কলকাতা: গান্ধীজি জাতির জনক। মোদীবাবু কী? খাদির ক্যালেন্ডারে বিস্ময়কর পরিবর্তনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এই প্রশ্নই তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, মহাত্মা গান্ধী অহিংসার প্রতীক। আর সেই অহিংসার প্রতীকের ছবি তুলে দিয়ে খাদির ক্যালেন্ডারে বসানো হয়েছে এ কার ছবি? তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন মমতা। প্রশ্ন তুললেন, কোন মহাত্মা গান্ধীকে সরিয়ে দেওয়া হল?[খাদি ক্যালেন্ডারে গান্ধীজির জায়গায় মোদী, সমালোচনা করতে গিয়ে হাসির খোরাক কেজরিওয়াল!]
খাদি গ্রামোদ্যোগ কমিশনের ওয়াল ক্যালেন্ডার ও টেবিল ক্যালেন্ডার থেকে মহাত্মা গান্ধীর ছবি সরিয়ে তাঁর জায়গায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
তা নিয়ে দেশ উত্তাল। সমাচনায় বিদ্ধ হচ্ছেন মোদী। সমালোচনায় খাদি বোর্ডও। এই কাজ একেবাএরই সমর্থনযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরাও। এই ঘটনায় ইতিহাস বিকৃত হল বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টুইটারে ক্ষোভ উগরে দেন। টুইটারে মমতা লেখেন, 'অহিংসার প্রতীক গান্ধীর জায়গায় নরেন্দ্র মোদীর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। কেন মোদীর ছবি? গান্ধীজি জাতির জনক। মোদীবাবু কী? বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ তথা প্রাক্তন সাংসদ নেতাজি পরিবারের সদস্যা কৃষ্ণা বসু বলেন, এ ঘটনা অবমাননাকর। এই কাজ করে জাতির জনককে অপমান করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মহাত্মা ও নেতাজি আমাদের দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে জড়িত। তাঁদের প্রতি এই ঘটনা ঘটলে দেশবাসী নরেন্দ্র মোদীকে ক্ষমা করবেন না। খাদি-র কর্মীরাও মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদে সামিল হন। কোনওবারেই অন্য প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছাপা হয়নি। তাহলে মোদীর ছবি কেন বাণিজ্যিক সংস্থার বিজ্ঞাপনে।
হাঁটু পর্যন্ত ধুতি পরিহিতি গান্ধী চরকায় সুতো কাটছেন, সেই ছবি প্রজন্মের পর প্রজন্ম দেখে এসেছেন। তা মানুষের মনে গেঁথে রয়েছে। আর তার পরিবর্তে কি না কুর্তা পাজামা আর ওয়েস্ট কোট পরা এক 'আধুনিক' পুরুষ চরকা কাটছেন। সত্যিই এ ইতিহাস বিকৃতি ছাড়া কী হতে পারে! প্রশ্ন উঠে পড়েছে সমস্ত মহলেই। এই ছবি কার্যত বাকরুদ্ধ করেছে আপামর ভারতবাসীকে। এই সরকার গান্ধীজির আদর্শ দেশ থেকে মুছে দিতে চাইছে।
No comments:
Post a Comment