দুবাইতে গিয়েই দাউদের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। দাউদের বাড়িও যান তিনি। বহুক্ষণ গল্প করেন দু'জনে। চলে চা-পান। কিন্তু তার পর?
তাঁর নায়কোচিত অভিনয় একটা সময় রূপোলি পর্দা কাঁপিয়েছে। সেই অভিনয়েই জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়েও তিনি যথেষ্ট সাবলীলভাবেই অভিনয় করে চলেছেন। তবে বিতর্কেও জড়িয়েছেন বহু বার। শোনা যায়, আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ ছিল। এবার দাউদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে খোলাখুলি জানালেন ঋষি কপূর।
সালটা ১৯৮৮। আরডি বর্মন এবং আশা ভোঁসলের অনুষ্ঠান দেখতে দুবাই গিয়েছিলেন ঋষি কপূর ও তাঁর ঘনিষ্ট বন্ধু বিট্টু আনন্দ। তিনি যখন এয়ারপোর্ট থেকে হোটেলের দিকে রওনা হচ্ছিলেন, তখন এক অপরিচিত ব্যক্তি তাঁর হাতে একটি ফোন দিয়ে বলেন, 'দাউদ সাব বাত করেঙ্গে।' সেই সময় তিনি দাউদের বিষয়ে সেভাবে কিছুই জানতেন না।
ফোনেই দাউদ তাঁকে অভিনন্দন জানান। বলেন, 'কোনওরকম অসুবিধা হলে দাউদের সঙ্গে যেন যোগাযোগ করেন ঋষি কপূর।' এমনকী, তাঁকে নিজের বাড়িতে আসার নিমন্ত্রণও জানান দাউদ। ঘটনাটি ১৯৯৩ মুম্বই বিস্ফোরণের ঠিক আগেই।
পরে বাবা নামে একজন লম্বা, সুদর্শন ব্যক্তি, ঋষি কপূরের সঙ্গে হোটেলে দেখা করেন। তিনি নিজেকে দাউদের ডান হাত বলে পরিচয় দেন। তিনিই ঋষি কপূরকে জানান যে, দাউদ তাঁকে চা খেতে বাড়িতে ডেকেছেন। দাউদের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে কিছুই না জানায়, ঋষি কপূরও নিমন্ত্রণ স্বীকার করেন।
ঠিক পরের দিন সন্ধেবেলায় হোটেলের সামনে থেকে একটি রোলস রয়েস গাড়ি এসে দাঁড়ায়। তিনি ও বিট্টু সেই গাড়িতে ওঠেন। ঋষি কপূর জানিয়েছেন, যখন তাঁরা দাউদের বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন, তখন গাড়ির লোকেরা কুটচি ভাষায় কথাবার্তা বলছিল।
ঠিক পরের দিন সন্ধেবেলায় হোটেলের সামনে থেকে একটি রোলস রয়েস গাড়ি এসে দাঁড়ায়। তিনি ও বিট্টু সেই গাড়িতে ওঠেন। ঋষি কপূর জানিয়েছেন, যখন তাঁরা দাউদের বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন, তখন গাড়ির লোকেরা কুটচি ভাষায় কথাবার্তা বলছিল।
বাড়ি পৌঁছাতেই ঋষি কপূরকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান দাউদ। দাউদ জানান, তিনি মদ্যপানে অভ্যস্ত নন, তাই চা-পানেই ডেকেছেন ঋষি কপূরকে। প্রায় ৪ ঘণ্টা দাউদের বাড়িতে কথোপকথন চলে তাঁদের মধ্যে। দাউদ জানান, ছোটখাটো অপরাধ করলেও তিনি কোনওদিন কাউকে খুন করেননি। তবুও তাঁর নামে মুম্বই আদালতে খুনের মামলা রয়েছে।
পাশাপাশি 'তওয়াইফ' ছবিতে ঋষি কপূরের ভূমিকা নিয়েও প্রশংসা করেন দাউদ। কেন না, ওই ছবিতে ঋষি কপূরের নামও দাউদ ছিল। কথাবার্তার সঙ্গেই দাউদ জানিয়েছিলেন, যদি ঋষি কপূরের কোনওদিন কোনও কিছুর প্রয়োজন হয়, তবে তা যেন নির্দ্বিধায় তিনি জানান।
এরপর দাউদের বাড়িতে আর যাননি ঋষি কপূর। এরপর বেশ কিছুদিন পরে দুবাইয়ের একটি জুতোর দোকানের সামনে দাউদের সঙ্গে দেখা হয় ঋষি কপূরের। সেখানেই দাউদ তাঁর ফোন নম্বর ঋষি কপূরকে দেন। কিন্তু তার পর থেকে আর কোনওদিন দাউদের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়নি।

No comments:
Post a Comment