Sunday, 15 June 2014

দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতে, চার তৃণমূল কর্মীকে কুপিয়ে খুন


ডায়মন্ড হারবারঃ  পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনায় চারজন গ্রামবাসীকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। বাধা দিতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আরো তিনজন গুরুতর ভাবে জখম হয়েছে। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের ডায়মন্ডহারবার মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় ১৮ জন সিপিএম কর্মী-সমর্থকের নামে এফআইর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে এক প্রাক্তণ মন্ত্রীর নাম। অভিযুক্তদের মধ্যে পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার পর শিক্ষামন্ত্রী পার্থ রায়ের নেতৃত্বে  তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল এদিন ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এদিনই মিছিল করে প্রতিবাদ দিবস পালন করা হয়েছে। অভিযূক্ত মন্ত্রী কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়ের কুশপুতুল দাহ করা হয়েছে। আজ, সোমবার জেলা জুড়ে কালা দিবস পালনের ডাক দেওয়া  হয়েছে।      
শনিবার গভীর রাতে খুনের ঘটনাটি ঘটেছে রায়দিঘি থানা এলাকার খাঁড়ির শ্রীনগর গ্রামে।ঘটনার সময় ব্যাপক ভাবে বোমাবাজি করা হয়েছে। বোমার আঘাতে আহত তিনজন ডায়মন্ডহারবার মহকুমা  হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। নিহতদের নাম হাসান গাজি, হাফিজুল গাজি, আতিয়ার মোল্লা ও ছোপু মোল্লা। জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ের পুরনো একটি বিবাদকে ঘিরে গন্ডগোল।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন বৈঠকের পর সোয়া দশটা নাগাদ কাশীনগর থেকে অটোয় বাড়ি ফিরছিলেন আট জন। পথে চড়াও হয় একদল দুষ্কৃতী। অটো থেকে নামিয়ে তাঁদের ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। তারপরে বোমাবাজি করে পালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চারজনের। বোমার আঘাতে আহত হন তিনজন। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের প্রথমে রায়দিঘি হাসপাতাল, পরে ডায়মন্ডহারবার মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মৃত এবং আহতরা সকলেই তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী বলে দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এদিন এলাকা পরিদর্শন করার পর মুকুল রায় জানিয়েছেন, দলীয় কাজ সেরে ফেরার পথে সিপিএমের লোকজন পরিকল্পণা করে এই খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে। বিজেপির দল সিপিএমকে অক্সিজেন দিচ্ছে।সিপিএম অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে, দলের জেলা সম্পাদক সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘ওটা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে হয়েছে। তবে যেকোন খুনই বেদনা দায়ক। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে পুলিশ তদন্ত করে তাদের ধরুক, সাজা দিক। ওই  এলাকায় আমাদের আর এমন কোনও সংগঠন নেই যারা গন্ডগোল করতে পারে। প্রাক্তণ মন্ত্রী কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়কে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে। অভিযুক্তদের মধ্যে পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করে এদিনই আদালতে পেশ করলে বিচারক তাদের ১০ দিন পুলিশী হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। 



No comments:

Post a Comment