Monday, 4 August 2014

৯মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা, বন্যা বিধ্বস্ত গ্রামে ৬০০ মিটার সাঁতরে গেলেন ডাক্তারি সাহায্য নিতে


কলকাতাঃ একজন মা তাঁর নিজের সন্তানকে বাঁচাতে যেকোনও রকমের বিপদেই চোখ বুজে ঝাঁপাতে পারেন। আবারও তার প্রমাণ পাওয়া গেল। নীলকণ্ঠরায়ানাগাড্ডি গ্রামের এক কুড়ি বছর বয়সি অন্তঃস্বত্ত্বা তাঁর পেটের সন্তানকে বাঁচাতে, গ্রামের বন্যা পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করে ৬০০ মিটার সাঁতরে গেলেন স্থানীয় চিকিত্সা কেন্দ্রে।
 বন্যা বিধ্বস্ত ওই গ্রামে মেশিন বোট পৌঁছতেই পারেনি। গ্রামের পরিস্থিতি অনেকটা একটা দ্বীপের মতো দেখে, কুড়ি বছরের অন্তঃস্বত্ত্বা ইয়ালামা বালাপ্পা গাড্ডি নিজেই সিদ্ধান্ত নেন, তাঁর সন্তানকে বাঁচাতে তাঁকে ঝাঁপ দিতে হবে জলে। শেষ পর্যন্ত মূল গ্রামে পৌঁছে সেই মহিলাকে প্রাথমিক চিকিত্সা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁকে পরীক্ষা করে দেখেন গ্রামের ডাক্তাররা। আপাতত বাচ্চা ও মায়ের দুজনের শারীরিক অবস্থাই ভাল আছে।
এই ঘটনার পর নীলকণ্ঠরায়ানাগাড্ডি গ্রামের বাসিন্দাদের আশা প্রশাসনের তাঁদের দুর্দশার দিকে চোখ পড়বে। কারণ গত ৪০ বছর ধরে প্রতিবারই বর্ষার সময় ওই গ্রাম এভাবেই ভেসে যায়। তখন সাধারণ একটা দেশলাই বাক্স কিনতেও গ্রামের বাসিন্দাদের ৬০০ মিটার সাঁতরে সদরে যেতে হয়।
এই ঘটনার কথা যখন জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়, তখন জেলা কর্তৃপক্ষের তরফে বলা হয়, ইয়ালামা বা তাঁর পরিবারের কেউ তাঁদের তরুণী শারীরিক পরিস্থিতির কথা জানায়নি। জানলে নিশ্চয়ই তাঁরা যথাযথ ব্যবস্থা নিতেন। তাঁদের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত একটি এনজিওর কর্মচারীকে ইয়ালামার বাবার বাড়িতে সর্বক্ষণ রাখা হয়েছে, তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে।

No comments:

Post a Comment