Wednesday, 16 July 2014

ভারতে ৩৫ হাজার টাকায় নাবালিকাকে বিক্রি, গ্রেফতার বাব ও ক্রেতা

জয়দেব দাস, কলকাতাঃ বাবার মদতে এক নাবালিকাকে ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে কিনে তাকে বিয়ের জন্য ভারতের উত্তরপ্রদেশের বদাঁয়ু গ্রামে নিয়ে যাচ্ছিল ছয় যুবক৷ খবর পেয়ে সেখানকার দেরাদুন পুলিশ তাদের ধরে ফেলেছে। পরে তাদের গ্রেফতার করেছে৷ হিউম্যান ট্র্যাফিকিংয়ের এই মামলা নাবালিকার বাবা ও দুই দালালকেও গ্রেফতার করা হয়েছে৷ অভিযুক্তদের আদালতে পেশ করা হলে তাদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ কপকোট ব্লক থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে জগথানা গ্রামের ঘটেছে এই ঘটনা৷ মানব পাচারের নেটওয়ার্ক সারা দেশে সক্রিয়৷ 

পুলিশ সুপার রায়পা জানিয়েছেন, রবিবার রাতে মানব পাচারের খবর পেয়ে পুলিশ অনর্সা-জগথানা রোডে চেকিং শুরু করে৷ জগথানা থেকে আসা একটি জিপ আটকানো হলে তাতে এক নাবালিকার সঙ্গে নয় জন অন্য লোকও ছিল৷ তাদের প্রত্যেকে থানায় নিয়ে আসা হয়৷ জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে নাবালিকা জানায় সে তার বাবার সঙ্গে বদাঁয়ু যাচ্ছে৷ এছাড়া সে আর কিছুই জানে না৷ এরপর নাবালিকার বাবাকে কড়া জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায়, বরেলি, মুরাদাবাদ ও বদাঁয়ু থেকে ছয় জন, দুই দালাল প্রকাশ জোশি ও ঘনশ্যাম জোশির সঙ্গে তার বাড়িতে আসে৷ প্রকাশ ও ঘনশ্যাম মধ্যস্থতা করে তাকে মেয়ের বিয়ের কথা বলে ও ৩৫ হাজার টাকার লোভ দেখায়৷ দারিদ্রতার জন্যই সে বিয়েতে সম্মতি জানায় ও সোমবার মেয়েকে বদাঁয়ু ছাড়তে যায়৷ পুলিশ জানায় মানব পাচারের অভিযোগে বেরেলির রণবীর সিং, অবনীশ কুমার, ফুল সিং, অনিল কুমার সিং, বদাঁয়ুর গোপাল সিং ও মুরাদাবাদের মুনেন্দ্র সিং ছাড়াও নাবালিকার বাবা ও দুই দালালকে গ্রেফতার করে৷ উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা প্রত্যেকেই আত্মীয় বলেই জানা গেছে৷ অভিযুক্তদের ৩৭০ ধারা অনুযায়ী আদালতে পেশ করা হলে তাদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়৷

পুলিশ সুপার জানিয়েছে, রিমা থানার পুলিশ অফিসার জগদীশ টকরিয়াল এই মামলার তদন্ত করছেন৷  মানব পাচারের নেটওয়ার্কের খোঁজ চলছে৷ তিনি জানান, ১৪ বছরের এই নাবালিকার সঙ্গে বদাঁয়ুর বাসিন্দা ৩৪ বছরের গোপাল সিংয়ের বিয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছিল৷ সে দিল্লিতে একটি বসরকারি সংস্থায় কর্মরত৷ ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রির কথা হলে তাদের ১০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়৷ এর মধ্যে পাঁচ হাজার নাবালিকার বাবা ও পাঁচ হাজার দালালরা ভাগ করে নেয়৷ রিমা থানার আধিকারিক জগদীশ টকরিয়াল জানান, নাবালিকার বাবা ও দালাল বাগেশ্বর পর্যন্ত আসত৷ বাকি ২৫ হাজার টাকা তাদেরক বাগেশ্বরেই দেওয়ার কথা হয়েছিল৷ তিনি জানান জেল হেফাজতে থাকাকালীন অভিযুক্তদের কাছ থেকে নতুন অনেক তথ্য জানা যাবে৷

No comments:

Post a Comment