Monday, 30 June 2014

লন্ডন থেকে দিল্লি ফেরার বিমানে খোয়া গিয়েছে আমজাদ আলি খানের সরোদ

দিল্লিঃ ওস্তাদ আমজাদ আলি খানের সরোদ উধাও! ৪৫ বছর ধরে তিনি যে সরোদটি বাজিয়ে একাধিক সঙ্গীত-রসিককে সুরের ঝর্নায় ভাসিয়ে দিয়েছেন, একের পর এক সঙ্গীতের আসর মাতিয়েছেন, সেটিই খোয়া গিয়েছে তিনি ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে লন্ডন থেকে দিল্লি ফেরার সময় 

‘পদ্মবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত শিল্পীর প্রতিটি মূহূর্ত কাটছে চরম উত্কণ্ঠা, সাধের যন্ত্র কাছে না থাকার যন্ত্রনায়। ২১ জুন রবীন্দ্রনাথের স্মরণে ডার্টিংটনে এক অনুষ্ঠানে বাজানোর জন্য স্ত্রী শুভলক্ষ্মীকে নিয়ে লন্ডনে গিয়েছিলেন প্রখ্যাত সরোদশিল্পী।সেখান থেকে ২৮ জুন রাতে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের (বিএ-১৪৩) ফার্স্ট ক্লাস ফ্লাইটে দিল্লি ফেরেন তাঁরা।সংবাদ সংস্থাকে আমজাদ বলেছেন, দিল্লি বিমানবন্দরে নেমে আমার মহামূল্যবান সরোদটা ফিরে পাইনি।বিমান সংস্থার কর্মীরা খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন।বিমানবন্দরে আমরা অপেক্ষা  ৪-৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করি।না পেয়ে তাঁরা বলেন, সম্ভবত পরের ফ্লাইটে সেটি আসছে। কিন্তু আজ ৪৮ ঘণ্টা হয়ে গেল কোনও খবর নেই আমার সরোদের।এত বড় এক বিমানসংস্থা কী করে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করতে পারে! ব্রিটিশ বিমান সংস্থাটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলে, হিথরো এয়ারপোর্টের টার্মিনাল ৫-এ মালপত্র রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে অনেকদিন ধরেই সমস্যা হচ্ছে।তবে আমরা প্রতিটি মূহূর্ত খোঁজাখুঁজি করছি, যাত্রীদের যাঁর যাঁর মালপত্র তাঁর তাঁর কাছে পৌঁছে দেওয়া সুনিশ্চিত করতে চেষ্টার ত্রুটি রাখছি না।বিমান সংস্থাটির জনৈক মুখপাত্র বলেন, খোঁজাখুঁজির জন্য যত সময় লাগবে বলে ভাবা গিয়েছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে।আমরা ওনার অসুবিধার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। প্রিয় সরোদ ফিরিয়ে দিতে না পারায় ক্ষতিপূরণ চান না। সুরসাধক সরোদ-বাদক তিনি বিমান সংস্থাটির কাছে ক্ষোভ জানিয়ে বলেছেন, আমার সরোদটা খুঁজে বের করে ফেরত দিলেই হবে।ক্ষতিপূরণ লাগবে না।তিনি জানান, লন্ডনেই বিমান  সংস্থাটির কর্মীদের তিনি সাবধানে ।যত্ন সহকারে সরোদটি রাখতে বলেছিলেন কেননা ওটা আমার প্রাণ, আমার জীবন।কিন্তু শেষে এই পরিণতি! সরোদ কাছছাড়া।আমজাদের কথায় ঝরে পড়ল হতাশা, অভিমান।আমি শিল্পী।ওই সরোদটাই ৪৫ বছর ধরে জগতের সঙ্গে কথা বলার মাধ্যম।সেটি কাছে না থাকলে আমি কীভাবে নিজেকে প্রকাশ করব?

এদিকে সূত্রের খবর, যে পদ্ধতিতে এ ধরনের মহামূল্যবান সামগ্রী প্যাকিংয়  করা হয়ে থাকে, চেক-ইন-লাগেজে পাঠানোর আগে আমজাদের সরোদটিও সেভাবেই মুড়ে ফেলা হয়েছিল

No comments:

Post a Comment