Monday, 16 June 2014

সারদা মামলায় অভিযুক্তক ৭ দিনের হেফাজতে নিল সিবিআই

কলকাতাঃ সারদা কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে, রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে পদে পদে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট৷ এমনকী, অভিযোগ উঠেছে, ইডি আধিকারিকের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা রুজুরও৷ সেই সব ঘটনাপরম্পরা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার সারদার বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে সতর্কভাবে এগাতো চায় সিবিআই৷ সোমবারই সিবিআইয়ের আর্জি মেনে আদালতে আলিপুর আদালতে পেশ করা  হয়েছিল মূল অবহিযুক্ত সুদীপ্ত, দেবযানী, কুণাল-সহ সারদাকাণ্ডে ধৃত ছয় অভিযুক্তকে৷ সিবিআই সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের ১০ দিন হেফাজতে নেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছিল। কিন্তু আদালত ৭ দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক৷ আগামি ২৩ তারিখ আবার বন্দিদের আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিবিআইয়ের আগে সারদা কেলেঙ্কারিতে আর্থিক তছরুপের মামলা রুজু করে, তদন্ত শুরু করে আরেক কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট৷ কিন্তু, তদন্ত শুরুর পর থেকেই, পদে পদে রাজ্য সরকারের তৈরি সিটের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছে সেই সংস্থা৷ কখনও সুদীপ্ত সেনের স্ত্রী ও পুত্রের লকারের দখল নিয়ে, কখনও ডায়মণ্ডহারবার রোডে সারদার অফিসের চাবি পাওয়া নিয়ে৷ অভিযোগের সেই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন, ইডি আধিকারিকের বিরুদ্ধে সুদীপ্ত সেনকে দিয়ে, একটি নথিতে ব্যাকডেটে সই করিয়ে নেওয়ার মিথ্যে মামলা। ইতিমধ্যেই ইডি-র তরফে মামলার বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে৷ মামলা খারিজ করার জন্য কলকাতা হাইকোর্টে একটি আবেদনও জানিয়েছে ইডি৷ চিঠি পাঠানো হয়েছে রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং মুখ্যসচিবকে৷ আইনি সহায়তা চাওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রকের কাছে৷ ইডি-র দাবি, পরিকল্পিতভাবেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যাকডেটে সই করানোর মামলা করা হয়েছে৷ কিন্তু, আখেরে এই সব টানাপোড়েনে বারবার বিলম্বিত হচ্ছে সারদা কেলেঙ্কারির তদন্ত৷ তাই সিবিআই অফিসাররা প্রথম থেকেই সতর্ক পদক্ষেপ করতে চাইছেন৷ সারদাকাণ্ডে গোড়া থেকে তদন্ত চালিয়েছে রাজ্য পুলিশের কর্তাদের নিয়ে তৈরি সিট৷ এই তদন্তে তাদের থেকেও যে প্রয়োজনীয় সাহায্য মিলতে পারে, তাও বিলক্ষণ জানেন সিবিআই কর্তারা৷ তাই রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে যতই অসহযোগিতার অভিযোগ উঠুক, তদন্তে তাঁদের পাশে নিয়েই চলতে চায় সিবিআই৷ পাশাপাশি কোথাও কোনও ছোটখাটো ভুলের জন্য যাতে অসুবিধায় না পড়তে হয়, সেব্যাপারেও তারা সদাসতর্ক থাকতে চান৷

No comments:

Post a Comment