Wednesday, 23 July 2014

মুমুর্ষু রোগীকে রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচালেন ডাক্তার

কলকাতাঃ হাসপাতালে ভর্তি এক মুমূর্ষু মহিলা রোগীকে নিজের শরীরের রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচালেই এক সকারি চিকিৎসক। মৃত্যুমুখি ওই রোগীনিকে বাঁচাতে পাশাদারি কথা ভুলে গিয়ে বিরল গ্রুপের রপক্ত দিয়েছেন ওই ডাক্তার।
ঘটনাটি কলকাতার দক্ষিণ ২৪ পরগনাস্র জেলা হাসপাতাল এম আর বাঙুর হাসপাতালের।
মাত্রাতিরিক্ত রক্তস্রাবের ফলে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন জোকার বনগ্রামের বাসিন্দা বছর কুড়ির সাবেরা খাতুন৷ চোখমুখ ফুলে গিয়েছিল৷ সমস্যা আরও বাড়িয়েছিল শ্বাসকষ্ট৷ গতমাসের ১৩ তারিখ সঙ্কটজনক অবস্থায় সাবেরাকে এমআর বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে যায় তাঁর পরিবার৷ অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক দেখে, সাবেরাকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি করে নেওয়া হয়৷ পরীক্ষার পর দেখা যায়, ওই যুবতীর হিমোগ্লোবিন ২ দশমিক ১৷ যা স্বাভাবিকের তুলনায় মাত্রাতিরিক্ত কম৷ রক্তের বন্দোবস্ত করতে বলা হয় পরিবারকে৷ কিন্তু সাবেরার বি-পজিটিভ গ্রুপের রক্ত পাওয়া যায়নি বাঙুর হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে৷ মানিকতলা সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাঙ্কে রেফার করা হয়৷ কিন্তু রাস্তাঘাটের যা অবস্থা, তাতে কতক্ষণে মানিকতলা থেকে রক্ত নিয়ে আসবে সাবেরার পরিবার? ততক্ষণ মেয়েটা বাঁচবে তো? পেশাদারি মানসিকতা ভুলে তখন এই কথাই ভাবছিলেন বাঙুরের চিকিৎসক অশোককুমার সামন্ত৷ শেষমেষ নিজের বি পজিটিভ রক্ত সাবেরাকে দেন চিকিত্সক৷ প্রাণে বাঁচেন বছর কুড়ির কিশোরী৷ শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে মাঝেমধ্যেই চিকিত্সকদের গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে৷ কিন্তু তার মধ্যে যে ব্যতিক্রমও আছে, তা প্রমাণ করে দিলেন অশোককুমার সামন্ত৷ এমআর বাঙুর হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বক্তব্য, দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন অশোককুমার সামন্ত৷ তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে৷

No comments:

Post a Comment