Monday, 23 January 2017

কুমারী মেয়েদের বিক্রি করা হয় এই মেলায়, দেড় শতকের বেশি সময় ধরে চলছে এই প্রথা

বাবা-মা দাঁড়িয়ে থেকে মেলায় মেয়ের জন্য দর হাঁকেনবিবাহযোগ্য পাত্র বা তাঁর পরিবার পাত্রীর জন্য দর হাঁকেনসওদা মঞ্জুর হলে মধুরেণ সমপায়েত্‍



এ এক অদ্ভুত মেলাসদ্য যৌবনপ্রাপ্ত মেয়ে থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মহিলারা এই মেলায় অংশ নেন স্রেফ জীবনসঙ্গীকে খুঁজে বের করতেতবে শর্ত একটাই, বিবাহেচ্ছু মহিলাদের কুমারী হওয়াটা বাধ্যতামূলক
আসলে বুলগেরিয়ার স্তারা জাগোরা নামে এই অঞ্চলের রোমা জনগোষ্ঠীর মহিলারা এভাবেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হনরোমা জনজাতি মূলত তামার বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করে থাকেএটাই এদের রুজি-রুটিবুলগেরিয়াতে এদেরকে অনেকে কালাইদঝি বলেও ডাকে

দারিদ্র্য আর অনটন এদের নিত্যসঙ্গী
ফলে, বিবাহের মতো ব্যয়বহুল আনুষ্ঠানের আড়ম্বর এদের পক্ষে সম্ভব হয় নাতাই, এই মেলাই রোমা জনজাতির কাছে জীবনসঙ্গিনী খুঁজে পাওয়ার একমাত্র জায়গাপাত্রীর সাজে মেলায় আসা মহিলাদের শুধু পছন্দ করলেই হবে না, পুরুষদের এর জন্য খসাতে হয় ট্যাঁকের কড়িওকারণ, যে পুরুষের যে মহিলাকে জীবনসঙ্গিনী হিসাবে পছন্দ হবে, তার জন্য তাকে যথার্থ দাম দিতে হয়কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত দর ওঠে মেলায় পাত্রী হিসাবে যোগ দেওয়া মহিলাদের কোন পাত্রী কেমন দর পাবেন, তা নির্ভর করে তাঁর সৌন্দর্য থেকে শুরু করে সাজপোশাক, আচার ব্যবহারের উপরেমেলার নিয়ম অনুসারে, মেয়েরা যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন অথবা মেলার জন্য প্রস্তুত মঞ্চেও নিজেদের পাত্রী হিসাবে তুলে ধরতে পারেনমঞ্চে ওঠা মেয়েদের জন্য নিলামের মতো দরও হাঁকাহাঁকি হয়আবার পুরুষরা মঞ্চে থাকা মহিলাদের সঙ্গে সেখানে নাচা-গানাতেও অংশ নিতে পারেনএরপরই পছন্দের মহিলার জন্য দর হাঁকতে পারেন তিনি

এই মেলায় অংশ নিতে মেয়েদের সাজপোশাকও হতে হয় চটকদারএখানে নাবালক দম্পতি দণ্ডণীয় অপরাধ হিসাবে গণ্য হয় নাফলে, ১৩ বছরের মেয়ের সমবয়সি পুরুষসঙ্গী এখানে একেবারেই বিরল নয়এমনও দেখা গিয়েছে, বাবা-মায়েরা ছেলে-মেয়েকে অল্প বয়সেই এই মেলার অংশগ্রহণের জন্য নিয়ে এসেছেকারণ, বাবা-মায়েদের ধারণা, বেশি দেরি করলে হয়তো ছেলে-মেয়েকে সারা জীবন চিরকুমার বা চিরকুমারী হয়েই কাটাতে হবেবছরে চার বার এই মেলা বসেসবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় বসন্তের মেলা


No comments:

Post a Comment