Friday, 11 July 2014

সীমান্ত থেকে গরু চুরি রুখতে উদ্যোগী পশ্চিমবঙ্গ সরকার


 জলপাইগুড়িঃ এবার থেকে বাড়িতে ‘অতিথি' এলেই জানাতে হবে পুলিশকে৷ থানায় জমা দিতে হবে তাঁর সচিত্র পরিচয়পত্রও৷ গরু চুরি রুখতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রশাসন এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ফাঁসিদেওয়ায়৷ পাশাপাশি পুলিশের তরফেও সীমান্তের গ্রামে কোন বাড়িতে কতজন সদস্য, তারও তালিকা তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে৷ থানায় ঝুলবে সেই তালিকা৷   

শিলিগুড়ির অদূরে ফাঁসিদেওয়া একেবারেই বাংলাদেশ ঘেঁষা৷ তার উপর ধনিয়ামোড় থেকে বন্দরগঞ্জ পর্যন্ত আট কিলোমিটার এলাকায় কোনও কাঁটাতারের বেড়া নেই৷ এই উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়েই বাংলাদেশ থেকে রাতের অন্ধকারে পাচারকারীরা ঢুকে গরু চুরি করে পালাচ্ছে বলে অভিযোগ৷ এ নিয়ে গ্রামবাসীর ক্ষোভ চরমসীমায় পৌঁছয় বুধবার৷ শুরু হয় পথ অবরোধ৷ পরিস্হিতি বেগতিক দেখে অবরোধ তুলতে দ্রূত পদক্ষেপের আশ্বাস দেয় প্রশাসন৷ সেইমতোই এদিন বৈঠকে বসেন বিডিও-র পাশাপাশি পুলিশ ও বিএসএফের আধিকারিকরা৷ 
ফাঁসিদেওয়ার বিডিও বিরুপাক্ষ মিত্র বলেছেন, এলাকায় গরু চুরির ঘটনা রুখতে এদিনের বৈঠকে বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ ঠিক হয়েছে, সীমান্তের গ্রামে কোনও বাড়িতে বাইরে থেকে কেউ এলে তা পুলিশকে জানাতে হবে৷ পাশাপাশি সীমান্তে যে আট কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার নেই, সেখানে বিশেষ পুলিশ চৌকি নির্মাণ করা হবে৷ বিএসএফের পাশাপাশি পুলিশও নজরদারি রাখবে৷ কয়েকটি জায়গায় ভারত- বাংলাদেশের পিলার মহানন্দা নদীর মাঝখানে৷ ফলে ওই নদীতে দু'দেশের মানুষই নামে৷ বালি-পাথর তোলা হয় ওই নদী থেকে৷ এদিকে বিএসএফকে বিশেষ নজরদারি রাখতে বলা হয়েছে৷ একইসঙ্গে গ্রামে নৈশরক্ষী বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা হবে৷ তাঁদের পরিচয়পত্রের পাশাপাশি দেওয়া হবে টর্চ৷ 
এদিনের বৈঠকে ডিএসপি গ্রামীণ, পুলিশের বাগডোগরার সার্কেল ইন্সপেক্টর, ফাঁসিদেওয়া থানার ইনচার্জ-সহ ছিলেন বিএসএফের লালদাস ও ফাঁসিদেওয়া বর্ডার আউটপোস্টের আধিকারিকরা৷ বিডিও জানিয়েছেন, সীমান্তে বেশকিছু দিন ধরে রাতে হাইমাস আলো জ্বলছে না৷ কিন্তু সেগুলি যাতে ঠিকমতো জ্বলে তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে৷ গরু চুরি নিয়ে দিন কয়েক আগেই তুলকালাম কাণ্ড বাধে ফাঁসিদেওয়ায়৷ গ্রামবাসীরা গরুচোর সন্দেহে দু'জন বাংলাদেশিকে পাকড়াও করে গণপিটুনি দেন৷ বাসিন্দাদের অভিযোগ, গরু পাচারের বিনিময়ে বাংলাদেশ থেকে ঢুকছে জাল টাকা৷ 

No comments:

Post a Comment