দেশে হিন্দু-মুসলমান এক আইন চালু করা সঙ্ঘ পরিবারের দীর্ঘদিনের দাবি। নিজেদের সরকার তথা প্রধানমন্ত্রীর আসনে নরেন্দ্র মোদী বসার পরে সেই দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
তিন তালাক প্রথা বন্ধের দাবিতে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছে মুসলিম মহিলাদের একটি সংগঠন। এর পরে সুপ্রিম কোর্ট ইসলাম ধর্মের 'তিন তালাক' প্রথার বিরোধিতা করেছে। আদালত বলেছে, এই প্রথা কোনও ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পেয়েই ভারতের ধর্ম-মত নির্বিশেষ নাগরিকদের জন্য এক ও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (uniform civil code) চালু করতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য জানার পরে, এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী ডি ভি সদানন্দ গৌড়াকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী 'ইউনিফর্ম সিভিল কোড'-এর বিষয়ে কেন্দ্রীয় আইন কমিশনকে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছেন। এর পরে কেন্দ্রীয় আইন কমিশন একটি প্রশ্নপত্র তৈরি করে জনগণের মতামত চেয়েছে। কেন্দ্র এই উদ্যোগ নিলেও তাতে তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না। আইনমন্ত্রী আগেই বলেছেন, দেশের সমস্ত ল' বোর্ডগুলির সঙ্গেই কথা বলা হবে।
কিন্তু এই নীতি মানতে নারাজ মুসলিম ল' বোর্ড। তিন তালাকের বিধান উচ্ছেদের বিষয়ে জনগণের মতামত নিতে আইন কমিশন যে প্রশ্নমালা প্রকাশ করেছে, তা বয়কট করা হবে বলে জানান মুসলিম ল' বোর্ডের হজরত মাওলানা ওয়ালি রহমান। তিনি বলেন, ইউনিফর্ম সিভিল কোড এই দেশের জন্য ভাল হবে না। এই দেশে অনেক সংস্কৃতির মানুষ রয়েছেন। তাঁদের অবশ্যই সম্মান দেখাতে হবে। জনগণের উপরে দেশ কোনও একটি মতাদর্শ চাপিয়ে দিতে পারে না।
এ বার কেন্দ্রের সেই পদক্ষেপকে সমর্থন জানালেন বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। রাজস্থানের জয়পুরে লিটেরারি
তালাক প্রথা মুসলমি মহিলাদের স্বার্থবিরোধী ব্যাখ্যা দিতে ৫৫ বছরের তসলিমা আরও বলেন, যদি হিন্দুদের জন্য আলাদা আইন থাকে, যদি হিন্দু মেয়েরা তাঁদের স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ করতে পারেন এবং সম্পত্তির অধিকার পেতে পারেন তাহলে মৌলবাদীরা কেন অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিরোধিতা করছেন? তার প্রশ্ন, একই দেশে থেকে মুসলমান নারীরা কেন সমান আইনি সুযোগ পাবেন না?
স্বাধীনতার আগে থেকেই দেশে এই বিতর্ক চলে আসছে। স্বাধীনতার পরে কোনও সরকারই আর এই ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়নি। এই প্রথম দেশের কোনও সরকার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছে। কিন্তু শুরুতেই যা আভাস, তাতে দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড় বইবে। ইতিমধ্যেই নিজেদের বিরোধিতার কথা জানিয়ে দিয়েছে মুসলমি পার্সোনাল ল' বোর্ড। ইসলামি আইন অনুযায়ী, স্ত্রীকে তিনবারে তিন তালাক দিয়ে বিবাহ বিচ্ছেদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে স্বামীকে। মুসলিম পার্সোনাল ল' বোর্ডের দাবি, তিন তালাকের বিষয়টি একটি ব্যক্তিগত আইন। সুতরাং তা কেন্দ্র সংশোধন করতে পারে না। এই দাবিকে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে একমাত্র রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থন জানিয়েছে।

No comments:
Post a Comment