Tuesday, 17 January 2017

ছিলেন মহিলা, হয়ে গেলেন পুরুষ। তার পরেই আশ্চর্য পরিবর্তন জীবনে

‘লিঙ্গ-পরিচয়ই কি মানুষের এক মাত্র পরিচয়? অন্য মানুষকে কি আমরা কেবল নারী কিংবা পুরুষ হিসেবে চিনি? প্রত্যেকের নিজস্ব নাম রয়েছে, পদবী রয়েছে, পদ রয়েছেট্রান্সজেন্ডারদেরও তেমনটা রয়েছেতাঁদের সুখ-দুঃখ অনুভূতি আর পাঁচটা মানুষের থেকে আলাদা কিছু নয়ট্রান্সজেন্ডারদের সম্মান করতে শেখো।’ এক দল স্কুল পড়ুয়ার সামনে দাঁড়িয়ে বলছিলেন ইন্দোরের ছেলে কবীর গাওয়ালনিজন্মগত ভাবে নারী হলেও, অপারেশনের মাধ্যমে যিনি পুরোদস্তুর পুরুষে রূপান্তরিত হয়েছেন কয়েক মাস আগে
কবীরের জীবন এক নিরন্তর লড়াইয়ের উপাখ্যানস্কুল জীবনেই তিনি উপলব্ধি করেন যে, দৈহিক বৈশিষ্ট্যে নারী হলেও নারী-পরিচিতি তাঁর পছন্দ নয়নিজের বাবা-মাকে তিনি বলেছিলেন তাঁর এই উপলব্ধির কথাকিন্তু প্রথমটায় তাঁরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননিতাতে হাল ছাড়েননি কবীরবহু কষ্টে নিজের সমস্যাটা বাবা-মাকে বোঝাতে তিনি সক্ষম হন। 
কিন্তু পরিবারের বাইরেও এক বৃহত্তর সমাজ রয়েছেসেই সমাজ এত সহজে সবটুকু বুঝতে চায় নাইঞ্জিনিয়ারিং-এর ডিগ্রি পাওয়ার পরে কবীর যখন এক নামী মাল্টি ন্যাশনাল সফটওয়্যার কোম্পানিতে চাকরি পান, সেখানেও নিয়মিত সহকর্মীদের হাসি-মস্করার সম্মুখীন হতে হয় তাঁকে। ‘ছেলেসুলভ’ মেয়েটির দিকে ভেসে আসতে থাকে নানা কটূক্তিসাধ্যমতো তার প্রতিবাদ করতেন কবীরতাতে তাঁর নৈমিত্তিক অপমানের তীব্রতা কম হলেও একেবারে বন্ধ হয়নি। 
শেষমেশ মাস আটেক আগে মন শক্ত করে কঠিন সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেলেন কবীরসিদ্ধান্ত নেন, মন থেকে তো ছিলেনই, শারীরিক পরিচিতিতেও এ বার পুরুষ হয়ে উঠবেন তিনিজেন্ডার চেঞ্জ অপারেশন করিয়ে তিনি হয়ে উঠলেন পুরোদস্তুর পুরুষ। 

এখন কেমন কাটছে তাঁর জীবন? কবীর বলছেন, জীবনে পরিবর্তন এসেছেএখন পুরুষ হিসেবেই তাঁকে চেনে মানুষজনআগের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন, চালাচ্ছেন নিজস্ব এনজিওটুকটাক কটূক্তি এখনও ভেসে আসে তাঁর দিকে, কিন্তু তার পরিমাণ কমে গিয়েছেঅনেক মেয়ের সঙ্গে এখন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুতা। 
নিজের কাজ নিয়ে এখন মেতে রয়েছেন কবীরপাশাপাশি স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে চালাচ্ছেন ট্রান্সজেন্ডারদের সম্পর্কে প্রচারতিনি নিজে যে অপমান সয়েছেন, তা যেন আর কাউকে সহ্য করতে না হয়— সেটাই নিশ্চিত করতে চান কবীর গাওয়ালনি


No comments:

Post a Comment