Wednesday, 11 January 2017

গৌতম কুন্ডূর গোপণ ফ্ল্যাটে নায়িকাদের নিয়ে চলত মজলিশ, তদন্ত করছে সিবিআই


যতদিন যাচ্ছে অন্ধকার জগতের আর কেচ্ছা বেরিয়ে পড়ছে। কলকাতা এবং মুম্বইয়ের অভিজাত এলাকায় গৌতম কুন্ডুর অন্তত এক ডজন ফ্ল্যাটের সন্ধান পেয়েছে সিবিআই। সেগুলো নামে বেনামে রোজভ্যালি কর্ণধারের সম্পত্তি ছিল। অনেক ফ্ল্যাটের অ্যান্টি চেম্বারে বসত রঙিন নিশি আসর। এভাবেই আমানতকারীদের কষ্টার্জিত টাকা দুহাতে উড়িয়েছেন গৌতম কুণ্ডু।  
জানা গিয়েছে, সেখানে গৌতমের সঙ্গিনী ছিলেন মুম্বই আর টালিগঞ্জের গ্ল্যামার রাণীরা। রাতভর চলত মহফিল, দেদার খানাপিনা। নায়িকাদের সঙ্গ পেতে কোটি কোটি টাকা ওড়াতেন গৌতম। হামেশাই তাঁর সঙ্গে থাকতেন টালিগঞ্জের দুই নায়িকা। এছাড়াও ছোট বড় মাঝারি মাপের সুন্দরীরা। সংস্থার বেহাল দিনেও তাঁদের জন্য খামতি ছিল না টাকার।
গোয়েন্দাদের দাবি এক সময়ে উইকএন্ড বা অন্য ছুটির দিন কাটাতে মুম্বই উড়ে যেতেন গৌতম। সঙ্গিনী হতেন টালিগঞ্জের প্রথমসারির সেই নায়িকা। গোপন ফ্ল্যাটের অ্যান্টি চেম্বারে বসত ফূর্তির আসর।আসতেন অন্য সুন্দরীরাও। দক্ষিণ কলকাতার এক অভিজাত আবাসনেও ফ্ল্যাট ছিল গৌতমের। সেখানে তাঁর সঙ্গে যেতেন আর এক নায়িকা। এভাবে নানা সময়ে গৌতম কুণ্ডুর আতিথেয়েতা নেওয়া রাডারে থাকা চক্রান্তে জড়িত নায়িকাদের কাউকেই ছাড়তে চান না তদন্তকারীরা।  
কেন সিবিআই নজরে?

রোজভ্যালি কর্তার নাইট লাইফকে কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা? সিবিআই গোয়েন্দারা বলছেন, রোজভ্যালি তদন্তে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমানতকারীদের গচ্ছিত টাকা বিভিন্ন ভাবে উড়িয়েছেন গৌতম কুণ্ডু। আমানতকারীদের টাকা ঘুরপথে বাইরে বের করে এনে একাধিক ফ্ল্যাট ও বাংলো কেনা হয়। কলকাতা ও মুম্বই মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ১২টির বেশি ফ্ল্যাটের হদিশ। ফ্ল্যাটগুলি বেশিরভাগই তাঁর পরিবারের নামে কেনা হয়। সিবিআই জেরায় এনিয়ে কোনও তথ্যই দেননি রোজভ্যালি কর্তা। তদন্তকারীরা বলছেন, যে নায়িকারা রোজভ্যালি কর্তার আতিথেয়তা নেন তারা সবাই রাডারে। ষড়যন্ত্রে যাঁরা জড়িয়ে কেউ ছাড় পাবেন না।

No comments:

Post a Comment