মুম্বইঃ মুম্বইয়ে প্রবাসী বাঙালি পল্লবী পুরকায়স্থ হত্যা মামলায় মূল অভিযুক্ত সাজ্জাদ আহমেদকে যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা শোনাল মুম্বই দায়রা আদালত৷ সোমবার মুম্বই দায়রা আদালতের বিচারক বৈশালী যোশী সাজ্জাদ আহমেদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেন৷

প্রবাসী বাঙালি পল্লবী পুরকায়স্থকে হত্যার ঘটনায় ৩০ জুন সাজ্জাদ আহমেদকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত৷ হত্যা, যৌন হেনস্থা ও অনধিকার প্রবেশ, তিন ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয় সাজ্জাদকে৷সাজ্জাদের ফাঁসির দাবি করা হলেও, সাজ্জাদের বয়স কম হওয়ায় ও অপরাধের পুরনো রেকর্ড না থাকায়, তাকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়ে যাবজ্জীবনের সাজা ঘোষণা করেন বিচারক৷
এদিন সাজ্জাদের যাবজ্জীবনে খুশি নন পল্লবীর পরিজনরা৷ সাজা ঘোষণার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সাজ্জাদের ফাঁসির সাজা দাবি করেছিলেন পল্লবীর বাবা অতনু পুরকায়স্থ ও মা সুনীতা পুরকায়স্থ৷ কিন্তু যাবজ্জীবন সাজায় তাঁদের মেয়ে সুবিচার পেল না বলে দাবি করেছেন৷ ১৭ জুন এই হাইপ্রোফাইল মামলার শুনানি শেষ করেছিল মুম্বইয়ের বিশেষ আদালত৷
২০১২ সালের ৯ অগস্ট নিজের অ্যাপার্টমেন্টে খুন হন আইনজীবী পল্লবী পুরকায়স্থ৷ এরপরই মুম্বইয়ের হিমালয়ান হাইটস বহুতলের নিরাপত্তারক্ষী সাজ্জাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন ইচ্ছা করে পল্লবীর ফ্ল্যাটের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল সে৷ এরপর এক ইলেকট্রিক মিস্ত্রিকে নিয়ে পল্লবীর ফ্ল্যাটে হাজির হয়ে চাবি হাতিয়ে নেয় সাজ্জাদ৷ মাঝ রাতে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে আবার পল্লবীর ফ্ল্যাটে হানা দেয় সাজ্জাদ৷ এরপরই পল্লবী বাধা দেওয়ায় তাঁকে হত্যা করে সে৷ যদিও প্রথম থেকেই তার বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ খারিজ করেছে জম্মু-কাশ্মীরের ওই বাসিন্দা৷ পল্লবীর হত্যাকারী হিসেবে তাঁর প্রেমিক প্রয়াত অভিক সেনগুপ্তের নামও জড়ানোর চেষ্টা হয়৷ কিন্তু অভিকের বিরুদ্ধে ঘটনায় জড়িত থাকার কোনও প্রমাণই মেলেনি৷ উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন অসুস্থ থাকার পর ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে মৃত্যু হয় অভিক সেনগুপ্তর৷
No comments:
Post a Comment