'বউয়ের কথায় ওঠে-বসে...'- এমন একটা প্রাচীন প্রবাদই রয়েছে। বলিউডের কিছু তারকার বোধহয় সেই প্রবাদ বেশ পছন্দ! স্ত্রীয়ের কথায় ওঠা-বসা করেন কি না, জানা না গেলেও তাঁরা যে স্ত্রীকে একটু বেশিই ভালবাসেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
সেফ আলি খান
করিনা কপূর খান
করিনা কপূর খান
রয়্যাল লাভ স্টোরি বলে কথা! বেগমকে এক মুহূর্তও চোখের আড়াল করতে নারাজ সেফ। স্ত্রীয়ের প্রতি সব রকমের দায়িত্ব অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে পছন্দ করেন। তাঁর মতো ভাল স্বামী হয় না বলেই মনে করেন করিনা। সম্প্রতি 'কফি উইথ কর্ণ'এ এসেও সেই কথাই আওড়েছেন বেগমজান। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেও করিনা কাজের ব্যাপারে বেশ অ্যাক্টিভ ছিলেন।
সেফ সবসময়ই তাঁকে সাহস জুগিয়ে গিয়েছেন। আবার করিনার ঠিকঠাক বিশ্রাম নেওয়া হচ্ছে কি না, সে ব্যাপারেও খেয়াল রেখেছিলেন স্বয়ং সেফই। বিভিন্ন ফোটোশ্যুট থেকে শুরু করে ইন্ডাস্ট্রির পার্টি- সবেতেই সেফের সঙ্গী হন করিনা। এ ব্যাপারে অন্য কোনও নায়িকার দিকে ফিরেও তাকান না সেফ।
কর্ণ সিংহ গ্রোভার
বিপাশা বসু
বিপাশা বসু
আগের স্ত্রীয়ের সঙ্গে মনের মিল হচ্ছিল না। তাই মন দিয়ে ফেলেছিলেন বিপাশাকে। ব্যস! তারপর থেকে আর স্ত্রীকে এক মুহূর্তের জন্যও কাছছাড়া করেন না কর্ণ। ভালবেসে বিপাশাকে 'মাঙ্কি' বলে ডাকেন তিনি। বিপাশার সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্টগুলো এই 'মাঙ্কি প্রেমে' ভরপুর। বিপস্কে বিয়েটাও করেছিলেন বেশ ধুমধাম করে। বিবাহ-পর্বেই বিপাশার প্রতি কর্ণের ভালবাসা দেখার মতো ছিল। তারপর থেকে প্রায়ই বিভিন্ন দেশে একান্তে সময় কাটাচ্ছেন এই যুগল। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার আপডেট দিতেও ভোলেন না কর্ণ। সেই দৌলতেই কর্ণের স্ত্রীয়ের প্রতি এই ভালবাসা সকলের নজর কাড়ে। কিছুদিন আগে কর্ণের বন্ধুরা দাবি করেছিলেন, কর্ণ নাকি স্ত্রীকে ছাড়া কোথাও যেতে চান না! এমনকী, বন্ধুদের পার্টিতেও হাজির হয়ে যান বিপাশা। রেগে গিয়েছিলেন কর্ণের বন্ধুরা। কিন্তু কর্ণের থোড়াই কেয়ার!
অভিষেক বচ্চন
ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন
ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন
শোনা যায়, অমিতাভ বচ্চনের কথা মেনেই ঐশ্বর্যাকে বিয়ে করেছিলেন অভিষেক। তবে বিয়ের পর থেকেই ঐশ্বর্যাকে চোখে হারান তিনি! হাতে খুব একটা কাজ না থাকায় বেশিরভাগ সময়টা পরিবারের সঙ্গেই কাটান অভিষেক। বিশেষ করে স্ত্রীয়ের সঙ্গে। তাঁদের ভালবাসার মুহূর্তের অনেক ছবিই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে থাকে। কিছুদিন আগে অবশ্য অভিষেক-ঐশ্বর্যার মধ্যে মন কষাকষির খবরও শোনা গিয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে অভিষেক বলেছিলেন, ''কোনও তৃতীয় ব্যক্তির কথায় কান না দেওয়াই ভাল। আমরা দুজনেই জানি, একে অপরকে কতটা ভালবাসি।'' সে এমনই ভালবাসা, যে নিউ ইয়ার আউটিংটাও পুরো পরিবারের সঙ্গে করতে চাননি অভিষেক। শুধু ঐশ্বর্যার সঙ্গে একান্তে বর্ষবরণ সারতেই চলে গিয়েছিলেন দুবাইয়ে।
অক্ষয় কুমার
টুইঙ্কল খন্না
টুইঙ্কল খন্না
স্ত্রীকে একটু বেশিই ভালবাসেন অক্ষয়। শুধু তাই নয়, টুইঙ্কলকে রীতিমতো মান্যও করে চলেন নায়ক। কাজ নিয়ে সারা বছরই ব্যস্ত থাকেন অক্ষয়। কিন্তু তার ফাঁকেই টুইঙ্কলের জন্য সময় বার করতে ভোলেন না তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের সময় যাপনের ছবি দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যায় অক্ষয়ের স্ত্রী-প্রীতি। শোনা যায়, যে কোনও ছবির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্ত্রীয়ের সঙ্গে একপ্রস্থ আলোচনা সেরে নেন নায়ক। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়েই স্ত্রীয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে ওঠেন অক্ষয়। কিছুদিন আগেই টুইঙ্কলের জন্মদিন পালন করার জন্য কেপ টাউন পৌঁছে গিয়েছিলেন অক্ষয়। বোঝাই যাচ্ছে, স্ত্রীয়ের প্রতি যত্ন এবং ভালবাসায় কোনও খামতি রাখতে রাজি নন অক্ষয়।
শাহিদ কপূর
মীরা রাজপুত
মীরা রাজপুত
বিয়ে হওয়ার পর থেকে আর কোনও অনুষ্ঠানেই শাহিদকে একা দেখা যায় না। ছবির প্রিমিয়ার হোক কিংবা তারকাদের কোনও পার্টি, সব জায়গাতেই শাহিদের সঙ্গে হাজির থাকেন তাঁর স্ত্রী মীরা। প্রায়ই স্ত্রীয়ের সঙ্গে সেল্ফি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন শাহিদ। তাতেই বোঝা যায়, তাঁদের প্রেমের গদগদ ভাব। একবার মীরার স্নান করার মুহূর্তের একটা ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল নায়ককে। তাতে অবশ্য দমে যাননি নায়ক। মীরার প্রতি ভালবাসার কথা জানিয়ে যোগ্য জবাব দিয়েছিলেন। মেয়ে মিশা জন্মানোর আগে স্ত্রীয়ের প্রতি শাহিদের যত্ন আলাদা করে সকলের নজর কেড়েছিল। এমনকী, 'কফি উইথ কর্ণ'এ শাহিদ-মীরার প্রেমের খুনসুটিও ছিল চোখে পড়ার মতো। কাজের সঙ্গে স্ত্রীকেও যে সমান প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন, সেটাই বোধহয় বোঝাতে চান শাহিদ।




No comments:
Post a Comment