Thursday, 24 July 2014

২১ দিন আশৌচ পালনের পর হাতির পারলৌকিক ক্রিয়া পশ্চমবঙ্গে

কলকাতাঃ বন্যপ্রাণকে ভালবেসে অপঘাতে দুই হাতির মৃত্যুর জন্য একুশ দিন অশৌচ পালন করে পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পন্ন্ করল দুই গ্রামবাসী৷ পুরুলিয়ার ঝালদা বনাঞ্চলের সুবর্ণরেখা নদীর তীরে ত্রিবেণী ঘাটে বুধবার মাথা মুন্ডন করে বজ্রপাতে মৃত মা শাবক হাতির জন্য পিণ্ড দানও করেন তাঁরা৷ নতুন ধুতি গায়ে দিয়ে জঙ্গলে থাকা হাতিদের কল্যাণে স্হানীয় মন্দিরে পুজো দেন৷ ওই কাজ শেষে হিন্দু রীতি মেনে লুচি, বোঁদে, মিষ্টি খান৷ ঝালদার হেঁসলা গ্রামের ওই দুই বাসিন্দা পঞ্চানন কুইরি, নরেশ প্রামাণিকের এই কাজে শামিল হয়েছিলেন এই বিস্তীর্ণ বন সুরক্ষা কমিটির সদস্যরা-সহ এলাকায় হাতি তাড়াতে থাকা হুলা পার্টিও৷ বন্যপ্রাণকে ভালবাসার এমন কাজের নমুনা দেখে হতবাক হয়ে গিয়েছেন বনকর্তারা৷ এমনকী দফতরের মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মনও৷ তাঁর কথায়, "রক্তের সম্পর্ক থেকে মনুষ্য জাতি মৃত্যুর পর প্রথা মেনে পারলৌকিক ক্রিয়া করেন৷ কিন্ত্ত বন্যপ্রাণের জন্য এভাবে অশৌচ পালন করে এমন কাজ আমি আগে শুনিনি৷ এই ঘটনা জঙ্গলে থাকা বন্যপ্রাণকে আরও সুরক্ষিত ও সমৃরি বার্তাই দেয়৷ এই গ্রামবাসীদের আমিও সম্মান জানাই৷" 
গত চ জুলাই অযোধ্যা পাহাড়ে প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে ঝালদা বনাঞ্চলের হাতিদের ডেরা হেঁসলা পাহাড়ের জঙ্গলে বাজ পড়ে দু'টি হাতির মৃত্যু হয়৷ পরের দিন মৃতদেহ উারের পর তাদের ময়নাতদন্তের কাজে এই দুই গ্রামবাসী কুঠার দিয়ে হাতিদের দেহ কাটেন৷ সেই মানসিক যন্ত্রণা ও হাতির প্রতি ভালবাসার টান থেকেই এই অশৌচ পালন তাঁদের৷ 
অযোধ্যা পাহাড় রেঞ্জের ঝালদা বনাঞ্চলের অধিবাসীদের হাতিদের সঙ্গেই ঘর-সংসার৷ এলাকায় ছেলে-মেয়েদের শৈশব থেকেই হাতি তাড়ানোর কাজ শেখান বাবা-মা'রা৷ কারণ ঝাড়খণ্ড থেকে আসা হাজারিবাগের বুনো হাতির দল একরের পর একর জমির ফসল মাড়িয়ে, মানুষ শূন্যে তুলে আছাড় মারে৷ ফলে হাতি-মানুষ সঙঘাত এই বনাঞ্চলে নিত্যদিনের ঘটনা৷ কিন্ত্ত প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে হেঁসলা পাহাড়ে দুই হাতির মর্মান্তিক মৃত্যু নাড়িয়ে দেয় এই এলাকার বাসিন্দাদের৷ এদিন দুপুরে হেঁসলা গ্রাম থেকে দশ কিমি দূরে নদীর তীরে হাতির পারলৌকিক ক্রিয়া শেষে প্রৌঢ় পঞ্চানন কুইরি, নরেশ প্রামাণিকরা বলেন, "ওই জঙ্গলে হাতি আর মানুষ সমার্থক৷ ঝাড়খণ্ড থেকে আসা হাতিরা এই পাহাড়ে স্হায়ীভাবে থাকে বলেই ঝালদার বনাঞ্চল সমৃ৷ জঙ্গলে কাজ করতে গিয়ে সারাদিন হাতির মুখোমুখি হতে হয়৷ তাই এই বন্যপ্রাণগুলোর জন্য একটা টান জন্মে গিয়েছে৷ সেই অনুভূতি থেকেই এই কাজ করলাম৷" তাই অশৌচ পর্বে সে-নিরামিষ খেয়ে এদিন ওই দুই বন্যপ্রাণের আত্মার শান্তি কামনায় কলা, আপেল, নাসপাতি, সিন্নি্ দিয়ে পিণ্ড দেন৷ পুরুলিয়া বিভাগের বনাধিকারিক ওমপ্রকাশ বলেন, "এই কাজ করে ওই দুই গ্রামবাসী বন্যপ্রাণকেই সম্মান জানিয়েছেন৷ আমি অভিভূত, গর্বিতও৷" 

No comments:

Post a Comment