Sunday, 8 June 2014

পরিবেশের কারণে সুন্দরবনের জঙ্গল থেকে বাঘ লোকালয়মুখি হচ্ছে

সুন্দরবনের গভীর জঙ্গল (সংরক্ষিত এলাকা) থেকে বাঘ ক্রমশ লোকালয়ের দিকে (অসংরক্ষিত বন এলাকা) চলে আসছে। তাই গ্রামে ঢোকার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। ঊষ্ণায়ণের এবং সমুদ্রতলদেশ ক্রমশ উচু হয়ে যাচ্ছে।  লবণাক্ততার পরিমাণও বৃদ্ধি পাওয়ার কারণের বাঘের এই চরিত্র বদল বলে বাঘ বিশেষজ্ঞদের ধারণা। ৫ জুন ছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এই উপলক্ষে এদিন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর জয়গোপালপুর গ্রামে স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী  সংগঠনের ‘সুন্দরবনের পরিবেশ ও বিপন্ন প্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ে সাধারণ মানুষের ভূমিকা’ নিয়ে একটি আলোচনা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে আন্তর্জাতিক সংগঠন (আইইউসিএ) ‘ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ণ অব কনজারভেশন নেচার অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্স’-এর বাঘ বিশেষজ্ঞ প্রনবেশ সান্যাল বলেন, ‘দূষণের প্রভাব পড়েছে সুন্দরবনে। ঊষ্ণায়ণের কারণে সুন্দরবনের দক্ষিণাংশ থেকে বাঘ ক্রমশ উত্তরাংশে অর্থাৎ লোকালয়ের দিকে উঠে আসছে। ফলে গ্রাম সংলগ্ন নদীর ধারের জঙ্গল গুলিতে বাঘের সংখ্যা ইদানিং বেড়ে গিয়েছে। বিষয়টি খুবই উদ্বেগের।’ সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের বর্তমান অধিকর্তা সৌমিত্র দাশগুপ্তও লোকালয়ে বাঘ ঢোকার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘গ্রামে বাঘ ঢোকা আটকাতে আমরা বনের চার পাশে নাইলনের জালের বেড়া দিয়ে বনটির কিছুটা অংশ ঘিরে রেখেছি। আরও কিছু ঘেরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
     প্রনবেশবাবু জানিয়েছেন, সজনেখালির আশপাশের দয়াপুর, সাতজেলিয়া, লাহিড়ীপুর, জেমসপুর, অ্যানপুর, সাতেরঘেরি, সোনাগাঁ, বালি, আমলামেথি গ্রাম গুলি সাধারণত  বাঘ ঢোকা প্রবণ  এলাকা বলে চিহ্নিত।  এই ভাবে লোকালয়ে বাঘ চলে আসা প্রসঙ্গে প্রনবেশবাবু সমীক্ষার রিপোর্ট উল্লেখ করে দেখিয়েছে, গত দশ বছর  আগেও সারা বছরে গ্রামে সর্বাধিক বারো বার বাঘ ঢোকার ঘটনা ঘটেছে।  এবং তা কোনও কারণ ছাড়াই ঢুকেছিল। বর্তমানে বছরে একচল্লিশবার বাঘ ঢোকার ঘটনা ঘটেছে। প্রনবেশবাবু ১৯৮০-৮৫ সাল পর্যন্ত সুন্দরবনে অধিকর্তা হিসাবে দায়িত্ব ভার সামলেছে। তিনি জানিয়েছে, কুড়ি-বাইশ বছর আগেও দেখা গিয়েছে চামটা, গণা, বাঘমারা, ছাইমারি, চাঁদখালি, কঁদোদ্বীপ গুলিতে বাঘের সংখ্যা প্রচুর ছিল। সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে ওই দ্বীপ গুলিতে বাঘ কমে গিয়েছে। পাশাপাশি পিরখালি (সজনেখালি, সুধন্যখালি, দোবাঁকি), ভগবান ভারানি, নঁবাকি দ্বীপ গুলিতে বাঘের সংখ্যা  দেড়ে গিয়েছে।
     শুধু এখানেই নয়, একই প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের সুন্দরবনেও। খুলনা, চাঁদপাই, শরণখোলা এবং সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকা থেকেও বাঘ ক্রমশ গ্রামমুখি হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেছেন। এই রকম হতে থাকলে পরবর্তী সময়ে বাঘের পক্ষে শুভ লক্ষণ নয়। সমস্যা সমাধাণের বিষয়ে তিনি গ্রামের মধ্যেও ব্যাপক ভাবে ম্যানগ্রোভ গাছ লাগাতে পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, বনের এই গাছ একদিকে যেমন ঝড়ঝঞ্ঝা আটকাবে, তেমনি দূষণ রোধ করে পাশাপাশি নানা রকম ঔষধির কাজও করে থাকে।

No comments:

Post a Comment