ঝাড়খন্ডঃ অপমানের প্রতিশোধ নিয়ে এক স্থানীয় এক পঞ্চায়েত প্রধানের নির্দেশে এক নাবাকিকে ধর্ষণ করা হল। সোমবার ধটনাটি ঘটেছে ভারতের ঝাড়খন্ডের বোকারো জেলার সোয়াঙ্গো গুল গুলিয়া গ্রামে।
প্রতিবেশী ওই যুবককে অপমান করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে ছিলেন এক প্রতিবেশী। তারই বদলা নিতে ওই পড়শীর ১০ বছরের মেয়েকে ধর্ষণের নিদান দিল পঞ্চায়েত প্রধান। মোড়লের নির্দেশে ১০ বছরের এক নাবালিকার উপর পাশবিক অত্যাচার চালাল অপমানিত ওই যুবক।
সোমবার রাতে প্রতিবেশী ওই ১০ বছরের মেয়েটির বাড়িতে মদ্যপ অবস্থায় জোর করে ঢোকে অভিযুক্ত যুবক। বাড়িতে ঢুকে মেয়েটির মায়ের শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। কিন্তু বাড়িতে সেই সময় মেয়েটির বাবা তথা ওই মহিলার স্বামী উপস্থিত ছিলেন। যুবকের এই ব্যবহারে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই পরিবারের গৃহকর্তা যুবককে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
পরের দিন সকালে গাঁয়ের মোড়ল ভোপাল পাসির কাছে এই ঘটনার নালিশ ঠোকে ওই যুবক। যুবক অভিযোগ করে ওই পরিবারের গৃহকর্তা তাকে হেনস্থা করেছে, মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। ওই যুবকের অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সালিশি সভা ডাকা হয়।
অভিযুক্ত পঞ্চায়েত প্রধান ভোপাল পাসি ও যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ
সালিশি সভায় ২ পরিবারকেই ডাকা হয়। সেখানেই পঞ্চায়েত প্রধান ভোপাল পাশা ওই যুবককে নিজের অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ওই ব্যক্তির ১০ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করার হুকুম দেন। হুকুম তামিলও হয়। ২৫ বছরের ওই যুবক ১০ বছরের মেয়েটিকে সবার চোখের সামনে দিয়ে টানতে টানতে সামনের একটি ঝোপের আড়ালে নিয়ে যায়। সেখানেই তার ধর্ষণ করে। মেয়েটি যন্ত্রণায় ছটফট করলেও কেউ তার সাহায্যে এগিয়ে যায়নি।
ধর্ষিতার বালিকার মায়ের কান্নাও কারও কানে যায়ানি। তাঁর মাকে হাত ধরে আটকে রাখা হয় যাতে তিনি ওই যুবকের কাজে বাধা দিতে না পারেন। প্রায় ১ ঘন্টা পর ওই ঝোপ থেকে রক্তাক্ত মেয়েকে উদ্ধার করে আনেন তার মা-বাবা।
পরে ওই মেয়েটির অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রামের মোড়ল ভোপাল পাসি ও অভিষুক্ত ধর্ষককে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই সময়ে অভিযুক্ত যুবকের দাদার বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রী মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের করেন। সেই মামলায় অভিযুক্তর দাদাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment