Wednesday, 11 January 2017

‘ মহুয়া কি মহুয়া খেয়ে বসে আছেন ?’ টেলিভিশনে মন্তব্য করে বিপাকে বাবুল সুপ্রিয়


‘মহুয়া কি মহুয়া খেয়ে বসে আছেন ?’ এক সর্বভারতীয় টিভি চ্যানেলের এই মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে বিজেপ্র সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশের কাছে ইভিযোয় দায়ের করেছেন তৃণমূল মহিলা বিধায়ক মহুয়া মৈত্র।
এবার সম্মুখ সমরে তৃণমূল বিজেপি। হাজারো চিৎকারেও যখন বাবুল সুপ্রিয়কে রোজ ভ্যালি কাণ্ডে বাগে আনা যাচ্ছে না তখন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর ওই মন্তব্যকে হাতিয়ার করল তৃণমূল। আলিপুর থানায় বাবুলের নামে অভিযোগ দায়ের করলেন তৃণমূল বিধায়ক মহুয়া মৈত্র। যাঁর বিরুদ্ধে ওই মন্তব্য করেছিলেন বাবুল। মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মহিলার উদ্দেশে অপমানজনক শব্দ প্রয়োগের অভিযোগ। মহুয়ার গোপন জবানবন্দিও নিয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট। অন্যদিকে মহুয়ার বিরুদ্ধে সম্মানহানির মামলার নোটিস জারি বাবুল সুপ্রিয়র |

এই প্রসঙ্গে বাবুল জানিয়েছেন তিনি নিছক মজা করে কথাগুলো বলেছিলেন। কারণ মহুয়া নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছিলেন। মহুয়ার দাবি তাঁর সঙ্গে বাবুলের অন্তরঙ্গতা নেই। ওই ধরনের মন্তব্য তাঁর মনে হয়েছে যেকোনও মহিলার প্রতি অপমানজনক।
বিতর্কে জড়িয়ে পড়া মহুয়ার কাছে নতুন নয়। বছর দুয়েক  আগে টাইমস নাউ-এর শোয়ে তিনি অধৈর্য হয়ে মধ্যমা দেখান অর্ণব গোস্বামীকে। মহুয়া বারবার নিজের কথা শেষ করতে দিতে অনুরোধ করছিলেন অর্ণবকে। একসময়ে মেজাজ হারিয়ে তিনি অর্ণবকে বলেন ‘You should talk to yourself, and not invite anybody on your show. Arnab, keep talking. This is a one-man show.’ টিভিতে স্পষ্ট দেখা যায় তিনি মধ্যমা দেখাচ্ছেন সঞ্চালককে। তবে এর জন্য শো বন্ধ হয়নি। অর্ণব কোনও মন্তব্যও করেননি। কিছুদিন পরে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়।
মহুয়ার উত্থান বেশ চমকপ্রদ। ম্যাসাচুসেটসের মাউন্ট হোলিওকে কলেজ থেকে অর্থনীতি এবং গণিতে স্নাতক মহুয়া আন্তর্জাতিক সংস্থায় আর্থিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন লন্ডন ও নিউইয়র্কে। রাজনীতিতে যোগ দেবেন বলে ছেড়ে দেন জে পি মর্গ্যান-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট পদের লোভনীয় চাকরি।

২০০৮ সালে মহুয়া ছিলেন যুব কংগ্রেসের সদস্য। রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মহুয়া কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন ২০১০-এ। গত বিধানসভা নির্বাচনে তিনি জয়ী হন করিম পুর কেন্দ্র থেকে। রাজনীতির বাইরে অন্য মহলেও মহুয়া পরিচিত নাম Verve পত্রিকার বিচারে তিনি বাংলার ‘ Most charming womn’ সুতির শাড়ি হোক বা পাশ্চাত্য পোশাক। সঙ্গে মহার্ঘ্য ব্র্যান্ডেড ব্যাগ নিয়ে তিনি সবসময় স্টাইলিশ ও ক্যারিশ্ম্যাটিক। নির্বাচনের মনোনয়ন দাখিলের সময়ে মহুয়া জানিয়েছিলেন তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ আড়াই কোটি টাকার। ২০১৫-১৬ আর্থিক বর্ষে তাঁর উপার্জন ছিল সাড়ে পাঁচ লাখের কম।

No comments:

Post a Comment