Monday, 7 August 2017

বিয়ের আগে কেন রক্তপরীক্ষা জরুরী কেন

বিয়ের জন্য আগেও জন্মতারিখ, ঠিকুজি মেলানোর রীতি ছিলআজও অনেক পরিবারে রয়েছেপাশাপাশি রক্ত পরীক্ষাও অনিবার্য হয়ে উঠেছেকেননা-
(১) এই রক্ত পরীক্ষার প্রধান উদ্দেশ্যই হল দেখা যে ভবিষ্যতে সন্তান সুস্থ হবে কি না৷ তাই হবু মা ও বাবার নির্দিষ্ট কিছু রক্তপরীক্ষা করানো প্রয়োজন
(২) তাছাড়া দুজনের ব্লাডগ্রুপ এক রকম না হওয়াই বাঞ্ছনীয়তাই আগে থেকেই রক্তপরীক্ষা করিয়ে দেখে উচিত কার রক্তের কী গ্রুপ
(৩) এছাড়া ভবিষ্যতে যদি কোনও অসুখে বা দুর্ঘটনায় হঠাৎ করে রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তাহলে ব্লাড গ্রুপ জানা থাকলে বাড়ির লোককে খুব একটা সমস্যায় পড়তে হয় না


(৪) টিসি. ডিসি, ইএসআর, কোলেস্টেরল, আরএইচ ফ্যাক্টর, এইচআইভি, আয়রন লেভেল ইত্যাদি কিছু রুটিন পরীক্ষা ছেলে এবং মেয়ে উভয়েরই করানো উচিততাহলে প্রথম থেকেই একটা মেডিক্যাল হিস্ট্রি থাকবে
(৫) এছাড়াও থাইরয়েড, সুগার, থ্যালাসেমিয়া, এসটিডি (সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ), হেপাটাইটিস বা টিউবারকিউলোসিসের মতো সমস্যা রয়েছে  কীনা তা জানার জন্য বিয়ের আগে রক্তপরীক্ষা আবশ্যকযদি কেউ থ্যালাসেমিয়ার ক্যারিয়ার বা মেজর হন, তাহলে সে কীরকম জীবনসঙ্গী খুঁজবে এবং ভবিষ্যতে সন্তান পরিকল্পণা করতে পারবে কীনা, বা সন্তান জন্মালেও সে কতটা সুস্থ হবে, সে সম্পর্কে আগে থেকে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের গাইডলাইন থাকলে ভালো হয়
(৬) বিয়ের পরে কন্ট্রাসেপশন খাওয়া যেতে পারে কীনা, কিংবা এতে কোনও অ্যালার্জি রয়েছে কীনা, তা জানতে আগে থেকে রক্তপরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বই কী!

(৭) অনেকেই হয়তো বংশানুক্রমিক ভাবে কোনও রোগে আক্রান্তকিন্তু কোনও লক্ষণ না থাকায়, তা জানতে পারেননিবিয়ের আগে এই সবকিছুই জেনে নেওয়া প্রয়োজন
(৮) যদি পেলভিক ইনফ্লেমেটারি ডিজিজের মতো কোনও যৌনসমস্যা থাকে, তাহলে কিন্তু সন্তান পরিকল্পনার সময় তা টের না পাওয়া গেলে পরে মারাত্মক জটিল হতে পারে পরিস্থিতিতাই কোনও রকম ইগো বা ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ না রেখে, বিয়ের আগেই করিয়ে নিন প্রয়োজনীয় চেকআপপরে আফশোস করার থেকে সময় থাকতে থাকতেই সতর্ক হন
 (৯) যে সমস্ত পুরুষেরা ভবিষ্যতের পরিকল্পণা করে রেখেছেন তাঁদের বিয়ের সময় হয়েছেএখন বিয়ে করতে পারেন
(১০) সঙ্গ প্রয়োজনেআপনি যদি ভেবে থাকেন আপনার জীবনের সব ধরনের পরিকল্পণাই বাস্তবায়িত করে ফেলেছেন তাহলে এখন বিয়ে করা প্রয়োজনএকাকীত্ব দূরীকরণে করে ফেলতে পারেন বিয়ে

 
(ক) শুক্রাণু পরীক্ষাঃ
বিয়ের পর সব দম্পতিই সন্তান নিতে চানকিন্তু অনেক সময় সন্তান ধারণে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয় স্বামী-স্ত্রীকেএর কারণ হতে পারে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেইস্ত্রীর শরীর অনেক সময় সন্তান ধারণের উপযুক্ত পরিস্থিতিতে থাকে না বলে সন্তান আসে নাকিন্তু সেটা আগে থেকে জানা যায় নাতবে পুরুষের অক্ষমতা কিন্তু মালুম হয় শুক্রাণু পরীক্ষা করালেই
(খ) ব্লাড গ্রুপঃ
পাত্র-পাত্রীর ব্লাড গ্রুপ জানাও খুব জরুরিকারণ নেগেটিভ ও পজ়িটিভ ব্লাড গ্রুপের নারীপুরুষের বিয়ে হলে পরবর্তীকালে সন্তান ধারণে ঘটতে পারে বিপত্তিতবে এই শঙ্কাটি দেখা দেয় দ্বিতীয় সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রেঅনেকসময় গর্ভেই সন্তান মারা যায়কিংবা জন্মের পর তার মারাত্মকরকম জন্ডিস হয়মস্তিষ্কও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেযদিও আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থায় এটি রোধ করার পদ্ধতি আছেসন্তান জন্মানোর সময় মায়ের শরীরে অ্যান্টিবডি ইঞ্জেকশন দিলে ক্ষতির সম্ভাবনা কমতে পারে
(গ) মানসিক রোগ পরীক্ষাঃ
বিয়ে করার আগে সে স্বাভাবিক কী না জানা খুব দরকারঅর্থাৎ, দেখা দরকার তার কোনও মানসিক সমস্যা আছে কীনাএটি খতিয়ে দেখার জন্য পাত্র-পাত্রীর আচার ব্যবহার লক্ষ্য করতে হবেপাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব ও অফিসের লোকজনের থেকে খোঁজখবর নিতে হবেবিয়ের সময় পাত্র-পাত্রীর বাড়ির লোক তাঁদের ছেলেমেয়ে সম্পর্কে কোনও খারাপ কথা বলে নাকিন্তু বিয়ের পর ধরা পড়ে আসল রূপসুতরাং, পাত্র-পাত্রীর মানসিক সমস্যা আছে কীনা সেটা জানা খুব জরুরিপ্রয়োজনে মনোবিদদের সঙ্গে কথাও বলা যাতে পারে
(ঘ) পাত্র-পাত্রীরঃ
অনেক সময় ছেলে বা মেয়ের ইচ্ছার বিয়ে চেপে যায় বাড়ির লোক
তারা সমকামী কীনা তা বিয়ের রাতেই জানা যায়সমস্যা বাড়েতাই বিষয়টি ভালো করে জেনে নেওয়া দরকার।  এ ক্ষেত্রেও কোনও মনোবিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনযে পাত্র-পাত্রীকে বিয়ে করতে চলেছেন, তা যদি সম্বন্ধ করে হয়, এই বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিনঅবহেলা করবেন নাজীবন খুবই মূল্যবান। 




No comments:

Post a Comment