দিল্লিঃ দেশের সম্পদ বেচে ১১.৭ বিলিয়ন ডলার তোলার কথা ভেবেছে ভারতেরত কেন্দ্রীয় সরকার৷ নয়া সরকারের প্রথম সাধারণ বাজেটে এমনটাই থাকছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থ মন্ত্রকের এক অফিসার৷ অর্থাৎ বেসকারিকরণের
মাধ্যমে মোদী সরকার লক্ষ্যমাত্রা রাখতে চলেছে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা যা গত চার বছরের মোট বিলগ্নিকরণের সমান অর্থ৷ বৃহস্পতিবার ১০ জুলাই রয়েছে সাধারণ বাজেট৷ এজন্য অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বিভিন্ন মন্ত্রীর কাছে আর্জি জানিয়েছেন। বলেছেন তাদের মন্ত্রকের বিলগ্নিকরনের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর জন্য। মোদী চান বিভিন্ন ক্ষেত্রের পাশপাশাশি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রকে বিদেশি বিনিয়োদের জন্য মুক্ত করে দিতে, তবে রক্ষাকবচ হিসেবে ওই সব রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে নিয়িন্ত্রণ করার মতো শেয়ার হাতে রাখা হবে৷ যাতে কোনও ভাবেই বিদেশি মালিকেরা এই সব সংস্থায় কর্মী সংকোচন না করে সেদিকে নজর রাখা হবে৷ প্রসঙ্গত স্টিল অথোরিটি অফ ইন্ডিয়ার মতো সংস্থার যাদের বিলগ্নিকরণ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে সেগুলিরও শেয়ার বেচা হবে তবে সে ক্ষেত্রেও এমন ভাবেই শেয়ার বেচা হবে না যাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ একেবারে চলে যায়৷ ইতিমধ্যেই মোদী প্রধামন্ত্রী হওয়া ঘিরে শেয়ারবাজারে তেজি হতে দেখা গিয়েছে৷ কোল ইন্ডিয়া, ওএনজিসি, ইন্ডিয়ান অয়েলের মতো বেশ কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা শেয়ার রীতিমতো বাড়তে দেখা গিয়েছে৷ ফলে এটাই বিলগ্নিকরণের জন্য আদর্শ সময় হলে ভাবা হচ্ছে৷
নির্বাচন থাকায় এমনিতেই অর্থবর্ষের তিন মাস অতিক্রান্ত৷ ফলে মোদী সরকারের প্রথম বাজেটে তেমন কিছু করার সুযোগ কম৷ যদিও ইতিমধ্যেই ঘাটতি গত সরকারে করা ৪.১ শতাংশের অর্ধেক পৌছে গিয়েছে৷ তবে পরিস্থিতি বিচার করে অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি আয় বৃদ্ধির অন্যান্য উপায়ের দিকে নজর দিচ্ছে যার মধ্যে রয়েছে বিক্রয় কর এজন্য ২৯টি রাজ্যের জন্য একটা সাধারণ বাজারের কথা ভাবা হয়েছে৷ এক ফলে ব্যবসা করা একদিকে যেমন সহজ হবে তেমনি আবার করের আওতা বাড়ানো হবে৷ তবে পরিস্থিতি বিচার করে বাজেটে সরকার কিছু তেতো ওষুধ দিতে পারে জনগনকে৷ সেটা হল জ্বালানি, সার এবং খাদ্যে ভর্তুকি কমানোর কথা ভেবেছে এই সরকার৷ পুরোপুরি জনমোহিনীর রাস্তায় না হেঁটে এই সরকার কিছুটা কঠোর হতে চায়৷ কিন্তু এই বিষয়ে রিজার্ভ ব্যাংক সতর্ক করেছে মুদ্রাস্ফাতি নিয়ন্ত্রণে দিকটাও দেখার জন্য৷

No comments:
Post a Comment