Friday, 20 January 2017

মেই ফং, বাদিকে তাঁর লেখা বই-এর মলাট

ভারত না চিন, কোথাকার মেয়েরা সবচেয়ে কাম-তাড়িত? পর্দাফাঁস করলেন পুলিত্‍জারজয়ী সাংবাদিক
আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতায় পুলিত্‍জার সম্মানে ভূষিত হয়েছেন মেই ফংবর্তমানে আমেরিকা নিবাসী তিনিচিনের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাঁর বই তুলে ধরেছে সেখানকার মহিলাদের যৌনজীবনের চরম দুর্দশার কাহিনি
পরিবার পিছু একটি সন্তান১৯৮০ সালে এই নীতি চালু করেছিল চিনকারণ, জনসংখ্যার বিস্ফোরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য এছাড়া অন্য কোনও উপায় ছিল না বলে দাবি করেছিল তত্‍কালীন চিনা কমিউনিস্ট সরকারএই নীতি কার্যকর হওয়ার ফলে চিনের জনসংখ্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে ঠিকই, কিন্তু, কার্পেটের তলায় কত বড় নির্মম সত্যকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল তারই সন্ধান দিয়েছেন সাংবাদিক মেই ফং
৪৪ বছর বয়সি সাংবাদিক মেই ফং-এর দাবি, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা চিন ও ভারতের সবচেয়ে বড় সমস্যা
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ভারত খুবই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার সঙ্গে কাজ করে চলেছেকিন্তু, চিনে যেটা হচ্ছে সেটা একনায়কতন্ত্রের মতোভারতেও ছেলে পিছু মেয়েদের জনসংখ্যা কমচিনেও একই ছবিএমনকী, গোটা বিশ্বেই 'জেন্ডার প্যারিটি' একটা বড় সমস্যাকিন্তু, চিনের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটা মারাত্মকবিশেষ করে চিনের নীতি সরকারিভাবে মহিলাদেরই দমন-পীড়ন করছেকোনও বাবা-মা সহজে কন্যাসন্তানের জন্ম হোক চাইছেন নাচিনে ১৩০ জন ছেলে পিছু ১০০ জন মেয়ে
 
১৯৮০ সালে চিনের ঘোষিত নীতিতে বলাই ছিল পরিবার পিছু একটি সন্তানই শুধুমাত্র যাবতীয় সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেযেমন শিক্ষা থেকে চিকিত্‍সা, চাকরিক্ষেত্রে সরকার যে সুবিধা দেয় সেটা একটি মাত্র সন্তানের জন্যই প্রযোজ্য হবেফলে, ওই সময় যে সব চিনা পরিবারে একের বেশি সন্তান ছিল তাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছিলএমনকী, এই পরিবারে যদি বড় সন্তান কন্যা হয় তাকে সরিয়ে সেখানে ছেলের



এই চরম সত্যের সঙ্গে এক করুণ কাহিনির বর্ণনাও দিয়েছেন মেরি ফংতিনি জানিয়েছেন, এই সব মহিলারা বড় হয়েছেন, জীবনের নিয়মে এদের যৌবন এসেছেকিন্তু, যৌন সুখ মেটানোর জন্য চিনের এই বেআইনি মহিলা নাগরিকদের অধিকাংশই পুরুষসঙ্গী পান নাতাই এইসব মহিলাদের জন্য আজ রমরম করে চিনে বৃদ্ধি পেয়েছে 'সেক্স ডল'-এর ব্যবসাএই মহিলাদের অধিকাংশই আজ 'সেক্স ডল'-এর মাধ্যমে নিজেদের যৌন তৃষ্ণা নিবারণ করছেনএমনকী, এই সেক্স-ডলের রমরমা আজ চিনের ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছেএক সমীক্ষাতেও দেখা গিয়েছে চিনের বিশ্বের সবচেয়ে বেশি 'সেক্স ডল বিক্রি হয়বলা হচ্ছে বিশ্বে বিক্রি হওয়া মোট 'সেক্স ডল'-এর ৩০ শতাংশ নাকি বিক্রি হয় চিনেমেই ফং-এর মতে, ভারতেও 'সেক্স ডল'-এর চাহিদা থাকলেও সেখানকার মহিলাদের সমস্যাটা কোনওভাবেই সরকারের তৈরি করা নীতির সঙ্গে সম্পর্কৃত নয়অথচ, চিনের মতো জনবিস্ফোরণ আটকাতে ভারতও নানা নীতি গ্রহণ করেছেকিন্তু, কোনওভাবেই সেখানকার সরকারের তৈরি করা নীতির জন্য মহিলারা চিনের মহিলাদের মতো কাম তাড়িত হয়ে পড়েননি
মেই ফং-এর এমন দুঃসাহসী প্রতিবেদন উঠে এসেছে তাঁর লেখা বই, 'ওয়ান চাইল্ড: দ্য পাস্ট অ্যান্ড ফিউচার অফ চায়না'জ মোস্ট র্যাডিক্যাল এক্সপেরিমেন্ট'-এআপাতত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চিনের মহিলাদের এই করুণ কাহিনি তুলে ধরছেন মেই ফং


No comments:

Post a Comment