এবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবমাননা মৌখিক নয়। রীতিমতো জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে রবীন্দ্রনাথের বলে চালানো হয়েছে রাজ্য সরকার পরিচালিত সাহিত্য উত্সবে। ১৯৪১ সালে প্রয়াত হন রবীন্দ্রনাথ। এর সাত বছর পরে ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয় জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ- 'সাতটি তারার তিমির।' সেই বইয়ের 'সুরঞ্জনা' নামে একটি কবিতা বাংলা সাহিত্যের অহঙ্কার হিসেবে বিবেচিত হয় পরবর্তী কালে। জীবনানন্দের সেই কাব্য-নায়িকা এ বার কলকাতার লিটিল ম্যাগাজিন মেলা তথা রাজ্য সরকারের সাহিত্য উত্সবে হয়ে গেল রবি ঠাকুরের সৃষ্টি।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপরে অপার শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার সেই মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের হাতেই চরম অবমাননা বিশ্বকবির।
কিটস ও শেক্সপিয়রের জমানার সঙ্গে ভাল সম্পর্ক ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। এক বছর আগে কলকাতা বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে এমনই বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, কিটস, শেক্সপিয়র, রবীন্দ্রনাথ- এঁদের মধ্যে তো বহু বছরের ব্যবধান।
৩৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্বের মানচিত্রে কলকাতার বইমেলার মাহাত্ম্য বোঝাতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কিটস ও শেক্সপিয়রের জমানার সঙ্গে ভাল সম্পর্ক ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের।
তথ্য বলছে, উইলিয়াম শেক্সপিয়র জন্মেছিলেন ১৫৬৪ সালে, মৃত্যু ১৬১৬ সালে। শেক্সপিয়রের মৃত্যুর ১৭৮ বছর পর রবীন্দ্রনাথের দাদু দ্বারকানাথ ঠাকুর জন্মেছিলেন ১৭৯৪ সালে। অন্য দিকে, জন কিটস জন্মেছিলেন ১৭৯৫ সালে, মৃত্যু ১৮২১-এ। কিটস-এর মৃত্যুর ৪০ বছর পরে ১৮৬১ সালে জন্ম হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের।
শেক্সপিয়রের মৃত্যুর ১৭৮ বছর পরে যেখানে রবীন্দ্রনাথের দাদুর জন্ম, কিটসের মৃত্যুর ৪০ বছর পরে যেখানে রবীন্দ্রনাথের জন্ম, সেখানে কিটস ও শেক্সপিয়ারের জমানার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ভাল সম্পর্কের কথা বলে মুখ্যমন্ত্রী কী বলতে চেয়েছিলেন, তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছিল। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী লন্ডনে গিয়ে 'গীতাঞ্জলি' রচনার কথা বলেন।
এই মেলায় স্বাভাবিকভাবেই সাহিত্যপ্রেমীদের ভিড় হয়। আর তাঁরা মেলায় এসে দেখছেন, জীবনানন্দের বিখ্যাত কবিতা হয়ে গিয়েছে রবীন্দ্রনাথের। মুখ টিপে হাসি তো রয়েছেই, সেই সঙ্গে মেলায় ওই পোস্টার নিয়ে রসিক কটাক্ষও চলছে। একই অবস্থা সোশ্যাল মিডিয়াতেও প্রশ্ন উঠছে, কবি জয় গোস্বামীর মতো ব্যক্তিত্ব যেখানে এই মেলার দায়িত্বে, সেখানে এত বড় ভুল হওয়া উচিত কি? মেলার উদ্যোক্তা রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর। সেই দফতর আবার সংস্কৃতিমনস্ক মুখ্যমন্ত্রীর অধীনে। সেখানে এত বড় ভুলের পরে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

No comments:
Post a Comment