চেন্নাইয়ের মেরিনা বিচে হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদ জানাচ্ছেন জাল্লিকাট্টু আইনসিদ্ধ করার দাবিতে। তামিলনাড়ুর সংস্কৃতির সঙ্গে নাকি জড়িয়ে রয়েছে জাল্লিকাট্টুর ঐতিহ্য।
চেন্নাইয়ের মেরিনা বিচে হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদ জানাচ্ছেন জাল্লিকাট্টু আইনসিদ্ধ করার দাবিতে। তামিলনাড়ুর সংস্কৃতির সঙ্গে নাকি জড়িয়ে রয়েছে জাল্লিকাট্টুর ঐতিহ্য। ২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল জাল্লিকাট্টুর মতো নৃশংস খেলা চলতে দেওয়া যেতে পারে না। এখন রাজ্যের মানুষের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ঠেলায় তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও পনীরসেলভম আলোচনা করে এলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে। বিতর্কের তীব্রতা বুঝতে পারছেন তো!
ইয়েরু থাজুভুথল, অর্থাত্ 'চেজিং দ্য বুল'! এই নামই ছিল প্রাচীন খেলাটির। সাল্লি (কারও মতে জাল্লি) মানে মুদ্রা, কাট্টু মানে ব্যাগ। ঝুলিভর্তি কয়েন আর কী! কয়েন বাঁধা থাকত ষাঁড়ের শিঙে, যেগুলো জেতার পর বিজয়ী পেত। খেলার আরেক জনপ্রিয় নাম মাঞ্জু ভিরাট্টু। পোঙ্গলের সময় জাল্লিকাট্টু খেলা হয়।
প্রায় দু'হাজার বছরেরও পুরনো ট্র্যাডিশন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, খেলাটা এখন আর সে রকম নেই। ষাঁড়ের উপর বাজি লাগানো শুরু হওয়াই যত নষ্টের গোড়া। তার সঙ্গে এসে জোড়ে জাত্যাভিমানও। ১৮৯৩ সালে লেখা বি আর রাজম আইয়ারের উপন্যাস 'কমলম্বল চরিথিরম'এ দেখানো হয়েছে, কীভাবে এক জমিদারের ষাঁড় খেলায় হেরে যাওয়ায় সে জ্যান্ত অবস্থায় তার চামড়া খুলে নেয়!
ষাঁড়ের কুঁজ ছুঁয়ে থাকতে হয় নির্দিষ্ট সময় ধরে কিংবা দূরত্ব বজায় রেখে। ষাঁড়টিকে বাগে আনতে প্রতিযোগীরা তার শিং এবং লেজ ধরার চেষ্টা করে। কোনও খেলায় ষাঁড়কে লম্বা দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। একদল লোক তাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে।
ওয়াল স্ট্রিটের বুল নয়, এ হল খাঁটি দিশি! আগে এক ঝুলি কয়েন থাকত
পুরুষত্বের খেলা জাল্লিকাট্টু। ষাঁড়কে বাগে আনা মানেই 'আই অ্যাম দ্য ম্যান' বলে চেল্লাতে পারেন! তামিল ইতিহাস সে কথাই বলছে।
দ্রাবিড় সাহিত্যে জাল্লিকাট্টু বিজয়ী সুযোগ পেত গ্রামের মোড়লের মেয়েকে বিয়ে করার। বিভিন্ন কবিতায় উল্লেখ রয়েছে, কীভাবে একটি মেয়ে জাল্লিকাট্টু জয়ীর প্রেমে পড়ত।
কাঙ্গয়ম ব্রিডের ষাঁড়ই জাল্লিকাট্টু লড়ার যোগ্য। আর কোনও ষাঁড়ের সেই ভাগ্য নেই। কাঙ্গয়ম ষাঁড় মানেই ভয়ঙ্কর। সামান্যতম উস্কানি পেলেই এরা হামলা করে। আরেক ধরনের ষাঁড় রয়েছে, যার ব্রিড বাঙ্গুর। এরা আবার প্রচণ্ড গতিশীল। কাঙ্গয়ম ষাঁড়ের ব্যবসা তামিলনাড়ুতে রীতিমতো লাভজনক। ১৯৯০ সালে প্রায় এক লক্ষ কাঙ্গয়ম ষাঁড় ছিল, যেটা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৫ হাজারে। জাল্লিকাট্টুর সমর্থকদের দাবি, খেলাটা বন্ধ হয়ে গেলে এই সংখ্যাটাও থাকবে না। পুরো একটা ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ হয়ে যাবে। তামিলনাড়ুর দেশি ষাঁড়দের নাকি সত্যিই কেউ কৃষিকাজে ব্যবহার করতে চাইছে না। তাদের কসাইখানায় বেচে দেওয়া হচ্ছে। এভাবে অনেক প্রজাতি বিলুপ্তও হয়ে গিয়েছে।
প্রায় দু'হাজার বছরেরও পুরনো ট্র্যাডিশন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, খেলাটা এখন আর সে রকম নেই। ষাঁড়ের উপর বাজি লাগানো শুরু হওয়াই যত নষ্টের গোড়া। তার সঙ্গে এসে জোড়ে জাত্যাভিমানও। ১৮৯৩ সালে লেখা বি আর রাজম আইয়ারের উপন্যাস 'কমলম্বল চরিথিরম'এ দেখানো হয়েছে, কীভাবে এক জমিদারের ষাঁড় খেলায় হেরে যাওয়ায় সে জ্যান্ত অবস্থায় তার চামড়া খুলে নেয়!
ষাঁড়ের কুঁজ ছুঁয়ে থাকতে হয় নির্দিষ্ট সময় ধরে কিংবা দূরত্ব বজায় রেখে। ষাঁড়টিকে বাগে আনতে প্রতিযোগীরা তার শিং এবং লেজ ধরার চেষ্টা করে। কোনও খেলায় ষাঁড়কে লম্বা দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। একদল লোক তাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে।
ওয়াল স্ট্রিটের বুল নয়, এ হল খাঁটি দিশি! আগে এক ঝুলি কয়েন থাকত
পুরুষত্বের খেলা জাল্লিকাট্টু। ষাঁড়কে বাগে আনা মানেই 'আই অ্যাম দ্য ম্যান' বলে চেল্লাতে পারেন! তামিল ইতিহাস সে কথাই বলছে।
দ্রাবিড় সাহিত্যে জাল্লিকাট্টু বিজয়ী সুযোগ পেত গ্রামের মোড়লের মেয়েকে বিয়ে করার। বিভিন্ন কবিতায় উল্লেখ রয়েছে, কীভাবে একটি মেয়ে জাল্লিকাট্টু জয়ীর প্রেমে পড়ত।
কাঙ্গয়ম ব্রিডের ষাঁড়ই জাল্লিকাট্টু লড়ার যোগ্য। আর কোনও ষাঁড়ের সেই ভাগ্য নেই। কাঙ্গয়ম ষাঁড় মানেই ভয়ঙ্কর। সামান্যতম উস্কানি পেলেই এরা হামলা করে। আরেক ধরনের ষাঁড় রয়েছে, যার ব্রিড বাঙ্গুর। এরা আবার প্রচণ্ড গতিশীল। কাঙ্গয়ম ষাঁড়ের ব্যবসা তামিলনাড়ুতে রীতিমতো লাভজনক। ১৯৯০ সালে প্রায় এক লক্ষ কাঙ্গয়ম ষাঁড় ছিল, যেটা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৫ হাজারে। জাল্লিকাট্টুর সমর্থকদের দাবি, খেলাটা বন্ধ হয়ে গেলে এই সংখ্যাটাও থাকবে না। পুরো একটা ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ হয়ে যাবে। তামিলনাড়ুর দেশি ষাঁড়দের নাকি সত্যিই কেউ কৃষিকাজে ব্যবহার করতে চাইছে না। তাদের কসাইখানায় বেচে দেওয়া হচ্ছে। এভাবে অনেক প্রজাতি বিলুপ্তও হয়ে গিয়েছে।
২০০৪ সালে পিটা (পিপল ফর দি এথিক্যাল ট্রিটমেন্ট অফ অ্যানিম্যাল্স) এবং অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার বোর্ড অফ ইন্ডিয়া জাল্লিকাট্টু বন্ধ করার দাবি তোলে। সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, 'শারীরিক গঠনের দিক দিয়ে ষাঁড়েরা এই ধরনের কাজের জন্য নয়, জোর করে এই খেলায় অংশ নেওয়ালে তাদের কষ্ট হয়'। তামিল সেন্টিমেন্ট কিন্তু সে কথা বলে না। তামিলদের মতে, জাল্লিকাট্টু ঐতিহ্যের বাহক, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে 'বুল টেমিং' চলে আসছে। ২০১৬ সালে তামিলনাড়ু সরকার রিভিউ পিটিশন দাখিল করে ব্যান তুলে নেওয়ার আর্জি জানিয়ে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী পনীরসেলভমও ব্যাপারটা নিয়ে লড়ছেন। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নাকি বলেছেন, ভেবে দেখবেন আগামী পোঙ্গলে জাল্লিকাট্টু খেলতে দেওয়ার আর্জি নিয়ে। মাদ্রাজ হাইকোর্ট অবশ্য সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এতে হস্তক্ষেপ করবে না।

No comments:
Post a Comment