Tuesday, 10 June 2014

বিমানকে ঘর সামলানোর পরামর্শ, সিপিএমকে অক্সিজেন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার কৌশল মমতার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিজেপির উত্থানে যে তিনি সিদুঁরে মেঘ দেখছেন, তা সোমবার রাজ্যের প্রশাসনিক ভবন নবান্নয়, বাম প্রতিনিধি দলের সামনে কার্যত প্রকাশ করে ফেললেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এ দিন, তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগে, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে যায় বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসুর নেতৃত্ব বাম প্রতিনিধি দল৷ সেই বৈঠকেই বিজেপিকে রুখতে বাম নেতাদের ঘর সামলানোর পরামর্শ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ সূত্রের খবর, বিমান বসুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমার দলকে আমি দেখে নিচ্ছি৷ বিজেপি-মোদিকেও দেখে নেব৷ কিন্তু, আপনাদের দল থেকে এত লোক বিজেপিতে যাচ্ছে কেন? এটা সামলান৷ অধীর চৌধুরী এত ভোটে জেতেন কীভাবে? আপনাদের ভোট পেয়েছেন অধীর চৌধুরী৷ নিজেদের ঘর সামলান৷’
অতীতে বামেরা একাধিকবার সন্ত্রাসের অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সময় চাইলেও, তখন সাক্ষাতের অনুরোধ খারিজ করে দেন তিনি৷ তাহলে, হঠাৎ এমন কী হল, যে নিজের দলের বিরুদ্ধেই সন্ত্রাসের অভিযোগ শুনতে রাজি হয়ে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! শুধু অভিযোগই শুনলেন না, যে সিপিএমের ঘর ভাঙলে তিনি এতদিন খুশি হতেন, সেই সিপিএমকেই ঘর সামলানোর পরামর্শ দিলেন! রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, বামেদের প্রতি মমতার এই পরিবর্তিত মনোভাবের পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক অঙ্ক৷ আর সেই অঙ্ক হল, বিজেপির উত্থ্বান আটকাতে মৃতপ্রায় সিপিএমকে অক্সিজেন যুগিয়ে বাঁচিয়ে রাখা৷ কারণ, সিপিএম রাজ্য রাজনীতিতে পুরোপুরি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেলে আলিমুদ্দিন যেমন হতাশার অন্ধকারে তলিয়ে যাবে, তেমনই চিন্তা বাড়বে তৃণমূলেরও৷ এর কারণ হিসাবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ভোট শতাংশ এক লাফে প্রায় ১৭ শতাংশ হয়ে যাওয়ার পর, বহু জায়গাতেই সিপিএম থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার খবর আসছে৷ আর এমনটা চলতে থাকলে, ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনের আগে যদি বিরোধী ভোটের পুরোটাই কার্যত বিজেপির দিকে চলে যায়, সেক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে পারে তৃণমূল৷ কারণ, পর্যবেক্ষকদের মতে, বিরোধী ভোট ভাগভাগি হওয়ার জেরেই এবার ৩৯ শতাংশ ভোট পেলেও, ৪২টির মধ্যে ৩৪টি লোকসভা আসনেই জিতেছে তৃণমূল৷ উল্টোদিকে বিরোধীরা প্রায় ৬১ শতাংশ ভোট পেলেও, তা ভাগাভাগি হওয়ায় তারা মাত্র ৮টি আসন পেয়েছে৷ আর এই পরিস্থিতিতে বামেদের ভোটবাক্সে ধস অব্যাহত থেকে যদি ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনের আগে তার সিংহভাগটাই বিজেপিতে চলে যায়, তাহলে আর এবারের মতো বিরোধী ভোট ভাগাভাগি হবে না৷ সেক্ষেত্রে আসন সংখ্যার নিরিখে বিজেপির শক্তি এক ধাক্কায় আরও অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে৷ কারণ, এবারের লোকসভা নির্বাচনের ফল থেকেই স্পষ্ট, যেখানেই সিপিএমের ভোট অত্যাধিক হারে কমেছে, সেখানে ভোট বাড়িয়ে তৃণমূলের ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলেছে বিজেপি৷ আসালসোলে পদ্ম ফোটার কারণও সেটা৷ তাই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপির সামনে দেওয়াল হিসাবে দাঁড় করাতেই সিপিএমকে অক্সিজেন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে চাইছেন মমতা৷ সে কারণেই বাম প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দেখা করার তাঁর এই সিদ্ধান্ত৷ কারণ, সিপিএম শেষ হয়ে গেলে, তৃণমূলের দাপটও ভবিষ্যতে কমবে৷ এমনটাই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ৷

No comments:

Post a Comment