রোজভ্যালি চিটফান্ডের টাকা হাতানোরর ঘটনাকে ঘটনাকে কলকাতার রাজ্যরাজনীতি এখন সরগরম, ইতিমধ্যে ক্ষমতাশীল রাজনৈতিক দলের তৃণমূলের দুই সাংসদ তাপস পাল ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিবিয়াই গ্রেফতার করেছে। ধরা পড়েছে রোজভ্যালির মালিক গৌতম কুন্ডু। তাদের জেরা করে বড়বড় রাঘব বোয়াল, সিনেমা জগতের নায়ক নায়িকারা। বহু তথ্য হাতে পেয়েছে ওই কেন্দ্রীয় সংস্থা। 

রোজভ্যালিকাণ্ডে অভিযুক্ত হয়েছেন টালিগঞ্জের প্রথম সারির এক নায়িকাকে। কে তিনি ?
রোজভ্যালিকাণ্ডে
জড়িত টালিগঞ্জের প্রথম সারির ওই নায়িকা কে ? গোয়েন্দরা জানিয়েছেন‚ ওই নায়িকার সঙ্গে শাসক
দলের একাধিক নেতার যোগ রয়েছে। তাঁকে ঢাল করেই নেতারা গৌতমের কাছকাছি যেতেন। কাগজপত্র
এবং ভিডিও ফুটেজের নথিপত্র খতিয়ে দেখার পরেই টালিগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ ওই নায়িকাকে ডাকা
হবে। সিবিআই-এর তরফে নায়িকার কাছে নোটিস যাবে। তাঁর উত্তর এবং নথিতে সন্তুষ্ট না হলে
তল্লাশি চালানো হতে পারে তাঁর বাড়িতে। সিবিআই-এর দাবি‚ নথি লোপাট করে ফেললেও
তদন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। কারণ নায়িকার বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ তাঁদের হাতে রয়েছে.
তলব করার আগে অভিনেত্রীর গতিবিধিও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের নজরদারিতে আছে। গোয়েন্দারা
জানিয়েছেন, বেগতিক বুঝে ওই নায়িকা দেশ ছেড়ে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সব বিমানবন্দরকে
সতর্ক করা হয়েছে যাতে উনি কোথাও যেতে না পারেন।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, তাঁর কাছে নাকি সোনার বাঁট
রাখতে দেন রোজভ্যালি কর্ণধার। এনিয়ে এখন আরও প্রমাণ জোগাড় করছে সিবিআই। সাহিত্যের
পাতা ওল্টালে গোলাপ ও সুন্দরীর সম্পর্কের বহু নজির মেলে। তবে এবার সেই সম্পর্ক কাব্যের
গন্ডি ছাড়িয়ে চলে এল বাস্তবেও। রোজভ্যালির সঙ্গেও এবার জড়িয়ে গেল এক লাস্যময়ী অভিনেত্রীর
নাম, যিনি এখন সর্বভারতীয় এক রাজনৈতিক দলের হয়ে হাত পাকাচ্ছেন। ইডি এবং সিবিআই-এর একটি
সূত্রের দাবি, তদন্ত চালিয়ে জানা গিয়েছে, এই লাস্যময়ী অভিনেত্রীকে নাকি গৌতম কুণ্ডু
একসময়ে প্রচুর পরিমাণে সোনার বাট দেন। গোয়েন্দা সূত্রে দাবি,
গৌতম কুণ্ডু
একবার বিদেশ থেকে শুল্ক দফতরের নজর এড়িয়ে প্রচুর পরিমাণে সোনার বাঁট নিয়ে আসেন।
ভারতে এসে
সেই সোনার বাঁটের প্রায় ৬০ শতাংশ তিনি দেন রোজভ্যালির একটি স্বর্ণ বিপণিতে। বাকি ৪০
শতাংশ সোনা তিনি রেখে দেন নিজের কাছেই।
গোয়েন্দারা
তদন্তে জানতে পেরেছেন, এই বাকি সোনার একটা বড় অংশই নাকি গৌতম কুণ্ডু টালিগঞ্জের এক
লাস্যময়ী অভিনেত্রীকে দেন। যিনি ইদানীং রাজনীতিতেও বেশ পরিচিত নাম হয়ে উঠেছেন।
সূত্রের
খবর, ওই অভিনেত্রী গৌতম কুণ্ডুর নির্দেশেই সোনার বাটের কিছুটা নিজের কাছে রেখে দেন।
বাকিটা পরিচিতদের মধ্যে ভাগ করে দেন। গোয়েন্দাদের বক্তব্য, এই অভিনেত্রী নিশ্চয় গৌতম
কুণ্ডুর বিশ্বস্ত ছিলেন। নাহলে তাঁর কাছে রোজভ্যালি কর্ণধার সোনার বাঁট রাখতে দেবেন
কেন? অভিনেত্রীই বা গৌতম কুণ্ডুকে কেন সাহায্য করবেন? তাঁর বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ একত্রিত
করার কাজও ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। সিবিআই সূত্রে খবর, এরই সঙ্গে টালিগঞ্জের এক প্রথম
সারির অভিনেত্রীর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গৌতম কুণ্ডুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই অভিনেত্রীর
বিরুদ্ধে রোজভ্যালির সঙ্গে টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
যদিও, ইডি এবং সিবিআই এ
নিয়ে সরকারিভাবে কিছু বলতে চাইছে না।।
No comments:
Post a Comment