কলকাতাঃ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ নিঃসন্দেহে রাজ্য সরকারের কাছে বড় ধাক্কা। নারদার স্টিং ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পরে রাজ্যই জানিয়েছিল, ফুটেজ নিয়ে তদন্ত করা হবে।
নারদা মামলায় ফের কলকাতা হাইকোর্টের প্রশ্নের মুখে রাজ্য সরকার। মামলার শুনানি চলাকালীন আগেই হাইকোর্ট জানিয়েছিল, নারদা কাণ্ডে আদালতের হাতে যে প্রমাণ রয়েছে তার তদন্ত হওয়া উচিত। এবং রাজ্য পুলিশ দিয়ে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হবে না বলেই শুনানি চলাকালীন মন্তব্য করেছিলেন অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিশীথা মাত্রে। এ দিনও মামলার শুনানি চলাকালীন কলকাতা হাইকোর্টের অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিশীথা মাত্রে মন্তব্য করেন, 'রাজ্য নিজেই বলেছে নারদা মামলার তদন্ত করতে চায়।
যদি বলি, কোনও স্বাধীন সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করাতে হবে?' এখানেই শেষ নয়। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ আরও মন্তব্য করে, 'ম্যাথু স্যামুয়েল নয়, স্টিং ফুটেজ নিয়ে আদালত বেশি চিন্তিত। হতে পারে স্যামুয়েল খারাপ লোক। কিন্তু তাই বলে এইভাবে ঘুষ নেওয়াকে সমর্থন করা যায় না।'
আদালতের এই পর্যবেক্ষণ নিঃসন্দেহে রাজ্য সরকারের কাছে বড় ধাক্কা। নারদার স্টিং ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পরে রাজ্যই জানিয়েছিল, ফুটেজ নিয়ে তদন্ত করা হবে। সেই মতো তদন্তও শুরু করেছিল কলকাতা পুলিশ। পরে সেই তদন্তের উপরে স্থগিতাদেশ জারি করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্য যে নারদ কাণ্ডের তদন্ত চেয়েছিল, সেই বিষয়টিকেই এ দিন তুলে ধরেন প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। কিন্তু রাজ্য বা কলকাতা পুলিশ নয়, তাঁরা যে নিরপেক্ষ তদন্ত চান, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন বিচারপতিরা। মামলা চলাকালীন রাজ্যের তরফে বার বারই নারদের স্টিং অপারেশনের ফুটেজের গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কিন্তু প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ এ দিনও স্পষ্ট করে দিল, ভিডিও ফুটেজকে বিচারপতি যথেষ্টই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ মোটেই হাল্কাভাবে দেখছেন না বিচারপতিরা। চিট ফান্ড নিয়ে অস্বস্তির মধ্যেই আদালতের এই পর্যবেক্ষণ শাসক দলের কাছেও অস্বস্তির।
No comments:
Post a Comment