Sunday, 17 August 2014

চেনা ইমেজ ভেঙে বেরিয়ে আলোড়ন ফেলেছেন তামিল অভিনেত্রী সামান্থা

জয়দেব দাসঃ রুপোলি পর্দার তাঁর চেনা পাশের বাড়ির ইমেজ ভেঙে বেরিয়ে আলোড়ল তুলেছেন তামিল অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু। তামিল অ্যাকশন সিনেমা ‘অনজান’-এ বিকিনি পরে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি।

অনজান সমালোচক ও দর্শকদের কাছে বিশেষ কোনও সাফল্য তুলে ধরতে না পারলেও সামান্থা কিন্তু সকলের মনোযোগ টেনে নিয়েছেন।

সিনেমায় একটি গানের দৃশ্যে কয়েক সেকেন্ডের জন্য বিকিনি পরা অবস্থায় দেখা গেছে তাঁকে। সিনেমায় তাঁকে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস ভূমিকায়
দেখা গেছে তাঁকে। ভক্তরা সামান্থার এই নয়া লুকের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

গত শুক্রবার সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পর সামান্থার বিকিনি পরা ছবি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ছড়িয়ে পড়েছে।

চেনা ইমেজ ভেঙে বেরিয়ে বিন্দুমাত্র অস্বস্তি নেই সামান্থার।
 তিনি বলেছেন, তাঁর কেরিয়ারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা ছিল অনজান। তাই এক্ষেত্রে বিকিনি পরাটা নিয়ে অতশত কিছু ভাবেননি সামান্থা।

নগ্ন ছবি তুলে হইচই বাধালেন শার্লিন চোপড়া

জয়দেব দাসঃ খোলামেলা ছবি তুলে সম্প্রতি বিতর্ক উসকে দিয়েছেন বলিউডের অভিনেত্রী শার্লিন চোপড়া। 'ব্যাড গার্ল' শার্লিন চোপড়া জানিয়েছেন, তিনি 'প্লেবয়' ম্যাগাজিনের জন্য নগ্ন ছবি তুলেছেন। যদি বিদেশি মেয়েরা নগ্ন ছবি তুলে হইচই ফেলে দিতে পারে, তবে ভারতীয় মেয়েরা কেন পারবে না, এটাই তাঁর সোজাসাপটা যুক্তি। গতকাল স্বাধীনতা দিবসে শার্লিনের ছবি সম্বলিত ম্যাগাজিনটি প্রকাশ পেতেই হইচই শুরু হয়ে যায়। যদিও তিনি নিন্দায় কান দিতে নারাজ। শুধু বলেছেন, "খোলামেলা ছবি তোলাটা আমি উপভোগ করেছি। আগামী দিনে এমন আরও অ্যাসাইনমেন্ট করতে চাই। নিন্দুকরা বাজে কথা বলবে, কারণ তাদের সাহস নেই।"
'সাহসী' দেখানোর প্রতিযোগিতায় এর আগে খোলাখুলি নিজেদের মেলে ধরেছিলেন পুনম পাণ্ডে, সানি লিওন প্রমুখ। সেই দলে এ বার নাম লেখালেন শার্লিন চোপড়া। ওয়াকিবহাল মহলের খবর, শার্লিনের ছবির কারণেই এ বার 'প্লেবয়' ম্যাগাজিনের চাহিদা বেড়ে গিয়েছে।
বিতর্ক এর আগেও ছুঁয়েছে শার্লিন চোপড়াকে। একটি সাক্ষাৎকারে একবার তিনি বলেছিলেন, "বিয়ের আগে যৌনসঙ্গম করা দরকার। তবে ভালোবাসা গভীর হবে।" তখন বিস্তর সমালোচনা হয়েছিল।

Friday, 15 August 2014

ফের পোশাক-বিভ্রাটের শিকার আলিয়া ভাট

জয়দেব দাসঃ ফিল্ম স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার থেকে সরাসরি বলিউডে আত্মপ্রকাশ তাঁর। আর সাফল্য তাঁর আগাগোড়াই সঙ্গে রয়েছে। এখনও পর্যন্ত আলিয়া ভাটের চারটি সিনেমাই হিট। দর্শকরাও তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন। তাঁর ফ্যাশন সেন্সও অনুরাগীদের প্রভাবিত করেছে।

 সেই আলিয়াই একটি ইভেন্টে পোশাক-বিভ্রাটের শিকার হলেন। তাঁর পোশাক-বিভ্রাটের ছবি ধার পড়ল চিত্রগ্রাহকদের ক্যামেরায়। সেই ছবি দেখে আর বলে দিতে হয় না বিভ্রাটটা ঠিক কোথায়।
আলিয়া অবশ্য এধরনের বিভ্রাটে আগেও পড়েছেন।

হাম্পটি শর্মাকে দুলহনিয়া সিনেমার প্রোমোশনে পোশাক বিভ্রাটের শিকার হয়েছিলেন তিনি। সেদিন এক হাল্কা রঙের সালোয়ার পরেছিলেন তিনি। সিনেমার অভিনেতা বরুণ ধবন তাঁকে কোলে তুলে নিতেই পোশাকের ভেতর দিয়ে তাঁর অন্তর্বাস স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।

ধর্ষণের ঘটনায় লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায়, শাষন করুন পুত্রসন্তানদেরও,অভিভাবকদের বার্তা মোদির


জয়দেব দাসঃ ২০১২ সালে দিল্লি গণধর্ষণকাণ্ডকে ঘিরে উত্তাল হয়েছিল গোটা দেশ৷ বিড়ম্বনায় পড়েছিল তত্‍‍কালীন ইউপিএ সরকার৷ এরপর ধর্ষণ রুখতে নতুন আইন তৈরি করা হয়৷ কিন্তু, তারপরেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে চলেছে ধর্ষণের ঘটনা৷ উত্তরপ্রদেশ বাদায়ু থেকে মুম্বই৷ সম্প্রতি, বেঙ্গালুরুতে এক নাবালিকাকে স্কুলের মধ্যে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ৷ এ সবের প্রতিবাদে দেশজুড়ে তোলপাড় হয়েছে৷ এই প্রেক্ষাপটে, শুক্রবার, লালকেল্লা থেকে স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতায় ধর্ষণকাণ্ড নিয়ে অভিভাবকদের উদ্দেশে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী৷
পুত্র সন্তানের থেকে কন্যা সন্তান যে কোনও অংশে কম নয়, এ দিন সেই বার্তাও দিলেন প্রধানমন্ত্রী৷ তুলে ধরলেন কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের সাফল্যের খতিয়ান৷ জোর দিয়েছেন কন্যাভ্রুণ হত্যা বন্ধ করার উপর৷
ধর্ষণকাণ্ডের পাশাপাশি গোষ্ঠী সংঘর্ষের প্রতিবাদেও এ দিন সরব হন নরেন্দ্র মোদি৷
উত্তরপ্রদেশে একাধিক জায়গায় গোষ্ঠীসংঘর্ষের ঘটনায় সম্প্রতি সংসদে মুলতুবি প্রস্তাব আনতে চেয়েছিল কংগ্রেস৷।স্পিকার অনুমতি না দেওয়ায় লোকসভার ওয়েলে নেমে স্লোগান দিয়েছিলেন রাহুল গাঁধী৷ তাঁর অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশে গোষ্ঠীসংঘর্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তৈরি করা৷ গত শনিবার, দিল্লিতে বিজেপির জাতীয় পরিষদের বৈঠকে নাম না করে রাহুলকে এ নিয়ে পাল্টা আক্রমণও করেন মোদি৷ এ দিন লালকেল্লা থেকে ভাষণ দেওয়ার সময়ও, গোষ্ঠী সংঘর্ষ রুখতে বার্তা দেন তিনি৷
প্রধানমন্ত্রী এ দিন ঘোষণা করেন, এক বছরের মধ্যে দেশের প্রতি স্কুলে শৌচালয় তৈরি করতে হবে৷ মেয়েদের জন্য থাকবে আলাদা শৌচালায়৷

Friday, 8 August 2014

পদ্ম সম্মান খোয়াতে পারেন সইফ আলি খান!


কলকাতাঃ বলিউড অভিনেতা সইফ আলি খান খোয়াতে পারেন পদ্ম সম্মান। বছর দুয়েক আগে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন ছোটে নবাব। এমনকী ওই ব্যবসায়ীর গায়ে হাতও তুলেছিলেন। সেই মামলা এখনও মুম্বই আদালতে চলছে। আর সেই প্রসঙ্গ টেনেই এক তথ্যের অধিকারকর্মী সরকারের কাছে মার্চ মাসে একটি অভিযোগ দায়ের করেছিল। সেই অভিযোগটি খতিয়ে দেখছে সরকার।
২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এক দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যবসায়ীকে ছোটে নবাব ঘুষি মারার ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। সইফ ও তার বন্ধুর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগও জমা পড়েছি। মুম্বইয়ে এক আদালতে এই টিনসেল টাউন হিরোর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
আর এই ঘটনার জেরেই সমস্যায় পড়তে পারেন সইফ। হাত ছাড়া হতে পারে তাঁর পদ্ম পুরস্কারও। তথ্যের অধিকারকর্মী এস সি আগরওয়াল ১৪ মার্চ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যাঁর নামে আদালতে মামলা চলছে তাঁর কাছে কী করে পদ্মশ্রী পুরস্কার থাকতে পারে। সইফের থেকে এই পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিও তুলেছেন তিনি।
২০১০ সালে শিল্প-কলা জগতে অবদানের জন্য পদ্মশ্রী পুরস্কার পান ছোটে নবাব সইফ আলি খান। এদিকে সইফ ও তার দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩২৫ (হেনস্থা) এবং ৩৪ (সাধারণ উদ্দেশ্য) ধারা অভিযোগ দায়ের করা হয়। ২০১২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার এক ব্যবসায়ী ও তাঁর শ্বশুরকে কোলাবা হোটেলে নাকে ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ।

কন্যাশ্রীর পর এবার গতিধারা, বেকারদের জন্য বিশেষ আর্থিক অনুদান প্রকল্প




জয়দেব দাস, কলকাতা: যুবশ্রী, কন্যাশ্রীর পর এবার গতিধারা। বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বিশেষ আর্থিক অনুদান প্রকল্প ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। পরিবহণ দফতরের পক্ষ থেকে স্ব-নিযুক্তি প্রকল্পে এক লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। তবে অনুদান পেতে যাঁরা আগ্রহী তাঁদের পরিবহণ ক্ষেত্রেই পরিষেবা দিতে হবে। এজন্য সরকারের খরচ প্রায় একশো কোটি টাকা।  

আগামী বছরের মে মাসের মধ্যে রাজ্যে ৮৭টি পুরসভায় নির্বাচন। এর মধ্যে রয়েছে কলকাতা পুরসভাও। এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনকে সামনে রেখে বেকার যুবক-যুবতীদের মন পেতে এবার সক্রিয় রাজ্যের পরিবহণ দফতর। গতিধারা প্রকল্পের আওতায় এককালীন অনুদান হিসেবে তাঁদের এক লক্ষ টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে নাম নথিভুক্ত থাকতে হবে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে।    
ট্যাক্সি বা ম্যাক্সির মতো ছোট গাড়ি কিনে যারা ব্যবসা করতে চান, শুধুমাত্র তাঁরাই এই অনুদান পাবেন। 

Thursday, 7 August 2014

কার্বন শোষণের ক্ষমতা হারাচ্ছে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ, বাড়ছে দূষণ


জয়দেব দাস, কলকাতাঃ কেটে ফেলা হচ্ছে গাছপালা। বাড়ছে দূষণ। ফলে জলের নোনাভাব বেড়ে গিয়ে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করার ক্ষমতা হারাচ্ছে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ।
ম্যানগ্রোভ, গুল্ম ঘাস, ফাইটোপ্লাঙ্কটন, মোলাস্কাস ক্রমাগত তাদের কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণের স্বাভাবিক ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। গাছের শরীরে জমিয়ে রাখা কার্বনকে বলা হয় ব্লু কার্বন। কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণের ফলে কমে উষ্ণায়নের মাত্রা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিভিন্ন প্রভাব থেকেও কার্বন রক্ষা করে গাছ।

কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সাহায্যে ও মেরিন সাইন্টিস্ট অভিজিত্‍ মিত্রর নেতৃত্বে চলে ব্লু কার্বন এসটিমেশন ইন কোস্টাল জোন অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া-সুন্দরবনস নামক গবেষনা। ৩ বছর ধরে গবেষনা চালানোর পর গতবছর সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন অভিজিত্‍ মিত্র। তাঁর দলের বিজ্ঞানী সুফিয়া জামান জানালেন, "এটা সত্যিই চিন্তার বিষয়। বিশেষত সুন্দরবনের মধ্যভাগে। ম্যানগ্রোভের কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণের ক্ষমতা এতটাই কমে গিয়েছে যে তার ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে পুরো এলাকার বাস্তুতন্ত্রে।"

অন্যদিকে অভিজিত্‍ মিত্র জানান, "শুধুমাত্র বাইন প্রজাতির ম্যানগ্রোভের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়েছে। আরও অন্তত ৩৪টি আলাদা প্রজাতি রয়েছে ম্যানগ্রোভের। এছাড়াও রয়েছে কেওড়া ও গেঁওয়া। মাল্টার কাছাকাছি সুন্দরবনের মধ্যভাগে বাইন প্রজাতির কার্বন শোষণের ক্ষমতা হেক্টর প্রতি ২২টন, যেখানে সুন্দরবনের পূর্ব দিকের অংশে এই ক্ষমতা হেক্টর প্রতি ৩৫টন।"

প্রেমিককে ট্যাব উপহার দিতে না পেরে আত্মহত্যা তরুণীর?


 
জয়দেব দাস, কলকাতাঃ  ফের এক স্বপ্নের অপমৃত্যু৷তবে, এবার ভাল চাকরি না পাওয়ার কারণে হতাশা, কিংবা নেশার কবলে পড়ে অবসাদ নয়, প্রেমিককে মনের মতো উপহার দিতে না পেরে চরম সিদ্ধান্ত নিলেন এক তরুণী৷
বঙ্গবাসী কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী পায়েল সাহা৷ সোমবার বাগুইআটির জগতপুরের ফ্ল্যাট থেকে এই তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়৷ রবিবার জন্মদিন ছিল বাড়ি বড় মেয়ে পায়েলের৷ মায়ের দাবি, বন্ধুদের জন্মদিনের পার্টি দেওয়ার জন্য সোমবার তাঁর কাছে ১০ হাজার টাকা চান পায়েল৷
পায়েলের মৃত্যুর পর তার বন্ধু এবং সহপাঠীদের কাছ থেকে আসল ঘটনা জানতে পারে পরিবার৷ তরুণীর বাবার দাবি, পাড়ার এক যুবকের সঙ্গে পায়েলের প্রণয়ের সম্পর্ক ছিল৷ অভিযোগ, পায়েলের কাছে নিয়মিত দামী জিনিস দাবি করতেন ওই যুবক৷ না পেলেই চলত ব্ল্যাকমেল৷ প্রেমিকের জন্য ট্যাব কেনার টাকা না পেয়েই আত্মহত্যা, দাবি পরিবারের৷
অভিযোগ, পায়েলের দেহ উদ্ধারের পর তাঁর প্রেমিকের বাড়িতে ভাঙচুর চালায় পরিবারের সদস্যরা৷ পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাস্থলে গেলে বাগুইআটি থানার পুলিশকর্মীদের মারধরও করা হয়৷ এই ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷

ধারাটি বাতিল,আত্মহত্যার চেষ্টা আর শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয়


কলকাতাঃ  আত্মহত্যার চেষ্টা আর শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয়। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারাটিই বাতিল করা হচ্ছে। আজ লোকসভায় এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে একথা জানান স্বরাষ্ট্র দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী কিরন রিজিজু। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারা অনুযায়ী আত্মহত্যার চেষ্টার জন্য এখন এক বছর পর্যন্ত জেল এবং জরিমানার শাস্তি হতে পারে।
রিজিজু এদিন বলেন, ভারতীয় ল কমিশনের মতে ৩০৯ ধারার বিধিনিষেধ অমানবিক। তাই ওই ধারা বাতিল করার সুপারিশ করেছে কমিশন। আর তাই ৩০৯ ধারা বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।  ভারতীয় দণ্ডবিধি ও ফৌজদারির আরও কয়েকটি ধারা সংশোধিত হবে বলে জানিয়েছেন রিজিজু।

Wednesday, 6 August 2014

গীতাকে 'জাতীয় গ্রন্থ' ঘোষণা করার দাবি তুললেন আরএসএস ভাবাদর্শী

তিরুবন্তপুরম: কিছুদিন আগেই সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি এ আর দাভে স্কুলে গীতা পড়ানোর দাবি তুলেছিলেন। এবার তাঁর সুরেই সুর মিলিয়ে শুধুমাত্র স্কুল পাঠ্যই নয় গীতাকে ''জাতীয় গ্রন্থের'' মর্যাদা দেওয়ার দাবি তুলল আরএসএস।
প্রেস কাউনসিলের চেয়ারম্যান মার্কেণ্ডেয় কাটজু, দাভের দাবির তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। আরএসএস পন্থী সাংস্কৃতিক মঞ্চ 'ভারতীয় বিচারা কেন্দ্রম'-এর ডিরেক্টর পি পরমেশ্বরন  আবার কাটজুর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেছেন গীতা নাকি কোনও ধর্ম গ্রন্থ নয়, এটি প্রকৃতপক্ষে একটি আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক ক্লাসিক। তাঁর মতে যুগ যুগ ধরে ভারতীয় সভ্যতাকে প্রভাবিত করেছে ভগবত গীতা।
পরমেশ্বরনের মতে যে একবার গীতা পড়েছেন তিনি সহজেই বুঝবেন গীতা আসলে জ্ঞানের ভাণ্ডার, এর প্রভাব অনন্ত। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামেও গীতার অবদান অসীম বলে দাবি করেছেন এই আরএসএস ভাবাদর্শী। এই প্রসঙ্গে মহাত্মা গান্ধীর উদাহরণ টেনে তিনি বলেছেন, গান্ধীজী গীতাকে নিজের মা বলতেন।

দেশে ফেরার অনুমতি পেলেও ভারতেই থেকে যেতে চান তসলিমা


জয়দেব দাস, কলকাতাঃ দেশে ফেরার অনুমতি পেলেও বাকি জীবন ভারতেই কাটাতে চান বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সংবাদসংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাত্‍কারে তিনি জানিয়েছেন, ভারতই তাঁর দ্বিতীয় বাড়ি। দেশ থেকে নির্বাসিত থাকাকালীন গত বিশ বছরে ভারতেই তাঁর বেশি বন্ধু তৈরি হয়েছে। তাই ইওরোপের নাগরিকত্ব পাওয়া সত্ত্বেও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের জন্য ভারতেই থেকে যেতে চান তিনি।
তসলিমার বক্তব্য, বাংলাদেশের প্রকাশক ও বুদ্ধিজীবীরা কেউ যোগাযোগ রাখেননি। এই কারণেই দেশের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ভারতে দীর্ঘমেয়াদী রেসিডেন্ট ভিসা পাওয়ার আর্জি নিয়ে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে দেখা করেন তসলিমা। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যেই সেই ভিসা পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।

ভারতের জাতীয় পতাকাকে অবমাননা, হাই কোর্টের নোটিশ মল্লিকা শেরওয়াতকে


কলকাতাঃ ডার্টি পিকচার ছবির পোস্টারে জাতীয় পতাকা অবমাননা মামলায় অভিনেত্রী মল্লিকা শেরাওয়াত এবং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে পিটিশনের জেরে বিজ্ঞপ্তি জারি করল হায়দ্রাবাদ হাই কোর্ট। ৪ সপ্তাহের মধ্যে লিখিতভাবে ওই বিজ্ঞপ্তির জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হল তাঁদের।
তাঁর আগামী ছবি 'ডার্টি পলিটিকস'-এর বিতর্কিত একটি পোস্টারের জেরেই এই বিপদ। ওই পোস্টারে দেখা গিয়েছে নগ্ন দেহে শুধুমাত্র তেরঙ্গা জড়িয়ে রেখেছেন মল্লিকা। এই ছবির একটি পোস্টার দেখা যাচ্ছে রাজস্থান বিধানসভার সামনে একটি লালবাতি লাগানো অ্যাম্বাসাডার গাড়ির উপর বসে রয়েছেন মল্লিকা। এক হাতে একটি সিডি এবং পরণে শুধুমাত্র গেরুয়া-সাদা-সবুজ তেরঙা।
আরও পড়ুন : 'ডার্টি পলিটিকস' করে বিপাকে মল্লিকা শেরাওয়াত, জাতীয় পতাকাকে অসম্মানের জন্য মামলা দায়ের
এই বিষয়ে যে জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, তেরঙাকে অশ্লীলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, এবং তা জাতীয় পতাকার অবমাননা। তাছাড়াও রাজ্যের প্রতীককে সস্তা প্রচারের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। জাতীয় গর্বকে অপমান করা হয়েছে ডার্টি পলিটিক্স ছবির পোস্টারে।
উল্লেখ্য 'ডার্টি পলিটিকস' ছবিটি কুখ্য়াত বনওয়ারী দেবী যৌন কেলেঙ্কারি মামলার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী এই ছবিতে বানওয়ারী দেবীর চরিত্রে অভিনয় করছেন মল্লিকা। এছাড়াও এই ছবিতে অভিনয় করেছেন ওম পুরী, নাসিরুদ্দিন শাহ, অনুপম খেরের মতো বড় মাপের অভিনেতারা। রয়েছেন জ্যাকি শ্রফস গোবিন্দ নামদেব, আশুতোষ রানা, রাজপাল যাদব প্রমুখও।
হায়দ্রাবাদ হাইকোর্ট, মল্লিকা শেরাওয়াত, সেন্ট্রাল বোর্ড ফর ফিল্ম সার্টিফিকেশন এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আদালতের নোটিসের জবাব ৪ সপ্তাহের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে।

Monday, 4 August 2014

মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের বিচারপতির বিরুদ্ধে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ মহিলা বিচারকের

কলকাতাঃ মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের এক বিচারপতির বিরুদ্ধে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ গ্বয়ালিয়রের অতিরিক্ত দায়রা বিচারকের। এই অভিযোগ জানিয়ে দায়রা বিচারক সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি দিয়েছেন। চিঠি পেলে অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। ওই মহিলা বিচারকের অভিযোগ, হাইকোর্টের বিচারপতি তাঁকে বারবারই বাংলোয় আসতে ডেকেছিলেন। তাঁর আরও অভিযোগ, জেলা রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে তাঁকে এক আইটেম গানে নাচার প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন ওই বিচারপতি। ওই বিচারপতির প্রস্তাবে রাজি না হলে তাঁকে বদলি করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন মহিলা বিচারক।
ঘটনাক্রমে ওই মহিলা বিচারক আদালতের যৌন নিগ্রহের বিরোধী বিশাখা কমিটির প্রধান।

৯মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা, বন্যা বিধ্বস্ত গ্রামে ৬০০ মিটার সাঁতরে গেলেন ডাক্তারি সাহায্য নিতে


কলকাতাঃ একজন মা তাঁর নিজের সন্তানকে বাঁচাতে যেকোনও রকমের বিপদেই চোখ বুজে ঝাঁপাতে পারেন। আবারও তার প্রমাণ পাওয়া গেল। নীলকণ্ঠরায়ানাগাড্ডি গ্রামের এক কুড়ি বছর বয়সি অন্তঃস্বত্ত্বা তাঁর পেটের সন্তানকে বাঁচাতে, গ্রামের বন্যা পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করে ৬০০ মিটার সাঁতরে গেলেন স্থানীয় চিকিত্সা কেন্দ্রে।
 বন্যা বিধ্বস্ত ওই গ্রামে মেশিন বোট পৌঁছতেই পারেনি। গ্রামের পরিস্থিতি অনেকটা একটা দ্বীপের মতো দেখে, কুড়ি বছরের অন্তঃস্বত্ত্বা ইয়ালামা বালাপ্পা গাড্ডি নিজেই সিদ্ধান্ত নেন, তাঁর সন্তানকে বাঁচাতে তাঁকে ঝাঁপ দিতে হবে জলে। শেষ পর্যন্ত মূল গ্রামে পৌঁছে সেই মহিলাকে প্রাথমিক চিকিত্সা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁকে পরীক্ষা করে দেখেন গ্রামের ডাক্তাররা। আপাতত বাচ্চা ও মায়ের দুজনের শারীরিক অবস্থাই ভাল আছে।
এই ঘটনার পর নীলকণ্ঠরায়ানাগাড্ডি গ্রামের বাসিন্দাদের আশা প্রশাসনের তাঁদের দুর্দশার দিকে চোখ পড়বে। কারণ গত ৪০ বছর ধরে প্রতিবারই বর্ষার সময় ওই গ্রাম এভাবেই ভেসে যায়। তখন সাধারণ একটা দেশলাই বাক্স কিনতেও গ্রামের বাসিন্দাদের ৬০০ মিটার সাঁতরে সদরে যেতে হয়।
এই ঘটনার কথা যখন জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়, তখন জেলা কর্তৃপক্ষের তরফে বলা হয়, ইয়ালামা বা তাঁর পরিবারের কেউ তাঁদের তরুণী শারীরিক পরিস্থিতির কথা জানায়নি। জানলে নিশ্চয়ই তাঁরা যথাযথ ব্যবস্থা নিতেন। তাঁদের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত একটি এনজিওর কর্মচারীকে ইয়ালামার বাবার বাড়িতে সর্বক্ষণ রাখা হয়েছে, তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে।

তসলিমার ভিসার মেয়াদ এক বছর করার আশ্বাস রাজনাথের

জয়দেব দাস, কলকাতাঃ তসলিমা নাসরিনের রেসিডেন্ট ভিসার মেয়াদ সম্ভবত বাড়তে চলেছে। আজ ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে দেখা করেন তসলিমা। রাজনাথের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তসলিমা দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর ভিসার মেয়াদ একবছরের জন্য করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিন তাঁর লেখা  উও আন্ধেরে বইটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উপহার দেন তসলিমা।  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁকে বলেন, শীঘ্রই লেখিকার জীবনে অন্ধকার দিনের অবসান ঘটবে। বৈঠকের পর একথা  টুইটে  জানান তসলিমা।
দু দিন আগেই তসলিমা নাসরিনের রেসিডেন্স পারমিট বাতিল করে কেন্দ্রীয় সরকার। পরিবর্তে শুধু ভারতে দু'মাসের ট্যুরিস্ট ভিসা পেয়েছেন বিতর্কিত এই লেখিকা। প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে কলকাতা থেকে বিতাড়িত হওয়ার সময় নরেন্দ্র মোদী তসলিমারে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু মোদীর জমানেই ভারতে ঠিকানা মুছে যায় তসলিমার।

ভোটের দিন দলের পাশে না থাকায় পার্টি কর্মীদের শাস্তি দেবে সিপিআইএম

 কলকাতা: উত্তর চব্বিশ পরগনায় ভোটের দিন ভয়ে ঘর ছেড়ে না বের হওয়া পার্টি কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে চলেছে সিপিআই এম। উত্তর ২৪ পরগণা জেলা কমিটির দুদিনের বৈঠক শেষে এরকম প্রায় এক হাজার পার্টি কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
 প্রয়োজনে তাদের পার্টি থেকে বহিষ্কারও করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সিপিআইএম নেতা গৌতম দেব। পরিচালনায় আগামী দিনে নবীন প্রবীনের সহাবস্থান দরকার বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

এক মাসের শিশু সন্তানকে মার বাবার, মজার জন্য ছবি দিলেন ফেসবুকে

কলকাতাঃ এক মাসের শিশু সন্তানকে মার বাবার, মজার জন্য ছবি দিলেন ফেসবুকে। অভিযুক্ত ব্যক্তি এখন পুলিশ হেফাজতে। উত্তর ফ্রান্সের এক ছোট্ট শহর এজনের বাসিন্দা এক ভদ্রলোক তার একমাসের শিশু সন্তানকে মেরে, সেই ছবি আবার ফেসবুকে দিয়েছে, শুধুমাত্র মজার জন্য। সেই অভিযুক্ত ভদ্রলোক তার একমাসের শিশু সন্তানকে মেরেছে কারণ তার কান্না সহ্য করতে পারছিল না অভিযুক্ত বাবা। শুধু শিশু সন্তানকে মেরেই শান্ত হয়নি সেই অভিযুক্ত বাবা, মজার জন্য আবার সেই আহত শিশুর ছবি ফেসবুক দিয়ে দিয়েছে।
সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে সেই ছবি দেখে, ওই যুগলেরই একবন্ধু পুলিশে খবর দেয়। এরপরই পুলিশি তদন্ত শুরু হয়। পুলিশ বাবা-মা দুজনের বিরুদ্ধেই শিশুর ওপর নৃশংসতার দায়ে চার্জ গঠন করেছে। শুধু তাই নয় এইমুহূর্তে শিশুটির শারীরিক অবস্থাও ভাল নয়। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয়, এই ঘটনার পর শিশু সন্তানটির মাও পুলিশে কোনও খবর দেয়নি কারণ, সে ভয় পেয়ে গিয়েছিল পুলিশে অভিযোগ দায়ের করলে তাকে তার স্বামী হয়তো ছেড়ে চলে যেতে পারে।

নিজস্ব মত প্রচারে আলাদা টিভি চ্যানেল খুলছে সিপিএম


কলকাতাঃ খুব তাড়াতাড়ি একটি টিভি চ্যানেল চালু করছে সিপিএম। প্রথমে গ্রাউন্ড চ্যানেল হিসাবে কাজ শুরু করলেও পরে পূর্ণাঙ্গ স্যাটেলাইট চ্যানেলে তা রূপান্তরিত হবে। নাম হচ্ছে সম্ভবত 'পিপলস টিভি'।
কেমন হবে এই টিভি চ্যানেল? দলীয় সূত্রে খবর, খবরের চ্যানেল যেমন হয়, তেমনই হবে। পেশাদারি পথে চলবে এই
চ্যানেল। সিপিএম তথা বামফ্রন্টের সমর্থনে প্রচার চালাবে চ্যানেলটি। এ জন্য দলের পক্ষ থেকে গঠন করা হচ্ছে 'ডেমোক্র্যাটিক পিপলস মিডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড' শীর্ষক একটি সংস্থা। সরাসরি দলের নাম রাখলে আইনি জটিলতা হতে পারে, এটা ভেবে এমনই নামকরণ করা হয়েছে। ঠিক হয়েছে, সিপিএমের নিজস্ব টিভি চ্যানেল হলেও দল আড়ালে থাকবে। পিছন থেকে অর্থ ও সমর্থন জোগাবে। দলের পরিচিত কোনও মুখ বা বড় নেতাকে তাই সামনাসামনি চ্যানেলের দায়িত্ব দিচ্ছে না সিপিএম।
কেন এই চ্যানেল করার চিন্তাভাবনা? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সিপিএম নেতা জানান, পশ্চিমবঙ্গে দল এখন কোণঠাসা। 'গণশক্তি' রয়েছে দলের কথা তুলে ধরার জন্য। কিন্তু আধুনিক যুগে টিভি চ্যানেল হল খবরের কাগজের চেয়েও বড় হাতিয়ার। দেশের সব বড় বড় মিডিয়া গোষ্ঠীর তাই খবরের কাগজের পাশাপাশি টিভি চ্যানেল রয়েছে। সিপিএম নেতাদের বক্তব্য, দল যখন পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় ছিল, তখন 'বুর্জোয়া' টিভি চ্যানেলগুলি তাদের বিরুদ্ধে লাগাতার প্রচার করে জনমানসে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছিল। এখন তো আরও খারাপ অবস্থা। তাই সর্বক্ষণ নিজেদের কথা তুলে ধরতে আলাদা টিভি চ্যানেল তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের মাথারা।
ঠিক হয়েছে, কলকাতাতে থাকবে টিভি চ্যানেলটির মূল অফিস। এ ছাড়া, একদা সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি বর্ধমানে খোলা হবে ব্যুরো অফিস। কলকাতায় কোথায় অফিস হবে, তা এখনও জানা যায়নি। চলতি বছরেই চ্যানেলটি কাজ শুরু করবে।

সামুদ্রিক ঝড়ে জম্বু দ্বীপের কাছে উল্টে গেল ট্রলার, নিখোঁজ ২


কলকাতাঃ  সামুদ্রিক ঝড়ের মুখে পড়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জম্বু দ্বীপের কাছে উল্টে গেল মাছধরার একটি ট্রলার। ট্রলারটিতে মোট ১৬ জন ছিল বলে জানা গিয়েছে। পুলিশসূত্রের খবর এই ১৬ জনের মধ্যে ১৪ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ২ জনের খোঁজ এখনও মেলেনি। তবে উদ্ধারকার্য এখনও চলছে।

সুন্দরবনের কাকদ্বীপ থেকে রওনা দিয়েছিল এফবি সূর্যনারায়ণ নামে ওই ট্রলারটি। কিন্তু আচমকা সমুদ্রে ঝড় ওঠায় বিপদের মুখে পড়ে বেশ কিছু ট্রলার। ঝড়ের ঝাপট সহ্য করতে না পেরে উল্টে যায় ১৬ জন সহ ট্রলারটি। মাঝসমুদ্রে আরও তিনটি ট্রলার বিকল হয়ে রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের তরফে জানানো হয়েছে। এই ট্রলারে যে কজন ছিলেন প্রত্যেকেই পেশায় মৎস্যজীবী। মাছ ধরতেই ট্রলারে করে তারা গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের তরফে জানানো হয়েছে এক মূহুর্ত সময় নষ্ট না করেই উদ্ধারকার্য শুরু হয়েছে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় উদ্ধারকার্যে সমস্যা দেখা দিয়েছে। কমপক্ষে অন্তত ৫০টি ট্রলারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব যাচ্ছে না। এদিন ঝড়ের কোনও আগাম সতর্কতা জেলা প্রশাসনের তরেফে ছিল না বলেও স্থানীয় তরফে জানানো হয়েছে।

কলকাতা হাই কোর্টের প্রথম মহিলা প্রধান বিচারপতি হলেন মঞ্জুলা চেল্লুর


কলকাতাঃ কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি পদে শপথ নিলেন মঞ্জুলা চেল্লুর। সোমবার তিনি শপথ নিয়েছেন। ফলে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি পদে এই প্রথম কোনও মহিলা আসীন হলেন। তৈরি করলেন ইতিহাস।
মঞ্জুলা চেল্লুরের জন্ম ১৯৫৫ সালের ৫ ডিসেম্বর, কর্নাটকে। আইন পাশ করে তিনি কর্নাটকের বেলারিতে প্র্যাকটিস শুরু করেন। ১৯৮৮ সালে বেলারি জেলা জজের দায়িত্ব নেন। ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি কর্নাটক হাই কোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন। ২০১১ সালের ৯ নভেম্বর কেরল হাই কোর্টের কার্যনির্বাহী প্রধান বিচারপতি হন। ২০১২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ওই হাই কোর্টেই প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পান। অবশেষে তিনি যোগ দিলেন কলকাতা হাই কোর্টে।
কেরল হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি থাকাকালীন তিনি রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান পি জে কুরিয়েনের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণের মামলা শুনেছিলেন। এটি এখনও একটি হাই-প্রোফাইল মামলা হিসাবে বিবেচিত হয়। এর জেরে যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়েছিলেন পি জে কুরিয়েন।

বলিউডের পর কন্নড় ছবির আইটেম নাচেও সানি লিওনি!


জয়দেব দাস, কলকাতাঃ অভিনয়ের থেকে আইটেম নম্বরেই মনে হচ্ছেন বেশি স্বচ্ছন্দ নীল তারকা সানি লিওনি। আর সেই কারণেই হিন্দি, ও তামিল তেলেগু ছবিতে একাধিক আইটেম গানের পর এবার কন্নড় ছবির জন্য আইটেম নম্বরে শরীর দোলাবেন সানি।
বেবি ডল, পিঙ্ক লিপস-এর পর ডিকে ছবির সেশামা সেশামা গানে দেখা যাবে লাস্যময়ী সানিকে। এই গানটি অনেকটা লোকগীতির ধাঁচে তৈরি করা হয়েছে। ছবির ক্রসদস্যদের এখ সূত্র জানিয়েছে, শুধুমাত্র সানির কথা ভেবেই এই গানটি বানানো হয়েছে। ৩ দিন ধরে এই গানটির শুটিং চলছে। আজই (৪ অগস্ট) সম্ভবত শেষ হবে সানির এই আইটেম নম্বরের শুটিং। এই গানটি আইটেম গান হলেও এতে মাটির গন্ধ আছে বলে জানিয়েছেন ওই সূত্র। একইসঙ্গে জানিয়েছেন, সানির আগের আইটেম নাচ গুলোর থেকে এটা অনেকটাই আলাদা।
সানির জনপ্রিয়তা হয়তো আলাদা করে বুঝিয়ে বলতে হবে না। আর সেই কারণেই ছবি নির্মাতাদের কথায় আমরা অত্যন্ত গোপনে এই আইটেম নাচের শুটিংটি করছি। যাতে শহরের লোকজন জানতে না পারেন সানি এখন এই শহরেই রয়েছেন। তাহলে সানি প্রেমীদের ভিড়ে কাজ করাটা মুশকিল হয়ে যাবে।

Saturday, 2 August 2014

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে হনুমানের বাচ্চার মৃত্যু, উত্তাল হাওড়া

কলকাতাঃ প্রিয়জনের মৃত্যু শোকে মানুষ মুহ্যমান হয়৷ সেই মৃত্যু একই রকম বেদনাদায়ক পশুদের মধ্যেও৷ শনিবার সকালে এমনই ঘটনার সাক্ষী রইল হাওড়ার বাঁটরা থানার বেলিলিয়াস রোড৷  খেলার সময় বিদ্যুত্বাহী তারে ঝুলতে গিয়ে মারা গিয়েছিল একটি হনুমান ছানা৷ আর এই ঘটনার পর অন্তত ২০-২২টি হনুমানের দাপটে ওই এলাকা কার্যত বন্ধের চেহারা নেয়৷ ঝপাঝপ বন্ধ হয়ে যায় দোকান-পাট৷ রাস্তা-ঘাট শুনশান হয়ে যায়৷ শেষপর্যন্ত পুলিশ, বন দফতর এবং সিইএসসি-র চেষ্টায় মৃত হনুমানের বাচ্চাটিকে নামিয়ে সাইকেলের টায়ার পুড়িয়ে হনুমানের দলকে এলাকা থেকে সরানো হয়৷ তবে মা হনুমানটি দুপুর পর্যন্ত ওই এলাকায় ঘুরে বেরিয়েছে৷ কেঁদে-কেঁদে নিজের সন্তানকে খুঁজছে৷ তাকে দেঝে অনেকেই কষ্ট হয়েছেন।      
শনিবার সকাল ছ'টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে৷ বেলিলিয়াস রোডে নরসিংহ দত্ত কলেজের সামনে বেশকিছুদিন ধরেই কয়েকটি হনুমান ঘুরে বেড়াচ্ছিল৷ এদিন সকালে একটি হনুমানের বাচ্চা বিদুত্বাহী তারে ঝুলতে গিয়ে বিদুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়৷ বিদ্যুতের তারেই ঝুলতে থাকে বাচ্চাটি৷ এই ঘটনার পরই পালে পালে অন্য হনুমান চলে আসে এলাকায়৷ কিছু হনমান চলে যায় কলেজের গেটের সামনে৷ বাকিরা রাস্তায় নেমে  রীতিমতো হল্লা শুরু করে৷ হনুমান পালের দাপটে কলেজে ঢুকতে অসুবিধার মুখে পড়েন ছাত্র-ছাত্রীরা৷ স্হানীয় বাসিন্দা মিহির বিশ্বাস বলেছেন, সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটারা থানা, সিইএসসি এবং বন দফতরকে খবর দেওয়া হয়৷ কিছুপরেই ব্যাটরা থানার আইসি গৌতম তালুকদার পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন৷ হাজির হন অন্যান্যরাও৷ সিএএসসি থেকে ওই তারে বিদ্যুত্‍ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়৷ বাঁশ দিয়ে মৃত হনুমান শিশুটিকে নামানো হয়৷ কিন্ত্ত  বাঁদরবাহিনীর দাপট তাতেও না কমায় টায়ার পুড়িয়ে অবস্হা সামাল দেওয়া হয়৷ মৃত শিশুটিকে ব্যাগে করে নিয়ে যান বন দফতরে 

ভারতে থাকার ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ করতে রাজনাথের সঙ্গে দেখা করলেন তসলিমা

দিল্লিঃ ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর সঙ্গে দেখা করলেন বাংবাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন৷ ভারত সরকারের কাছে তিনি এক বছরের মেয়াদে ভিসা দেওয়ার আবেদন করেছিলেন৷ কিন্তু লেখিকার আবেদন মঞ্জুর করেনি ভারত সরকার৷ তাঁকে মাত্র দু'মাসের জন্য ভিসা দেওয়া হয়৷ 

শনিবার তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মিনিট ২০ ধরে কথা বলেন তসলিমা নাসরিন৷ সূত্রের খবর, শেষ জীবনটা ভারতে কাটানোর অনুমতি দেওয়ার জন্য মন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন মাঝ বয়সের এই লেখিকা৷ মন্ত্রীকে তসলিমা তাঁর লেখা ‘ও অন্ধেরে দিন' নামে একটি বইও এদিন উপহার দিয়েছেন৷ তাতেও মন গলেনই মন্ত্রীর।

লেখিকা ট্যুইট করে তসলিমা জানিয়েছেন, বই উপহার দেওয়ার পর মন্ত্রী তাঁকে বলেছেন, ‘আপকা অন্ধেরে দিন খতম হো জায়েগা৷'

বাংলাদেশের লেখিকা তসলিমা নাসরিন মুসলিম সম্প্রদায় নিয়ে লেখার জন্য 
মৌলবাদীদের বিরাগভাজন হন৷ ১৯৯৪ সালে মৌলবাদিদের রোষের মুখে তাঁকে বাংলাদেশ ছাড়তে হয়৷ এরপর দীর্ঘদিন তিনি সুইডেনে ছিলেন৷ ২০০৪ সাল থেকেই ভারতে স্থায়ী ভাবে থাকার জন্য তিনি ভিসার আবেদন করছেন৷ কিন্তু লেখিকার সেই ইচ্ছে পূরণ হয়নি৷ তিনি ভারত, আমেরিকা, ইংল্যান্ড বিভিন্ন্ দেশেই থাকছেন৷ বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন না৷ তাই তসলিমার ইচ্ছা, বাকি জীবনটা কলকাতায় থাকার৷  

হরিদ্বারের হোটেল থেকে গ্রেফতার বাংলার তিন যুবতী

উত্তরপ্রদেশঃ উত্তরপ্রদেশের হরিদ্বারের একটি হোটেল থেকে পশ্চিমবঙ্গের তিন যুবতীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দেহ ব্যবসা করতে তারা একটি হোটেলে উঠেছিল। দিল্লি থেকে হরিদ্বারে এসে মধুচক্রের ব্যবসা ফেঁদে বসেছিল একটি দল৷ এদের মধ্যে চারজন মহিলাসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷ চার যুবতীর মধ্যে একজন এই দলের প্রধানের প্রেমিকা ও ব্যবসার ভাগীদার৷ বাকী তিন যুবতী পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা বলে জানা গেছে৷ 
পুলিশ প্রেমীযুগলের বিরুদ্ধে দেহ ব্যবসার মামলা দায়ের করা হয়েছে ও বাকি তিন যুবতীকে নির্যাতিতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে৷ শনিবার এদের আদালতে পেশ করা হবে৷

শুক্রবার বিকালে পুলিশ খবর পায় ঋষণনাথ নগরের একটি হোটেলে চার যুবতী ও এক যুবক সকাল  চারটের সময় এসে উঠেছে এবং এদের হাবভাব বেশ সন্দেহজনক৷ এরপরেই থানার ইনচার্জ পিসি মঠপাল ও এসআই সন্দীপ দেবরানী হোটেলে এসে তাদের জিজ্ঞাসাব করলে সেক্স র‍্যাকেটের কথা প্রকাশ্যে আসে। পুলিশ সূত্রে খবর, নয়াদিল্লির রামদাস নগরের বাসিন্দা সুরেন্দ্র পাল ও দিল্লির চন্দনবিহারের সিমরন লিভ-ইন রিলেশনে থাকে৷ এরা দীর্ঘসময় ধরেই মধুচক্র চালাচ্ছে৷ যে তিন যুবতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে তারা পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা ও সম্পর্কে একে অপরের আপন বোন৷ এদের মধ্যে বড় বোন প্রায় এক বছর আগে দিল্লিতে কাজের সন্ধানে আসে৷ সেখানে এসে তার পরিচয় সুরেন্দ্র ও সিমরনের সঙ্গে তারা তাকে টাকার লোভ দেখিয়ে এই ব্যবসায় নিয়ে আসে৷ এরপর প্রায় আড়াই মাস আগে এরা ওই যুবতীর আরও দুই বোনকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে নিয়ে এসে এই ব্যবসায় সামিল করে৷
সুরেন্দ্র জানিয়েছে, সে দিল্লি থেকে হরিদ্বারে মধুচক্রের ব্যবসা করার জন্যই এসেছিল, কিন্তু তার আগেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে৷ অন্যদিকে, সিমরন জানিয়েছে, তার আসল নাম শিল্পী৷ সে পূর্ব বিবাহিত৷ কিন্তু বেশ কয়েকবছর আগেই সে তার স্বামীকে ছেড়ে চলে আসে৷ সে জানিয়েছে, অনেক ছোট বয়স  থেকেই মধুচক্রের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সে৷ সিমরন সুরেন্দ্রকে নিজের পার্টনার হিসেবে মনে করলেও সুরেন্দ্র তাকে নিজের স্ত্রী বলে মনে করে৷ অভিযুক্তদের কাছ থেকে গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে সেখানে একটি সাংবাদ মাধ্যমের প্রেস স্টিকার লাগানো রয়েছে৷ অভিযুক্ত জানিয়েছে সে কোনওদিনও কোন   সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত ছিল না৷ পুলিশ নজর থেকে বাঁচার জন্যই সে প্রেস স্টিকার গাড়িতে লাগিয়েছিল৷

ধংসস্তূপের নিচে তিন দিন পর জীবন্ত মা-শিশু উদ্ধার

কলকাতাঃ ধ্বংসস্তূপে নিচে চাপা পড়ে থাকার তিন দিন পর মা ও শিশুকে জীবন্ত উদ্ধার করা হল। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁরা শরীরে আঘাত পেলেও সুস্থ রয়েছেন। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, ধংসস্তূপের মধ্যে থেকে আসছিল কান্নার আওয়াজ। তাই শুনে ছুটে যান উদ্ধারকারী দলের কর্মীরা। গিয়ে দেখেন, মায়ের পাশে শুয়ে রয়েছে শিশু। একটুও সময় নষ্ট না করে শুরু হয় মাটি খোঁড়া। উদ্ধার হয় তিন মাসের শিশুপুত্র রুদ্র ও তার মা। শরীরে আঘাত লাগলেও আপাতত তারা দুজনেই সুস্থ্য। জানিয়েছেন চিকিত্‍সকরা। 
পুনের অ্যাম্বিগাঁওয়ের মালিন গ্রামে বুধবার সকাল থেকেই চলছিল প্রবল বৃষ্টি। সকাল আটটা নাগাদ গ্রাম লাগোয়া পাহাড়ে ধস নামে। নিমেষে  ধূলিসাত্‍ হয় গ্রামের বহু বাড়ি।  কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়েন শতাধিক মানুষ। উদ্ধারকাজে নামানো হয় ন্যাশনাল রেসপন্স ফোর্সকে ।   বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করাও সম্ভব হয়। যারমধ্যে অন্যতম, তিন মাসের শিশু পুত্র রুদ্র। ঘটনার সময় সে মায়ের পাশে ঘুমোচ্ছিল। ধ্বসে তলিয়ে যায় তাদের টিনের বাড়ি। বুধবার দিনভর কাটে মাটির নিচে...খাবার ও পানীয় জল ছাড়া। বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলের কাছেই উদ্ধারকাজ চলছিল। উদ্ধারকর্মীদের কানে আসে কান্না। কাছে গিয়ে দেখেন, মাটি তলায় চাপা পড়ে আছে একটি শিশু। উদ্ধারকাজ শুরু হতে দেখা যায় যে শুধু শিশু নয়।। আটকে রয়েছে তার মা-ও। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় উদ্ধার করা হয় মা ও শিশুকে। দুজনেই এখন হাসপাতালে ভর্তি। এখন সুস্থ্য।
এদিকে ভূমিধ্বসে মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। শুক্রবার রাত পর্যন্ত ধ্বংসস্তুপ থেকে আরও সাতাশটি দেহ উদ্ধার হয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল আটষট্টি। শতাধিক মানুষ এখনও চাপা পড়ে বলে আশঙ্কা উদ্ধারকারী দলের।

Friday, 1 August 2014

মুম্বইয়ে মডেল-ধর্ষণ মামলায় পুলিশের জেরার মুখে পুনম পান্ডে

কলকাতাঃ  মুম্বইয়ে মডেলকে ধর্ষণের মামলায় নয়া মোড়। এক্ষেত্রে ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) অফ পুলিশ সুনীল পারস্করের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই মামলায় এবার মডেল পুনম পান্ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চলেছে মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ।
জানা গিয়েছে, অভিযোগকারিণী মডেল পুলিশকে বলেছেন যে, পুনম পালাস্কর ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর পেশাগত প্রতিদ্বন্দ্বী। এই কারণেই পারস্কর তাঁকে নিগ্রহ করেছেন বলে অভিযোগকারিণী মডেলের দাবি। চলতি মাসের গোড়াতে ট্যুইটারেও তিনি একই দাবি করেছিলেন।পারস্করের সঙ্গে তাঁর কী ধরনের সম্পর্ক তা জানতেই পুলিশ পুনমকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে বলে জানা গিয়েছে।  পুলিস সূত্রের খবর, অভিযোগকারিণী ও পুনমের মধ্যে ট্যুইটারে কিছু বার্তা বিনিময় হয়েছিল। 
পারস্করের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নভি মুম্বইয়ে একটি অ্যাপার্টমেন্টে ওই মডেলকে ধর্ষণ করেছিলেন।যদিও পারস্কর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁর দাবির স্বপক্ষে তিনি খুব শীঘ্রই যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ পুলিশকে দেবেন বলেও জানিয়েছেন পারস্কর।
 পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের সময় পারস্কর অভিযোগকারিণীর সঙ্গে তাঁর পরিচয়ের কথা স্বীকার করে নিয়েছিলেন।

ছেলের রোগ সারাতে প্রতিবেশীর বাচ্চাকে বলি! ধৃত দম্পতি, ২ তান্ত্রিক

কলকাতাঃ কুসংস্কারের বলি হতে হল এক চার বছরের শিশু। অসুস্থ ছেলের রোগ নিরাময়ের জন্য তান্ত্রিকের নিদান মেনে প্রতিবেশীর শিশুসন্তানকে বলি দিল এক দম্পতি। ঘটনাটি ঘটেছে ছত্তিশগঢ়ের জঞ্জির-চম্পা জেলায়। ঘটনায় পুলিশ দুই তান্ত্রিক ও দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে।

গত ১১ জুলাই চাঙ্গোরি গ্রামে বাড়ির কাছেই খেলার সময় নিখোঁজ হয়ে যায় সুনীল কাশ্যপ নামের ওই শিশু। এরপর তার বাবা-মা আকালতাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। দুদিন পর ওই শিশুর পচে যাওয়া দেহ গ্রামের এক প্রান্তে পাওয়া যায়। জেলার পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা গেছে যে ওই শিশুর গলার নলি কেটে ফাঁস দিয়ে খুন করা হয়। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছাতারাম ও তার স্ত্রী রাজকুমারীকে আটক করা হয়। পুলিশের জেরায় ভেঙে পড়ে ওই দম্পতি সুনীলকে খুন করার কথা স্বীকার করে।

পুলিশকে ওই দম্পতি জানিয়েছে, তাদের ২২ বছরের ছেলে বেশ কয়েকমাস ধরেই ভুগছিল। তখন দুই ওঝা তাদের নরবলি দেওয়ার পরামর্শ দেয়। সেই পরামর্শ মেনে ১১ জুলাই সুনীলকে অপহরণ করে সেই রাতেই তারা নিজেদের বাড়িতে এনে তাকে খুন করে।পরে তার দেহ গ্রামের প্রান্তে ফেলে দিয়ে আসে।সুনীলকে হত্যার সময় ওই দুই তান্ত্রিকও হাজির ছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

Wednesday, 30 July 2014

৩০ জুলাই ছিল ‘বিশ্ব কুমির দিবস’ কুমিরের আতঙ্ক কাটাতে ঘটা করে দেবতাকে পুজ দিলেন গ্রামবাসী

সুন্দরবনঃ বুধবার ছিল আন্তর্জাতিক ‘কুমির দিবস’। কুমিরের আতঙ্ক কাটাতে এবং কুমিরের দেবতাকে তুষ্ট করতে সুন্দবনের নদী এলাকার কয়েকটি গ্রামে ঘটা করে কুমির পুজো করলেন। কোথাও মাটির তৈরি কুমিরের মূর্তি, কোথাও কুমির দেবতা কালু রায়, কোথাও কোথাও মন্দিরেও পুজো করা হয়েছে। ফলমূল ছাড়াও নদীর গুলে মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ির নৈবেদ্য সাজিয়ে পুজোর বন্দনা করা হয়েছে। এই দিনটিকে সুন্দরবনের কোথাও সরকারি ভাবে পালন করা হল না। বেসকারি ভাবেও কোনও এনজিও দিনটিকে স্মরন করেনি। অথচ সুন্দরবনের কুমির বাঁচানোর বিষয়ে বন দফতর এবং এনজিওরা  কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিচ্ছে। এই বিষয়ে সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি ফিল্ড ডিরেক্টর অর্ণব সেনগুপ্ত বলেন, ‘বাঘ একটি বড়ো বিষয় তাই তাকে নিয়ে বেশি মাতামাতি করা হয়। কিন্তু সেই তুলনায় কুমির নিয়ে কেউ এতো ভাবে না। তাই আমরাও এটি নিয়ে কিছুই করছি না।’
মাসখানেক আগে কুমিরমারি গ্রামের এক বধূ কবিতা মণ্ডলকে মিন ধরার সময় কুমিরে টেনে নিয়ে গিয়েছিল। সেই থেকে গ্রামবাসীরা আর নদীতে নামতে চাই ছিলেন না। এদিন কালু রায় নামে কুমিরের দেবতাকে পুজো দেওয়া হয়েছে। এখানকার পুরোহিত শঙ্কর ঘোষাল বলেন, ‘গ্রামবাসী ও মৎস্যজীবীরা নদীতে নামতে ভয় পাচ্ছিলেন। তাই আজ, কুমির দিবসে ভক্তিভরে পুজো দেওয়া হয়েছে। কয়েকজনের মানৎ ছিল। তাও এদিন চুকোনো হয়েছে।’ পাথরপ্রতিমা ব্লকেও এদিন পুজো হয়েছে। এখানে কুমিরের মূর্তিতে পুজো করা হয়েছে। বনশ্যামনগরের পুরোহিত কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এখানে কুমিরের খবই উৎপাত। গ্রামবাসীরা তো প্রাণ হাতে নিয়ে নদীতে যান। আমরা তো সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকি। এখানে অন্যান্য দেবদেবীর চেয়ে কুমিরের দেবতার পুজোর চল বেশি।’ প্রসঙ্গত, সুন্দরবনের ৫৪ টি দ্বীপে মানুষের বাস। এখানকার মানুষ অতীত থেকে আজও সরাসরি প্রক্ততিতির উপর নির্ভরশীল। যে এলাকায় যে প্রাণীর বেশী ভয়, সেই এলাকায় ওই প্রাণীকেই বেশ পুজো করে তাঁকে তুষ্ট করার চেষ্টা হয়। কুমির ছাড়াও, বাঘ, সাপের দেবতার আরাধনা করে থেকেন গ্রামের মানুষ। সরকারি হিসাবে জানান হয়েছে, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৭ জনকে কুমিরে টেনে নিয়ে গিয়েছে। তারমধ্যে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০১৩ সালে এই মৃত্যু ছিল ৮ জন। ২০১২ সালে ছিল ১৩ জন।    
সুন্দরবনের কুমিরমারি, সাতজেলিয়া, বাসন্তীর ঝড়খালি, হাড়ভাঙি, পাথরপ্রতিমার জি-প্লট, বনশ্যামনগর, ঘনশ্যাপুর, কে-প্লট এলাকার নদী গুলিতে কুমিরের খুবই উপদ্রব। নদী সংলগ্ন গরিব বাসিন্দারা নদীরে চিংড়ির মিন ধরতে নদীতে যান সেই সময় তাঁদের অনেকেই কুমিরে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান বলে তাঁদের দাবি। ইদানিং নদীতে সেই কুমিরের সংখ্যা অনেক গিয়েছে। ওই সংখ্যা আরও বাড়ানোর জন্য ১৯৭৬ সাল থেকে চেষ্টা চালাচ্ছে বন দফতর। এরজন্য পাথরপ্রতিমা ব্লকের ভগবৎপুরে একটি কুমির প্রকল্প চলছে। সেখানে কুমিরের প্রজনন ঘটিয়ে জন্ম দেওয়ানো এবং বড়ো করে নদীতে ছাড়াও হচ্ছে। সখ্যাও বাড়ছে দ্রুতহারে। তাদের পরিমাণ জানতে সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প এলাকার বেশ কিছু অংশে ২০১২ সালের ১৬-১৮ জানুয়ারি তিন দিন ধরে ৪,২৬৪ বর্গ কিমি বনাঞ্চলের মধ্যে ১,১৬৩.২০ বর্গকিমি জায়গায় সমীক্ষা চালিয়ে ২৪০ টি কুমিরের সন্ধান পেয়েছে। এর মধ্যে ৬৯ টি পূর্ণ বয়স্ক, ৬১ টি কিশোর এবং ১০ টি বাচ্চা। এছাড়াও আরও ১০০ টি কুমিরের খোঁজ মিলেছে যাদের বয়স নির্ধারণ করা যায়নি।     

Monday, 28 July 2014

সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বাড়িয়ে দেখাচ্ছে রাজ্য, খুশি নয় কেন্দ্র

 জয়দেব দাস, ক্যানিংঃ সুন্দরবনে ক’টি বাঘ রয়েছে এখনও ধোঁয়াসা রয়েই গিয়েছে। রাজ্যের বন কর্তারাও জোর দিয়ে বলতে পারছেন না বাঘের আসলে ক’টি বাঘ রয়েছে ? এতদিন পর্যন্ত রাজ্য সরকার বাঘের সংখ্যা বাড়িয়ে দেখাচ্ছিল। কেন্দ্রীয় সরকারকেও সেই হিসাব দিয়ে আসছিল। কিন্তু কেন্দ্র তা মানতে চায়নি। রাজ্যকে উপেক্ষা করে কেন্দ্র নিজের উদ্যোগে সরকারি এবং বেসরকারি দু’ভাবেই গণনার কাজ করাছে।  সম্প্রতি একটি বেসরকারি সংস্থা গণনা করে ৯০-১০০ টি বাঘ থাকার বিষয়ে ইঙ্গিত দেওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছে রাজ্যের বন কর্তারা। রীতিমতো বিপাকে পড়ে গিয়েছে তারা। এই তথ্য নিয়েও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে অনেকের মধ্যে। দ্বিমত দেখা দিয়েছে বন  আধিকারিকদের মধ্যেও। বাঘ বাঁচাতে কেন্দ্রীয় সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। বাঘের সংখ্যা বাড়া তো দূরের কথা, দিনের পর দিন তা কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রক এবং প্রধান মন্ত্রীর উদ্যোগে গঠিত টাস্কফোরস। সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের অধিকর্তা সৌমিত্র দাশগুপ্ত বলেন, ‘সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা একশোর বেশি রয়েছে। বাঘের প্রকৃত সংখ্যা জানার জন্য গণনার কাজ চলছে। শেষ হলে আসল তথ্য সামনে আসবে।’ বাঘের সংখ্যাটি আরও বাড়বে বলে তাঁর বিশ্বাস।   
২০০৪ সালের সর্বশেষ গণনা আনুসারে ১১০ টি দ্বীপে ২৭৪ টি বাঘের খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল। দশ বছরে ৮ টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। তার পরও সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছিল। সরকারি হিসাবে দেখানো হয়েছে, ৪ হাজার ২৬৪ বর্গ কিমি এলাকায় বাঘ রয়েছে। কিন্তু এই সংখ্যা মানতে চায়নি এনজিওরা। দেশ জুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠায় তথ্য প্রমান করাতে বন কর্তারা ২০০৬ সালের জানুয়ারি মাসের ৬ তারিখ থেকে তড়িঘড়ি পুনরায় গণনার কাজ শুরু করেছিল। এনজিও বা কেন্দ্রীয় সরকার যাতে সহজে প্রশ্ন তুলতে না পারে তাই একাধিক দফায় তা গণনা করা হচ্ছে। আজও তা শেষ হয়নি সেই কাজ। টানা আট বছর ধরে তো চলছে। ইতিমধ্যে চারজন আধিকারিক বদলি হয়ে গিয়েছে। গণনার কাজ শেষ হচ্ছে না।
রাজস্থানের সরিস্কার জঙ্গল থেকে বাঘ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার সারাদেশ তোলপাড় হয়ে ছিল। পরে প্রধান মন্ত্রী  মনমোহন সিংয়ের উদ্যোগে এবং তাঁর নেতৃত্বে বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ে একটি ‘টাস্কফোরস’ গঠন করা হয়েছে। পদাধিকার বলে প্রধান মন্ত্রী তার চেয়ারম্যান। তিনি নিজেই বিষয়টি দেখছেন। বিশেষ ভাবে নজর দেওয়া হয়েছে সুন্দরবনের বাঘের বিষয়ে। কিছুদিন চুপচাপ থাকার পর সুন্দরবনে বাঘের প্রকৃত সংখ্যা জানতে ২০১২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি লোকসভায় প্রশ্ন উঠেছিল। সুন্দরবনে বাঘেরা কেমন রয়েছে, তাদের হাল হকিকত জানতে টাস্কফোরসের পরামর্শে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ওই বছর ১৩ ডিসেম্বর সুন্দরবনে এসে ছিলেন। সরকারি লঞ্চ নিয়ে তাঁরা টানা তিন দিন ধরে গভীর বনের ধারে ধারে বাঘের ডেরায় ঘুরেও একটি বাঘেরও দেখা পাননি। হতাশ হয়ে  ভ্রূকুঁচকে চলে গিয়েছেন। পরে তাঁদের দেওয়া রিপোর্টেরভিত্তিতে ‘ওয়ার্ড ওয়াইল্ড ফান্ড ফর নেচার’(ডব্লু ডব্লু এফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং দেরাদুনে অবস্থিত দেশের সবচেয়ে বড়ো বাঘ গবেষণা কেন্দ্র ‘ইন্ডিয়ান  ইন্সটিটিউট অব ওয়াইল্ড লাইফ’(আই আই ডব্লু) আলাদা আলাদা ভাবে সমীক্ষা শুরু করেছে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে তারা বনের বিভিন্ন জায়গায় স্বয়ংক্রিয় ক্যামেয়া বসিয়ে বাঘের শরীরের বিভিন্ন অংশের ছবি তু্লে তাদের বয়স জানার চেষ্টা করছে। বাঘ কেন বারবার গ্রামে চলে আসে তা জানতে এবং গতিবিধি পরখ করতে গলায়  ‘রেডিওকলার’, কানে ‘ইয়ারট্যাগ’ বেঁধে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে তারা। তাদের খাদ্যশৃঙ্খল সম্পর্কেও ধারণা করার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে ডব্লু ডব্লু এফ একবছর ধরে গণনার পর প্রাথমিক ভাবে একটি  হিসাব কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে। সেই তথ্যেই ৯০-১০০ টি বাঘ থাকার বিষয়ে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ওই সংস্থার বাঘ বিশেষজ্ঞ  অনুরাগ দন্ড বলেন, ‘সুন্দরবনে আপাতত মোটামুটি শ’খানের বাঘ রয়েছে। আর দু-একটি কমবেশী হতে পারে।’  তবে ক্যামেরা বসিয়ে এখনও বাঘের ছবি তোলার কাজ চলছে।’ অন্য সংস্থাটি আই আই ডব্লুর’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশ করতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে।     

বাসন্তীর ঝড়খালিতে তৈরি হতে চলেছে ‘প্রকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়’

সুন্দরবনঃ সুন্দরবনের ঝড়খালিতে তৈরি হতে চলেছে ‘প্রকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়’। টেকনো ইণ্ডিয়া নামে একটি বেসরকারি সংস্থা এই বিশ্ববিদ্যালয়টি গড়বে। এবং সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগেই তা পরিচালিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়টির পাশে সংস্থাটি পাঁচতারা ও তিনতারা হোটেলও গড়বে। রাজ্য পর্যটন দফতর সরকারি ভাবে ৯৯ একর জমি ওই ব্যবসায়ী সংস্থাকে নিখরচায় তুলে দিয়েছে। সোমবার  বাসন্তীর ঝড়খালিতে একটি অনুষ্ঠানে পর্যটন মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সঙ্গে টেকনো ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান গৌতম রায়চৌধুরীর একটি মৌচুক্তি হয়েছে। এদিনই মন্ত্রী জমি হস্তান্তর করেছেন। পরে তিনি জানিয়েছেন, ‘ঝড়খালিতে ট্যুরিস্ট হাব তৈরির জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্যোগ নিয়ে ছিলেন। তা বাস্তবায়িত করতেই আমরা হেড়োভাঙা নদীর তীরে ৯৯  এওকর জমি টেকনো ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আগামি দু’বছরের মধ্যে কাজ শেষ করে ফেলতে বলা হয়েছে।’ সংস্থার কর্মকর্তারাও তাতে সমর্থন জানিয়েছেন।
ঝড়খালি চিড়িয়াখানা, বাঘের উদ্ধারাশ্রম এবং প্রজাপতি বাগানের পাশে ‘প্রকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়’ তৈরি হবে। সেখানে বন্যপ্রাণী, ম্যানগ্রোভ ও পরিবেশ বিষয়ে পড়ানো হবে। দেশ বিদেশের পড়ুয়ারা এখানে পড়াশোনা করতে পারবেন। আশ্চর্য চরিত্রের সুন্দরবনের বাঘ নিয়েও গবেষণা করতে পারবেন। সেখানে আন্তর্জাতিকমানের হোটেল ও প্রমোদভ্রমণের ব্যবস্থাও করবে ওই সংস্থাটি। প্রয়োজনে বিকিকিনির চলতে পারে বলেও ওই বেপ্সরকারি সংস্থা ইঙ্গিত দিয়েছে। টেকনো ইন্ডিয়ার চিফ অপারেটিভ অফিসার সুজয় বিশ্বাস এদিন ঝড়খালি জানিয়েছেন, গ্রামের পরিবেশের চরিত্র অপরিবর্তিত রেখে ট্যুরিস্ট হাব গড়ে তোলা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। যে জায়গায় ট্যুরিস্ট হাব গড়ার পরি কলণা হয়েছে সেখানে বিশাল এলাকা জুড়ে ম্যানগ্রোভ জঙ্গল ছিল। ছিল বিরল প্রজাতির ম্যানগ্রোভ গাছ। ওই বনটিকে ঘিরে রয়েছে সুন্দরবন উন্নয়ণ পর্ষদের ‘মৎস্য প্রকল্প’। পর্যটকরা সেখানে বেড়াতে আসতেন। পর্যটন দফতর সেই জঙ্গল ধংস করে জমি হাসিল করে টেকনো ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দিয়েছে। এই ভাবে বন কেটে ধংস করার বিষয়ে মন্ত্রী কোনও মন্তব্য করতে চাননি। বলেছেন, ‘ভালো কাজ করতে গেলে দু’একটি গাছ তো কাটা যেতেই পারে।’           
  

Saturday, 26 July 2014

অ্যাসিড ছুঁড়ে যুবতীকে খুনের চেষ্টা, ফাঁসির সাজা দিল ভারতের আদালত


মধ্যপ্রদেশঃ  অ্যাসিড ছুঁড়ে এক যুবতীকে খুনের চেষ্টার দোষে অভিযুক্ত এক যুবককে শাস্তি দিল আদালত। তাকে ফাঁসির সাজা দিয়েছে ভারতের একটি আদাওলত। সম্ভবত এই প্রথম অ্যাসিড হামলায় দোষী সাব্যস্ত কাউকে ফাঁসির সাজা দেওয়া হল দেশে। 
 শুক্রবার মধ্যপ্রদেশের মোরেনা জেলার একটি দায়রা আদালত এই সাজা ঘোষণা করেছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তির মান যোগেন্দ্র কুমার (২৮)।
পুলিশ জানিয়েছে, গত বছর মোরেনা জেলার পোরসা শহরে রুবি রাওয়াতের (২৪) ওপর অ্যাসিড হামলা চালিয়েছিল যোগেন্দ্র। ওই মহিলার মুখ-সহ শরীরে সিংহভাগই পুড়ে যায়। অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে কয়েকদিন পর তাঁর মৃত্যু হয়। শেষ পর্যন্ত এই মামলাতে দোষী সাব্যস্ত হল যোগেন্দ্র কুমার।
দোষী সাব্যস্ত লোকটি বিবাহিত। বাড়িতে স্ত্রী ও এক সন্তান রয়েছে। তবুও এলাকার অল্পবয়সী মেয়েদের সে উত্ত্যক্ত করত। রুবি রাওয়াত তার চোখে পড়ার পর সে পিছন পিছন ঘুরঘুর করা শুরু করে। একাধিকবার কুপ্রস্তাব দেয়। মেয়েটি রাজি না হওয়ায় রাস্তায় তার হাত ধরেও টানাটানি করেছিল। কিন্তু তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এমন হলে পুলিশকে জানাবেন। এর পরই তাকে শাসায় যোগেন্দ্র। গত বছর ২১ জুলাই বাড়ির ছাদে বাড়ির লোকজনের সঙ্গে ঘুমোচ্ছিলেন ওই তরুণী। রাতে গাছ বেয়ে চুপিচুপি ছাদে ওঠে যোগেন্দ্র। তার পর ঘুমন্ত রুবি কার্যত অ্যাসিডে স্নান করিয়ে দেয়! তরুণীর আর্ত চিৎকার শুনে লোকজন উঠে পড়লে সে পালিয়ে যায়। পরে তাঁর বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে যোগেন্দ্রকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
অতিরিক্ত দায়রা বিচারক রায় দেওয়ার সময় বলেন, এ ধরনের লোক সমাজকে কলুষিত করছে। চরম শাস্তি না দিলে নারী নির্যাতনকারীরা উৎসাহ পাবে। তাই সমাজকে বার্তা দিতে এমন ঘৃণ্য অপরাধী মৃত্যুদণ্ডই দেওয়া হল। নিহত তরুণীর বাবা বলেছেন, "এত দিনে আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে। যে ওকে অমানুষিক যন্ত্রণা দিয়ে মেরেছে, তার এটাই উচিত শাস্তি। আদালতকে ধন্যবাদ।"

৯০ কোটি টাকায় বিক্রি হচ্ছে রাজেশ খান্নার বাংলো


মুম্বইঃ ৯০ কোটি টাকায় বিক্রি হচ্ছে ভারতের সিনেমা জগতের সুপারস্টার রাজেশ খান্নার বাংলো। তিনি প্রয়াত হওয়ার পর বাড়িটি অযত্নে পড়েছিল। এ বার তা কিনে নিচ্ছেন ভারতেরই এক ব্যবসায়ী, শশীকিরণ শেট্টি।
এক সময়ের বলিউড কাঁপানো অভিনেতা রাজেশ খান্না ২০১২ সালের জুলাইয়ে মারা যান। তাঁর ইচ্ছে  ছিল, সমুদ্র সংলগ্ন কার্টার রোডের বাংলোটি ভবিষ্যতে মিউজিয়ামে পরিণত করতে। বেঁচে থাকতে তিনি বলতেন, "ভগবানের আশীর্বাদে আমার থাকা-খাওয়া নিয়ে চিন্তা নেই। দুই মেয়ে, টুইঙ্কল আর রিঙ্কে ভালো ঘরে বিয়ে করে সুখে আছে। ওদের আমার সম্পত্তি ছাড়াও চলবে। তাই আমার এই বাংলোকে আমি মিউজিয়াম করব, যাতে ভক্তরা এসে দেখতে পারে।"
প্রসঙ্গত, গত শতাব্দীর ছয়ের দশকে এই বাংলোটি আর এক বলিউড তারকা রাজেন্দ্র কুমারের কাছ থেকে কিনেছিলেন রাজেশ খান্না। আটের দশকে তিনি সেটি সংস্কার করেন। আয়কর না দেওয়ায় এক সময় সরকার বাংলোটি বাজেয়াপ্ত করেছিল। পরে আইনি লড়াই চালিয়ে রাজেশ খান্না তা উদ্ধার করেন। পরে এর নাম রাখা হয় 'বরদান আশীর্বাদ'।
ব্যবসায়ী শশীকিরণ শেট্টি সমুদ্রমুখী এই বাংলো কেনার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন। কয়েক দিন পরই তাঁকে তা হস্তান্তর করা হবে। রাজেশ খান্নার দুই মেয়ে টুইঙ্কল খান্না ও রিঙ্কে খান্না এই লেনদেনে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। কারণ বাংলো দুই বোনের নামে রয়েছে। রাজেশ খান্নার লিভ-ইন সঙ্গিনী অনিতা আদবানি প্রাথমিকভাবে এর দখলদারি চাইলে পরে তিনি পিছু হটেন।তার পরই টুইঙ্কল আর রিঙ্কে খান্না বাড়ি বিক্রির ব্যাপারে খোঁজখবর শুরু করেন।

দুর্ঘটনায় ‘মৃত’ ছেলে ঘরে ফেরায় হতবাক পরিবার

হায়দ্রাবাদঃ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল ছেলের। ছেলেকে মৃত বলে সনাক্ত করেছিলেন মা-বাবা। শোকের ছায়া নেমে এসেছিল পরিবারে। এমন অবস্থায় হঠাৎ মিরাক্যাল ঘটে গেল। চব্বিশ ঘন্টা পর সে বাড়িতে ফিরে এলো। বৃহস্পতিবার সকালে তেলেঙ্গানার মেঢক জেলায় ট্রেনের ধাক্কায় মৃত ১৪ স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যে ছিল স্বামী গৌড়ের ছ’বছরের ছেলে দর্শন গৌড় ওরফে ধানুষও। সেই ছেলেই অক্ষত অবস্থায় ফিরে এল ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে। 
অবাক হইয়েছেন স্বামী গৌড়। ঘটনা হল, বৃহস্পতিবার যখন তিনি হাসপাতালে নিজের ছেলেন নাম ধরে ডাকছিলেন, তখন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা দর্শনকে ‘দাত্তু’ শোনেন। ঘটনাচক্রে দর্শনের এক সহপাঠীর নাম দাত্তু। চিকিৎসকরা দাত্তুর নিথর দেহ এনে দেন দর্শনের বাবা গৌড়কে। দেহটি এতই বিকৃত হয়ে গিয়েছিল যে গৌড়বাবু চিনতেই পারেননি যে দেহটি দর্শনের নয়, দাত্তুর। তিনি ছেলের মৃতদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরেন। সমস্ত পারলৌকিক ক্রিয়াও সম্পন্ন করেন।
এদিকে শুক্রবার সকালে সেকেন্দ্রাবাদের যশোদা হাসপাতালে জ্ঞান ফেরে দর্শনের। বাবার নাম ধরে ডেকে ওঠে ছোট্ট দর্শন। তখনই চিকিৎসকরা গৌড়বাবুকে খবর দেন। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসেন তিনি। ‘মৃত’ ছেলেকে বেঁচে থাকতে দেখে চোখের জল বাঁধ মানেনি। পুনর্জন্ম বললে কী খুব বাড়িয়ে বলা হবে?
কিন্তু এক বাবা যখন ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে উদ্বেল, তখন অন্যদিকে, শোকে ডুবে দাত্তুর বাবা। দাত্তুর দিদি ওই দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছে। বাবা আশা করেছিলেন, ছোট ছেলের চিকিৎসা চলছে, নিশ্চয় সুস্থ হয়ে ফিরবে। কিন্তু শুক্রবার স্পষ্ট হয়ে যায়, দাত্তু নয়, চিকিৎসা চলছে দর্শনের। দাত্তুকে বৃহস্পতিবারই মৃত বলে ঘোষণা করে হয়েছে।

শিশুকন্যার শিরশ্ছেদ করে পোড়ান হল দেহ

রাজস্থানঃ এক শিশুকন্যাকে নৃশংস খুন করে তার মাথা কেটে দেহ আগুনে পুড়িয়ে ফেলল এক যুবক৷ দেখতে পেয়ে গ্রামবাসীরা তাকে তাড়া করা ধরে ফেলে বেধড়ক মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। 
শুক্রবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানের নাগাউড় জেলার পিহওয়া গ্রামে।  
বছর দেড়েকের ওই শিশুকন্যার শিরশ্ছেদ করে পুড়িয়ে দেওয়া হল৷ এদিন সকালে ঠাকুমার সঙ্গে খেলা করার সময় দেড় বছরের শিশুটিকে বাড়ি থেকে বার করে নিয়ে যায় বছর ২৫-এর এক যুবক দ্বারকা৷ ওই যুবক তাদের পরিচিত হওয়ায় বাধা দেননি  শিশুটির ঠাকুমা৷তবে কী উদ্দেশ্যে দ্বারকা তাঁদের বাড়িতে এসেছিল তা বুঝতে পারেননি তিনি৷ কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই হতচকিত হয়ে যান তিনি৷চোখের সামনে ওই শিশুটির শিরশ্ছেদ করে দেহ নিয়ে পালায় দ্বারকা৷খানিক দূরে শিশুটির দেহ একটি লাঠির সঙ্গে বেধে আগুন ধরিয়ে দেয় সে৷ এর পর পালাতে গেলে তাকে ধরে ফেলে গ্রামবাসীরা৷বেধরক মারধর করা হয় তাকে৷ওই শিশুটিকে যৌন নিগ্রহ করা হয়েছিল কিনা তা খতিয়ে দেখতে মেডিকেল পরীক্ষা করা হচ্ছে৷কেনই বা শিশুটিকে খুন করা হল,তা জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত৷

Thursday, 24 July 2014

মহানায়ক পুরস্কারে ভূষিত দেব, মহানায়িকার সম্মান মুনমুন সেনকে

 কলকাতাঃ নানা অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে মহানায়ক উত্তমকুমারের মৃত্যুদিনে তাঁকে সম্মান জানাল রাজ্যবাসী৷ তাঁর প্রয়াণ দিবসেই তাঁর নামাঙ্কিত সম্মান আজ, বৃহস্পতিবার কৃতীদের হাতে তুলে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এবছর ‘মহানায়ক উত্তমকুমার' সম্মান পেয়েছেন সাংসদ  তারকা দেব ও প্রবীণ অভিনেত্রী মৌসুমি চট্টোপাধ্যায়৷ মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের সম্মানে এবার থেকে শুরু হল ‘মহানায়িকা সম্মান'৷ পেয়েছেন সুচিত্রা তনয়া
মুনমুন সেন৷ মুখ্যমন্ত্রী পুরস্কার প্রাপকদের  অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, "২০১২ সাল থেকেই বাংলা চলচিচত্র জগতের দিকপালদের সম্মানিত করছি আমরা৷ এবারও সেই ঐতিহ্য মেনেই খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছে৷"  
এদিন ‘স্পেশাল ফিল্ম' পুরস্কার পেয়েছেন (পুরুষ বিভাগে) হিরণ চট্টোপাধ্যায়, আবির চট্টোপাধ্যায়, ইন্দ্রনীল  সেনগুপ্ত, অঙ্কুশ হাজরা, ঋত্বিক চক্রবর্তী, খরাজ মুখোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ৷ মহিলা বিভাগে এই পুরস্কার পেয়েছেন মিমি চক্রবর্তী, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, পাওলি দাম, নুসরত জাহান, পায়েল সরকার, শ্রীলা মজুমদার,  অনুরাধা রায়৷ লাইফ টাইম অ্যাচিভমেণ্ট পুরস্কার পেয়েছেন চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী, সব্যসাচী চক্রবর্তী, মমতাশঙ্কর ও দেবশ্রী রায়৷ সংগীত জগতে বিশেষ কৃতিত্বের জন্য লাইফ টাইম অ্যাচিভমেণ্ট পুরস্কার পেয়েছেন কুমার শানু৷ সংগীত পরিচালক হিসাবে স্পেশাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে শিবাজী চট্টোপাধ্যায়,  অরুন্ধতী হোমচৌধুরি ও অধীর চট্টোপাধ্যায়কে৷ এছাড়াও স্পেশাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড নিয়েছেন  ক্যামেরায় শীর্ষা রায় ও সৌমিক হালদার৷ এডিটিংয়ে বোধাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় ও দেবকান্ত চক্রবর্তী৷ প্রযোজনায় সুরিন্দর ফিল্মসের নিসপাল রানে, শব্দগ্রহণে দীপঙ্কর চাকি ও গৌতম নাগ৷ রূপসজ্জায় আজাদ আহমেদ, পরিচালনায় স্বপন সাহা, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় ও প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য৷ শিল্প নির্দেশনায় পরষ্কৃত হয়েছেন তন্ময় চক্রবর্তী ও গৌতম বোস৷ কস্টিউমে সাবর্ণী দাস পুরষ্কৃত হবেন৷ অভিনয়ে বিশেষ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড পাবেন অরিন্দম শীল৷ মহানায়কের ৩৫ তম প্রয়াণ দিবসে টালিগঞ্জে তাঁর মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রী জানান  রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস-সহ বিশিষ্টজনেরা৷  
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর চালু করেন উত্তমকুমারের নামে ওই পুরস্কার। সুচিত্রা সেন তা না পেলেও তাঁকে বঙ্গবিভূষণ পুরস্কার দেওয়া হয়। তাঁর তরফে পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন মুনমুন সেন। তখন অবশ্য তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেননি তিনি। পুরস্কার নিলেও তার অর্থ পুরোটাই মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা করা হয়।

স্কুলবাসকে ট্রেনের ধাক্কা, তেলেঙ্গানায় মৃত ২৬ জনের মধ্যে ২৫ পড়ুয়া

হায়দ্রাবাদঃ স্কুলে যাওয়ার পথেই ঘটে গেল এক ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা| দুরন্ত গতিতে ছুটে আসা নানদেড়-হায়দরাবাদ প্যাসেঞ্জার ট্রেন দুমড়ে-মুচড়ে দিল রেলের একটি লেভেল ক্রসিং-এ দাঁড়ানো কাকতিয়া স্কুলের বাসকে| ছিন্ন-ভিন্ন করে দিল ২৫ জন খুদে পড়ুয়াকে| জখম হয়েছে বাকি ১৫ জন পড়ুয়া। 
আজ, বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতেই এমন একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে হায়দরাবাদ থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে মাসাইপেত গ্রামের কাছে রক্ষীবিহীন লেভেল ক্রসিংয়ে| প্রাণ হারায় ২৫ জন পড়ুয়া৷ মারা যান গাড়ির চালকও| গুরুতর জখম আরও ২০ ছাত্রছাত্রী৷ মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ টুপারনের কাকতিয়া স্কুলের ৪০ জন ছাত্রছাত্রীকে ছিল ওই বাসে৷ এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, ওই লাইন দিয়ে ট্রেন যাওয়ার ঘোষণা শুনেও বাসচালক লাইনে বাস তুলে দেন৷ চোখের সামনে বাসটিকে ধাক্কা মারে ট্রেনটি৷ ট্রেনের ধাক্কায় বেশ কিছুটা দূরে ছিটকে পড়ে যায় বাসটি৷ রক্তাক্ত ছাত্রদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ 
ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে রয়েছে স্কুল ব্যাগ, বই-খাতা, জলের বোতল৷ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাও৷ দুর্ঘটনার পরেই স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন৷ দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রহরীবিহীন লেভেল ক্রসিংয়ে গেট বসানোর দাবি করা হলেও রেল কর্তৃপক্ষ কোনও কথা শোনেনি বলে তাঁদের অভিযোগ৷ এর আগেও বহুবার দুর্ঘটনা ঘটেছে৷
আহতদের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে। এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও। এই ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে মেদাক পৌছেছেন ক্যাবিনেট মন্ত্রী টি হরিশ রাও। জি জগদিশ্বর রেড্ডি এবং পদ্মা রাও।

গাছের ডালে ঝুলন্ত শিশু কন্যার মৃতদেহ, গণধর্ষণ অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে খুন

কলকাতাঃ এবার পশ্চমবঙ্গেও পড়েছে উত্তর প্রদেশের বদায়ুঁনের ছায়া ? আজ, বৃহস্পতিবার সকালে গাছের ডাল থেকে উদ্ধার হল প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীর ঝুলন্ত মৃতদেহ। ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে এই অভিযোগে প্রতিবেশি এক যুবককে পিটিয়ে খুন করল উত্তেজজিত গ্রামবাসী।  ওই ঘটনায় অভিযুক্তকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে চিকিতসাধীন রয়ছে তারা। এদিকে উম্মত জনাতার আক্রোশে অভিযুক্তদের বাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাসখানেক আগে উত্তরপ্রদেশের বদায়ুঁন গ্রামে দুই নাবালিকা বোনকে গণধর্ষণ করে খুন করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আম গাছে ঝুলিয়ে দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। সেই ঘটনার সঙ্গে এদিনের ঘটনাত বেশ মিল রয়েছে বলে পুলিশ এবং স্থানীয় মানুষ মনে করছে।      
ঘটনাটি পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের  নন্দকুমার থানার রাজনগর গ্রামের। 
এদিন সকালে গাছের ডালে ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল সন্ধে থেকেই খোঁজ মিলছিল না বছর সাতেকের ওই শিশুটির। শিশুটিকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ জানিয়েছে শিশুর পরিবার। ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে রতন শর্মা নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাঙচুর চালায় ক্ষুব্ধ জনতা। এরপর রতন ও তার দুই সঙ্গীর ওপর শুরু হয় মারধর। গণপিটুনিতে এক জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

পাকিস্তানের 'পূত্রবধু' সানিয়া মির্জাকে তেলেঙ্গানার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার করা হল, বিরোধিতায় বিজেপি

হায়দ্রাবাদঃ  পাকিস্তানের 'পূত্রবধূ' টেনিস তারকা সানিয়া মির্জাকে ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার করা হয়েছে। এই ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করলেন তেলেঙ্গানার বিজেপি নেতা কে লক্ষ্মণ। বিজেপি নেতার বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে দেশ জুড়ে সমালোচনার ঢেউ উঠেছে। এই ঘটনার জেরে ব্যাকফুটে বিজেপি।
ভারতের নবতম রাজ্যের সরকার সানিয়া মির্জাকে গত মঙ্গলবারই তেলেঙ্গানার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার নিযুক্ত করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও সানিয়াকে হায়দরাবাদের কন্যা বলেও বর্ণনা করেছেন।
আর এতেই চটেছে তেলেঙ্গানা বিজেপি। কে লক্ষ্মণ সাফ জানিয়েছেন সানিয়া জন্মে ছিলেন মহারাষ্ট্রে, পরে তিনি পরিবারের সঙ্গে হায়দরাবাদে এসে থাকতে শুরু করেন। তাই এই বিজেপি নেতার মতে সানিয়া আসলে 'বহিরাগত'।
সানিয়া পাকিস্তানের ক্রিকেটার শোহেব মালিককে বিয়ে করেছেন। সেই ঘটনার দিকেই আঙুল তুলে তেলেঙ্গানার বিধানসভার সদস্য লক্ষ্মণ তাঁকে পাকিস্তানের 'পূত্রবধু' আখ্যা দিয়েছেন।
লক্ষ্মণের অভিযোগ গ্রেটার হায়দরাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন ভোটে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক জোরদার করতেই সানিয়াকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার করেছে চন্দ্রশেখর রাও সরকার। এদিকে ভারতে এই ভাবে সমালোচনাকে কটাক্ষ করেছেন সানিয়া। ট্যুইটরে সানিয়ে জানিয়েছেন, ‘আমি পাকিস্তানের বধূ হলেও আমি মনেপ্রাণে ভারতীয়। এখনও ভারতের হয়ে খেলি। আজীবনই আমি ভারতীয়ই থাকবো।’

২১ দিন আশৌচ পালনের পর হাতির পারলৌকিক ক্রিয়া পশ্চমবঙ্গে

কলকাতাঃ বন্যপ্রাণকে ভালবেসে অপঘাতে দুই হাতির মৃত্যুর জন্য একুশ দিন অশৌচ পালন করে পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পন্ন্ করল দুই গ্রামবাসী৷ পুরুলিয়ার ঝালদা বনাঞ্চলের সুবর্ণরেখা নদীর তীরে ত্রিবেণী ঘাটে বুধবার মাথা মুন্ডন করে বজ্রপাতে মৃত মা শাবক হাতির জন্য পিণ্ড দানও করেন তাঁরা৷ নতুন ধুতি গায়ে দিয়ে জঙ্গলে থাকা হাতিদের কল্যাণে স্হানীয় মন্দিরে পুজো দেন৷ ওই কাজ শেষে হিন্দু রীতি মেনে লুচি, বোঁদে, মিষ্টি খান৷ ঝালদার হেঁসলা গ্রামের ওই দুই বাসিন্দা পঞ্চানন কুইরি, নরেশ প্রামাণিকের এই কাজে শামিল হয়েছিলেন এই বিস্তীর্ণ বন সুরক্ষা কমিটির সদস্যরা-সহ এলাকায় হাতি তাড়াতে থাকা হুলা পার্টিও৷ বন্যপ্রাণকে ভালবাসার এমন কাজের নমুনা দেখে হতবাক হয়ে গিয়েছেন বনকর্তারা৷ এমনকী দফতরের মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মনও৷ তাঁর কথায়, "রক্তের সম্পর্ক থেকে মনুষ্য জাতি মৃত্যুর পর প্রথা মেনে পারলৌকিক ক্রিয়া করেন৷ কিন্ত্ত বন্যপ্রাণের জন্য এভাবে অশৌচ পালন করে এমন কাজ আমি আগে শুনিনি৷ এই ঘটনা জঙ্গলে থাকা বন্যপ্রাণকে আরও সুরক্ষিত ও সমৃরি বার্তাই দেয়৷ এই গ্রামবাসীদের আমিও সম্মান জানাই৷" 
গত চ জুলাই অযোধ্যা পাহাড়ে প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে ঝালদা বনাঞ্চলের হাতিদের ডেরা হেঁসলা পাহাড়ের জঙ্গলে বাজ পড়ে দু'টি হাতির মৃত্যু হয়৷ পরের দিন মৃতদেহ উারের পর তাদের ময়নাতদন্তের কাজে এই দুই গ্রামবাসী কুঠার দিয়ে হাতিদের দেহ কাটেন৷ সেই মানসিক যন্ত্রণা ও হাতির প্রতি ভালবাসার টান থেকেই এই অশৌচ পালন তাঁদের৷ 
অযোধ্যা পাহাড় রেঞ্জের ঝালদা বনাঞ্চলের অধিবাসীদের হাতিদের সঙ্গেই ঘর-সংসার৷ এলাকায় ছেলে-মেয়েদের শৈশব থেকেই হাতি তাড়ানোর কাজ শেখান বাবা-মা'রা৷ কারণ ঝাড়খণ্ড থেকে আসা হাজারিবাগের বুনো হাতির দল একরের পর একর জমির ফসল মাড়িয়ে, মানুষ শূন্যে তুলে আছাড় মারে৷ ফলে হাতি-মানুষ সঙঘাত এই বনাঞ্চলে নিত্যদিনের ঘটনা৷ কিন্ত্ত প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে হেঁসলা পাহাড়ে দুই হাতির মর্মান্তিক মৃত্যু নাড়িয়ে দেয় এই এলাকার বাসিন্দাদের৷ এদিন দুপুরে হেঁসলা গ্রাম থেকে দশ কিমি দূরে নদীর তীরে হাতির পারলৌকিক ক্রিয়া শেষে প্রৌঢ় পঞ্চানন কুইরি, নরেশ প্রামাণিকরা বলেন, "ওই জঙ্গলে হাতি আর মানুষ সমার্থক৷ ঝাড়খণ্ড থেকে আসা হাতিরা এই পাহাড়ে স্হায়ীভাবে থাকে বলেই ঝালদার বনাঞ্চল সমৃ৷ জঙ্গলে কাজ করতে গিয়ে সারাদিন হাতির মুখোমুখি হতে হয়৷ তাই এই বন্যপ্রাণগুলোর জন্য একটা টান জন্মে গিয়েছে৷ সেই অনুভূতি থেকেই এই কাজ করলাম৷" তাই অশৌচ পর্বে সে-নিরামিষ খেয়ে এদিন ওই দুই বন্যপ্রাণের আত্মার শান্তি কামনায় কলা, আপেল, নাসপাতি, সিন্নি্ দিয়ে পিণ্ড দেন৷ পুরুলিয়া বিভাগের বনাধিকারিক ওমপ্রকাশ বলেন, "এই কাজ করে ওই দুই গ্রামবাসী বন্যপ্রাণকেই সম্মান জানিয়েছেন৷ আমি অভিভূত, গর্বিতও৷" 

শাসনের নামে লাথি, ঘুষি, মাটিতে ফেলে শিশুকে আছড়ে পেটালো গৃহশিক্ষিকা

কলকাতাঃ শাসনের নামে সাড়ে তিন বছরের শিশুকে মাটিতে ফেলে লাথি মারলেন গৃহ শিক্ষিকা৷ এলোপাথারি চড়-চাপ্পড় তো আছেই৷ এই ঘটনা সিসিটিভি ফুটেজে দেখে হতবাক হয়ে গিয়েছে শিশুটির পরিবার৷
ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের লেকটাউনের দক্ষিণ দাঁড়ির বীণা আবাসনে৷ পূজা সিং নামে ওই গৃহ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন শিশুটির বাবা সঞ্জয় আগরওয়াল৷ তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে,  ওই গৃহ শিক্ষিকা বাগুইআটির বিদ্যাসাগর পল্লিতে বাড়ির যে ঠিকানা জানিয়েছিলেন, তা ও ভুয়া৷ পূজা সিং-এর খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ৷ নির্মম অত্যাচারে অসুস্থ হয়ে পড়েছে তিন বছরের বংশ৷ তাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য আরজিকর মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে৷ হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন মিলেছে৷
ঠিক কি হয়েছিল ছোট্ট বংশের সঙ্গে? সিসিটিভি ফুটেজে যা ধরা পড়েছে তা দেখলে আঁতকে উঠতে হয়৷ ঘরে লাগানো গোপন ক্যামেরায় বন্দি ছবিতে দেখা গিয়েছে, পড়াশোনায় অমনোযোগী হওয়ায় ছোট্ট ছেলেটিকে মাটিতে আচড়ে ফেলছেন গৃহশিক্ষিকা৷ তারপর নির্মম পেটানি৷ কেঁদে ককিয়ে উঠলেও, রাগ কমছে না শিক্ষিকার৷ উলটে প্রবল আক্রোশ এলোপাথারি ঘুষি চালাচেছন তিনি শিশুটির মুখে, মাথায়৷
আগরওয়াস পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন ধরে বংশ মা-বাবাকে বলছিল, ম্যাম তাকে মারে৷ বিষয়টিতে তেমন গুরুত্ব দেননি আগরওয়াল দম্পতি৷ ভেবেছিলেন, দুষ্টু ছেলেকে শাসন করতে শিক্ষিকা  হয়তো জোরে বকেছেন৷ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দরজা বন্ধ করে বংশকে পড়াচিছলেন পূজা৷ সেই সময় ছেলের কান্ন্া শুনে দরজা ধাক্কা দেন মা শালিনী৷ কিন্ত্ত দরজা না খোলায় তিনি সিসিটিভিটি চালান৷ বাইরে কমপিউটার সি্নে সেখানেই দেখতে পান কীভাবে অত্যাচার চলছে তাঁর সন্তানের উপর৷ এরপর ক্রমাগত দরজা ধাক্কা দেওয়ায় দরজাটি খোলেন পূজা৷ সেই মুহূর্তে ছেলেকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন মা শালিনী৷ রক্ত বেরোচিছল শরীর দিয়ে৷ ছেলের ফার্স্ট এড-এর ব্যবস্হা করতে তিনি যখন ব্যস্ত হয়ে পড়েন সেই সময় পালিয়ে যান ওই শিক্ষিকা৷
আর দেরি না করে থানায় যান আগরওয়াল পরিবার৷ জানা গিয়েছে, এই ঘটনার পর শিক্ষিকার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন বংশের মা৷ কিন্ত্ত ফোনে তাঁকে পাওয়া যায় না৷ এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বেপাত্তা পূজা সিং৷ তাকে গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়েছে পুলিশ৷
এদিকে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে৷ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন সমাজবিদ, মনোবিদ ও শিক্ষাবিদরা৷

Wednesday, 23 July 2014

মুমুর্ষু রোগীকে রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচালেন ডাক্তার

কলকাতাঃ হাসপাতালে ভর্তি এক মুমূর্ষু মহিলা রোগীকে নিজের শরীরের রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচালেই এক সকারি চিকিৎসক। মৃত্যুমুখি ওই রোগীনিকে বাঁচাতে পাশাদারি কথা ভুলে গিয়ে বিরল গ্রুপের রপক্ত দিয়েছেন ওই ডাক্তার।
ঘটনাটি কলকাতার দক্ষিণ ২৪ পরগনাস্র জেলা হাসপাতাল এম আর বাঙুর হাসপাতালের।
মাত্রাতিরিক্ত রক্তস্রাবের ফলে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন জোকার বনগ্রামের বাসিন্দা বছর কুড়ির সাবেরা খাতুন৷ চোখমুখ ফুলে গিয়েছিল৷ সমস্যা আরও বাড়িয়েছিল শ্বাসকষ্ট৷ গতমাসের ১৩ তারিখ সঙ্কটজনক অবস্থায় সাবেরাকে এমআর বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে যায় তাঁর পরিবার৷ অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক দেখে, সাবেরাকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি করে নেওয়া হয়৷ পরীক্ষার পর দেখা যায়, ওই যুবতীর হিমোগ্লোবিন ২ দশমিক ১৷ যা স্বাভাবিকের তুলনায় মাত্রাতিরিক্ত কম৷ রক্তের বন্দোবস্ত করতে বলা হয় পরিবারকে৷ কিন্তু সাবেরার বি-পজিটিভ গ্রুপের রক্ত পাওয়া যায়নি বাঙুর হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে৷ মানিকতলা সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাঙ্কে রেফার করা হয়৷ কিন্তু রাস্তাঘাটের যা অবস্থা, তাতে কতক্ষণে মানিকতলা থেকে রক্ত নিয়ে আসবে সাবেরার পরিবার? ততক্ষণ মেয়েটা বাঁচবে তো? পেশাদারি মানসিকতা ভুলে তখন এই কথাই ভাবছিলেন বাঙুরের চিকিৎসক অশোককুমার সামন্ত৷ শেষমেষ নিজের বি পজিটিভ রক্ত সাবেরাকে দেন চিকিত্সক৷ প্রাণে বাঁচেন বছর কুড়ির কিশোরী৷ শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে মাঝেমধ্যেই চিকিত্সকদের গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে৷ কিন্তু তার মধ্যে যে ব্যতিক্রমও আছে, তা প্রমাণ করে দিলেন অশোককুমার সামন্ত৷ এমআর বাঙুর হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বক্তব্য, দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন অশোককুমার সামন্ত৷ তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে৷

সিকিমে ধস, আটকে বহু পর্যটক

সিকিমঃ ভারতের সিকিম রাজ্যের বেড়াতে এসে মাঝপথেই আটকে পড়েছেন বহু পর্যটক। তাঁরা ধসের কবলে পএছেন। মঙ্গলবার রাজ্যের বিখ্যাত পর্যটকস্থল ছাঙ্গুরে বিশাল জাউগা জুড়ে ধস নামায় রাস্তা আটকে গিয়েছে। যার জেরে অন্য অংশের থেকে সড়কপথে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়ে গোটা এই অঞ্চল। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে অন্তত ১১৯ জন পর্যটক আটকে পড়েছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। এঁদের মধ্যে রাশিয়া, আমারিকা, নেদারল্যান্ড, ইউতক্রেন-সহ বেশ কয়েকটি দেশের পর্যটকরাও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে এরমধ্যে কোনও বাঙালি পর্যটক আছেন কি না, সে সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। ধস সরিয়ে ওই পথে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে তৎপর হয়েছে রাজ্য প্রশাসন। সেইসঙ্গে আটকে পড়া যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপরেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। খুব তাড়াতাড়ি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

Tuesday, 22 July 2014

'শুদ্ধি'করতে মাথা মোড়াচ্ছেন সলমন ?

জয়দেব দাস, কলকাতাঃ সলমান খান এবার মাথা মোড়াচ্ছেন। সখ করে নয়, নতুন ছবি করার তাগিদে তাঁকে মাথা মোড়াতে হিচ্ছে। এবং সলমান খান তাতে রাগি হয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ভাল ছবি করতে হলে এটা তো করতেই হবে। এর আগে বৃন্দাবনের বৃদ্ধাদের নিয়ে তৈ হচ্ছিল ‘ফায়ার’। তাতে সাবানা আজমিকে মাথা মোড়াতে হয়েছিল। এবার করণ
জোহরের ছবি 'শুদ্ধি'- করার জন্য সলামানকে ন্যাড়া হতে হচ্ছে। এই ছিবেতে কে অভনয় করবেন সে নিয়ে ইতিমধ্যেই বেশ জলঘোলা হয়ে গিয়েছে। শেষ নামটি অবশ্য এসেছে সুপারস্টার সলমন খানেরই। সলমন নিজেও স্বীকার করে নিয়েছেন যে তিনিই করণের 'শুদ্ধি'-তে অভিনয় করছেন। সলমন এই ছবির জন্য মাথা ন্যাড়া করে সেই খবরের সত্যতা প্রমাণ করতে পারেন বলে সূত্রের খবর।
সলমনের মাথার ঘন কালো চুলের স্পাইকি এবার হয়তো কিছু দিনের জন্য অদৃশ্য হতে চলেছে। চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে মাথা ন্যাড়া করাতে পারেন সলমন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, যদি সলমন ন্যাড়া না হন তাহলে ছবিতে তাঁর চরিত্রের প্রয়োজনে প্রস্থেটিক মাস্কের ব্যবহার করা হতে পারে সলমনের উপর, যাতে সলমনকে ন্যাড়া মনে হয়।
নিজের লুক নিয়ে হামেশাই পরীক্ষা নিরিক্ষা করতে ভালবাসেন সলমন। 'তেরে নাম' হোক বা 'বীর', কিংবা ধরুন 'মুঝসে শাদি করোগি'। বারে বারে নিজের চুলের ধরণ বদলে নিজের সখ পুরোপুরি বদলে   ফেলেছিলেন সলমন। আগামী ছবি 'কিক'- এও ফ্রেঞ্চকাট দাঁড়িতে স্মার্ট লুক এনেছেন সলমন।
আপাতত সলমনের হাতে যে ছবিগুলি রয়েছে তার মধ্যে ৩ টি ছবিতে একেবারে বিপরীতধর্মী ৩ অবতারে দেখা যাবে সলমনকে। 'শুদ্ধি' ছাড়াও 'প্রেম রতম ধন পায়ো' ছবিতে একেবারে শুদ্ধ ভারতীয় অবতারে এবং বনি কাপুরের 'নো এন্ট্রি মে এন্ট্রি' ছবিতে দশাসয়ী চেহারায় দেখা যাবে সলমনকে।
কিন্তু যদি সলমন মাথা মুড়িয়েও ফেলেন তাহলে তাঁর ভক্তদের সংখ্যা বাড়বে বই কমবে না। যদিও মাথা ন্যাড়া করা নিয়ে এখনই নিজে কিছু জানাননি সলমন। আগামী ২৫ জুলাই মুক্তি পাচ্ছে সলমনের নতুন ছবি কিক। এই ছবিতে সলমনের সঙ্গে অভিনয় করেছেন জ্যাকলিন, নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকি এবং রণদীপ হুডা।