Sunday, 6 July 2014

হেলিকপ্টার থেকে গুলি, লড়াই তীব্র ইরাকে তটস্থ বাংলাদেশীরা

কলকাতা প্রতিনিধিঃ ইরাকি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ভারতীয়, বাংলাদেশী এবং নেপালি শ্রমিকদের সঙ্গে অসদাচারণ, এমনকি তাদের নিগ্রহ করার অভিযোগ উঠেছে। বার্তা সংস্থা এএফপির এই খবর দিয়েছে।
ইরাকের তিকরিতে কয়েক হাজার বাংলাদেশী, ভারতীয় ও নেপালি শ্রমিকের চোখেমুখে আতঙ্ক। নতুন করে অভ্যন্তরীণভাবে সৃষ্টি হওয়া যুদ্ধের মধ্যে আটকা পড়ে তাদের অবস্থা শোচনীয়। অনেকেই গাদাগাদি করে আশ্রয় নিয়েছেন বিভিন্ন স্টোরেজ ডিপোটে। তাদের ভয় সরকারি সেনাবাহিনী ও আইসিস জঙ্গিদের। সরকারি সেনারা তাদেরকে আইসিস-এর সদস্য মনে করতে পারে। আইসিস মনে করতে পারে তারা সরকারের অনুগত। এমন আতঙ্কে দুরুদুরু বুকে তারা দিন গুনছেন। মাথার ওপরে উড়ছে হেলিকপ্টার।  কোন কিছু নড়াচড়া দেখলেই তার ওপর মুহুর্মুহু গুলি ছুড়ছে। ফলে যেসব স্থানে বাংলাদেশী শ্রমিকরা আশ্রয় নিয়েছেন সেখান থেকে বেরোতে পারছেন না কেউই। এই শ্রমিকরা বিভিন্ন দেশ থেকে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ নিয়ে গিয়েছেন ইরাকে। বাংলাদেশী সহ দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমিকরা যুদ্ধকবলিত ইরাকে কেমন আছেন তার একটি চিত্র এভাবে তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। এতে আরও বলা হয়, ইরাকে সরকারি সেনা ও সুন্নি মতাবলম্বীদের মধ্যে ক্রমাগত যুদ্ধ তীব্র থেকে তীব্র হয়ে উঠেছে। এখন ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের জন্মভূমি তিকরিতে চলছে তীব্র লড়াই। সেখানেই আটকা পড়েছেন বাংলাদেশ সহ দক্ষিণ এশিয়ার হাজার হাজার শ্রমিক। ২০০৩ সালে ইরাক আগ্রাসনের পর ইরাক একেবারে স্থিতিশীল না হলেও গত কয়েক বছরে বিপুল সংখ্যক অভিবাসী সেখানে পাড়ি জমিয়েছেন উন্নত জীবনের আশায়। তারা কেউ নির্মাণ শ্রমিক। কেউ নার্স। কেউ গৃহপরিচারিকা। ইরাকে গিয়েছেন প্রায় ১০ হাজার ভারতীয় শ্রমিক। বাংলাদেশ বলছে, সেখানে রয়েছেন বাংলাদেশের ৩৫ হাজার শ্রমিক। এ সপ্তাহে ভারত তার নাগরিকদের ইরাক ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা পারস্য উপসাগরে একটি নৌজাহাজ পাঠিয়েছে। এ জাহাজে করে ভারতীয় নাগরিকদের উদ্ধার করে নিয়ে আসা হবে। কিন্তু তীব্র গুলির লড়াইয়ের মধ্যে কোন অভিবাসী শ্রমিকই আবাস থেকে বেরিয়ে আসতে পারছেন না। আটকে পড়া মানুষরা জানিয়েচঘেন, যুদ্ধ তাঁদের দোরগোড়ায় পৌঁছার আগেই তাঁরা দেশে ফিরতে চান। কিন্তু যে কোম্পানি তাদেরকে নিয়োগ করেছে তারা তাদের পাসপোর্ট ফেরত দিতে  অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে এক্ষেত্রে একটি বড় জটিলতা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে ইরাকের কারবালা  শহরে পাঠানো হয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা পিকে শর্মাকে। এর আগেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো তাদের নাগরিকদের উদ্ধারে পদক্ষেপ নিয়েছিল। কিন্তু এবার ঢাকায় বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও কল্যাণবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা শওকত হোসেন বলেছেন, সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে ইরাক থেকে বাংলাদেশী অভিবাসীদের উদ্ধারে প্রস্তুত রয়েছেন তারা। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস গত মাসে ইরাকের মসুল শহর থেকে ৫১ বাংলাদেশীকে উদ্ধার করেছে। তবে তারা সবাই দেশে ফিরতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। 

No comments:

Post a Comment