বিতস্তার আত্মহত্যার ঘটনায় নয়া মোড়। মঙ্গলবার গড়ফা এলাকায় নিজের ফ্ল্যাট থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় তাঁর দেহ। এরপরে বুধবারেই সৈকত মিত্র নামে আয়কর দফতরের এক আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন বিতস্তার মা।
বুধবার সকালেই বিতস্তার মা গীতা রানি সাহা জানিয়েছিলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই বিতস্তার সঙ্গে এক বিবাহিত ব্যক্তির সম্পর্ক ছিল। যদিও তখনও তিনি ওই ব্যক্তির নাম জানাননি। বিতস্তার আত্মহত্যার পরে ওই ব্যক্তিরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গিয়েছিল। এরপরে বুধবার দুপুর নাগাদ একটি মামলা রুজু করেন গীতাদেবী।
তখনই জানা যায় যে ওই ব্যাক্তির নাম সৈকত মিত্র। জানা গিয়েছে সৈকত বিবাহিত হওয়ার কারণেই এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি বিতস্তার পরিবার। এরপরেই বিতস্তা আলাদা ফ্ল্যাটে গিয়ে থাকতে শুরু করেন। সৈকতের সঙ্গে ধীরে ধীরে সম্পর্ক খারাপ হচ্ছিল বিতস্তার। গীতাদেবীর অভিযোগ, এই কারণেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বিতস্তা। সৈকত মিত্রের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।
অন্যদিকে বিতস্তার দেহ উদ্ধারের পরে বেশ কিছু প্রশ্ন
উঠেছে। মঙ্গলবার ঝুলন্ত অবস্থায় দেহ উদ্ধার হয় বিতস্তার। তাঁর হাতের শিরাও কাটা ছিল। প্রশ্ন উঠেছে বিতস্তা যদি গলায় ফাঁস লাগিয়েই আত্মহত্যা করে, তবে তাঁর হাতের শিরা কাটল কী করে? আর হাতের শিরা কাটলে সেই অবস্থায় গলায় ফাঁস লাগাল কী করে? বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। যদিও পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, হাতের শিরা কাটার পরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে বিতস্তা।
ইতিমধ্যেই বিতস্তার সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলি খতিয়ে দেখে পুলিশ জানিয়েছে প্রণয় ঘটিত কারণেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বিতস্তা। তবে এই প্রথম নয়। বিতস্তার শরীরে অনেকগুলি পুরনো দাগও পেয়েছে পুলিশ। যা দেখে পুলিশের অনুমান, এর আগেও অনেকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বিতস্তা। হাতে ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসার পরেই গোটা বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

No comments:
Post a Comment