হঠাত্ মূর্তির আবির্ভাবে হইচই পড়ে যায়। খবর পেয়ে মূর্তিটি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে আসেন স্থানীয় প্রত্নতাত্ত্বিকরা। মূর্তিটিকে ভাল করে পরীক্ষা করার পরে তাঁরা যে তথ্য দিয়েছেন, তাতে রীতিমতো চমকে গিয়েছেন এলাকাবাসী।
প্রায় ৬০০ বছর ধরে জলের তলায় ছিল লুকিয়ে ছিল সাড়ে বারো ফুটের এই প্রাচীন বুদ্ধ মূর্তিটি। জলস্তর কমতেই দেখা দিল বুদ্ধ মূর্তির মাথা। এবার সেই মূর্তির রহস্য সমাধান করতে চলেছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা।
চিনের জিয়াংশি প্রদেশের একটি ছোট্ট হ্রদ জুইশিয়ান। সেই হ্রদের তলায় এতদিন ধরে পড়ে ছিল, পাহাড় কেটে তৈরি করা একটি প্রাচীন বুদ্ধ মূর্তি। লেকের জলস্তর বেশি থাকায় এতদিন ওই মূর্তি থেকে চোখ এড়িয়ে গিয়েছে সকলের।
সম্প্রতি ওই জলাধারটিকে সংস্কার করার কাজ শুরু হয়েছিল। সেই সময়ে ওই লেকের জলস্তর কমলে, মূর্তিটির মাথার অংশটি বেরিয়ে আসে।
প্রথমে ওই মূর্তিটি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে পড়ে। হঠাত্ এই মূর্তির আবির্ভাবে হইচই পড়ে যায় সকলের মধ্যে। খবর পেয়ে মূর্তিটি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে আসেন স্থানীয় প্রত্নতাত্ত্বিকরা। মূর্তিটিকে ভাল করে পরীক্ষা করার পর তাঁরা যে তথ্য দিয়েছেন তাতে রীতিমতো চমকে গিয়েছেন এলাকাবাসী।
সেই বুদ্ধমূর্তি
প্রত্নতাত্ত্বিকরা জানিয়েছেন, এই মূর্তির বয়স প্রায় ৬০০ বছর। মিং আমলে(১৩৬৮-১৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দ) পাহাড় কেটে এই মূর্তিটি তৈরি করা হয়েছিল। যদিও এই বিষয়ে এখনই সঠিকভাবে কিছু জানাতে পারেননি প্রত্নতাত্ত্বিকরা।
জিয়াংশির 'রিসার্চ ইন্সস্টিটিউট অব আর্কিওলজির' এক আধিকারিক জু চ্যাংকুইং জানিয়েছেন, প্রাথমিক গবেষণায় বোঝা যায়, এই মূর্তি মিং আমলের। তবে এই বিষয়ে এখনই সঠিকভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। এই মূর্তিটি ইউয়ান সাম্রাজ্যের সময়কারও হতে পারে। সম্পূর্ণ জলস্তর সরিয়ে মূর্তিটি পরীক্ষা করার পরেই তার আসল রহস্য জানা সম্ভব হবে।
প্রত্নতাত্ত্বিকরা জানিয়েছেন, এই স্থানে জিয়াওশি নামে একটি শহর ছিল। শহরটি ধ্বংসের পরে, তার উপরেই এই জলাধারটি নির্মিত হয়। যেই সময় দু'টি নদী এসে এখানে মিলিত হয়েছিল, সেই সময়েই আধ্যাত্মিক রক্ষাকর্তা হিসেবে এই বুদ্ধ মূর্তিটি তৈরি করা হয়। ১৯৬০-এর দশকে এই লেকটি তৈরি করা হয়। সময়টা ছিল চিনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের। চিনের মানুষ যাবতীয় কুসংস্কার থেকে মুক্তি পেতে চাইছিল। ওই জলাধার নির্মাণের পরে ওই মূর্তিটি জলের তলায় চলে যায়।
প্রত্নতাত্ত্বিকরা জানিয়েছেন, শুধু ওই বুদ্ধ মূর্তিই নয়, ওই লেকের তলায় একটি প্রাচীন মন্দিরও রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন, জলের তলায় কাজ করার জন্য প্রশিক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিকদের একটি দল। নানচেং প্রদেশের জাদুঘরের অধ্যক্ষ জিন হুইলিন জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে ওই জলস্তর না সরলে ওই শহরটিকে উদ্ধার করা সম্ভব নয়।


No comments:
Post a Comment