নয়া দিল্বলিঃ ছর চারেক আগের এক ১৬ ডিসেম্বর। চলন্ত বাসে ধর্ষণ করা হয়েছিল ২৩ বছর বয়সি ফিজিওথেরাপির এক শিক্ষানবিশকে। ওই ধর্ষণের পরে প্রতিবাদের ঝড উঠেছিল দেশজুেড। বদল আনা হয়েছিল ধর্ষণ-প্রতিরোধী আইনেও। তবে কোনও আইনই যে পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি, তার প্রমাণ বারবার দিয়েছে দিল্লি। নির্ভয়া-কাণ্েডর চার বছরের মাথায় রাজধানী ফিরে দেখল সেই বিভীষিকার ছবি। দু'-দু'টি ধর্ষণের অভিযোগ উঠল সেই দিল্লিতেই।
দু'টি ঘটনাই বুধবারের। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে আজ। পশ্চিম দিল্লির এক জন্মদিনের পার্টিতে এক নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল তারই দুই সহপাঠীর বিরুদ্ধে। অন্য দিকে, সে দিনই রাতের অন্ধকারে চলন্ত গাডিতে ২০ বছর বয়সি এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল মোতি বাগ এলাকায়।
শুধু মোতি বাগ বা পশ্চিম দিল্লিই নয়। ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থার জন্য খবরের শিরোনামে বারবার উঠে আসে দিল্লির বিভিন্ন এলাকা। এর মধ্যে আমন বিহার এলাকা থেকেই দায়ের হয়েছে ৬০টি ধর্ষণের অভিযোগ। ২০১২-য় সংখ্যাটা ছিল আট। নির্ভয়া নিয়ে হইচই হওয়ার পরেও চার বছরে সংখ্যাটা কমেনি। বরং বেেডছে।
বছর ষোলোর কিশোরী পুলিশকে জানিয়েছে, জন্মদিনের পার্টিতে আমন্ত্রণ
জানায় তার সহপাঠী। সেখানে তাকে জোর করে মদ্যপানও করানো হয় বলে জানায় মেয়েটি। এর পরই আরও এক বন্ধুর সঙ্গে মিলে তাকে ধর্ষণ করে ওই কিশোর। অভিযোগ, মেয়েটিকে তারা বাডির বাইরে ফেলে রেখে চলে আসে। এক পথচারীর কাছ থেকে মোবাইল চেয়ে নিজের বাডিতে ফোন করে মেয়েটি। পুলিশ জানিয়েছে, দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে জুভেনাইল হোমে পাঠানো হয়েছে।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে নির্জন মোতি বাগ এলাকায়। নয়ডার বাসিন্দা ওই তরুণী চাকরির খোঁজে দিল্লি এসেছিলেন। পুলিশকে দেওয়া তাঁর বয়ান অনুযায়ী, বুধবার রাত দশটা নাগাদ বাডি ফেরার জন্য এইমসের সামনে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। সেই সময় অভিযুক্ত অভনীশ (২৮) তাঁকে লিফ্টের প্রস্তাব দেয় তাঁকে। তরুণী গাডিতে ওঠেন। তার পরে চলন্ত গাডিতে শুরু হয় হেনস্থা। তার পর তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। সংবাদমাধ্যমের একাংশের দাবি, মোতি বাগের কাছে গাডিটি থামিয়ে দেয় অভনীশ। কোনও রকমে পালিয়ে বাঁচেন ওই তরুণী। পুলিশের একটি টহলদারি দল তাঁকে খুঁজে পায়। তারাই গত কাল ভোরে তাঁকে থানায় নিয়ে আসে। মেয়েটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখা যায়, তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত অভনীশ উত্তরপ্রদেশের এটাহ-র বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, সে বিবাহিত ও দুই সন্তান আছে। আগে একটি স্কুলের গাডি চালাত সে। বৃহস্পতিবার ভোরে নির্যাতিতাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। তাঁর বয়ান অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের একশো মিটারের মধ্যেই উদ্ধার হয় সেই গাডি। ওই গাডিটিতে অভিযোগকারিণীর ফোনও পাওয়া গিয়েছে। এর পরে দিল্লি পুলিশের তত্পরতায় গত কাল সকালে এক বন্ধুর বাডি থেকে গ্রেফতার করা হয় অভনীশকে।
গাডিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের স্টিকার লাগানো ছিল। তা নিয়ে ধন্দ বোড পুলিশের। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ছিল, গাডিটি কোনও ব্যক্তির নামে নথিভুক্ত করা। তদন্তে পরে জানা যায়, অভিযুক্ত যার হয়ে গাডি চালাতেন তাঁর বাবা কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীতে (সিআইএসএফে) কাজ করেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক জেরায় অপরাধ কবুল করেছে অভনীশ। এই মামলা ফার্স্ট ট্র্যাক আদালতে তোলার সুপারিশও করা হবে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
No comments:
Post a Comment