Thursday, 3 July 2014

কলকাতায় ধরা পড়ল সন্দেহভাজন সন্ত্রাসবাদী, মিলল, একে ৪৭’র কার্তুজ, ডিটোনেটর


জয়দেব দাস, কলকাতা ঃএক সন্ত্রাসবাদীকে ধরেছে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ। বুধবার গভীর রাতে কলকাতায় ধরা পড়ে সে। ধরা পড়ার পরই সে পালানোর চেষ্টা করছিল। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। জাহিদ হোসেন নামে ধৃত ওই ব্যক্তি বাংলাদেশের মীরপুরের বাসিন্দা বলে সে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। দিন কয়েক আগে সে অবৈধ ভাবে বাংলাদেশ থেকে চোরা পথে ভারতে প্রবেশ করে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করেছিল। বাড়ি থেকে বের হচ্ছিল না। গোপণ সূত্রে খবর পেয়ে কলকাতা পুলিশের বিশেষ দল (এসটিএস) বৃহস্পতিবার ভোরে আচমকাই অভিযান চালিয়ে চিৎপুর এলাকা থেকে তাকে পাকড়াও করেছে। কলকাতা পুলিশের দাবি, সে ‘অল ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন’ (আইএম) সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। ধৃতের কাছ থেকে পুলিশ এ কে ৪৭ স্টেনগানের ৩০ টি কার্তুজ, একটি ডিটোনেটর, একটি মোবাইল ফোন, বেশ কিছু সিম কার্ড ও একটি ডায়েরি পেয়েছে, যাতে বেশ কিছু গোপণ তথ্য রয়েছে বলে পুলিশের দাবি, ধরা পড়ার পরই তাকে নিয়ে গিয়ে জেরা ও তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ দেড় লক্ষ টাকার জাল নোট বাজেয়াপ্ত করেছে।     

বৃহস্পতিবার ধৃতকে কলকাতার ব্যাঙ্কশাল কোর্টে তোলা হলে নগর দায়রা আদালতের বিচারক তাকে ১৪ দিন পুলিশি হেফাজতে  রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তাকে বিস্তারিত জেলা করে আরও কিছু তথ্য পাওয়া যাবে বিলে পুলিশের ধারণা। এদিন তাই বিচারক তাকে পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে। 
পুলিশ জানিয়েছে, চার বছর আগেরকার ভারতের জার্মান বেকারী মামলায় সে অভিযুক্ত। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ জানিয়েছে, ২০১০ সালে ১৪ ফেব্রুয়ারি তারিখে মুম্বইয়ের পুনায় জার্মান বেকারী বিস্ফোরণ কাণ্ড ঘটিয়ে ছিল। সেই ঘটনায় ৯ জন নিহত হয়েছিল। অহত হয়েছিল বহু। ওই ঘটনা ঘটানোর কাজে সে জড়িত ছিল বলে পুলিসের দাবি। ওই ঘটনার মূল অভিযুক্ত ইয়াসিন ভাটকলের ঘনিষ্ট সঙ্গী ছিল সে। সেদিন সেই বিস্ফোরক সরবরাহ করেছিল। তার নামেও জাল টাকা পাচারেরও অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনার পর ইয়াসিনের সঙ্গে তার জাহিদে নামও উঠে এসেছিল। তারপর থেকে বিভিন্ন জায়গায় ছদ্মবেশে আত্মগোপণ করে থাকছিল। দিনকয়েক আগে সে কলকাতায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে লুকিয়ে ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েক মাস আগে তার এক সঙ্গী আনোয়ার হোসেনকে নদিয়া থেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে পুলিশকে জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে সে বিস্ফোরক নিয়ে বসিরহাটের খোজাডাঙা সীমান্ত পেরিয়ে আনোয়ারের মাধ্যমে বিস্ফোরক দেয়ানেয়া করতো। মুজাহিদিন সংগঠনের সদস্য করে বন্দুক চালানোর পারদর্শী করে তুলতে ইতিমধ্যে সে পশ্চমবঙ্গের মালদহ জেলা থেকে কম বয়সী তিনজন ছেলেদের প্রশিক্ষণের জন্য পাকিস্তানে নিয়ে গিয়েছে। আরও বিশ্বস্ত ছেলে খোঁজার জন্য সে এখানে এসেছে। তবে তার কাছে পাওয়া কার্তুজ গুলি কি কারণে সে কাছে রেখেছিল তা পুলিশকে ভাবিয়ে তুলেছে। কলকাতায় কোনও বড়ো ধরণের নাশকতা ঘটানোর পরিকল্পণা ছিল কি না তা পুলিশ খতিয়ে দেখবে।     

No comments:

Post a Comment