ শেখান বাবা-মা'রা৷ কারণ ঝাড়খণ্ড থেকে আসা হাজারিবাগের বুনো হাতির দল একরের পর একর জমির ফসল মাড়িয়ে, মানুষ শূন্যে তুলে আছাড় মারে৷ ফলে হাতি-মানুষ সঙঘাত এই বনাঞ্চলে নিত্যদিনের ঘটনা৷ কিন্ত্ত প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে হেঁসলা পাহাড়ে দুই হাতির মর্মান্তিক মৃত্যু নাড়িয়ে দেয় এই এলাকার বাসিন্দাদের৷ এদিন দুপুরে হেঁসলা গ্রাম থেকে দশ কিমি দূরে নদীর তীরে হাতির পারলৌকিক ক্রিয়া শেষে প্রৌঢ় পঞ্চানন কুইরি, নরেশ প্রামাণিকরা বলেন, "ওই জঙ্গলে হাতি আর মানুষ সমার্থক৷ ঝাড়খণ্ড থেকে আসা হাতিরা এই পাহাড়ে স্হায়ীভাবে থাকে বলেই ঝালদার বনাঞ্চল সমৃ৷ জঙ্গলে কাজ করতে গিয়ে সারাদিন হাতির মুখোমুখি হতে হয়৷ তাই এই বন্যপ্রাণগুলোর জন্য একটা টান জন্মে গিয়েছে৷ সেই অনুভূতি থেকেই এই কাজ করলাম৷" তাই অশৌচ পর্বে সে-নিরামিষ খেয়ে এদিন ওই দুই বন্যপ্রাণের আত্মার শান্তি কামনায় কলা, আপেল, নাসপাতি, সিন্নি্ দিয়ে পিণ্ড দেন৷ পুরুলিয়া বিভাগের বনাধিকারিক ওমপ্রকাশ বলেন, "এই কাজ করে ওই দুই গ্রামবাসী বন্যপ্রাণকেই সম্মান জানিয়েছেন৷ আমি অভিভূত, গর্বিতও৷" 

শাসনের নামে লাথি, ঘুষি, মাটিতে ফেলে শিশুকে আছড়ে পেটালো গৃহশিক্ষিকা

কলকাতাঃ শাসনের নামে সাড়ে তিন বছরের শিশুকে মাটিতে ফেলে লাথি মারলেন গৃহ শিক্ষিকা৷ এলোপাথারি চড়-চাপ্পড় তো আছেই৷ এই ঘটনা সিসিটিভি ফুটেজে দেখে হতবাক হয়ে গিয়েছে শিশুটির পরিবার৷
ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের লেকটাউনের দক্ষিণ দাঁড়ির বীণা আবাসনে৷ পূজা সিং নামে ওই গৃহ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন শিশুটির বাবা সঞ্জয় আগরওয়াল৷ তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে,  ওই গৃহ শিক্ষিকা বাগুইআটির বিদ্যাসাগর পল্লিতে বাড়ির যে ঠিকানা জানিয়েছিলেন, তা ও ভুয়া৷ পূজা সিং-এর খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ৷ নির্মম অত্যাচারে অসুস্থ হয়ে পড়েছে তিন বছরের বংশ৷ তাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য আরজিকর মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে৷ হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন মিলেছে৷
ঠিক কি হয়েছিল ছোট্ট বংশের সঙ্গে? সিসিটিভি ফুটেজে যা ধরা পড়েছে তা দেখলে আঁতকে উঠতে হয়৷ ঘরে লাগানো গোপন ক্যামেরায় বন্দি ছবিতে দেখা গিয়েছে, পড়াশোনায় অমনোযোগী হওয়ায় ছোট্ট ছেলেটিকে মাটিতে আচড়ে ফেলছেন গৃহশিক্ষিকা৷ তারপর নির্মম পেটানি৷ কেঁদে ককিয়ে উঠলেও, রাগ কমছে না শিক্ষিকার৷ উলটে প্রবল আক্রোশ এলোপাথারি ঘুষি চালাচেছন তিনি শিশুটির মুখে, মাথায়৷
আগরওয়াস পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন ধরে বংশ মা-বাবাকে বলছিল, ম্যাম তাকে মারে৷ বিষয়টিতে তেমন গুরুত্ব দেননি আগরওয়াল দম্পতি৷ ভেবেছিলেন, দুষ্টু ছেলেকে শাসন করতে শিক্ষিকা  হয়তো জোরে বকেছেন৷ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দরজা বন্ধ করে বংশকে পড়াচিছলেন পূজা৷ সেই সময় ছেলের কান্ন্া শুনে দরজা ধাক্কা দেন মা শালিনী৷ কিন্ত্ত দরজা না খোলায় তিনি সিসিটিভিটি চালান৷ বাইরে কমপিউটার সি্নে সেখানেই দেখতে পান কীভাবে অত্যাচার চলছে তাঁর সন্তানের উপর৷ এরপর ক্রমাগত দরজা ধাক্কা দেওয়ায় দরজাটি খোলেন পূজা৷ সেই মুহূর্তে ছেলেকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন মা শালিনী৷ রক্ত বেরোচিছল শরীর দিয়ে৷ ছেলের ফার্স্ট এড-এর ব্যবস্হা করতে তিনি যখন ব্যস্ত হয়ে পড়েন সেই সময় পালিয়ে যান ওই শিক্ষিকা৷
আর দেরি না করে থানায় যান আগরওয়াল পরিবার৷ জানা গিয়েছে, এই ঘটনার পর শিক্ষিকার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন বংশের মা৷ কিন্ত্ত ফোনে তাঁকে পাওয়া যায় না৷ এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বেপাত্তা পূজা সিং৷ তাকে গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়েছে পুলিশ৷
এদিকে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে৷ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন সমাজবিদ, মনোবিদ ও শিক্ষাবিদরা৷

Wednesday, 23 July 2014

মুমুর্ষু রোগীকে রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচালেন ডাক্তার

কলকাতাঃ হাসপাতালে ভর্তি এক মুমূর্ষু মহিলা রোগীকে নিজের শরীরের রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচালেই এক সকারি চিকিৎসক। মৃত্যুমুখি ওই রোগীনিকে বাঁচাতে পাশাদারি কথা ভুলে গিয়ে বিরল গ্রুপের রপক্ত দিয়েছেন ওই ডাক্তার।
ঘটনাটি কলকাতার দক্ষিণ ২৪ পরগনাস্র জেলা হাসপাতাল এম আর বাঙুর হাসপাতালের।
মাত্রাতিরিক্ত রক্তস্রাবের ফলে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন জোকার বনগ্রামের বাসিন্দা বছর কুড়ির সাবেরা খাতুন৷ চোখমুখ ফুলে গিয়েছিল৷ সমস্যা আরও বাড়িয়েছিল শ্বাসকষ্ট৷ গতমাসের ১৩ তারিখ সঙ্কটজনক অবস্থায় সাবেরাকে এমআর বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে যায় তাঁর পরিবার৷ অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক দেখে, সাবেরাকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি করে নেওয়া হয়৷ পরীক্ষার পর দেখা যায়, ওই যুবতীর হিমোগ্লোবিন ২ দশমিক ১৷ যা স্বাভাবিকের তুলনায় মাত্রাতিরিক্ত কম৷ রক্তের বন্দোবস্ত করতে বলা হয় পরিবারকে৷ কিন্তু সাবেরার বি-পজিটিভ গ্রুপের রক্ত পাওয়া যায়নি বাঙুর হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে৷ মানিকতলা সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাঙ্কে রেফার করা হয়৷ কিন্তু রাস্তাঘাটের যা অবস্থা, তাতে কতক্ষণে মানিকতলা থেকে রক্ত নিয়ে আসবে সাবেরার পরিবার? ততক্ষণ মেয়েটা বাঁচবে তো? পেশাদারি মানসিকতা ভুলে তখন এই কথাই ভাবছিলেন বাঙুরের চিকিৎসক অশোককুমার সামন্ত৷ শেষমেষ নিজের বি পজিটিভ রক্ত সাবেরাকে দেন চিকিত্সক৷ প্রাণে বাঁচেন বছর কুড়ির কিশোরী৷ শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে মাঝেমধ্যেই চিকিত্সকদের গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে৷ কিন্তু তার মধ্যে যে ব্যতিক্রমও আছে, তা প্রমাণ করে দিলেন অশোককুমার সামন্ত৷ এমআর বাঙুর হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বক্তব্য, দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন অশোককুমার সামন্ত৷ তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে৷

সিকিমে ধস, আটকে বহু পর্যটক

সিকিমঃ ভারতের সিকিম রাজ্যের বেড়াতে এসে মাঝপথেই আটকে পড়েছেন বহু পর্যটক। তাঁরা ধসের কবলে পএছেন। মঙ্গলবার রাজ্যের বিখ্যাত পর্যটকস্থল ছাঙ্গুরে বিশাল জাউগা জুড়ে ধস নামায় রাস্তা আটকে গিয়েছে। যার জেরে অন্য অংশের থেকে সড়কপথে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়ে গোটা এই অঞ্চল। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে অন্তত ১১৯ জন পর্যটক আটকে পড়েছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। এঁদের মধ্যে রাশিয়া, আমারিকা, নেদারল্যান্ড, ইউতক্রেন-সহ বেশ কয়েকটি দেশের পর্যটকরাও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে এরমধ্যে কোনও বাঙালি পর্যটক আছেন কি না, সে সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। ধস সরিয়ে ওই পথে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে তৎপর হয়েছে রাজ্য প্রশাসন। সেইসঙ্গে আটকে পড়া যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপরেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। খুব তাড়াতাড়ি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

Tuesday, 22 July 2014

'শুদ্ধি'করতে মাথা মোড়াচ্ছেন সলমন ?

জয়দেব দাস, কলকাতাঃ সলমান খান এবার মাথা মোড়াচ্ছেন। সখ করে নয়, নতুন ছবি করার তাগিদে তাঁকে মাথা মোড়াতে হিচ্ছে। এবং সলমান খান তাতে রাগি হয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ভাল ছবি করতে হলে এটা তো করতেই হবে। এর আগে বৃন্দাবনের বৃদ্ধাদের নিয়ে তৈ হচ্ছিল ‘ফায়ার’। তাতে সাবানা আজমিকে মাথা মোড়াতে হয়েছিল। এবার করণ
জোহরের ছবি 'শুদ্ধি'- করার জন্য সলামানকে ন্যাড়া হতে হচ্ছে। এই ছিবেতে কে অভনয় করবেন সে নিয়ে ইতিমধ্যেই বেশ জলঘোলা হয়ে গিয়েছে। শেষ নামটি অবশ্য এসেছে সুপারস্টার সলমন খানেরই। সলমন নিজেও স্বীকার করে নিয়েছেন যে তিনিই করণের 'শুদ্ধি'-তে অভিনয় করছেন। সলমন এই ছবির জন্য মাথা ন্যাড়া করে সেই খবরের সত্যতা প্রমাণ করতে পারেন বলে সূত্রের খবর।
সলমনের মাথার ঘন কালো চুলের স্পাইকি এবার হয়তো কিছু দিনের জন্য অদৃশ্য হতে চলেছে। চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে মাথা ন্যাড়া করাতে পারেন সলমন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, যদি সলমন ন্যাড়া না হন তাহলে ছবিতে তাঁর চরিত্রের প্রয়োজনে প্রস্থেটিক মাস্কের ব্যবহার করা হতে পারে সলমনের উপর, যাতে সলমনকে ন্যাড়া মনে হয়।
নিজের লুক নিয়ে হামেশাই পরীক্ষা নিরিক্ষা করতে ভালবাসেন সলমন। 'তেরে নাম' হোক বা 'বীর', কিংবা ধরুন 'মুঝসে শাদি করোগি'। বারে বারে নিজের চুলের ধরণ বদলে নিজের সখ পুরোপুরি বদলে   ফেলেছিলেন সলমন। আগামী ছবি 'কিক'- এও ফ্রেঞ্চকাট দাঁড়িতে স্মার্ট লুক এনেছেন সলমন।
আপাতত সলমনের হাতে যে ছবিগুলি রয়েছে তার মধ্যে ৩ টি ছবিতে একেবারে বিপরীতধর্মী ৩ অবতারে দেখা যাবে সলমনকে। 'শুদ্ধি' ছাড়াও 'প্রেম রতম ধন পায়ো' ছবিতে একেবারে শুদ্ধ ভারতীয় অবতারে এবং বনি কাপুরের 'নো এন্ট্রি মে এন্ট্রি' ছবিতে দশাসয়ী চেহারায় দেখা যাবে সলমনকে।
কিন্তু যদি সলমন মাথা মুড়িয়েও ফেলেন তাহলে তাঁর ভক্তদের সংখ্যা বাড়বে বই কমবে না। যদিও মাথা ন্যাড়া করা নিয়ে এখনই নিজে কিছু জানাননি সলমন। আগামী ২৫ জুলাই মুক্তি পাচ্ছে সলমনের নতুন ছবি কিক। এই ছবিতে সলমনের সঙ্গে অভিনয় করেছেন জ্যাকলিন, নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকি এবং রণদীপ হুডা।

দৃষ্টিহীন ছাত্রকে শিক্ষকের পৈশাচিক প্রহার, তোলপাড় গোটা দেশ

জয়দেব দাস, কলকাতাঃ দৃষ্টিশক্তিহীন ৩ ছাত্রকে অমানবিকভাবে মারধর করছেন শিক্ষক। অন্ধ্রপ্রদেশের একটি স্কুলের এই ভিডিও ফুটেজ প্রকাশিত হওয়ার পর সারা ভারতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সেই অভিযোগে স্কুলের অধ্যক্ষকেও সাসপেন্ড তো করা হয়েছেই গ্রফতারও করা হয়েছে তাঁকে।  
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষক নিজেও দৃষ্টিহীন। শিশুদেরকে হাতের সরু কঞ্চি দিয়ে পৈশাচিকভাবে ঘায়ের পর ঘা করে চলেছেন। ছাত্ররা কাঁদছে, চেঁচাচ্ছে, প্রাণ ভিক্ষা চাইছেন। কিন্তু কোনও কিছুতেই কোনও লাভ হচ্ছে না। শিক্ষকের প্রহার থেকে রেহাই নেই দৃষ্টিহীন ছাত্রদের।
মারের চোটে যন্ত্রণায় ছটফট করছে ছাত্ররা। যখন তাড়স্বরে চিৎকার করে কাঁদছে তারা তখনই অভিযুক্ত ওই শিক্ষক একজনের মাথা ধরে মাটিতে ঠুকে দিচ্ছে। এই ভিডিওতে অভিযুক্ত শিক্ষকের সহকারী আর এক ব্যক্তিকে দেখা গিয়েছে, যদিও ওই ব্যক্তির মুখ ভিডিওতে স্পষ্ট নয়। এই ভিডিওতে যে ছাত্রদের মারধর করার ফুটেজ ধরা পড়েছে তারা প্রত্যেকেই ১০ বছরের কম বয়সী।
সোমবার এই ভিডিও সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায়। যদিও কে এই অমানবিক ভিডিওটি ফোনে রেকর্ড করেছে সে বিষয়ে কিছু জানতে পারা যায়নি।
অন্ধ্রর কাকিনাড়ার পুলিশ জানিয়েছে,  হায়দ্রাবাদ থেকে ৬৫০ কিলোমিটার দূরে গ্রীনফিল্ড রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের ঘটনা এটি। এই স্কুলটি দৃষ্টিহীনদের জন্য। ভিডিও ফুটেজটি প্রকাশিত হওয়ার পর পুলিশ অভিযুক্ত ওই দৃষ্টিহীন শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে। স্কুলের অধ্যক্ষকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে রাজ্যের শিশু অধিকার কমিশন এই ভিডিওটি দেখার পর তৎপর হয়েছে। স্বতন্ত্রভাবে তদন্ত শুরু করেছে তাঁরা। জানা গিয়েছে, স্কুলটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান। এই স্কুলে ৬২ ছাত্রের নাম নথিভুক্ত করা আছে। এই স্কুলেই ছাত্ররা থাকে। জেলা প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে এই স্কুল থেকে ছাত্রদের অন্যথায় স্থানান্তরিত করা হবে কি না।

কংগ্রেস দলের মধ্যে ‘রাহুল হটাও’ রব উঠেছে হঠিয়ে, চাই প্রিয়াঙ্কাকে

কলকাতাঃ কংগ্রেস দলের নেতা কর্মীরা আর রাহুল গান্ধীকে পছন্দ করছে না। তারা রাহুলকে হটিয়ে সেই জায়গায় তার বোন প্রিয়াঙ্কাকে চাইছে। লোকসভা ভোটে গোহারার পর কংগ্রেসের অন্দরে ক্রমেই পুঞ্জিভূত হচ্ছে রাহুল বিরোধী ক্ষোভ৷ তাঁর কর্মপদ্ধতির উপর বারবার প্রশ্ন চিহ্ন তুলেছেন তাঁরই দলের এক শ্রেণির নেতা৷ এমন সময় বিজেপি’র সভাপতি পদে অমিত শাহের উত্থানে দলের ভিতরেই আরও ব্যাকফুটে রাহুল৷ অমিতের ক্যারিশ্মার পাশে রাহুল ফিকে বলেই সুর চড়াচ্ছেন বিদ্রোহী নেতারা৷ অমিতের সঙ্গে পাল্লায় তাই রাহুল নন,  প্রিয়াঙ্কাই যোগ্য উত্তরাধিকার বলে জোড় সওয়াল করলেন তারা৷
কংগ্রেস অধিকাংশ নেতারা মনে করছেন প্রবীণ ও নবীনদের মধ্যে ভেদ সৃষ্টি করছেন রাহুলই৷ আরও অভিযোগ, এনজিও’র নীতি মেনে দল চালাতে চাইছেন যুবরাজ৷ লোকসভায় ৪৪ আসন জোটার পর দলীয় নেতাদের সমালোচনার কাঁটায় বিদ্ধ তিনি৷ শুরু হয়ে গিয়েছে বোন প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে তাঁর তুলনা৷ দলের অন্দরে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে ‘রাহুল হঠাও’ রব৷

কীভাবে পা রাখা নীল ছবির দুনিয়ায়? খোলা মনে জানালেন সানি লিওনি

জয়দেব দাস, কলকাতাঃ নীল ছবির তারকা বেবি ডল সানি লিওনি খুশি মনেই নীল ছবির জগতে প্রবেশ করেছেন। নীল ছবি করতে তিনি বিন্দুমাত্র লজ্জিত নন। 
সম্প্রতি নিজের বাসনার কথা জানিয়ে সবাইকে আরও একবার চমকে দিলেন সানি। জানালেন, নিজের একটি নীল বিনোদনের প্রযোজনা সংস্থা খুলতে চান তিনি। "আমি আমার নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা খুলতে চাই যাতে নিজের ও অন্যদের চিত্রনাট্য নিয়ে পরিচালনা, প্রযোজনা করতে পারি। ব্যবসায়িক দিক থেকে ভাবলে এই প্রকল্পটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত।"
নীল ছবির জগত যদি এতই পছন্দ হয়, তাহলে ছেড়ে বেরিয়ে এলেন কেন?  প্রশ্নের উত্তরে সানি জানিয়েছেন ২০১১ সালে একটি গুগল সার্চ তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। গুগল ঘাটতে ঘাটতে হঠাৎই তিনি দেখতে পান বিগ বস-এর মুম্বইয়ের প্রোডাকশন দল নীল ছবির অভিনেত্রী খুঁজছেন প্রতিযোগী হিসাবে। "সেটা আমার কাছে একটা স্বর্ণালী সুযোগ ছিল। আমি ও আমার স্বামী ওরফে ম্যানেজার ড্যানিয়েল ওয়েবারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলাম বিনোদনের বাজার ধরতে গেলে বিগ বস একটা ভাল প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। ব্যস চলে এলাম।" হাসতে হাসতে জানালেন সানি।
খুব বেশিদিন হয়নি পা রেখেছেন বলিউডে। কিন্তু বলিউডেও হট ও হিট এই তারকা। নামটা আশা করি বলে দিতে হবে না। হ্যাঁ তিনি বেবি ডল সানি লিওনি। কীভাবে পা রাখা নীল ছবির দুনিয়ায়? কীভাবে নীল দুনিয়া থেকে বেরিয়ে এসে পা জমালেন বলিউডে? সবই মন উজার করে জানালেন প্রাক্তন ওই নীল তারকা।
নীল ছবির জগত এমন একটি জায়গা যেখানে জোর করে কাউকে নিয়ে যাওয়া হয়। ভাগ্যের ফেরে বা পরিস্থিতির চাপে নীল দুনিয়ায় ঢুকতে বাধ্য হন বহু তরুণী। কিন্তু সানির ক্ষেত্রে কিন্তু বিষয়টা একদমই আলাদা। কারোর চাপে নয়, নিজের ইচ্ছাতেই নীল দুনিয়ায় পা রেখেছিলেন সানি। আর তার জন্য কোনও আক্ষেপও তাঁর নেই। তবে এখন বেরিয়ে যখন এসেছেন পিছনে আর ফিরে তাকাতে চান না বলে জানালেন সানি। বলিউডকেই পাখির চোখ করে এগোতে চান তিনি।

Monday, 21 July 2014

ডাইনি অপবাদে এক লক্ষ টাকা জরিমানা নাবালিকার, অনাদায়ে মুন্ড কাটার নিদান আদিবাসী গ্রামের মাতব্বরদের

জয়দেব দাস, কলকাতাঃ সাত বছরের এক শিশু কন্যাকে ডাইনি অপবাদ দিয়ে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সালিশি সভায় দ্বিতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রীকে ডাইনি সাব্যস্ত করেছে গ্রামেরই মোড়লরা৷ একই সঙ্গে আর্থিক জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে  সালিশি সভার মাতব্বররা৷ টাকা দিতে না পারলে মুণ্ডু কেটে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে মা-মেয়েকে৷ সোমবার এই মধ্যযুগীয় বর্বরতার ঘটনাটী ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পুরুলিয়া জেলার আদিবাসী অধ্যুষিত বোরো থানার বড়গড়া গ্রামে৷ ওই গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির বাসিন্দা সুমিত্রা হাঁসদা ও তার মা, সবুজমণি এখন গ্রামছাড়া হয়ে বান্দোয়ানের উদলবনি গ্রামের আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন৷ ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি ওই শিশুটির মধ্যে ডাইনির কোনো লক্ষণ আমরা দেখিনি। তবে মারব্বরদের নিদানের বিপক্ষে আমার কিছু বলার নেই। এই ঘটনার পর মেয়েটির মা সবুজমণি হাঁসদা বড়গড়া গ্রামে সালিশি সভার নেতৃত্বে থাকা সাতজন মাতব্বরের বিরু‌দ্ধে থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন৷ এরা হলেন ওই গ্রামের অজিত টুডু,  ঠাকুরদাস হেমব্রম, পরীক্ষিত হেমব্রম,  কালিপদ মুর্মু,  গুরুপদ হাঁসদা,  পেলারাম হাঁসদা ও চুনারাম হাঁসদা৷ অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে৷ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।  

মাদক আসক্ত শাহরুখ খানের স্ত্রী গৌরী

জয়দেব দাস, কলকাতাঃ ভারতীয় সিনেমার প্রতিষ্ঠিত সফল নায়ক শাহরুখ খানের স্ত্রী গৌরী খান মাদকে আসক্ত বলে জানা গিয়েছে। ভারত থেকে প্রকাশিত কয়েকটি ইংরেজি দৈনিকে এই সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এই ঘটনায় বলিউড কিং শাহরুখ খান এতে বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন। 
এরআগে বলিউডের অনেক তারকাই ভারত ও ভারতের বাইরের বিভিন্ন বিমানবন্দরে মাদকসহ ধরা পড়েছেন। তালিকায় ৪৩ বছর বয়সী গৌরী খানের নাম আছে। কয়েক বছর আগে তিনি জার্মানির বার্লিন বিমানবন্দরে অল্প পরিমাণ গাঁজাসহ ধরা পড়ে ছিলেন। নিজের সেবনের জন্য গাঁজা বহন করছেন বলে জানালে গৌরীকে ছেড়ে দেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।  
গৌরীদেবী পেশায় একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার। অন্দরসজ্জার পাশাপাশি তিনি পোশাকের নকশাও করেন। ছবি প্রযোজনা ও পরিবেশনা সংস্থা রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা তিনি। ‘ম্যায় হু না’, ‘কাল’, ‘ওম শান্তি ওম’, ‘মাই নেম ইজ খান’, ‘রা.ওয়ান’, ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’, চেন্নাই এক্সপ্রেস’সহ একাধিক ব্যবসায়  সফল ছবির প্রযোজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন গৌরীদেবী। ২৩ বছর আগে  দিল্লির সম্ভ্রান্ত এক ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে গৌরী শিবারকে ভালোবেসে বিয়ে করেন শাহরুখ খান। দুই ছেলে আরিয়ান,  আবরাম ও মেয়ে সুহানাকে নিয়ে শাহরুখ-গৌরীর সুখের সংসার। শাহরুখের সঙ্গে গৌরী ১৯৯১ সালে গাঁটছড়া বাঁধলেও শাহরুখ-গৌরীর পরিচয় পর্বটা হয়েছিল ১৯৮৪ সালে,  যখন তাঁরা দুজনই স্কুলে পড়তেন। তখন  শাহরুখের বয়স ছিল ১৯,  আর গৌরীর মাত্র ১৪ বছর। একটি অনুষ্ঠানে তাঁদের প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল। পরে বিয়ে। এই ঘটনায় বলিউড কিং শাহরুখ খান এতে বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন। কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

ধর্ষিতার ছবি ফেসবুকে দিয়ে বিড়ম্বনায় ‘আপ’ নেত্রী


জয়দেব দাস, কলকাতাঃ আপ আদমি পার্টির (আপ) নেত্রী অলকা লাম্বার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ এক ধর্ষিতা নারীর ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে তাঁর সম্মানহানি করেছেন তিনি। সেই কারণে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করলেন উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের লখনউয়ের বাসিন্দা রাকেশ সিংহ। তাঁর অভিযোগ, অন্তত ২০৯৪ জন ‘লাইক’ করেছেন সেই ছবিতে। রাকেশের মতে, এটি ধর্ষণের থেকেও বড় অপরাধ।

লখনউতে এক নারীকে প্রথমে গণধর্ষণ করা হয়। পরে তাঁকে খুন করে ধর্ষকরা। ওই নারীর ছবি ১৯ জুলাই ফেসবুকে শেয়ার করেন অলকা। রাকেশ সিংহের অভিযোগ, গণধর্ষিতার ছবি শেয়ার করে মারাত্মক অপরাধ করেছেন আপ নেত্রী। তাঁকে দ্রুত গ্রেফতার করা উচিৎ পুলিশের।   
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই নারীকে ধর্ষণের সঙ্গে যুক্ত মূল অপরাধীকে চিহ্নিত করা গিয়েছে। ওই নারীকে গণধর্ষণ করা হয়নি। প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিন্টন যে গ্রামে ঘুরে গিয়েছে সেই জাবরৌলি গ্রাম থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে মহালগঞ্জ অঞ্চলে ওই ধর্ষিতা নারীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তে দেখা গিয়েছে, ধর্ষিতার দেহের গোপানঙ্গে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। 

Saturday, 19 July 2014

বিসিসিআইয়ের অনুমতিতে ইংল্যান্ড সফরে বিরাটকে সঙ্গ দিতে উড়ে গেছেন বান্ধবী অনুষ্কা

জয়দেব দাস, কলকাতাঃ অনেক কানাঘুষো, লুকোচুরির পর অবশেষে বিরাট কোহলি-অনুষ্কা শর্মার প্রেমের সম্পর্ক প্রকাশ্যে সিলমোহর পেল। আর এর সৌজন্যে অবশ্যই রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের একটি সিদ্ধান্ত। এতদিন অবধি টিম ইন্ডিয়া তাঁদের ক্রিকেট সফরে শুধুমাত্র স্ত্রীদের নিয়ে যেতে পারতেন। এবার থেকে তাঁরা তাঁদের বান্ধবীদেরও নিয়ে যেতে পারবেন বলে জানিয়ে অনুমতি দেয় বিসিসিআই। ফলে ইংল্যান্ড সফরে বিরাট কোহলির সঙ্গে দেখা যাচ্ছে তাঁর বান্ধবী, অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মাকে৷এদিকে সূত্রের তরফে জানা গেছে, নটিংহ্যামের প্রথম টেস্টে টিম হোটেলে ক্রিকেটারদের জন্য নির্দিষ্ট ঘর ছাড়াও আরও ২১টি ঘর ভাড়া নেওয়া হয়েছে৷ এই সব ঘরে ১৮ জন ক্রিকেটারকে সাহায্য করার জন্য আছেন ১৫ জন সাপোর্ট স্টাফ৷
স্ত্রীর, সন্তান ও বান্ধবীদের নিয়ে এবারের সফরে জমজমাট ভারতীয় ক্রিকেটারদের অন্দর।তবে এই সফরে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বান্ধবীরা যে থাকতে পারবেন সেবিষয় টিম ম্যানেজমেন্ট প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও, সূত্রের তরফে জানা গেছে বিসিসিআইয়ের অনুমতিতেই অনুষ্কা রয়েছেন বিরাটের সঙ্গে ইংল্যান্ড সফরে।

Friday, 18 July 2014

ভারতের গোয়ার সমুদ্র তটে বসানো হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরা

কলকাতাঃ গোয়ার সমুদ্রতটে নজরদারির জন্য বসছে সিসিটিভি l সমুদ্রতটের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পর্যটকদের গতিবিধির উপর নজর রাখবে এই ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাগুলি l গোয়া সরকারেরে পর্যটন দফতরের উদ্যোগে সমুদ্রতট গুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে l শুধুমাত্র ক্যামেরাও নয় সবদিক ভাবনা চিন্তা করে ভারতীয় রিসার্ভ ব্যাটালিয়নের জওয়ানদের মোতায়েন করা হবে ভিড়ে ভরা সমুদ্রতটগুলিতে l পর্যটন দফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর পামেলা মাস্কার্নাস জানিয়েছেন, রিসার্ভ পুলিশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজ্য পুলিশ পর্যটকদের আনাগোনা ও গতিবিধির উপর নজরদারি চালাবে l সমুদ্রতটে নজরদারির তদারকির জন্য চালাতে একটি পৃথক ফ্লাইং স্কোয়াড গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পামেলা l সারা বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা ভিড় জমান গোয়ায় l সেই অনুযায়ী সমুদ্রতট অপরিষ্কার করার প্রবনতা দেখা যায় পর্যটকদের l জওয়ানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিচ নোংরা করলে, প্রকাশ্যে মদ্যপান করলে বা রান্নাবান্না করলে কিংবা যত্রতত্র মুত্রত্যাগ করলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে l এছাড়াও মহিলা ও বিদেশী পর্যটকদের সুরক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে জওয়ানদের l এছাড়াও সমুদ্রতটে ভিক্ষুক ও হকারদের আনাগোনা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে পর্যটন দফতর l 

মুম্বইয়ে বহুতলে আগুন, ক্ষতিগ্রস্থ হৃতিক, অজয়ের অফিস


কলকাতাঃ মুম্বইয়ের একটি বহুতলে আগুন লেগে পুড়ে গিয়েছে ২টি ফ্লোর। ২২ তলা ওই বহুতলের সবথেকে ওপরের দুটি তলায় আগুন লাগে। ওই দুটি তলে বহু কর্পোরেট অফিসের সঙ্গে রয়েছে বলিউড তারকা হৃতিক রোশন ও অজয় দেবগনের অফিস।  


এ দিন আন্ধেরি ওয়েস্টের ওই বহুতলে সকাল ১০টা নাগাদ আগুন লাগে। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ২২ তলাতেও। দমকলের ১২টি ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। যদিও প্রাণনাশের কোনও খবর পাওয়া যায়নি তবে দুর্ঘটনার সময় ভিতরে আটকে পড়েন বেশ কিছু লোক।
ঘটনাস্থলে পৌছে দমকল আধিকারিদের সঙ্গে কথা বলেছেন হৃতিক রোশন।

মুম্বইয়ে বহুতলে আগুন, ঘটনাস্থলে ৫০ টি ইঞ্জিন, নিহত ১ দমকল কর্মী

কলকাতাঃ মুম্বইয়ের বহুতলে ভয়াবহ আগুন৷ পশ্চিম শহরতলির ২২ তলা লোটাস বিল্ডিং-এর ২১ তলায় বেলা ১১ টা নাগাদ আচমকাই আগুন লেগে যায়৷ 
ঘটনাস্হলে পৌঁছে যায় দমকল৷ আআআগুন নেভাতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে এক দমকলকর্মীর৷ আগুন দ্রূত ২১ তলা থেকে ২০ তলায় ছড়িয়ে পড়ায় আটকে পড়েন দমকলের বেশ কয়েকজন কর্মী৷  চারদিক কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়৷ আটকে থাকা দমকলকর্মীদের উদ্ধারে নামানো হয়েছে উপকূল রক্ষী বাহিনীর ‘চেতন' নামে একটি হেলিকপ্টার৷ এখনও আটকে রয়েছে দমকলের ছ'কর্মী৷
আট ঘণ্টাতেও আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসায়, পরিস্হিতি সামাল দিতে দমকলের ৫০টি ইঞ্জিন নামানো হয়েছে৷ আনা হয়েছে স্কাই ল্যাডার৷ প্রচণ্ড ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছে চারদিক৷
এই বহুতলেই রয়েছে অভিনেতা হৃত্বিক রোশন, বিখ্যাত শেফ সঞ্জয় কাপূর -সহ বেশ কয়েকটি বড় বড় অফিস রয়েছে৷ খবর পেয়ে হাজির হয়েছেন ঋত্বিক রোশন৷ 
লোটাস বিল্ডিং অন্ধেরির মুম্বই লিংক রোডের গায়েই৷ সে কারণে, প্রচণ্ড যানজটের সৃষ্টি হয়েছে সেখানে৷ এখনও আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসায় ক্রমশ আতঙ্ক বাড়ছে৷

বেনারসী শাড়ির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হলেন প্রিয়ঙ্কা চোপড়া

কলকাতাঃ ভারতীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রতোভাবে জড়িত বেনারসী শাড়ি। আর এবার সেই বেনারসী শাড়িরই ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর বা প্রতিনিধি হলেন প্রিয়ঙ্কা চোপড়া। সদ্য ঘোষিত কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হস্তশিল্প ক্ষেত্রের জন্য অর্থ বরাদ্দ করার পরই বুধবার কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রক বেনারসী শাড়ির সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার নাম ঘোষণা করেন।
বর্তমানে বেনারসী শাড়ির ব্যবহার শুধুমাত্র বিয়ের আসরেই আবদ্ধ হয়ে গেছে। ফ্যাশন দুনিয়ার হাত ধরে আরও অন্য ধরণের অনেক শাড়ি পা রেখেছে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের অন্দরে। বারো হাত দৈর্ঘ্যের ভারতীয় সংস্কৃতির প্রাচীন এই ঐতিহ্যবাহী পোশাকে এখন ঢুকেছে অনেক অন্য ঘরাণার স্টাইল। এখন নারীরা পুরুষ মনে বেনারসী শাড়ি পরেই হিল্লোল তোলে না, পরণে তাদের অন্য না না বিধ কারুকাজ ও ঘরাণার শাড়ি দেখা যায়। মূলত না না ধরণের শাড়ির ভিড়ে এখন হারিয়ে যেতে বসেছে বেনারসী শাড়ি। তাই বলিউডের অন্যতম ফ্যাশনদুরস্ত নায়িকা প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার হাতধরেই এখন বেনারসীর ভাগ্যে জিয়নকাঠি ছোঁয়ানোর চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রক।
এবিষয় বারাণসীর তাঁতিদের সঙ্গে একটি বৈঠকও করেন বস্ত্রমন্ত্রকের সেক্রেটারি জোহরা চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানান, প্রিয়ঙ্কার হাত ধরে বারাণসীর সবধরণের শাড়িই বিশ্ববাজার ও ভারতীয় বাজারে প্রচার পাবে। এছাড়া বস্ত্রশিল্পের প্রচারের জন্য কেন্দ্রীয় বাজেটে যেসমস্ত ঘোষণা করা হয়েছিল, সেই সিদ্ধান্তকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতেও বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে।সেই পদক্ষেপকেও স্বাগত জানিয়েছে বারাণসীর তাঁতি সম্প্রদায়।
কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রক ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে একটি ক্রাফ্ট মিউসিয়াম ও বাণিজ্যের কাজকর্ম করার জন্য একটি কেন্দ্র তৈরি করতে। এছাড়া এবারের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আটটি টেক্সটাইল মেগাক্লাস্টর তৈরির প্রতিশ্রুতিও দিয়ে ছিলেন। সেগুলো তৈরি হবে বারাণসী, বরেলি, লখনউ, সুরাত, কচ্ছ, ভাগলপুর, মহিশূর এবং তামিলনাড়ুর একটি জায়গায়। এরজন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২০০ কোটি টাকা। এছাড়াও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক দিল্লিতে একটি হস্তকলা অ্যাকাডেমি স্থাপনেরও প্রতিশ্রুতি দেন। যারজন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৩০ কোটি টাকা।

পাবনায় সুচিত্রা সেনের পুরনো ভিটাতে আসছেন মুনমুন, সঙ্গে রিয়া, রাইমাও

জয়দেব দাস, কলকাতাঃ বাংলাদেশের পাবনায় মায়ের পৈতৃক ভিটেয় শীঘ্রই যাবেন প্রয়াত মহানায়িকা সুচিত্রার তনয়া মুনমুন সেন৷ সঙ্গে যাবেন দুই অভিনেত্রী কন্যা রাইমা ও রিয়া৷ মায়ের পৈতৃক বাড়ি জামাতের দখলমুক্ত হওয়ার ঘটনায় বৃহস্পতিবার দিল্লিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মুনমুন জানিয়েছেন, "বাড়িটি উদ্ধার করায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আমাদের পরিবারের তরফে কৃতজ্ঞতার শেষ নেই৷ ওই বাড়িতে মায়ের নামে যে সংগ্রহশালা তৈরি হচ্ছে তাতে আমার পাশাপাশি দুই বাংলার সুচিত্রা অনুরাগীরা সবাই খুবই খুশি এবং কৃতজ্ঞ৷ শুটিং থেকে দুই মেয়ে ফিরলে যাওয়ার দিন ঠিক করব৷" পাবনার সংগ্রহশালায় মায়ের কিছু ছবি এবং ব্যবহৃত সামগ্রী দেওয়ার ইচ্ছা আছে বলে মুনমুন জানান৷ 
পাবনার গোপালপুর মহল্লায় এদিন সরকারিভাবে সুচিত্রা সেনের পৈতৃক ভিটের দখল নিয়েছে বাংলাদেশের ভূমি রাজস্ব দফতর৷ জমির পরিমাণ মোট ২২.২৫ শতক৷ এদিন নিজে হাতে সরকারি বোর্ড দিয়ে তালা দিয়েছেন জেলাশাসক কাজি আশরাফ উদ্দিন৷ ৩৩ বছর ধরে বাড়িটি জামায়েতের শাখা সংগঠন ইমাম গাজ্জালির. দখলে ছিল৷ শেখ হাসিনা দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বাড়িটি উদ্ধারের জন্য সরকার ও পাবনার সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ লড়াই শুরু করে৷ মহানায়িকার মৃত্যুর পর বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রী ও নাট্যব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নুর কলকাতায় মুনমুনের সঙ্গে দেখা করে বাড়ি উার নিয়ে আশ্বস্ত করেন৷ ঢাকায় ফিরে সংসদে মন্ত্রী নুর ঘোষণা করেন, ওই বাড়িটি উার করে সুচিত্রা সেন সংগ্রহশালা হবে৷ মন্ত্রীর ঘোষণার পর বাড়িটি পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলি লাকি এবং সরকারি স্হপতিরা৷ বাড়িটি অবিকৃত রেখে সংগ্রহশালা কীভাবে হবে তা নিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের তরফে খসড়া তৈরি হয়েছে৷ বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রীর ইচ্ছা, সংগ্রহশালার শিলান্যাস ও উদ্বোধন দুটোতেই থাকুন মুনমুন, রাইমা-রিয়া৷ এদিন দিল্লিতে মুনমুন জানান, "চেষ্টা করছি সংগ্রহশালা তৈরি শুরুর আগেই পাবনা যাওয়ার৷" পাবনার জেলাশাসক কাজি আশরাফ উদ্দিন এদিন জানান, "মহানায়িকার স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি উদ্ধার করতে পেরে সত্যিই আনন্দ হচেছ৷ আপাতত বাড়িটি তালাবন্ধ থাকছে৷ থাকবে পুলিশ প্রহরাও৷ ঈদের পর সংগ্রহশালা নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি শুরু হবে৷" বছর দশেক ধরে বাড়িটি উদ্ধারের জন্য যিনি লাগাতার লড়াই করছেন সেই সুচিত্রা সেন সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ রামদুলাল ভৌমিক আজ আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কেঁদে ফেলেন৷ উচ্ছ্বসিত ও খুশি পাবনা গার্লস হাই স্কুলের ছাত্রী-শিক্ষিকারা৷ ওই স্কুলের ছাত্রী ছিলেন মহানায়িকা৷ ডাঃ ভৌমিক জানান, "ঈদের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বাড়িটি সংস্কৃতিমন্ত্রকের অধীনে দিতে বলব৷ তা না হলে শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মহানায়িকার সংগ্রহশালা তৈরি করতে পারবে না৷"

সিএবি-র যুগ্ম সভাপতি হতে চলেছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়

জয়দেব দাস, কলকাতাঃ পশ্চিমবঙ্গের বাংলার ক্রিকেট প্রশাসনেরর সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছেন প্রাক্তন ভারতীয় খেলোয়াড় তথা ভারতের সফল অধিনায়ত সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। আগামী ২৭ জুলাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি)-ক ৮৩ তম বার্ষিক সাধারণ সভায় অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সচিব নির্বাচিত করা হবে বাঙালির প্রিয় 'দাদাকে'।
সিএবির-র সুজন মুখোপাধ্যায়ের চার বছরের সময়সীমা শেষ হচ্ছে এই মাসেই। সেই জায়গাতেই আসবেন সৌরভ। সিএবির বাকি প্যানেল একই থাকবে। ৭৪ বছরের বরিষ্ঠ জগমোহন ডালমিয়া বিনা বিরোধিতায় পুনর্নির্বাচিত হয়ে আসবেন সিএবির সভাপতি হয়ে।
ইংল্যান্ডে চলতি পতৌদি ট্রফির জন্য আপাতত ধারাভাষ্য দিচ্ছেন সৌরভ। সৌরভের তরফে জানানো হয়েছে ইতিমধ্যে সিএবি সভাপতি জগমোহন ডালমিয়া এবং সিএবির যুগ্ম সচিব সুবীর গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন সৌরভ।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২০ জুলাই। সৌরভের তরফে তাঁর মনোনয়ন জমা দেবেন বরিষা স্পোর্টিং ক্লাব। যদিও এবিষয়ে কোনও তথ্য তাঁদের জানা নেই বলে দাবি করেছেন সৌরভের দাদা স্নেহাশিষ গঙ্গোপাধ্যায়।
ভারতের ইংল্যান্ড সফরের তৃতীয় টেস্ট ম্যাচটি শুরু হবে ২৭ জুলাই থেকে। আর সেই কারণেই সিএবির বার্ষিক সাধারণ সভাতে সৌরভের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ। শুধু ক্রিকেট নয় ফুটবলেও আপাতত ঢুকে পড়েছেন সৌরভ। ফুটবলের ইন্ডিয়া সুপারলিগে কলকাতা ফ্রাঞ্চাইজি যৌথভাবে কিনেছেন সৌরভ। তাঁর সঙ্গে মালিকানায় রয়েছেন শিল্পপতি হর্ষ নেওটিয়া, সঞ্জীব গোয়েঙ্কা, উৎসব পারেখ এবং লা লিগা চ্যাম্পিয়ন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ।

Wednesday, 16 July 2014

ব্রিকস উন্নয়ন ব্যাঙ্কের প্রথম সভাপতি হচ্ছেন একজন ভারতীয়

জয়দেব দাস, কলকাতাঃ ব্রিকস উন্নয়ন ব্যাঙ্কের প্রথম সভাপতি হচ্ছেন একজন ভারতীয়৷ তবে সদর দফতর হবে চিনের সাংহাইয়ে৷ ব্রাজিলে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে চূড়ান্ত হয়ে গেল উন্নয়ন ব্যাঙ্কের ভবিষ্যৎ৷  ভারত সভাপতিত্ব করার দায়িত্ব পেলেও সদর দফতরকে নিজেদের দেশে রাখার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শেষপর্যন্ত জিত হল চিনের বাণিজ্যনগরীর৷ তবে নরেন্দ্র মোদির প্রস্তাব মতো ভারত সভাপতিত্ব করে ব্রিকস উন্নয়ন ব্যাঙ্কে নিজের কর্তৃত্ব কায়েম রাখবে বলেই মত বিশেষজ্ঞ মহলের৷ এদিকে ব্রিকসের সম্মেলনের ফাঁকেই মঙ্গলবার রাতে রাশিয়ার প্রেসিডেণ্ট ভ্লদামির পুতিনের সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে একান্তে বৈঠক করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী৷ ভারত-রাশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়ন নিয়ে দুই নেতার কথা হয়েছে৷ ডিসেম্বরে বার্ষিক সম্মেলনে ভারত সফরে আসছেন পুতিন৷ তাঁকে কুড়ানকুলামের পরমাণু কেন্দ্র ঘুরে দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মোদি৷ বৈঠক শেষে মোদি টুইট করেন, "ভারত-রাশিয়ার সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে নানা কথা হল প্রেসিডেণ্ট পুতিনের সঙ্গে৷ রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ককে সম্মান করি৷" সূত্রের খবর, শিল্পে বিনিয়োগ নিয়েও দুই রাষ্ট্রনেতার কথা হয়েছে৷ সোমবার রাতেই চিনের প্রেসিডেণ্ট জি জিনপিংয়ের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী৷ ভারত-চিনের বিতর্কিত সীমান্ত সমস্যার দ্রূত সমাধান ও আর্থিক বিনিয়োগ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা হয়৷ ব্রিকস উন্নয়ন ব্যাঙ্কের জন্য দশ হাজার কোটি ডলারের তহবিল করা হয়েছে৷ ব্রিকস গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলি থেকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর ব্যাঙ্কের সভাপতি বেছে নেওয়া হবে৷ 

মহিলা সাংসদকে অশ্লীল এমএমএস পাঠিয়ে গ্রেফতার অভিযুক্ত


জয়দেব দাস, কলকাতাঃ ভারতের এক মহিলা সাংসদের মোবাইলে অশ্লীল এমএমএস পাঠানোর অভিযোগে রাজস্থানের আলবর থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ৷ বুধবার সকালে পুলিশ তাকে তার নিজের বাড়ি থেকে ধরেছে। ধৃতের নাম ভরতলাল মীনা। তিনি রামপুরা জেলার আলবরের বাসিন্দা৷ তার স্ত্রী কয়েক বছর আগে তাকে ছেড়ে নিজের বাপের বাড়ি ভীলবাড়ায় চলে গিয়েছে৷ অভিযুক্ত নিজের স্ত্রীর মোবাইল নম্বর ভেবে মহিলা সাংসদের নম্বরে এমএমএস পাঠাচ্ছিল ওই যুবক৷ পুলিশ আধিকারিকরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর জানতে পারে,  বেশ কিছুদিন আগে সে ভীলবাড়ায় গিয়েছিল৷ সেখানে কেউ তাকে তার স্ত্রীর মোবাইল নম্বর হিসেবে ওই নম্বরই তাকে দেয়৷ এরপর থেকে স্ত্রীর উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সে ওই নম্বরে অশ্লীল ম্যাসেজ পাঠাতে শুরু করে৷ ওই্ নম্বর ছাড়াও অন্য বেশ কিছু নম্বরেও সে একই ধরনের এমএমএস পাঠাত৷ ম্যাসেজ পাওয়ার পর লোক যখন তাকে ফোন করত সে ফোন রিসিভ করত না৷  

যে মহিলার কাছে এই ধরনের অশ্লীল এমএমএস আসত তিনি রাজস্থানের ঝুঞ্ঝুনু এলাকার বিজেপি সাংসদ সন্তোষ অহলাবত৷ মহিলা সাংসদ নয়াদিল্লি তুঘলক রোড থানার পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়ে বলেন তিনি লোকসভা অধিবেশনে যোগ দিতে নয়া দিল্লি এসেছেন৷ এই সময়ই তার রাজস্থানের মোবাইল নম্বরে অশ্লীল ম্যাসেজ  ও ফোন কল আসে৷

ভারতে ৩৫ হাজার টাকায় নাবালিকাকে বিক্রি, গ্রেফতার বাব ও ক্রেতা

জয়দেব দাস, কলকাতাঃ বাবার মদতে এক নাবালিকাকে ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে কিনে তাকে বিয়ের জন্য ভারতের উত্তরপ্রদেশের বদাঁয়ু গ্রামে নিয়ে যাচ্ছিল ছয় যুবক৷ খবর পেয়ে সেখানকার দেরাদুন পুলিশ তাদের ধরে ফেলেছে। পরে তাদের গ্রেফতার করেছে৷ হিউম্যান ট্র্যাফিকিংয়ের এই মামলা নাবালিকার বাবা ও দুই দালালকেও গ্রেফতার করা হয়েছে৷ অভিযুক্তদের আদালতে পেশ করা হলে তাদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ কপকোট ব্লক থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে জগথানা গ্রামের ঘটেছে এই ঘটনা৷ মানব পাচারের নেটওয়ার্ক সারা দেশে সক্রিয়৷ 

পুলিশ সুপার রায়পা জানিয়েছেন, রবিবার রাতে মানব পাচারের খবর পেয়ে পুলিশ অনর্সা-জগথানা রোডে চেকিং শুরু করে৷ জগথানা থেকে আসা একটি জিপ আটকানো হলে তাতে এক নাবালিকার সঙ্গে নয় জন অন্য লোকও ছিল৷ তাদের প্রত্যেকে থানায় নিয়ে আসা হয়৷ জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে নাবালিকা জানায় সে তার বাবার সঙ্গে বদাঁয়ু যাচ্ছে৷ এছাড়া সে আর কিছুই জানে না৷ এরপর নাবালিকার বাবাকে কড়া জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায়, বরেলি, মুরাদাবাদ ও বদাঁয়ু থেকে ছয় জন, দুই দালাল প্রকাশ জোশি ও ঘনশ্যাম জোশির সঙ্গে তার বাড়িতে আসে৷ প্রকাশ ও ঘনশ্যাম মধ্যস্থতা করে তাকে মেয়ের বিয়ের কথা বলে ও ৩৫ হাজার টাকার লোভ দেখায়৷ দারিদ্রতার জন্যই সে বিয়েতে সম্মতি জানায় ও সোমবার মেয়েকে বদাঁয়ু ছাড়তে যায়৷ পুলিশ জানায় মানব পাচারের অভিযোগে বেরেলির রণবীর সিং, অবনীশ কুমার, ফুল সিং, অনিল কুমার সিং, বদাঁয়ুর গোপাল সিং ও মুরাদাবাদের মুনেন্দ্র সিং ছাড়াও নাবালিকার বাবা ও দুই দালালকে গ্রেফতার করে৷ উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা প্রত্যেকেই আত্মীয় বলেই জানা গেছে৷ অভিযুক্তদের ৩৭০ ধারা অনুযায়ী আদালতে পেশ করা হলে তাদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়৷

পুলিশ সুপার জানিয়েছে, রিমা থানার পুলিশ অফিসার জগদীশ টকরিয়াল এই মামলার তদন্ত করছেন৷  মানব পাচারের নেটওয়ার্কের খোঁজ চলছে৷ তিনি জানান, ১৪ বছরের এই নাবালিকার সঙ্গে বদাঁয়ুর বাসিন্দা ৩৪ বছরের গোপাল সিংয়ের বিয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছিল৷ সে দিল্লিতে একটি বসরকারি সংস্থায় কর্মরত৷ ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রির কথা হলে তাদের ১০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়৷ এর মধ্যে পাঁচ হাজার নাবালিকার বাবা ও পাঁচ হাজার দালালরা ভাগ করে নেয়৷ রিমা থানার আধিকারিক জগদীশ টকরিয়াল জানান, নাবালিকার বাবা ও দালাল বাগেশ্বর পর্যন্ত আসত৷ বাকি ২৫ হাজার টাকা তাদেরক বাগেশ্বরেই দেওয়ার কথা হয়েছিল৷ তিনি জানান জেল হেফাজতে থাকাকালীন অভিযুক্তদের কাছ থেকে নতুন অনেক তথ্য জানা যাবে৷

Tuesday, 15 July 2014

মেয়ের প্রেমে বাধা দেয়ায় খুন হতে হল বাবাকে

জয়দেব দাস, কলকাতাঃ মেয়ের প্রেমে সায় ছিল না ইঞ্জিনিয়ার বাবার৷ প্রণয়ী ছেলেটি ‘ভালো' নয় বলে সম্পর্কে বাধা দিয়েছিলেন৷ তার জেরে তাঁকে অপহরণ করে খুন করল মেয়ের প্রণয়ীর সঙ্গীরা৷ ঘটনাটি পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরের৷ মৃতের নাম রজতশুভ্র মুখোপাধ্যায়। তিনি বেশ কয়েকদিন ধরেই ওই ইঞ্জিনিয়ার নিখোঁজ ছিলেন৷ অপহৃত ইঞ্জিনিয়ারের খোঁজ করতে গিয়ে পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ৷ তারাই খুনের কথা কবুল করেছে। বলেছে, মৃতদেহটি মাটির নীচে পুঁতে দিয়েছে। পুলিশ তাদের সঙ্গে করে নিয়ে গিয়ে সেই ঋতদেহটি তোলার চেষ্টা করবে বলে হাওড়ার পুলশ সুপার মঙ্গলবার জানিয়েছে।   

অপহৃত ইঞ্জিনিয়ারকে খুঁজতে গিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ তাদের কাছ থেকেই এই খুনের তথ্য   পেয়েছে পুলিশ৷ ধৃতরা কবুল করেছে, মেয়ের প্রণয়ে বাধা দেওয়াতেই নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে শিবপুরের ইঞ্জিনিয়ার রজতশুভ্র মুখোপাধ্যায়কে৷ খুন করে দেহ সন্দেশখালিতে মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছে৷   
তবে এখনও পর্যন্ত দেহ উদ্ধার হয়নি৷ ধৃতদের নিয়ে গিয়েই সেই দেহ উদ্ধার করা হবে৷ শিবপুরের বাড়িতে খবর পৌঁছনোর পরই নেমে এসেছে শোকের ছায়া৷  

জানা গিয়েছে, জুন মাসে অপহরণের পর দু'লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে ফোন করেছিল ধৃতরা৷ বেশ কয়েকদিন ধরেই ওই ইঞ্জিনিয়ার নিখোঁজ ছিলেন৷ অপহৃত ইঞ্জিনিয়ারের খোঁজে চারজনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ৷ তাদের দফায় দফায় জেরা করা হয়৷ অবশেষে সোমবার রাতে পুলিশের গুঁতো খেয়ে সত্যিটা বলে ফেলে তারা৷ পুলিশ জানিয়েছে,  রজতশুভ্রবাবুর মেয়ের সঙ্গে ধৃতদের ঘনিষ্ঠ কারও প্রণয়ের সম্পর্ক ছিল৷ মেয়ের প্রণয়ে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার রজতশুভ্র মুখোপাধ্যায়৷ প্রেমিক ও তার দলবল বিষয়টিকে ভালভাবে নেয়নি৷ তারাই গত জুন মাসে রজতশুভ্রবাবুকে অপহরণ করে৷ অপহরণের পরই তাঁকে ওই অপহরণকারীরা খুন করে থাকতে পারে৷ তবে কেন বাড়িতে ফোন বা মোবাইলে এসএমএস করে মুক্তিপণের দাবি জানায় অপহরণকারীরা, সে ব্যাপারে এখনও স্পষ্ট নয় পুলিশ৷ পুলিশ সূত্রে খবর, দু'লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চেয়েছিল ধৃতেরা৷ পুলিশ অবশ্য তাদের সেই মুক্তিপণ চাওয়ার সূত্র ধরেই গ্রেফতার করে৷ হাওড়ার সিটি পুলিশ প্রথমে ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আরও জেরা করবে৷ এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে নাকি শুধুমাত্র প্রণয়ের বিষয়ই জড়িত, তা-ও জানার চেষ্টা হচ্ছে৷  

ভারতে এলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন

জয়দেব দাস, কলকাতাঃ ভারতে এলেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন৷ সোমবার রাতেই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে জয়পুর পৌঁছন তিনি৷ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সঙ্গনেরে অবতরণ করার পর কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীতে হোটেল পৌঁছন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট৷ আগামীকাল একটি এনজিও পরিচালিত বিভিন্ন সরকারি স্কুলের রান্নাঘর পরিদর্শনে বেরবেন বিল ক্লিনটন৷ উল্লেখ্য, বিপুল সংখ্যক সরকারি স্কুলে মিড ডে মিলের খাবার সরবরাহ করার দায়িত্ব সামলাচ্ছে সংশ্লিষ্ট এনডজিওটি৷

বিশ্বস্বাস্থ্য, আবহাওয়ার পরিবর্তন, আর্থিক বিকাশ ও সাধারণ মানুষের হাতে দুরারোগ্য ব্যাধির ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করতে ভারত সফর তাঁর৷ পাশাপাশি এশিয়া/প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলি নিয়ে ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের কাজের খতিয়ান তুলে ধরবেন তিনি৷ ১৭ জুলাই তিনি চলে যাবেন লখনউতে৷ সেখানে স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারগুলি পরিদর্শন করবেন তিনি৷ শুধু ভারত নয়, ১৬ থেকে ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, পাপুয়া নিউ গিনি ও অস্ট্রেলিয়া সফরেও যাবেন এই প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট৷

দীর্ঘ বিরতির পর, বাংলা ছবিতে পা রাখলেন সুস্মিতা সেন!


জয়দেব দাস, কলকাতা : বেশ কিছুদিনের বিরতির পর আবার ফিরে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে পা রাখতে চলেছেন বিশ্বসুন্দরী তথা বলিউড অভিনেত্রী সুস্মিতা সেন। আর নিজের প্রথম বাংলা ছবি নিয়ে খুবই   খুশি বাঙালি সুস্মিতা। তাঁর প্রথম ছিবি হতে চলেছে 'নির্বাক'। এই ছবিতে সুস্মিতার বিপরীতে অভিনয়  করবেন যীশু সেনগুপ্ত এবং ঋত্বিক চক্রবর্তী। শ্রীজিত পরিচালিত ছবির প্রযোজনার দায়িত্ব রয়েছে ভেঙ্কটেশ ফিল্মস। 


এর আগে তিনি একাধিক হিন্দি ছবিতে কাজ করলেও বাংলা ছবিতে এতদিন কাজ করার সুযোগ হয়নি। তবু বারবার বাংলা ছবিতে অভিনয়ের ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন তিনি। এতদিনে সে ইচ্ছা পূর্ণ হল।  বাংলার এখন সবচেয়ে সফল পরিচালক শ্রীজিত মুখোপাধ্যায়ের 'নির্বাক' ছবিতে দেখা যাবে সুস্মিতাকে।   সুস্মিতার কথায়, "আমার প্রথম বাংলা ছবির শুটিংয়ের জন্য আর দিন চারেকের মধ্যেই কলকাতা যাচ্ছি। আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি ছবি শুরুর জন্য। ঘরে ফেরার অনুভূতি হচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন আবার সেই শিকড়ের কাছেই ফিরে যাচ্ছি।" এতদিন বাংলা ছবিতে দেখা যায়নি কেন সুস্মিতা সেনকে?  এতদিনে একবারও বাঙালি পরিচালকদের কাছ থেকে অভিনয়ের প্রস্তাব কি পাননি? উত্তর একেবারে নিজের ঢংয়ে অত্যন্ত সাবলীলভাবে দিলেন ৩৮ বছরের সুস্মিতা। জানালেন, "আমি তামিল ভাষার ছবি করতে পারি, তেলেগু ভাষার ছবি করতে পারি, কিংবা অন্য যে কোনও ভাষার ছবি করতে পারি। কিন্তু বাংলা ছবিতে অভিনয়ের নাম শুনলেই খুব ভয় লাগত। কিন্তু এখন সেই ভয়টা কাটিয়ে উঠেছি। আমি অত্যন্ত প্রতিভাবান কয়েকজন অভিনেতার সঙ্গে কাজ করব। আমার খুবই ভাল লাগছে।" 'নির্বাক' ছবিতে সুস্মিতার বিপরীতে অভিনয় করবেন যীশু সেনগুপ্ত এবং ঋত্বিক চক্রবর্তী। শ্রীজিত পরিচালিত  ছবির প্রযোজনার দায়িত্ব রয়েছে ভেঙ্কটেশ ফিল্মস। সুস্মিতা জানিয়েছেন, গৌরাঙ্গ দোশীর আসন্ন ছবিতে ঐশ্বর্য রাই বচ্চনের সঙ্গে অভিনয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু এবিষয়ে বিস্তারিত ভাবে কিছু না জানিয়ে কিছুটা এড়িয়েই গিয়েছেন সুস্মিত, শুধু জানিয়েছেন, ঐশ্বর্য ও তাঁকে নিয়ে একটি চিত্রনাট্যর প্রস্তাব দিয়েছিলেন দোষী, কিন্তু বিস্তারিতভাবে এবিষয় গৌরঙ্গ দোশীই সব বলতে পারবেন। দীর্ঘদিন ধরেই সুস ও অ্যাশের মধ্যে একটা শীতল সম্পর্ক চলে আসছে। ১৯৯৪ সালে সুস যেখানে মিস ইউনিভার্স হন সেখানে অ্যাশকে মিস ওয়ার্ল্ড হয়েই খুশি থাকতে হয়। সেইখানে থেকেই দুজনের সম্পর্কের অবনতি হয়। তারপর অবশ্য বলিউডে সুসকে টেক্কা দিয়ে বেরিয়ে যান অ্যাশ। বাঙালি না হয়েও অ্যাশ ঋতুপর্ণ ঘোষের ছবি চোখের বালিতে অভিনয় করে সবার প্রশংসা কেড়েছিলেন। সূত্রের খবর সে বিষয়টাও খুব একটা ভাল চোখে নেননি সুস্মিতা।


Monday, 14 July 2014

ভারতের হরিয়ানার গ্রামে কুকুরের পেটে জন্মাল বিড়াল ছানা, দেখতে মানুষের ঢল

জয়দেব দাস, কলকাতা প্রতিনিধিঃ ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের একটি গ্রামে একটি কুকুর তিনটি ছানার জন্ম তো দিয়েছেই, সঙ্গে আরও তিনটি বিড়াল ছানারও জন্ম দিয়েছে। আশ্চর্যজনক এই ঘটনাটি ঘটেছে সফিদো জেলার মুনারা গ্রামে। কুকুরের পেটে বিড়ালের ছানার জন্ম দেওয়ার কথা শুনে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। আশপাসের গ্রাম থেকে কুকুরটিকে দেখতে কাতারে কাতারে মানুষ ভীড় জমাচ্ছেন। খবর পেয়ে জেলার প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরের আধিকারিকরা ঘটনাস্থে পৌঁছে যান। তারাও একই সঙ্গে কুকির এবং বিড়ালের ছানা জন্ম দেওয়ার ঘটনায় হতবাক হয়ে গিয়েছেন। তবে আধিকারিকরা জানিয়েছেন, কী করে এই আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটল তা বোঝা যাচ্ছে না। তবে ডিএনএ পরীক্ষা করে তবেই জানা যাবে বিড়াল ছানা গুলি ওই কুকুরের পেট থেকেই জন্মেছে নাকী অন্য কারোর।
 স্থানীয় গিয়েছে, ১১ জুলাই তারিখে কুকুরটি প্রথমে দুটি বিড়াল ছানা ও তিনটি কুকুর ছানার জন্ম দেয়। পরের দিন আবার একটি বিড়াল ছানা হয়েছে। এলাকার মানুষ জানিয়েছেন, জন্মের পর থেকে বিড়াল ছানা গুলি মায়ের (কুকুরের) দুধ খাচ্ছে না। বিড়াল গুলিকে সে নিজে জন্ম দিলেও তাদের কোল ছাড়া করছে না কুকুরটি। এদিকে তাদের বাঁচিয়ে রাখতে গ্রামবাসীরাই নিপেল দিয়ে কৃত্রিম ভাবে দুধ খাইয়ে বাঁচিয়ে রেখেছেন। খবর যতই ছড়িয়ে পড়ছে, মানুষজন ততই ভীড় জমাচ্ছেন ওই গ্রামে।        

ভারতের কং দলের অন্দরে ফের সমালোচনা বিদ্ধস্ত রাহুল

দিল্লিঃ ভারতে কংগ্রেস দলের অন্দরে ফের সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সেই ঝড়ে  ভেঙে পড়েছে রাহুল গান্ধী। তোপের মুখে রাহুল গান্ধী৷ সোমবার কড়া ভাষায় তাঁকে বিঁধলেন প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা এবং মধ্যপ্রদেশের সাংসদ গুফরান-ই-আজম৷ সোমবার তিনি সোনিয়া গান্ধীকে ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি চিঠি লিখেছেন। তাতে তিনি বলেছেন, ‘দল বাঁচাতে হলে এবার রাহুলের মোহ ছাড়তে হবে।’ তিনি এদিন এক সাবগবাদিক বৈঠকও করেছেন। সেখানে তিনি রাহুল গান্ধীকে কড়া সমালোচনা করেছেন। পরিবারের উত্তরসূরি হয়ে তিনি কংগ্রেসের মতো ঐতিহ্যশালী দলকে ধ্বংস করছেন বলে তোপ দাগেন আজম৷ তিনি বলেন, ‘যুব কংগ্রেসকে গবেষণাগার ভেবে পরীক্ষানিরীক্ষা চালিয়ে প্রথমে তাকে ধ্বংস করেছেন রাহুল৷ এরপর কংগ্রেসের সঙ্গেও একই কাজ করেছেন তিনি৷’ এদিন রাহুলের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আজম৷ তিনি বলেন, ‘কেউ তাঁকে পাপ্পু বলছেন, কেউ বা মুন্না৷ এই ধরণের বিশ্লেষণ শুনতে শুনতে আমি ক্লান্ত৷ আমার লজ্জা হয়৷’ রাহুলের পাশাপাশি দলের প্রতিটি স্তরের নেতৃত্ব নিয়েই প্রশ্ন তোলেন আজম৷ দলের নিচু স্তরে চলছে তাঁবেদারির রাজনীতি ২০০৫ সাল থেকে এই বিষয়ে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখছি৷ কিন্তু কোনও কাজ হয়নি৷ মোদী স্রোতে কংগ্রেসে ধ্বস নেমেছে৷ কিন্তু যে ভাবে মোদী সুনামি ধেয়ে আসছে তা দেখতে পায়নি কংগ্রেস৷

ধর্ষণে অভিযুক্ত নাবালকদের প্রাপ্তবয়স্কের সাজা: মানেকা

 জয়দেব দাস, কলকাতা প্রতিনিধিঃ ধর্ষণের মতো জঘন্য কাজের সঙ্গে যুক্ত কম বয়সী ছেলেদেরও সাজার ক্ষেত্রে প্রাপ্ত বয়স্কদের মতো আচরণ করা উচিত। ভারতের কেন্দ্রীয় শিশু ও নারী কল্যাণ মন্ত্রী মানেকা গান্ধী রবিবার চেন্নাইতে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেছেন। মন্ত্রী বলেছেন, ‘ দেখা গিয়েছে ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রেই যৌন নির্যাতনের মোতা ঘটনায় জড়িত রয়েছে ১৬ বছরের কিশোররা৷ যারা জুভেনাইল অ্যাক্ট সম্পর্কে অবহিত৷ সুকৌশলেই এই আইনের ফায়দা তুলছে তারা৷’ তিনি আরও বলেন, ‘পূর্বপরিকল্পিত খুন, ধর্ষণের মতো ঘটনায় অভিযুক্ত নাবালকদের প্রাপ্তবয়স্কদের সমান শাস্তি দেওয়া হলে তাদের মনে ভীতি সঞ্চার করা সম্ভব হবে৷’ নির্ভয়া-কাণ্ডের পর প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিল আসমুদ্রহিমাচল৷ উত্তাল হয়েছিল রাজধানীর রাজনীতি৷যার যেরে ধর্ষণের মতো অপরাধ কমাতে কঠিন আইন প্রণয়ন করতে বাধ্য হয় ইউপিএ সরকার৷ কিন্তু আইন যে কেবল খাতায় কলমেই রয়ে গিয়েছে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা তার প্রমাণ৷
উল্লেখ্য, ভয়াবহ অপরাধে অভিযুক্ত ১৬ বছর বয়সী কিশোরদের প্রাপ্ত বয়স্ক আইনে বিচার করার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন পূর্বতন শিশু ও নারী কল্যাণ মন্ত্রী কৃষ্ণা তিরথ৷ তবে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বিভিন্ন এনজিও ও ন্যাশনাল কমিশন অফ প্রোটেকশন অফ চাইল্ড রাইটস৷ তাদের দাবি, এই নিয়ম কার্যকর হলে তা শিশু স্বার্থে আঘাত হানবে৷

Sunday, 13 July 2014

ব্রিটেনে নাবালিকাকে ধর্ষণের দায়ে ভারতীয় জেল


জয়দেব দাস, কলকাতা প্রতিনিধিঃ ব্রিটেনে এক দশ বছরের নাবালিকাকে গণধর্ষণের অপরাধে এই ভারতীয়-সহ দু’জনের কারাদন্ড দিল সেখানকার আদালত। রবিবার বিকালে বিচারক এই শাস্তির রায় ঘোষণা করেছেন। বছর দেড়েক আগে সেখানে একটি গাড়িতে এক নাবালিকাকে তুলে নিয়ে গিয়ে এক নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে ওই ভারতীয় এবং তার গাড়ির চালক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। 

অভিযুক্তরা হল বিনায়ক রামা এবং রোনান্ড কারবন্ডী। বিচাওরক বিনায়ককে সাড়ে ১০ বছরের এবং রোনান্ডর সাড়ে আট বছরের কারাবাসের হুকুম শুনিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানানো হয়েছে, ১ অক্টোবর ১০১৩ তারিখে বিনায়ক রাস্তা থেকে ওই নাবালিকাকে তুলে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। জঙ্গলের ধারে দু’জনে মিলে গণ ধর্ষণ করে অচৈতন্য অবস্থা ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে লোকজন দেখতে পেয়ে তাকে তুলে এনে হাসপাতালে ভর্তি করান। সিস্থ হয়ে ওই নাবালিকা ঘটনার কথা ডাক্তার এবং পুলিশকে ঘটনার কথা জানায়। পুলিশ গ্রেফতার করে তাদের এতদিন তারা জেলেই ছিল। মামলা চলছিল।     

'ব্রিকস' বৈঠকে যোগ দিতে ব্রাজিল গেলেন প্রধানমন্ত্রী

জয়দেব দাস, কলকাতা প্রিতিনিধিঃ পাঁচ দেশের 'ব্রিকস' শীর্ষসম্মেলনে যোগ দিতে ব্রাজিল রওনা হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার সকালে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে তিনি পাড়ি দেন। আগামী ১৪ এবং ১৫ জুলাই ব্রাজিলে এই বৈঠক হচ্ছে।
'ব্রিকস' (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা) শীর্ষসম্মেলন উপলক্ষে রওনা হওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, "বিশ্বে আর্থিক শ্রীবৃদ্ধি, শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভারত 'ব্রিকস'-কে একটি যথাযথ মঞ্চ হিসাবে দেখছে। বিশ্বশান্তির পক্ষে বিপজ্জনক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা কীভাবে করা হবে, তা নিয়ে বাকি দেশগুলির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করব।" প্রসঙ্গত, এই সফরে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে গিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, বিদেশ সচিব সুজাতা সিং, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিতকুমার দোভাল, অর্থ সচিব অরবিন্দ মায়ারাম প্রমুখ।
'ব্রিকস' সম্মেলনের পাশাপাশি নরেন্দ্র মোদী একান্তে বৈঠক করবেন রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের রাষ্ট্রপতি জি জিনপিং, ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি দিলমা রুসেফ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি জ্যাকম জুমার সঙ্গে। নরেন্দ্র মোদীর সফর উপলক্ষে তীব্র কৌতূহল জমাট বেঁধেছে ব্রাজিলে। সে দেশের সংবাদমাধ্যম এই খবরকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে।

Saturday, 12 July 2014

ভারতের রাস্তার ধারের দোকানের খাবার দামি রেঁস্তোরার খাবারের থেকে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর, দাবি বিশেষজ্ঞের


জয়দেব দাস, কলকাতা, প্রতিনিধিঃ রাস্তায় ধারে থরে থরে সুখাদ্য জিভে জলের যোগান দিলেও স্বাস্থ্যের কথা ভেবে সে সব দিকে কি আপনি নজর বাঁচিয়ে চলেন? স্বাস্থ্যকর সুখাদ্যের সন্ধানে আপনার ডেস্টিনেশন যদি দামি রেঁস্তোরা হয় তাহলে এবার একটু সতর্ক হন। আর একবার ভেবে দেখুন। অপরিচ্ছন্ন, অস্বাস্থ্যকর বলে ফুটপাতের যে সস্তার খাবারকে আপনি অবহেলা করছেন জানেন কি আসলে সেই খাবার গুলিই সাজানো রেঁস্তোরার দামি খাবারের থেকে আসলে অনেক বেশি সুরক্ষিত? স্বাস্থ্যের পক্ষেও অনেক ভাল? অন্তত এমনটাই দাবি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রখ্যাত খাদ্য বিশেষজ্ঞ শার্মিন ও`ব্রায়ন। 

শার্মিনের সদ্য প্রকাশিত `The Penguin Food Guide to India` অনুযায়ী এদেশে এসে তিনি লক্ষ্য করেছেন রাস্তার ধারে যাঁরা খাবার বিক্রি করেন তাঁরা সাধারণত তাজা উপাদান ব্যবহার করেন তাঁদের রান্নায়। তৎক্ষণাৎ রান্না করে গরমা গরম খানা পরিবেশন করেন। চার বছর দীর্ঘ গবেষনার পর তিনি দেখেছেন দামি রেঁস্তোরা গুলিতে বরং বাসি খাবার পরিবেশন করার প্রবণতা রয়ে যায়। রান্নায় যে উপাদান এই রেঁস্তোরা গুলি ব্যবহার করে তা অনেক সময়ই তাজা থাকে না। ফলে আসলে ভারতের রাস্তার ধারের খাবার অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর হয়।  তবে তিনি এও জানিয়েছেন মশলাদার ভারতীয় খাবারের কার কী ধরণের প্রতিক্রিয়া হবে তা ভীষণ ভাবেই ব্যক্তি নির্ভর।