বীরভূমঃ পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের ইলামবাজারে দলীয় সমর্থক
খুনের ঘটনাকে হাতিয়ার করে আসরে নেমে পড়ল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব৷ দিল্লি থেকে
আসা প্রতিনিধি দল রবিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে
নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছে। পাশাপাশি তৃণমূল সরকার ও প্রশাসনের
বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে সরব হয়েছে৷ নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, রাজ্যে আবার হিংসার ঘটনা ঘটলে ফের পশ্চিমবঙ্গে আসবেন তাঁরা৷ এদিনই দিল্লি ফিরে গিয়েছেন তাঁরা।
গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে রিপোর্ট দেবেন৷
সম্প্রতি, ইলামবাজারের
কুনুর গ্রামে খুন হন বিজেপি সমর্থক শেখ রহিম৷ এ দিন ওই গ্রামে যায় বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল৷ মৃতের
পরিজনদের সঙ্গে কথা বলেন বলবীর পুঞ্জ, কীর্তি আজাদ, আব্দুল রশিদরা৷ সঙ্গে ছিলেন রাজ্য নেতা তথাগত রায়, শমীক ভট্টাচার্যরা৷ মৃত দলীয় কর্মীর বাড়িতে গিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর
বার্তা দেয় বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল৷ দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা
দেওয়ার পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ও রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে
নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে সুর চড়ান বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা৷ তাঁদের হুঁশিয়ারি, আইনশৃঙ্খলা রাজ্যের বিষয় হলেও,
দিনের পর দিন হিংসার ঘটনা
ঘটলে এবং বার বার প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠলে, চুপ করে বসে থাকবে না কেন্দ্র৷ পশ্চিমবঙ্গকে হিংসামুক্ত করতে যা যা করা উচিত
সবই করা হবে৷ কীর্তি আজাদ জানিয়েছেন, তাঁরা দিল্লি
ফিরে প্রধানমন্ত্রীকে রিপোর্ট দেবেন৷
উত্তর ২৪ পরগ নার
সুন্দরবনের সন্দেশখালিতে দলীয় কর্মীরা আক্রান্ত হওয়ার পরে সেখানে গিয়েছিল বিজেপির
কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল৷ তারপর এবার ইলামবাজার৷ বলবীর পুঞ্জদের হুঁশিয়ারি, দলীয় কর্মীরা আক্রান্ত হলে ফের পশ্চিমবঙ্গে আসবে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব৷ তৃণমূল
অবশ্য বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের বারবার রাজ্যে আসার পিছনে রাজনৈতিক
উদ্দেশ্য দেখছে৷
এ বারের লোকসভা ভোটে রাজ্যে অনেকটাই শক্তি বৃদ্ধি করেছে বিজেপি৷ এখন তাদের
পাখির চোখ ২০১৬র বিধানসভা ভোট৷ সে দিকে তাকিয়েই কৌশলী দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব৷
রাজ্যে প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে তারা যেমন দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিচ্ছে, তাঁদের মনোবল চাঙ্গা করার চেষ্টা করছে, তেমনই চাপ
বাড়াতে চাইছে মমতার সরকার ও প্রশাসনের উপর৷ এমনটাই ধরণা রাজনৈতিক মহলের একাংশের৷

No comments:
Post a Comment