Saturday, 4 February 2017

‘বিধবা বলে যৌনতার অধিকার থাকবে না?’ সমাজকে খোলা চিঠি বিধবার, ভাইরাল খবর

বিধবা বলে যৌনতার অধিকার থাকবে না?’ সমাজকে খোলা চিঠি বিধবার, ভাইরাল খবর
যৌনতার নারীর অধিকার নিয়ে বরাবরই একটা ছুঁৎমার্গ আছে সমাজেরসমাজের গতানুগতিক গণ্ডির বাইরে গিয়ে নারী যৌনতার বিষয়ে সওয়াল করলেই ছি ছি পড়ে যায়এমনই এক কাহিনি নিজের কলমে তুলে ধরেছেন এক বিধবা
জগদীশ গুপ্তর ‘বিধবা রতিমঞ্জরী’ ছোটগল্পটি কি আজকের প্রজন্মের পড়া আছে?শরৎচন্দ্রের কালেই এই গল্পে লেখক দেখিয়েছিলেন কীভাবে এক বিধবা তার বাসনাকে ব্যক্ত করে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেনসেই গল্প নিয়ে কম জলঘোলা হয়নিনারীর অবমাননা ঘটেছে বলেও অভিযোগ ওঠে। 
সেই সময়ের পরে কেটে গিয়েছে বিস্তর সময়কিন্তু, আজও নারী-মুখে যৌনতা এক নিষিদ্ধ শব্দবিশেষ করে, একাকী কোনও নারীর যৌনতা নিয়ে সরব হলে সমাজের যাবতীয় ভর্ৎসনা তাঁদের উপরে বর্ষিত হয়এমনকী, কোনও নারী বিধবা হয়ে গেলে এটাও ধরে নেওয়া হয় যে তাঁর যৌনজীবনেরও মৃত্যু ঘটেছেঅথচ পুরুষদের ক্ষেত্রে সমাজের এমন কোনও ছুঁৎমার্গ নেইসমাজের এমন একচোখাোপনায় বহুদিন থেকেই সরব বহু মানুষএবার সামনে এল একটা খোলা চিঠিযেখানে এক বিধবা তাঁর যৌনতার অধিকারের সপক্ষে জোর সওয়াল করেছেন। 
অসমবাসী এই বিধবা ‘বোনোবলোজি’ নামে একটি ব্লগ সাইটের মাধ্যমে এই খোলা চিঠি সমাজের সামনে রেখেছেনলেখিকা জানিয়েছেন, তিনি বছর ৪০-এর এক বিধবাতাঁর ২০ বছরের একটি পুত্রও আছেকিন্তু, তাঁর স্বামী মারা গিয়েছেনমদের নোশায় চুর থাকা স্বামীর সঙ্গে ঘর করতে পারেননি এই মহিলাতাই একটা সময়ে ছেলেকে সঙ্গে করে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিলেনস্বামীকে ডিভোর্স করার কথা ভাবেননি বা দ্বিতীয় বিবাহের কথাও মাথায় আনেননি তিনিতিনি লিখছেন, ‘ইচ্ছে করলে হয়তো আমি ডিভোর্স নিয়ে নিতে পারতামকিন্তু, আমার ছেলেকে বড় করার একটা বিশাল দায়িত্ব আমার কাঁধে আছেকারণ, আমি একদম ছোটবেলায় মা’কে হারিয়েছিলামমা-মরা মেয়ের কদর করেননি বাবাসেই তুলনায় আমার ছোটভাইকে মানুষ করায় বাবার বেশি মন ছিলআমার ইচ্ছে করত রঙ-তুলির আঁচড়ে বড় বড় ক্যানভাসে ছবি আঁকতেকিন্তু, ছোটভাইয়ের পিছনে প্রচুর খরচ হচ্ছে
বলে বাবা আমার পিছনে কোনওদিন অর্থ খরচ করতে চাইতেন নাপড়াশোনার ভাল হলেও বাবা কোনওদিন আমাকে পড়াতে চাননিএকদিন নদীর সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলাম আমি আমার সন্তানের জন্য খুব ভাল মা হবযৌবনে পড়তেই বাবা বিয়ে দিয়ে দিয়েছিলেনস্বামী ছিল মদ্যপরাতদিন মারধর করতবহুদিন সহ্য করেছিলামএকদিন ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলামএখন আমি চাকরি করিছেলেকে ভাল এডুকেশন দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি
স্বামী মারা গিয়েছেআমি এখন বিধবাকিন্তু, এই ৪০-এ আমারও মনের মধ্যে শরীরের খিদে জাগেআমিও যৌনতার স্বাদ পেতে চাইমাঝে মাঝে রাতে ঘুমোতে পারি নাছোটবেলা থেকে প্রচুর সংগ্রাম করেছিএখনও করে চলেছিকিন্তু, শরীরের স্বাভাবিক খিদে কীভাবে অগ্রাহ্য করব? আমার মনে হয় সুস্থ, সবল থাকতে যৌন সম্পর্ক দরকারআমার যৌনতা পাওয়ার একমাত্র অধিকার কারোর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকিন্তু, ছেলের জন্য আমি নতুন করে বিয়ে করতে চাই নাআমি যদি কোনও যৌনসঙ্গী রাখতে চাই তাহলে সমাজ আমায় ছি ছি করবেকেন এমন বিধান হবে সমাজের? এটা তো আমার অধিকার? আমি জানি ৪০ নয় ১৮ বছর বয়সেও যদি আমি বিধবা হতাম তাহলেও একই বিধান দিত সমাজকারণ, বিধবাদের তো যৌনজীবন থাকতে পারে নাআমি এটাও জানি এভাবে প্রকাশ্যে যৌনতার অধিকারে সওয়াল করায় আমাকে কী পরিমাণ ঘৃণার সম্মুখীন হতে হবে? কিন্তু এটা আমার বেসিক নিডআমি বলতে পারব না যে আমি যৌনতা চাই না।’   

এই মুহূর্তে এই খোলা চিঠি নিয়ে সরব সোশ্যাল মিডিয়াবলাই বাহুল্য, এই মহিলার সপক্ষেই সওয়াল করছেন হাজার হাজার মানুষ

No comments:

Post a Comment