Wednesday, 24 June 2015


শিশু পাচার করে পরিচারিকা থেকে কোটিপতি,
ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেফতার অভিযুক্ত

রাঁচি সংবাদদাতাঃ লতা লাকরা কাজ করতেন পরিচারিকার, কিন্তু শিশু পাচার করে তিনি আজ কোটি টাকার সম্পত্তির মালকিন। সোমবার রাতে রাঁচি শহর থেকে কিছু দূরে কানহাতে তাঁর বিশাল বাংলো বাড়ি থেকে পুলিশ লতাকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে দেড় হাজার নাবালিকাকে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

সমাজ তাঁকে চেনেন একজন সাধারণ পরিচারিকা হিসেবে, যাঁর স্বামী ধানবাদের কয়লা খনিতে কাজ করা একজন সাধারণ শ্রমিক। কিন্তু লতা লাকরা নামের সেই পরিচারিকার দিল্লি সহ ঝাড়খণ্ডের কানহা ও পুনদাগে কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে। এছাড়াও এই তিন জায়গায় বিশাল বাংলো বাড়ির অধিকারী এই মহিলা। দিল্লিতে তাঁর পরিচারিকা সরবরাহ করার সংস্থাটিও বেশ বড়, চারটি তলা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংস্থাটি। যদিও লতার দাবি তাঁর সংস্থা একটি তলাতেই আছে এবং সেটাও নাকি ২০০৯ সালে বন্ধ হয়ে গেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, জেরার সময় লতা দেড়শো জন নাবালিকাকে পরিচারিকার কাজে যোগ দেওয়ানোর কথা স্বীকার করলেও, শিশু পাচারের কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন প্রত্যেক নাবালিকার মাথা পিছু তিনি চার হাজার টাকা করে কমিশন পান।

লতা জানিয়েছেন, তিনি ২০০০ সালে দিল্লিতে একজন সাধারণ পরিচারিকা হিসেবে কাজে যোগ দেন, কিন্তু তার দুবছরের মধ্যেই তিনি নিজের প্লেসমেন্ট সংস্থা খুলে ফেলেন দিল্লিতে। তারপর বাড়ি গাড়ি সবই করেন দিল্লি সহ ঝাড়খণ্ডে। নিজের দুই সন্তানকে দিল্লির বিখ্যাত স্কুলে ভর্তিও করেছেন। একজন মানুষ পরিচারিকা হিসেবে কাজ করে কিভাবে এত সম্পত্তির অধিকারী হলেন, জানতে চান পুলিশ। সেবিষয় অবশ্য নিরুত্তর থাকেন লতা। লতার ক্ষমতাসম্পন্ন ও কুখ্যাত নারী পাচারকারী বাবা বামদেব এবং পান্নালাল মাহতোর সঙ্গেও বিশেষ ঘনিষ্ঠতা আছে বলে জানা গেছে সূত্রের তরফে। পুলিশের ধারণা, লতাকে যদি দিল্লির সংস্থা থেকে গ্রেফতার করা যেত, তাহলে আরও অনেক বেশি নথি সহ গ্রেফতার করা যেত তাঁকে।

পুলিশ সূত্রে খবর এবারও নাবালিকাদের অপহরণ করার উদ্দেশেই ঝাড়খণ্ডে এসেছিলেন লতা। সামনের জুলাইয়ে জগন্নাথপুর মেলা থেকে শিশু অপহরণের পরিকল্পনা ছিল লতার। সূত্রের তরফে জানা গেছে, লতার স্বামী একজন সাধারণ শ্রমিক ও দেওর ঝাড়খণ্ড পুলিশের হাভিলদার হলেও, তিনি দিল্লিতে সবাইকে বলেছিলেন তাঁর স্বামী এবং দেওর উচ্চপদস্থ সিআরপিএফ অফিসার। আপাতত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে লতাকে খুনতি জেলে পাঠানো হয়েছে।

 

No comments:

Post a Comment