Friday, 27 June 2014

মার্কিন সফরে পাড়ি দিচ্ছে ব্রাত্যের নাটক ‘কে'

জয়দেব দাস, কলকাতাঃ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী, বর্তমানে পর্যটন দফতরের দায়িত্বে রয়েছেন। একাধারে রাজনৈতিক সত্ত্বা, অন্যদিক, নিজের নাটকের দল। ব্যস্ত নাট্যকর্মী থেকে এলাকার ডাকসাইটে বিধায়ক। বহুমুখী কর্মকাণ্ডে জড়িত সেই ব্রাত্য বসু’র দল ব্রাত্যজন এবার পাড়ি দিচ্ছে সাত সাগরের পাড়ে। নর্থ আমেরিকান বেঙ্গলি কনফারেন্স বা এনএবিসিতে ব্রাত্যজনের নাটক ‘কে’ নিয়ে। সেই বিষয়ে কিছু পেশ্নের উত্তর দিয়েছেন মন্ত্রী।
প্রশ্নঃ মার্কিন মুলুকে এনএবিসিতে আপনার নাটক ‘কে’ পাড়ি দিচ্ছে। এক্সাইটেড?
ব্রাত্য: এনএবিসিতে এর আগেও তিনবার আমার টিম গিয়েছে। এটা চতুর্থবার। আমার কাছে বিষয়টা খুবই আকর্ষণীয় ও সুখকর। শুধু মার্কিন মুলুকের প্রবাসীরা নন, গোটা ইউরোপে যে সমস্ত প্রবাসীরা ছড়িয়ে আছেন, তারাও ওখানে জড়ো হন। তাদের সামনে আন্তর্জাতিকতার স্পর্শ চলে আসে। শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক থিয়েটার বা নাট্য নয়, সামগ্রিক ক্ষেত্রেই এমন একটা আকর্ষণবোধ সেখানে তৈরি হয়। যেখানে ভূগোল, পারাপার, সীমান্ত শব্দগুলো মুছে যায়। খুব বাস্তব কিছু শব্দ যেমন, পাসপোর্ট-ভিসা সাময়িকভাবে বিলুপ্তি ঘটে। আমাদের এখানে নতুন কী ঘটছে তা নিয়ে একটা কথোপকথন তৈরি হয়। এটা খুব জরুরি। কলকাতা-সহ গোটা দেশে আমার ‘কে’ নাটকটি সমাদৃত হয়েছে। একটা আন্তর্জাতিক ফেস্টিভ্যালের মধ্যে দিয়েও ‘কে’ গিয়েছে। এনএবিসি-র মত একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ‘কে’ দেখানো হলো আমার বিশ্বাস আমেরিকার দর্শকরা উপভোগ করবেন।
প্রশ্নঃ প্রবাসী বাঙালিরা  আপনার নাটক দেখার সুযোগ প্রতিদিন পান না। এবার পাবেন। সেই অনুভূতিটা কেমন?
ব্রাত্য: খুব দামি একটা অনুভূতি। ফুটবল বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে প্রতিটি দেশের যে অনুভূতিটা হয়, আমার সেরকম মনে হচ্ছে। আমি নিজে যেতে পারছি না। অনেক কাজ রয়েছে। মন্ত্রকের চাপ রয়েছে। আমি কলকাতা শহরে নিয়মিত থিয়েটারটা করি। আমি বহুবার বাইরে গিয়েছি। অনেক কাজেই গিয়েছি। কখনও মন্ত্রকের কাজে। কখনও ব্যক্তিগত কাজে। কিন্তু যখন আমি থিয়েটারের কাজে যখন যাই, সেই অনুভূতিটা সবার আগে। একটা সাংস্কৃতিক জায়গা থেকে যাচ্ছি, কেবল আমরাই তো অভিনয় করতে যাচ্ছি তাই তো নয়, বাংলা থিয়েটার কেমন করে বেঁচে আছে, নতুন নতুন কী কাজ হচ্ছে তার একটা সুলুক সন্ধান পাওয়া যায় এনএবিসিতে। আন্তর্জাতিক দর্শকরা যাদের মনটা শিকড়েই পড়ে আছে, যারা বারবার এখানে ফিরে আসতে চান, মনে হয় এভাবে তারাও একবার ডুব দেন তাদের সময়ে। আতলান্তিকের উপর থেকে যখন মাথা তুলে দেখে বলেন, বাহ! এই হচ্ছে একটা বাংলা থিয়েটার।
প্রশ্নঃ বিশ্বকাপের কথাই যখন বললেন সেই রেশ টেনে জিজ্ঞেস করি, আপনার দলের প্রস্তুতি কতদূর?
ব্রাত্য: আমরা বেশ কয়েকবার করে রিহার্সাল দিচ্ছি। টাইম মেজারমেন্টটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা খেয়াল রেখেছি, কারণ সময় ওখানে একটা বড় কনস্ট্যান্ট। এমনভাবে করতে হবে যাতে তার মধ্যে একটা পেশাদারিত্বের ছোঁয়া থাকে। খুব তাড়াতাড়ি স্টেজটা তৈরি করা, আবার গুটিয়ে নেওয়া। এগুলোর বেশ কয়েকবার মহড়া দিতে হয়েছে।
প্রশ্নঃ পুরো টিমটাই কলকাতা থেকে যাচ্ছে তো?
ব্রাত্য: হ্যাঁ, পুরো টিমটাই এখান থেকে যাচ্ছে।
কলকাতায় এক ধরণের দর্শক, প্রবাসে দর্শক অন্য চরিত্রের। সেক্ষেত্রে কী কোনও আলাদা প্রস্তুতি নিচ্ছেন?
ব্রাত্য: বাঙালি যেখানেই থাকুক সে বাঙালি। এখানকার বাঙালিও উইক এন্ডে পার্টি করে, নিজেদের মধ্যে একটা যাতায়াত বজায় রাখে। নিজেদের ভূখন্ডে এক একটা ছোট ছোট গড়িয়াহাট, হাতিবাগান, লেক মার্কেট তৈরি করে থাকে। আমার চোখে এখনই ভেসে উঠছে ছবিটা। গোটা অ্যাকাডেমিটাই যেন ফ্লোরিডা বা ক্যালিফর্নিয়াতে উঠে গিয়ে বসেছে। আমার রক্ত, আমার ভাষা। যখন অভিনয়টা করি তখন ভাষা, ভৌগলিক ব্যবধান মুছে যায়।
প্রশ্নঃ সত্যিই নাটক একটা সেতু তৈরি করে দেয়..(থামিয়ে দিয়ে)
ব্রাত্য:  এর উত্তরে রবীন্দ্রনাথকে ধার করে বলতেই হয়, শুধু আলো-আঁধারে যাওয়া  কাঁদা-সবই একটা ক্যাপসুলের মধ্যে এসে পরে। সেই ক্যাপসুলের নাম কখনও নাটক, কখনও চলচ্চিত্র কখনও গান। এনএবিসি প্রবাসী বাঙালিদের সবথেকে বড় একটা ইভেন্ট। এটা বাঙালিদের সম্মেলন। এটা একটা আন্তর্জাতিক সামিট।
প্রশ্নঃ নাটকের কথায় আসি, ‘কে’ তো একটি থ্রিলার?
ব্রাত্য: বাইরের আদলটা টানটান থ্রিলারের। কিন্তু যদি ভেতরটা দেখেন তাহলে সেখানে আমাদের দৈনন্দিন জীবন, সম্পর্ক, বেঁচে থাকা, আমাদের ট্রমা, সাফোকেশন ধরা পড়ছে। ‘কে’ নাটকের শুরুতেই ঘটে একটি খুন। আর এই খুনের সূত্র খুঁজতে গিয়েই ঘটনার ঘনঘটা, যা নাটকটিকে টান টান রাখে। অবশেষে রহস্যের জাল খুলতে নাটকে আসে গোয়েন্দা চটক চট্টরাজ। তারপরটুকু জানতে নাটকটি দেখতেই হবে।
প্রশ্নঃ বাংলা নাটক কোন দিকে যাচ্ছে বলে আপনি মনে করেন?
ব্রাত্য: আগে জিজ্ঞেস করুন, বাংলা ভাষা কী বাঁচবে? বাংলা ভাষা বাঁচলে বাংলা নাটক বাঁচবে। এনএবিসির এই ধরণের পদক্ষেপ বাংলা ভাষাকে এনরিচ করবে। আমি একটা সমস্যার কধা বলি। ধরুন, সংস্কৃতের মত ভাষা, একটি দামি ভাষা। আজ হারিয়ে গিয়েছে। বৃহ্ত্তর গণসমাজে বেঁচে নেই। যদি দু’ধরণের ভাষা হয়, একটা তথাকথিত ভদ্রলোকেদের ভাষা, যেটা ইংরেজি, আর একটা ততটা তথাকথিক ভদ্রলোক নয় তাদের ভাষা যেটা কী না বাংলা ভাষা। যদি এমন হয় তাহলে বাংলা ভাষা বাঁচবে না একসময়। সংস্কৃত যেমন বাঁচেনি, তেমনই বাংলা বাঁচবে না।
প্রশ্নঃ বাংলা থিয়েটারে ‘স্ল্যাং’ এর ব্যবহার সমর্থন করেন?
ব্রাত্য: আমার কোনও ছ্যুৎমার্গ নেই। নাটকের প্রয়োজনে স্ল্যাং ব্যবহার করা যেতেই পারে। কিন্তু সেটা যেন কখনও ভাঁড়ামো না হয়ে যায়।
প্রশ্নঃ সবশেষে একটা প্রশ্ন করি, ‘সিনেমার মত’ তে অল্প হলেও রাজনৈতিক সংলাপ ছিল। কিন্তু
‘কে’ সম্পূর্ণভাবেই রাজনৈতিক সংস্রবমুক্ত। কেন?
ব্রাত্য: আপনি আমাকে বলুন রাজনীতি মানে কী? রাজনৈতিক সংলাপ মানে যদি আপনি টিভিতে টক শোয়ের প্রো লং আলোচনা চান? আগে আপনি জেনে আসুন রাজনীতি কী আমি তারপর এই প্রশ্নের উত্তর দেব।

No comments:

Post a Comment