দলের দুই সাংসদকে গ্রেফতারের পিছনে নরেন্দ্র মোদীর রাজনীতির যে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস, তার বাধা হয়ে দাঁড়াল এক চিঠি। তৃণমূল বলছে, নোট বাতিলের বিরোধিতা করাতেই সিবিআই-এর এই পদক্ষেপ। কিন্তু ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রধানমন্ত্রীর দফতরের একটি চিঠি বলছে, অনেক আগেই সিবিআইকে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে চিটফান্ড যোগ নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
রোজভ্যালি কাণ্ডে দুই তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ তাপস পাল ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এরই মধ্যে নতুন তথ্য তৃণমূল কংগ্রেসের উপরে চাপ বাড়াল। দলের দুই সাংসদকে গ্রেফতারের পিছনে নরেন্দ্র মোদীর রাজনীতির যে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস, তার বাধা হয়ে দাঁড়াল এক চিঠি।
তৃণমূল বলছে, নোট বাতিলের বিরোধিতা করাতেই সিবিআই-এর এই পদক্ষেপ। কিন্তু ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রধানমন্ত্রীর দফতরের একটি চিঠি বলছে অনেক আগেই সিবিআইকে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে চিটফান্ড যোগ নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
১৬ মাস আগেই চিটফান্ড-কাণ্ডে রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেসের কোন কোন নেতা-মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রয়োজন, তা নিয়ে সিবিআই-কে চিঠি দিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর দফতর। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সেই চিঠির নম্বর- পিএমও/পিএমপি/১৫/০০০৪৫৭৪৯। ওই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দফতর তদন্তে কী কী বিষয় রাখতে হবে, তাও ঠিক করে দেয়। সিবিআই ডিরেক্টর অনিল সিংহকে ওই চিঠি পাঠানো হয় ২০১৫ সালের ২১ অগস্ট।
ওই চিঠি অনুসারে যে তালিকা সিবিআইকে পাঠায় সিবিআই, তাতে অবশ্য তৃণমূলের গ্রেফতার হওয়া দুই সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাপস পালের নাম ছিল না। সেই তালিকায় রয়েছে, রাজ্যের বর্তমান পরিবহণমন্ত্রী তথা তত্কালীন সাংসদ শুভেন্দু অধিকারী, দলের যুবনেতা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক এবং কৃষিমন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু ও তখন জেলে থাকা রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী মদন মিত্রের নাম। ওই চিঠিতে তৃণমূলের এই পাঁচ নেতার নাম থাকলেও, বিশেষ করে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল শুভেন্দু অধিকারী সম্পর্কে তদন্ত চালাতে।
এই চিঠি পাঠানোর এক বছরের বেশি সময় পরে নোট বাতিলের ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার পরে মমতার প্রতিবাদ ও তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সাংসদ গ্রেফতার। এর পরেই শুরু হয় রাজনীতি। তৃণমূলের পক্ষে দাবি করা হয়, নোট বাতিলের বিরোধিতা করাতেই সিবিআইয়ের এই পদক্ষেপ। যদিও প্রধানমন্ত্রীর দফতরের পাঠানো এই চিঠি ফাঁস হওয়ার পরে এটা স্পষ্ট যে এক বছর আগেই চিটফান্ড কাণ্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ নিয়ে তদন্ত চায় কেন্দ্র।
No comments:
Post a Comment