এ কথা অনেকেই জানেন না যে, এই দিনটিকে প্রেমের উত্সব হিসেবেই চিহ্নিত রেখেছে ভারতীয় শাস্ত্র ও পরম্পরা। এ দিন প্রেমের উপরে ভর করে রয়েছে হাজার হাজার বছরের অনুমোদন।
সরস্বতী পুজোর দিনটির বেশ বদনাম। এ দিন নাকি বাঙালির ভ্যালেন্টাইন'স ডে। অভিভাবকের রক্তচক্ষু এড়িয়ে এ দিন নাকি যা খুশি করে ফেলে প্রমিক-প্রেমিকারা। তাই অনেক পরিবারেই বজ্র আঁটুনির ব্যবস্থা। কিন্তু এ কথা অনেকেই জানেন না যে, এই দিনটিকে প্রেমের উত্সব হিসেবেই চিহ্নিত রেখেছে ভারতীয় শাস্ত্র ও পরম্পরা। এ দিন প্রেমের উপরে ভর করে রয়েছে হাজার হাজার বছরের অনুমোদন।
সব়স্বতী পুজোর দিনটি আসলে বসন্ত পঞ্চমী। মাঘ মাসের এই দিনটিকেই ঋতুবসন্তের সূচনা বলে মনে করা হয় এ দেশ।
ভারতের দু'টি বসন্তোত্সবের মধ্যে এটি প্রথম। দ্বিতীয়টি হল দোল বা হোলি। কার্যত বসন্ত পঞ্চমীর দিন থেকে দোল পর্যন্ত সময়কালকেই বসন্ত বলে ধরা হয়। আর এ কথা তো সর্বশাস্ত্রে স্বীকৃত যে, বসন্তকালই হল প্রেমের নিজস্ব কাল। ফলত, এ দিন প্রেমকে প্রকাশ্যে আনাটা কার্যত শাস্ত্রেরই আজ্ঞা পালন।
পুরাকালে বসন্ত পঞ্চমীর দিন হোলিকা প্রোথিত করা হত জনপদের মাঝখানে। ৪০দিন পরে এই হোলিকা দহনের মাধ্যমে সূত্রপাত ঘটত দোলের। এই প্রথার পিছনে রয়েছে এক
পৌরাণিক ঘটনা। শিব ও পার্বতীর মিলনদৃশ্য দেখার জন্য শিবের তৃতীয় নয়নের অগ্নিতে ভস্মীভূত হয়েছিলেন কামদেব। চল্লিশদিন পরে তাঁকে মহাদেব ফিরিয়ে আনেন। এই চল্লিশ দিন কামদেবের পত্নী রতির বিরহকাল। দোলের দিনেই পুনরুজ্জীবিত হন মদন। তাই এই উত্সবের নাম 'মদনোত্সব'। এদিক থেকে দেখলেও এই উত্সব প্রেমের, শরীরী প্রেমের।
দ্বাদশ শতক নাগাদ বসন্ত পঞ্চমী এক ভিন্ন তাত্পর্য পায়। ইসলাম আগমনে ভারতে প্রেমভাবনা ভিন্ন খাতে বইতে শুরু করে। বিশেষ করে সুফি ধর্মে প্রেম এক মহান আদর্শ বলে স্বীকৃতি পায়। এই শতকের অন্যতম প্রেম-ভাবুক নিজামউদ্দিন আউলিয়া এই সময়ে তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রের অকালমৃত্যুতে শোকাতুর হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর শিষ্য কবি আমির খসরু এতে চিন্তিত হয়ে পড়েন। স্থানীয় বসন্তোত্সবকে প্রত্যক্ষ করেন। দেখেন, মেয়েরা বাসন্তী রঙের পোশাক পরে আনন্দে মেতেছেন। তিনি আবিষ্ট হন। লিখে ফেলেন বসন্ত বিষয়ক অসংখ্য গান, যেখানে প্রেমভাবনাই মুখ্য আকার নেয়। নিজামের মন থেকে বিষাদ দূর হয়। সেই থেকে সুফি সিলসিলাতেও বসন্ত পঞ্চমী 'প্রেমের দিন' হিসাবে স্বীকৃত।
সুতরাং, আজ সন্ধ্যায় নির্ভয়ে প্রেম করুন, প্রকাশ্যে প্রেম করুন। মনে রাখবেন শাস্ত্র ও পরম্পরা আপনার কাঁধে হাত রেখে রয়েছে।

No comments:
Post a Comment