কলকাতাঃ এখনও রামনবমীর স্মৃতি মুছে যায়নি। রাজ্য জুড়ে অস্ত্র মিছিলের দাপট দেখেছে প্রশাসন। বিভিন্ন জায়গায় সংঘাতও হয়েছে। এ বার ফের ‘ধর্ম’ মিছিলের প্রস্তুতি চলছে বঙ্গে।
রামের পরে কৃষ্ণ। আগামী ১৪ অগস্ট জন্মাষ্টমী। আগের দিন রবিবারের ছুটি। আর পরের দিন ১৫ অগস্ট মঙ্গলবার স্বাধীনতা দিবসের ছুটি। এই তিন দিনকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যজুড়ে জন্মষ্টমী পালনের জোর প্রস্তুতি চালাচ্ছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।
এখনও রামনবমীর স্মৃতি মুছে যায়নি। রাজ্য জুড়ে অস্ত্র মিছিলের দাপট দেখেছে প্রশাসন। বিভিন্ন জায়গায় সংঘাতও হয়েছে। এ বার ফের ‘ধর্ম’ মিছিলের প্রস্তুতি চলছে বঙ্গে।
রামনবমীতে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে হাতে ছিল অসি। কিন্তু, এবার থাকবে বাঁশি। ‘অস্ত্র’ নিয়ে বিতর্ক না থাকায় এ বার অনেক বেশি সংখ্যা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে হবে ‘ধর্মীয় শোভাযাত্রা’। এমনটাই দাবি পরিষদের পূর্ব ক্ষেত্রের সংগঠন সম্পাদক শচীন সিংহের। শুধু শোভাযাত্রা নয়, তিনি জানান, বিভিন্ন জায়গায় কৃষ্ণ পূজা, কৃষ্ণ সাজো প্রতিযোগিতা, কৃষ্ণ মিছিল ইত্যাদির আয়োজন হবে।
শচিন সিংহ এদিন এবেলা.ইন-কে বলেন রাজ্যের সব রাজনৈতিক শিবিরের, সব মতের হিন্দু জনগণকে এই উৎসবে সামিল করা হবে। এর জন্য প্রতিটি ব্লকে ব্লকে চলছে প্রস্তুতি। কোথাও বড় আকারে, কোথাও মাঝারি আকারের উৎসব হবে। উৎসবের আয়তনের থেকে উৎসব সংখ্যা নিয়ে বেশি ভাবছে পরিষদ।
উল্লেখ্য, জন্মষ্টমীই আবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস। সেই কারণে দু’মাস ধরে এক কর্মসূচি নিয়েছে পরিষদ। আর সেই কর্মসূচির মূল লক্ষ্যই হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে চাপের মুখে ফেলা। কারণ, রাজ্যে গো-হত্যা নিষিদ্ধি করার দাবিতে আন্দোলনের কর্মসূচি নিচ্ছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সেই লক্ষ্যে জন্মাষ্টমী থেকে ২৮ অক্টোপার গোপাষ্টমী পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে চলবে স্বাক্ষরসংগ্রহ। সেই সঙ্গে চলবে মিছিল, মিটিং-এর মাধ্যমে প্রচার।
রাজ্য প্রশাসনের কাছে অস্ত্রহীন জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা খুব একটা চাপের না হলেও পরিষদ সেই সময়ে প্রচারের যে ইস্যু ঠিক করেছে তা নিশ্চিত ভাবেই অস্বস্তি বাড়াবে সরকারের উপরে। রাজ্যে সাম্প্রতিক কালে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন গোষ্ঠী সংঘর্ষ নিয়ে সরব সঙ্ঘ পরিবার। এ বার জন্মাষ্টমী উৎসব পালনের মধ্যে দিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ব্যানারে সেই প্রচার আরও বাড়ানো হবে। এ ছাড়াও রাজ্যে অনুপ্রবেশ, জঙ্গি তৎপরতা, গো-হত্যা, গো-পাচার, মুসলমান তোষণ ইত্যাদি নিয়ে গেরুয়া বাহিনীর বিভিন্ন অভিযোগ সংক্রান্ত পুস্তিকা বিলি হবে এই সময়ে। একই বিষয়ে চলবে সভা সমাবেশ।
সব মিলিয়ে রাজ্যে এ বার স্বাধীনতা দিবস পালনের সময়েই পরিষদের প্রচার তৈরি করতে পারে নতুন উত্তেজনা। এমনিতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নামে এই প্রচারাভিযান চললেও সঙ্ঘ পরিবারের অন্যান্য শাখার সদস্য, সমর্থকরাও এতে অংশ নেবে। সমর্থন থাকবে বিজেপিরও। বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি নেতৃত্বও অংশ নেবে। যদিও শচীন সিংহ জানিয়েছেন, ‘‘এটা শুধুই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্মসূচি। এতে সমাজের সব ক্ষেত্রের হিন্দু অংশ নেবেন।’’


No comments:
Post a Comment