Thursday, 25 June 2015

ব্যবসার খাতিরে বাঁকুড়ায় পরিযায়ী পাখি মারছে শিকারীরা
‘থাইমেট’ নামক রাসায়নিক ব্যবহার, সংকটে মানুষ ও জীব বৈচিত্র্য
কলকাতা সংবাদদাতাঃ পরিযায়ী পাখিদের আগমন পর্যটন শিল্পের অন্যতম আর্থিক ভরসা জোগাত এক সময়। এখন সেই পাখিরাই বিপন্ন হয়ে যেতে বসেছে। আর সেটা হচ্ছে মানুষের লোভে। এই পরিযায়ীদের মারার জন্য ব্যবহার হচ্ছে থাইমেট বা 'ফোরেট টেন জি' নামে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ। সেই মরা পাখির মাংস বিক্রি হচ্ছে বাঁকুড়ার বাজারে। কপালে ভাঁজ পড়েছে সেখানকার পরিবেশ দফতর ও পরিবেশপ্রেমীদের।
কীভাবে হচ্ছে এই বিষ প্রয়োগ? প্রথমে ফড়িং ধরে তার পেট চিরে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে কৃষি রাসায়নিক থাইমেট নামক বিষ। সেই ফড়িং যখন দামোদরের জলে ভাসে, তখন পরিযায়ী পাখিরা ওই ফড়িং খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ওড়ার ক্ষমতা না থাকায় ভেসে যাচ্ছে জলে। আর ওঁৎ পেতে সেই পাখিদের শিকার করতে অপেক্ষায় থাকে শিকারিরা। তারপর তারা সেই পাখিদের পানাগড়, গলসী, বুদবুদ, রণডিহা বাজারে ৪০০-৫০০ টাকায় বিক্রি করে। এ তো গেল পরিযায়ী পাখিদের ধ্বংসের কথা। মানুষের রক্তেও যদি সামান্য পরিমাণ ওই রাসায়নিক পদার্থ মিশে যায়, তাতে মৃত্যু হতে পারে ওই মাংস ভক্ষণকারী মানুষেরও। এমনটাই জানাচ্ছেন কৃষি রাসায়নিক বিক্রেতারা। পাখি ধরার সঙ্গে সঙ্গেও যদি তাদের পাকস্থলী কেটে বাদ দিয়েও দেওয়া হয়, তবু আশঙ্কা একটা থেকেই যায় বলে মনে করছেন বিক্রেতারা। কারণ কিছুটা হলেও ওই বিষ পাখির শরীরে থেকে যাচ্ছে, যা অজান্তে ছড়িয়ে পড়ছে মানুষের শরীরে।
জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় মূলত ব্রাহ্মণী হাঁস ও নর্দান পিন্টেল হাঁস নামের পরিযায়ী পাখিরা আসে। থাইমেট দিয়ে এদের মেরে ফেলার ফলে প্রথমত পরিযায়ী পাখিদের সংখ্যা কমবে। দ্বিতীয়ত এই মাংস খাওয়ার ফলে মাংসে থেকে যাওয়া অবশিষ্ট বিষে মানুষের নিউরো ট্রান্সমিশন ব্যবস্থা ব্যহত হয়। হৃদ্‌স্পন্দন ব্যহত হয়। মানুষের মৃত্যুও হয়। এই বিষের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে লিভার, কিডনি, পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিবেশবিদদের মতে, এইভাবে পাখি নিধন চলতে থাকলে পরিযায়ীদের আসাই কমে যাবে, জীববৈচিত্র্যও বিপন্ন হবে।

No comments:

Post a Comment