Monday, 9 June 2014

সোনারপুরে মাটি খুঁড়ে মিলল বস্তা ভর্তি মানব কঙ্কাল, এলাকায় উত্তেজনা

বেআইনি অস্ত্র কারখানার খোঁজে গিয়ে বাড়ির নিচের মাটির তলা থেকে এক মৃত যুবকের হাড়গোড় টেনে বের করল পুলিশ। এই ঘটনাকে ঘিরে চালঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর থানার অধীণ রেনিয়ার রামনগরে। পুলিশ চলে যাওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা উত্তেজিত হয়ে অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা চালিয়া ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার বিকালে।এই ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয় এক জমির দালাল জ্ঞানসাগর শর্মা্র বাড়ি থেকে মিলেছে ওই মানব কঙ্কাল। রাত আগের দিন পাওয়া গিয়েছে ৩ টি রিভলভার এবং ৭ রাউন্ড গুলি পাওয়া গিয়েছে।
    পুলিশ এবং স্থানীয়সূত্রে জানা গিয়ছে, জ্ঞানসাগর শর্মার বিরুদ্ধে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি এবং কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। সে বিহার, মুঙ্গের, ছাপরা জেলা অস্ত্র বিক্রি করতে যেত। এই ঘটানার আগেও সে ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ এবং ৬ মে ২০১৩ দুবার ধরা পড়েছিল। পরে অবশ্য জামিনে মুক্তি পেয়ে যায়। তারপরও গোপনে কারবার চালিয়ে যাচ্ছিল। সে এলাকার ‘দাদা’ ছিল তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস দেখাতে পারতেন না। সে বিবাহিত। তার তিনটি ছেলে রয়েছে। একই জায়গায় বিভিন ন প্রান্তে পাঁচটি বাড়ি রয়েছে। বাড়িতে একটি লোহার গ্রীল তৈরির কারখানা রয়েছে। দিন কয়েক আগে    জ্ঞানসাগর স্থানীয় হনুমান মন্দিরের পুজারি গৌতম পান্ডেকে একটি ব্যক্তিগত খুনের হুমকি দিয়েছিল। নিরাপত্তার জন্য গৌতম শুক্রবার রাতেই সোনারপুর থানায় জ্ঞানসাগরের নামে অভিযোগ দায়ের করেছে। সেই ঘটনার তদন্ত করতে পুলিশ শনিবার এলাকায় এলে স্থানীয় মানুষজন সাহস করে তার সম্পর্কে বিভিন্ন কুকীর্তির কথা জানায়। পুলিশ তখনই জানতে পারে, জ্ঞানসাগরের প্রতিবেশী মদন রায় নামে বছর পঁয়তাল্লিশের এক যুবক বছর দুই ধরে নিখোঁজ রয়েছে। সোনারপুর থানার আইসি অনিল কুমার রায় বলেন, ‘মদনবাবুর নিখোঁজের বিষয়ে আজও কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি।’ বছর দুই আগে কিন্তু স্থানীয় মানুষের দাবি, বছর দুই আগে জ্ঞানসাগরই মদনবাবুকে খুন করেছে। ওই ঘটনার পর থেকে মদনবাবুর স্ত্রী সাবিত্রীদেবীও তাঁর বিষয়ে কোনও খোঁজ খবর নেননি। এবং ছোট ছোট দুটি বাচ্চাকে নিয়ে স্ত্রীর মতো জ্ঞানসাগরের সঙ্গে শুরু করে। গৌতমের অভিযোগেরভিত্তিতে পুলিশ রবিবার পুলিশ জ্ঞানসাগরের খোঁজে এসে তাকে না পেয়েতার এক কর্মচারী বাবুলাল যাদবকে পাকড়াও করে পুলিশ তাকে চাপ দিয়ে পুলিশ ওই খুনের ঘটনার কথা জানতে পারে। তারই দেওয়া তথ্যেরভিত্তিতে পুলিশ এদিন  কঙ্কালের সন্ধান পাওয়া যায়। বাবুলাল পুলিশকে জানিয়েছে, ‘মদনের স্ত্রী সাবিত্রির সঙ্গে জ্ঞানসাগরের অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক ছিল। তাকে পেতেই জ্ঞানই মদনকে ঘ্রের মধ্যে ডেকে এনে খুব কাছ থেকে গুলি করেছে। পরে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ টুকরো টুকরো করে কেটে বস্থায় ভরে মাটির নিয়ে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। আমিও সেই কাজে জ্ঞানসাগরকে সাহায্য করেছিলাম। এই ঘটনাত কথা জানতে পেরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে নেয়। এরপরই উত্তেজিত হয়ে ক্ষিপ্ত মানুষ পুলিশের সামনেই জ্ঞানসাগরের হামলা চালায়। বাড়ি ভাঙচুর করে আনেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর পুলিশ তদন্তে নামে।

No comments:

Post a Comment