Thursday, 24 July 2014

শাসনের নামে লাথি, ঘুষি, মাটিতে ফেলে শিশুকে আছড়ে পেটালো গৃহশিক্ষিকা

কলকাতাঃ শাসনের নামে সাড়ে তিন বছরের শিশুকে মাটিতে ফেলে লাথি মারলেন গৃহ শিক্ষিকা৷ এলোপাথারি চড়-চাপ্পড় তো আছেই৷ এই ঘটনা সিসিটিভি ফুটেজে দেখে হতবাক হয়ে গিয়েছে শিশুটির পরিবার৷
ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের লেকটাউনের দক্ষিণ দাঁড়ির বীণা আবাসনে৷ পূজা সিং নামে ওই গৃহ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন শিশুটির বাবা সঞ্জয় আগরওয়াল৷ তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে,  ওই গৃহ শিক্ষিকা বাগুইআটির বিদ্যাসাগর পল্লিতে বাড়ির যে ঠিকানা জানিয়েছিলেন, তা ও ভুয়া৷ পূজা সিং-এর খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ৷ নির্মম অত্যাচারে অসুস্থ হয়ে পড়েছে তিন বছরের বংশ৷ তাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য আরজিকর মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে৷ হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন মিলেছে৷
ঠিক কি হয়েছিল ছোট্ট বংশের সঙ্গে? সিসিটিভি ফুটেজে যা ধরা পড়েছে তা দেখলে আঁতকে উঠতে হয়৷ ঘরে লাগানো গোপন ক্যামেরায় বন্দি ছবিতে দেখা গিয়েছে, পড়াশোনায় অমনোযোগী হওয়ায় ছোট্ট ছেলেটিকে মাটিতে আচড়ে ফেলছেন গৃহশিক্ষিকা৷ তারপর নির্মম পেটানি৷ কেঁদে ককিয়ে উঠলেও, রাগ কমছে না শিক্ষিকার৷ উলটে প্রবল আক্রোশ এলোপাথারি ঘুষি চালাচেছন তিনি শিশুটির মুখে, মাথায়৷
আগরওয়াস পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন ধরে বংশ মা-বাবাকে বলছিল, ম্যাম তাকে মারে৷ বিষয়টিতে তেমন গুরুত্ব দেননি আগরওয়াল দম্পতি৷ ভেবেছিলেন, দুষ্টু ছেলেকে শাসন করতে শিক্ষিকা  হয়তো জোরে বকেছেন৷ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দরজা বন্ধ করে বংশকে পড়াচিছলেন পূজা৷ সেই সময় ছেলের কান্ন্া শুনে দরজা ধাক্কা দেন মা শালিনী৷ কিন্ত্ত দরজা না খোলায় তিনি সিসিটিভিটি চালান৷ বাইরে কমপিউটার সি্নে সেখানেই দেখতে পান কীভাবে অত্যাচার চলছে তাঁর সন্তানের উপর৷ এরপর ক্রমাগত দরজা ধাক্কা দেওয়ায় দরজাটি খোলেন পূজা৷ সেই মুহূর্তে ছেলেকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন মা শালিনী৷ রক্ত বেরোচিছল শরীর দিয়ে৷ ছেলের ফার্স্ট এড-এর ব্যবস্হা করতে তিনি যখন ব্যস্ত হয়ে পড়েন সেই সময় পালিয়ে যান ওই শিক্ষিকা৷
আর দেরি না করে থানায় যান আগরওয়াল পরিবার৷ জানা গিয়েছে, এই ঘটনার পর শিক্ষিকার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন বংশের মা৷ কিন্ত্ত ফোনে তাঁকে পাওয়া যায় না৷ এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বেপাত্তা পূজা সিং৷ তাকে গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়েছে পুলিশ৷
এদিকে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে৷ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন সমাজবিদ, মনোবিদ ও শিক্ষাবিদরা৷

No comments:

Post a Comment