Friday, 4 August 2017

মমতার সঙ্গে বিচ্ছেদ আসন্ন! শীঘ্রই তৃণমূল ভেঙে নয়া দল মুকুলের

কলকাতাঃ ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস! পঞ্চায়েত ভোটের আগেই তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে তৈরি হতে পারে নতুন দল ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেসক্রমশই প্রকট হচ্ছে সেই সম্ভাবনাবিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মুকুল রায়ের সম্পর্কের ফাটল যেভাবে বাড়তে শুরু করেছে, তাতে ভাঙন অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠছে তৃণমূলেইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলেসারদাকাণ্ডে মুকুল রায়ের নাম জড়ানোর পরই একবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিলমুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেসে ব্রাত্য হয়ে নতুন দল গড়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছিলেনকিন্তু শেষমেশ মুকুল রায়কে দলে ফিরিয়ে লাগাম টেনেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়বর্তমান পরিস্থিতিতে ফের মুকুল রায় নয়া দল গঠনের পথেই পা বাড়াতে চলেছেন। 

মুকুল রায়ের নেতৃত্বে রাজ্যে নতুন দল তৈরি হলে তৃণমূল ভেঙে বেশ কিছু বিধায়ক ও সাংসদ আসবেন, এটাই স্বাভাবিকতা নিয়েই এখন জল্পনা চলছে দলের রাজনৈতিক মহলেদলের অন্দরেও নানা কানাঘুষো শুরু হয়েছেজানা গিয়েছে, অন্তত ৬০ জন বিধায়ক ও ১০ জন সাংসদ লাইন দিয়ে রয়েছেন মুকুলের দলে আসার জন্যতাঁরা কারা, তা নিয়ে জোর চর্চা শোনা যাচ্ছে কান পাতলেইআগামী ৫ আগস্ট উপরাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনতারপরই নতুন দল গঠনের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে যাবেমুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দিতে পারেন উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরইতারপরই তিনি নতুন দল গঠনের বিষয়টি নিজ হাতে দেখবেনএবং কারা তাঁর সঙ্গে রয়েছেন, তাঁর নতুন দলে কারা আসতে পারেন, তাও পরিষ্কার হতে শুরু করবে
কিন্তু কেন ফের মুকুল রায় নতুন দল গঠনের চিন্তাভাবনা শুরু করলেন? একটা সময়ে যে দলটা নিজে হাতে তৈরি করেছিলেন, দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড হয়েছিলেন, সেই দলে তিনি এখন ব্রাত্যঅভিষেকের মতো আনকোরা এক নেতার কাছে তাকে পদ খোয়াতে হয়েছেদলে গুরুত্ব হারিয়ে তিনি বর্তমানে একেবারেই কোণঠাসা

এরই মধ্যে দলের দু্'টি পদক্ষেপে তিনি স্তম্ভিতএক, একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে তিনি থেকেও নেইতাঁর হাতে মাইক্রোফোন তুলে দেওয়া হয়নি একটিবারওরাজ্যজুড়ে প্রচারে ঝড় তুললেও, তাঁকে একুশের মঞ্চে একটা কথাও বলতে দেওয়া হয়নিতারপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একটিবারের জন্যও তাঁর নাম নেননিরাজনৈতিক মহলে একটা কথা চালুই রয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতির শিক্ষাগুরু হলেন মুকুল রায়দলের সমস্ত বরিষ্ঠ নেতার নাম মুখে আনলেও, সেই মুকুল রায়ের নাম একটিবারও উচ্চারণ করেননি তিনিএমনকী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁর নাম নেন ১০-১২ জনের পরেঅথচ এই মুকুল রায়কেই একদিন চোখে হারাতেন তিনিমুকুল ছাড়া এক পা চলতেন নামুকুলের পরামর্শ মেনেই দল পরিচালনা করতেনঅর্থাৎ দলে গুরুত্বের বিচারে তিনিই ছিলেন মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরের স্থানেআর দুই, ত্রিপুরা তৃণমূল কংগ্রেসের দায়িত্ব থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টিও স্বাভাবিক ছিল নাসেটাও ছিল তাঁকে দলে কোণঠাসা করার
সারদাকাণ্ডে সিবিআই তলবের পর থেকেই তিনি গুরুত্ব হারাতে থাকেনএমনকী দলে তাঁর প্রয়োজন ফুরিয়েছে বলে সাফ জানিয়েছিলেন দলনেত্রীওতখনই নতুন দলের ভাবনা মাথায় এসেছিল মুকুলেরনির্বাচন কমিশনে গিয়ে তিনি নতুন দলের নাম চূড়ান্ত করেও ফেলেনন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেস নামে নতুন পার্টি গড়ে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসকে চ্যালেঞ্জ জানানোর রাস্তা তৈরি রেখেছিলেন তখন থেকেইএরপরই মুকুল রায়ের সঙ্গে দূরত্ব কমতে শুরু করে, তাঁকে দলে জায়গা দেওয়া হয়ধীরে ধীরে গুরুত্ব বাড়তে থাকেদায়িত্ব পেতে শুরু করেনদায়িত্ব ফের বাড়তে থাকে তাঁরকিন্তু ভাইপো অভিষেকের উত্থানে শেষপর্যন্ত দলে সর্বপ্রকার গুরুত্ব এক লহমায় খর্ব করা হয় পুনরায়দলে ক্রমেই কোণঠাসা হতে থাকেন মুকুলআর শেষমেশ মুকুল রায় নয়া দল গঠনের পুরনো 'জুজু'কেই সম্বল করে আসরে নেমে পড়েন কোমর বেঁধেএখন দেখার সত্যিই নয়া দল গঠনের সাহসে দেখান কি না মুকুল রায়! আর তৃণমূল ভেঙে শাসক দলের শক্তিকে অর্ধেক করে দিতে পারেন কি না তিনি!



No comments:

Post a Comment