Sunday, 8 June 2014

সুন্দরবনে চলছে নতুন করে বাঘ গণনা


সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা নিয়ে জটিলতা আজও কাটেনি। বাঘের প্রকৃত সংখ্যা জানার বিষয় নিয়ে বনকর্তাদের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে দেশের বাঘ বিশেষজ্ঞ এবং বন ও বন্যপ্রাণী নিয়ে কর্মরত বিভিন্ন এনজিও-রা। বিভিন্ন আলোচনা সভা এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বারবার প্রশ্ন ওঠায় রীতি মতো সমস্যায় পড়তে হয় রাজ্যের বনকর্তাদের। সেই অস্বস্তি কাটাতে ২ মে থেকে সুন্দরবনে নতুন করে শুরু বাঘ গণনা। এবং তা কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে। প্রথম পর্যায়ে চলেছে ২৫ মে পর্যন্ত। এর আগেও বন দফতরের ইচ্ছায় বছর খানেক আগে বেসরকারি ভাবে ডব্লু ডব্লু এফ সংস্থা-কে দিয়ে গণনা করিয়ে ১০৩ বাঘের সংখ্যা খোঁজ পাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাতে সংশয় রয়ে গিয়েছে কেন্দ্রীয় বাঘ বিশেষজ্ঞদের। সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের অধিকর্তা সৌমিত্র দাসগুপ্ত বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের ওয়াইল্ড লাইফ ইন্সটিটিউট অব ইন্ডিয়া (ডব্লু আই আই) সংস্থা ক্যামেরা বসিয়ে বাঘের বিভিন্ন অবগশের ছবি নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বাঘের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করবে।’ সেই কারণে পীরখালি’র জঙ্গলে (সজনেখালি)-র চার পাশে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা বসানো হচ্ছে।
     সুন্দরবনে আদতে বাঘের সংখ্যা কত? তা নিয়ে সরকারি এবং বেসরকারি মহলে নানা মতবিরোধ রয়েছে। ২০০৪ সালে চিরাচরিত পদ্ধতিতে সর্বশেষ বাঘ গনণা হয়েছিল। সেই হিসাব অনুসারে ২৭৪ টি বাঘ ছিল। কিন্তু তাতে বিস্তর জল মেশানো হয়েছিল বলে বাঘ বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছিলেন। তা নিয়ে দেশ জুড়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছিল। ২০০৬ সালে নতুন করে বাঘ গণনা শুরু হলেও তা আর শেষ করা হয়নি। এদিকে বিতর্ক এড়াতে রাজের বন কর্তারা ডব্লু ডব্লু এফ-কে দিয়ে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা বসিয়ে বাঘ গনণা করে আনুমানিক সংখ্যা জানিয়েছিল। কিন্তু তাতেও অনেক খাদ মেশানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাই সংখ্যাটা যাঁচাই করতে কেন্দ্রীয় সরকার নিজেই উদ্যোগী হয়ে এগিয়ে এসেছে।

No comments:

Post a Comment