Wednesday, 2 July 2014

মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে নয়াদিল্লির সমন


দিল্লিঃ বিজেপি দলের ও দলের কার্যকলাপের ওপর আমেরিকার ন্যাশনাল   সিকিউরিটি এজেন্সি (এনএসএ)-র নজরদারির খবরে ক্ষুব্ধ ভারতের কেন্দ্র সরকার। এই গোপন নজরদারী-কাণ্ডে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বুধবার সমন পাঠালো কেন্দ্রীয় সরকার। অবিলম্বে তাঁকে নয়াদিল্লির বিদেশমন্ত্রকের দফতরে হাজির হতে বলা হয়েছে। সরকারের তরফে গোটা বিষয়টি হালকা ভাবে দেখা হচ্ছে না বলেও কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কোনও ভারতীয় সংগঠন বা ব্যক্তির ওপর এ ধরনের নজরদারি একেবারেই বরদাস্ত করা যায় না বলে সরকারের অভিমত। এধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার আশ্বাস মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে সরকার চেয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কোন মার্কিন কূটনীতিককে বিদেশমন্ত্রক তলব করেছে তা জানা যায়নি। উল্লেখ্য, ভারতে আমেরিকার অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন ক্যাথলিন স্টিফেন। ন্যান্সি পাওয়েলের ইস্তফার পর তাঁকে এই দায়িত্ব দিয়েছে আমেরিকা সরকার।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে বিশেষ আদালতের অনুমতি নিয়ে মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা এনআইএ বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশের একাধিক প্রতিষ্ঠানের উপরে নজরদারী চালিয়েছে বলে অভিযোগ। এরমধ্যে ভারতের বর্তমান শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি আছে। এনএসএ-র প্রাক্তন কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেন একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের কাছে এই তথ্য ফাঁস করে দিয়েছেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নয়াদিল্লির এই পদক্ষেপ।
কয়েকজন ব্যক্তি ও সংগঠনের ওপর এনএসএ-র নজরদারির খবর প্রকাশিত হওয়ার পর ভারত গত বছরের নভেম্বরেই ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রশাসনের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেছিল জানিয়ে সরকার বলেছে, এ বিষয়ে আমেরিকার জবাব এখনও পাওয়া যায়নি। এনএসএ-র প্রাক্তন কন্ট্রাকটর এডওয়ার্ড স্নোডেনের গোপন নথি ফাঁস হওয়ার পর কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল ভারত।
একটি গোপন মার্কিন নথি ফাঁস হওয়ার জেরে শোরগোলের সূত্রপাত হয়।‘দি ওয়াশিংটন পোস্ট’-এ প্রকাশিত ওই নথি থেকে জানা গিয়েছে, ২০১০ সালে একটি মার্কিন আদালত বিশ্বজুড়ে পাঁচটি রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি বিজেপির ওপর নজরদারি চালানোর অনুমতি দিয়েছিল এনএসএ-কে।লেবাননের আমল, ভেনেজুয়েলার দি বলিভারিয়ান কন্টিনেন্টাল কোঅর্ডিনেটর, মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুড ও ন্যাশনাল স্যালভেশন ফ্রন্ট, পাকিস্তান পিপলস পার্টি সহ যে দলগুলির ওপর নজরদারি চালাতে এনএসএ আদালতের অনুমতি চেয়েছিল, সেই তালিকায় বিজেপিও ছিল নথিতে ১৯৩টি বিদেশি সরকার ও গোষ্ঠী, সংস্থার নাম রয়েছে যাদের ওপর নজরদারি চালানোয় সবুজ সংকেত দিয়েছিল বিদেশি গুপ্তচর নজরদারি আদালত।তালিকায় রয়েছে ভারতও।


No comments:

Post a Comment