কলকাতাঃ নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিমান বসুর নেতৃত্বে বাম প্রতিনিধি দলের বৈঠক
ঘিরে চলছে বিস্তর জলঘোলা৷ ঘরে-বাইরে,
দলের কর্মী-সমর্থকদের একাংশের সমালোচনার মুখে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান৷ তবে
নবান্নে বিমান বসুকে দেওয়া মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের ৪৮ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই
সিপিএমের ঘরছাড়াদের নিয়ে কিছুটা নরম মনোভাব নিতে চলেছে তৃণমূল৷ বুধবার, বিধানসভায় পার্থ
চট্টোপাধ্যায়ের ঘরে উত্তর ২৪ পরগনা,
হুগলি, বর্ধমান, বীরভূম, নদিয়া-সহ বেশ
কিছু জেলার দলীয় সভাপতি ও বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক
মুকুল রায়৷ সূত্রের খবর, এই বৈঠকে
মুকুল রায় বার্তা দেন, সিপিএম-সহ
বিরোধী দলের ঘরছাড়ারা ঘরে ফিরলে সেক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা চলবে না৷
প্রশাসন প্রশাসনের মতো কাজ করবে৷ তবে,
কোথাও শাসক দলের কর্মীরা মার খেলে সিপিএম-কংগ্রেস-বিজেপি সবার সঙ্গেই একই
মনোভাব নিয়ে রাজনৈতিক মোকাবিলা করবে তৃণমূল৷ এক্ষেত্রে, কাউকে ছেড়ে কথা
বলা হবে না৷ এ দিকে, রাজ্য
জুড়ে দলীয় কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন,
এই অভিযোগে এ দিন দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ সুপার ও জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি
জমা দেন সুজন চক্রবর্তী৷ এ দিনই,
বর্ধমানের খণ্ডঘোষে দুই সিপিএম নেতা আক্রান্ত হন৷ এই প্রসঙ্গ টেনে বিরোধী
দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন,
প্রশাসনের উপর তাঁদের কোনও ভরসা নেই৷ নবান্নের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ধর্মঘটের আগে
যেমন নোটিস দেওয়া হয়, তেমনই
আন্দোলনে নামার আগে, মুখ্যমন্ত্রীকে
নোটিস দিয়েছে বামেরা৷
এদিকে, রাজ্যে বিজেপির বাড়বাড়ন্ত ঠেকাতে, এ দিনের বৈঠকে, সমস্ত দলীয় জেলা
সভাপতিকে সতর্ক করে দেন মুকুল রায়৷ একইসঙ্গে তাঁর বার্তা, দলের পুরনো
কর্মীরা যাতে দল না ছাড়েন,
সে জন্য তাঁদের যথাযোগ্য মর্যাদা দিতে হবে৷ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সিপিএম সম্পর্কে
অপেক্ষাকৃত নরম মনোভাব নেওয়ার যে বার্তা তৃণমূল দিচ্ছে তার পিছনে মূলত দু’টি
লক্ষ্য রয়েছে৷ প্রথমত, বাম
শীর্ষ নেতৃত্বকে দেওয়া মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসকে বাস্তবে পরিণত করা যাবে৷ আবার, আক্রান্ত সিপিএম
কর্মীরা প্রশাসনের কাছে সুবিচার না পেয়ে যাতে বিজেপিতে চলে না যায়, তাও রোখা যাবে৷

No comments:
Post a Comment